10/09/2026
বই: সপ্তপদী
লেখক: তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকাশক : চিরায়ত প্রকাশনী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৮
সপ্তপদী...
হিন্দুশাস্ত্রে নাকি বলে, জীবনে চলার পথে কারো সাথে সাত পা চলা পূর্ণ হলে নাকি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক তৈরি হয়!
সময়টা তখন ১৯৩৮ কি ১৯৩৯ হবে,
আমাদের গল্পের নায়ক কৃষ্ণেন্দু কলকাতার সেন্ট জাভিয়ার্স মেডিক্যাল কলেজের ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র। গ্রাম থেকে আসা এ তরুণ যেমনই দূরন্ত তেমনি দক্ষ ও খেলাধুলা, কবিতা আবৃতি সব কিছুতেই। কিন্তু সে তার বাবার মতো অতটা ধর্মকর্মের ধার ধারতো না। ইশ্বরে একপ্রকার অবিশ্বাসীই ছিল বলা যায়।
অল্পদিনেই ইংরেজ আর অ্যাংলো ইন্ডিয়ান ছাত্রদের টেক্কা দিয়ে ফুটবল টিমে পাকাপোক্ত একটা পজিশনও বানিয়ে নিলো । একবার খেলা নিয়েই তার ঝামেলা লেগে গেলো জন ক্লেটন নামক এক ইংরেজ ছাত্রের সাথে।
এখান থেকেই তার পরিচয় হয় আমাদের গল্পের নায়িকা, মানে একই কলেজের ফার্স্ট ইয়ারের অ্যাংলো ইন্ডিয়ান স্টুডেন্ট রিনা ব্রাউন এর সাথে। রুনা ছিল ক্লেটনের বন্ধু। স্বাভাবিকভাবেই সে কৃষ্ণেন্দুকে ইংরেজিতে হিদেন, ব্ল্যাকি বলে গালাগাল দিতো। কৃষ্ণেন্দু ও কম যায় না। সুযোগ পেলেই রাগাতো রিনাকে। এভাবেই খুনসুটির মধ্যেই একসময় ক্লেটন, রিনা, আর কৃষ্ণেন্দু অনেক ভালো বন্ধু হয়ে গেলো।প্রায়ই তারা রিনার বাড়িতে যেত, শেক্সপিয়ার এর ওথেলো পাঠ করতো। ততদিনে কৃষ্ণেন্দুর ভালো লেগে যায় রিনাকে। এদিকে রিনা আর ক্লেটনের মধ্যে বন্ধনের দৃড়তা দেখে সবাই ভাবত ক্লেটন বুঝি রিনাকেই বিয়ে করবে। কিন্তু ক্লেটন যখন ইংল্যান্ডে ফিরে গিয়ে এমিলি নামক এক ইংরেজ নারীকে বিয়ে করে, রিনা মন খারাপ করে কান্না করে।
কৃষ্ণেন্দু রিনাকে তার অনুভূতির কথা জানায়। রিনা ও গ্রহন করে নেয় তার অনুভূতি। কিন্তু সমস্যা যে বিরাট!
এদিকে রিনা খ্রিস্টান বাবার মেয়ে , কৃষ্ণেন্দুর বাবা আবার হিন্দু ব্রাহ্মণ !
কারো বাবারাই রাজি নন তাদের এই বন্ধনে।
রিনার বাবা মিস্টার জেমস ব্রাউন তো বলেই দিয়েছেন তার মেয়েকে বিয়ে করতে হলে কৃষ্ণেন্দুকে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করতে হবে!
এখন উপায়??
আর তো বলা যাবে না! বলে ফেললে যে স্পয়লার হয়ে যাবে!
জানতে চাইলে পড়ে ফেলতে পারেন
বাংলা কথাসাহিত্যের এই অন্যতম কালজয়ী উপন্যাস "সপ্তপদী"।
লেখক তারাশংকর বন্দোপাধ্যায় বাংলা কথসাহিত্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় লেখকদের মধ্যে অন্যতম।
এই বিখ্যাত উপন্যাসেরই অবলম্বনে তৈরি হয়েছিলো একসময়কার মহানায়ক-নায়িকা উত্তম-সুচিত্রা অভিনীত চলচ্চিত্র " সপ্তপদী"।
এই উপন্যাস আজও পাঠক সমাজে অনেক সমাদৃত হয়ে আছে!
প্রকাশনা : চিরায়ত প্রকাশনী
প্রিমিয়াম প্রকাশনী , চিরায়ত প্রকাশনী এদের বইগুলোর প্রচ্ছদ বরাবরের মতই অনেক লোভনীয়, দৃষ্টিনন্দন হয়ে থাকে! দেখলেই মন চাই ইসসস্, বইটা আমার হোক !
বইটা সত্যিই আমার করার ইচ্ছেটা পূরণ করতে সহায়তার জন্য আবারো অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি চিরায়ত প্রকাশনীর কাছে!
বইটির মূল্য : ৩০০৳
-সাবিকুন নাহার ফারিয়া