09/05/2026
এক ঘরের জানালায় ক্রুশেড আকৃতিতে একজন নারীর দুই হাত বাধা, বন্ধ চোখে নুয়ে আছে মাথাটা৷ রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত, নিস্তেজ দেহ। পাশের ঘরেই খাটের ওপর আনুমানিক ২১-২২ বছরের এক যুবকের রক্তাক্ত গলাকাটা মরদেহ। মাথার কাছে পড়ে আছে রক্তে ভেজা একটা মামলার আবেদনের কপি। জমাট বাধা রক্তে ভিজে আছে তোষক, চাদর ও বালিশ। মেঝেতে কাঁথা-কম্বলে ঢাকা আরও তিনজন নারী-শিশুর মরদেহ। একজনের মুখে, গালে ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত। মাঝে অনূর্ধ্ব চার বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ, তার শরীরে কোনো ক্ষত দেখা না গেলেও বুকে, মুখে আছে জমাট বাধা রক্তের দাগ। একই সারিতে আরেক কিশোরীর রক্তাক্ত মরদেহ সাদা চাদরে ঢাকা। দুই ঘরে পাঁচটি কোপানো মরদেহের রক্তে মেঝে লাল হয়ে আছে। কোথাও কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে নানান জিনিসপত্র, সেগুলোতেও রক্তের দাগ। ওয়ারড্রব, আলমিরার মতো আসবাবগুলোর ড্রয়ার বা কেবিনেট খোলা, সেখানে রাখা জিনিসপত্রগুলোও এলোমেলো।
প্রথম দেখাতেই মনে হতে পারে, বলিউড বা দক্ষিণের কোনো সাইকো থ্রিলার সিনেমার দৃশ্য। তবে এটি কোনো সিনেমা নয়, গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ঘটেছে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। গত রাতে দুর্বৃত্তদের হাতে এভাবে প্রাণ হারিয়েছে একই পরিবারের পাঁচজন। এটা কি নিছক চুরি কিংবা ডাকাতির ঘটনা? নাকি অন্য কিছু? মার্ডার প্যাটার্নটা পুরনো। কিছু বিষয় খুবই ইঙ্গিতপূর্ণ। এরকম মার্ডার গাজীপুরের শ্রীপুরে ১০-১১ বছর আগেও হয়েছিল। সেখানে ভুক্তভোগী ছিল চারজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্তরিক হলে এবার দুটো ঘটনার রহস্যই উন্মোচন হবে হয়তো। এ ধরনের লোমহর্ষক, বর্বর হত্যাকাণ্ডগুলো কি আমাদের কোনো সামাজিক বার্তা দিচ্ছে?