13/07/2026
একজন শিক্ষামন্ত্রী শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের প্রধান নন, তিনি একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম কারিগর। তার মধ্যে থাকা উচিত বিচক্ষণতা, মানবিকতা, বিবেক, দূরদর্শিতা এবং ন্যায়বোধ। কিন্তু আজ দেশের শিক্ষার্থীদের বর্তমান দুর্ভোগ দেখে প্রশ্ন জাগে, তাদের এই অসহনীয় বাস্তবতা কি আদৌ নীতিনির্ধারকদের চোখে পড়ে?
বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে চারদিকে শুধু পানি আর পানি। অসংখ্য শিক্ষার্থীর ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। কেউ কোমরসমান পানি পেরিয়ে, কেউ নৌকায়, আবার কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে তারা ঠিকমতো পড়াশোনা করবে কখন? কীভাবে তারা মানসিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকবে?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললেই চোখে পড়ছে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের অসংখ্য ছবি। বছরের পর বছর পরিশ্রম, অসংখ্য ত্যাগ আর বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে তারা পাবলিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়। অথচ পরীক্ষার দিন তাদের লড়তে হচ্ছে শুধু প্রশ্নপত্রের সঙ্গে নয়, প্রকৃতির নির্মম বাস্তবতার সঙ্গেও।
একজন শিক্ষার্থী যদি ভেজা কাপড়ে, ক্লান্ত শরীরে, মানসিক চাপ আর অনিশ্চয়তা নিয়ে তিন ঘণ্টা পরীক্ষার হলে বসতে বাধ্য হয়, তাহলে সেই পরীক্ষাকে কতটা ন্যায্য, সমান সুযোগভিত্তিক এবং সুষ্ঠু মূল্যায়ন বলা যায়?
একটি পরীক্ষার নির্ধারিত সময়সূচির চেয়ে শিক্ষার্থীদের জীবন, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ অনেক বেশি মূল্যবান। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের বাস্তবতা দেখা, তাদের কষ্ট বোঝা এবং সেই বাস্তবতার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাই একটি মানবিক, দায়িত্বশীল ও ন্যায়ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার পরিচয় হওয়া উচিত।