23/07/2026
সন্ধ্যার দিকে বাইরে যাবো। তাড়া ছিল, তাই উবারে বাইক কল দিলাম। বেশ বয়স্ক একজন ভদ্রলোক আসলেন। যেতে যেতে ভাবলাম গল্প করি। আমার আবার এই ধরনের চিটচ্যাট ভাল্লাগে।
ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করলাম,
- উবারে কী ফুলটাইম? নাকি পার্টটাইম?
- পার্টটাইম।
- এমনিতে কি করেন?
- টিউশনি। সকালবেলা বের হই, দুইটা বাসায় টিউশনি করি। ফেরার পথে তিন থেকে চার ঘণ্টা রাইডার হিসেবে কাজ করি। তারপর সন্ধ্যায় বাসায় ফিরি।
- আপনার ছেলে-মেয়ে আছে?
- হ্যা এক ছেলে, এক মেয়ে। ছেলে AIUB তে পড়ে আর মেয়েটা সিদ্ধেশ্বরী গার্লস এ।
- বাহ, sounds good!
ছেলে AIUB তে পড়ে শুনে কিছুটা অবাক ই হলাম। কারণ এই কাজ করে কতোই বা ইনকাম হয়? ঘুরায়ে-প্যাচায়ে না বলে সরাসরি জিজ্ঞেস করলাম,
- যা ইনকাম করেন, তা দিয়ে কী ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা প্লাস ফ্যামিলির খরচ, সব ঠিকঠাক হয়?
- হয়না দেখেই তো এই কাজ করি।
- মানে?
- আসলে ঢাকায় আমার নিজের একটা বাড়ি আছে। একটা ফ্ল্যাটও আছে। বাসা ভাড়া ৯০ হাজার টাকা পাই। ওইটা দিয়ে হয়না। আমার ছেলেটা আবার একটু শৌখিন। ব্র্যান্ডের পারফিউম ব্যবহার করে অভ্যস্ত। যে শ্যাম্পুটা ব্যবহার করে, ওইটার দামই ১৬৫০ টাকা। ইউনিভার্সিটি থেকে বাসায় ফেরার সময়েই কাজের লোককে ফোন দিয়ে বলে, আমার রুমের এসিটা ছেড়ে রাইখেন। অভ্যাস হয়ে গেছে, কি করবো বলেন। না তো করতে পারি না। মেয়েটা লক্ষ্মী আছে। এতটুকু বোঝে যে বাবার বয়স হয়েছে। তাই খুব দরকার না হলে কোনো কিছু চায় না। কিন্তু আমার তো ইচ্ছা করে। তাই একটু কষ্ট হলেও করি। খারাপ লাগে না। অবশ্য ওরা কেউই জানে না আমি এই কাজ করি। বলি অফিসে জব করি।
এরপর বাকিটা পথ চুপচাপ বসে রইলাম। আর কথা আগালাম না। বয়স্ক সেই ভদ্রলোকের হেলমেটের ফাঁকা দিয়ে বের হওয়া পাকা চুলের উড়াউড়ি দেখলাম। মনে হলো, চুলগুলাও খুব ক্লান্ত।
বহুদিন পর ভীষণ মন খারাপ করে বাড়ি ফিরলাম…
~সংগৃহীত ✨