09/04/2026
অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
মনযোগ সহকারে পড়ুন।
আরেকটি ঘটনা:
ইবনে জাওজী লিখেছেন যে পারস্যের এক রাজা শিকারে বের হলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে বাদশা তার সাথীবর্গ থেকে পৃথক হয়ে গেলেন। এমতাবস্থায় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে গেল। ঝড় তুফান এবং বৃষ্টি আরম্ভ হয়ে তাঁর সৈন্য সমস্ত কোথায় গেল তার কোন পাত্তা পাওয়া গেল না। সুতরাং এ অবস্থায় বাদশা এমন এক রাস্তায় চলতে লাগলেন যে রাস্তা সম্পর্কে তিনি মোটেই জানেন না যে তিনি কোথায় যাচ্ছেন? কিছুক্ষণ পর বাদশা এক বৃদ্ধার ঝুপড়ি ঘরের নিকট চলে এলেন এবং সেখানেই তিনি থেকে গেলেন। বৃদ্ধা বাদশার ঘোড়াটি অন্য একস্থানে বেঁধে রাখল। বৃদ্ধা তার গাভী দোহন করতে লাগল। বাদশা দেখলেন গাভীটি যথেষ্ট পরিমাণে দুধ দিয়েছে। বাদশা মনে মনে ভাবলেন এমন গাভীর উপরেও কর বসাতে হবে। কারণ গাভীটি পর্যাপ্ত পরিমাণে দুধ দেয়।
পরের দিন যখন বৃদ্ধার মেয়ে দুধ দোহন করতে গেল তখন দেখা গেল যে গাভীর ওলানে মোটেই দুধ নেই মেয়েটি তার মাকে উচ্চ স্বরে ডাকতে লাগল। মেয়েটি তাকে বলল- মাগো! বাদশা তার প্রজাদের সাথে অসৌজন্যমূলক ব্যবহারের চিন্তা করেছেন। মা বললেন, একথা তুমি কিভাবে জানতে পারলে? মেয়েটি জবাব দিল- আজ গাভীটি সামান্য পরিমাণও দুধ দেয়নি। মা বললেন- চুপ থাক। রাতের ব্যাপার। এখন পারস্য রাজ খারাপ আচরণের পরিবর্তে ভাল আচরণের চিন্তা করছেন। ২য় রাতে মা বলেন বেশি দুধ দোহন কর। মেয়েটি দুধ দোহনের ইচ্ছা করলে সে দেখল যে, গাভীর ওলান দুধে পরিপূর্ণ। মেয়েটি বলল মাগো- আলহামদুলিল্লাহ! বাদশা তার মন্দ ইচ্ছা থেকে প্রত্যাবর্তন করেছেন। কিছুক্ষণের সময়ে বাদশার সঙ্গী সাথীরা ফিরে এলেন। বাদশা সওয়ার হলেন এবং সাথী বর্গকে আদেশ দিলেন যে, বৃদ্ধা এবং তার মেয়েকেও নিয়ে এসো। সুতরাং মা মেয়ে বাদশার নিকট গেলেন এবং বাদশা তাদেরকে বিপুল পরিমাণে উপঢৌকন দিলেন এবং বল্লেন তোমরা আমার মনের অবস্থা কিভাবে জেনেছিলে? বৃদ্ধা বললেন, আমরা অনেকদিন যাবৎ এখানে আছি। যখনই যে কেউ আমাদের সহিত ভাল আচরণ করে তখন আমাদের জমিন সবুজ শ্যামল হয়ে যায়। আমাদের জীবনে নেমে আসে অনাবিল প্রশান্তি। আর যখন কোন প্রকার অত্যাচার করা হয় তখন আমাদের জীবন হয়ে উঠে দুর্বিসহ এবং দুধ ক্ষান্তি নিঃশেষ হয়ে যায়।
হায়াতুল হাইওয়ান। ১ম খন্ড