29/11/2020
রূপচাঁদা সৌন্দর্যের পাশাপাশি ভরপুর পুষ্টিগুণেও, চলুন জেনে নিই এর সামান্য কিছু উপকারিতাঃ
১. এই মাছে আছে ডেকোসেহেক্সনইয়িক ও আইকোসেপেনটেনয়িক, এই দুটিই অ্যাসিড। এই দুটি উপাদান শিশুর মানসিক বিকাশে সহায়ক, স্নায়ুর বিকাশ ঘটায় এবং স্নায়ুর প্রদাহ কমায়।
২. অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাকটিভ ডিজঅর্ডার শিশুদের একটি মারাত্মক রোগ, যা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে। এর থেকে সুরক্ষা দিতে পারে রূপচাঁদা। বড়দের ডিমেনশিয়া অর্থাৎ স্মৃতিভ্রষ্ট ঝুঁকি কমায় মাছটি। পাশাপাশি মগজের কোষের উন্নতি ঘটায় এবং হতাশা দূর করে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।
৩. রূপচাঁদা শিশুর দৈহিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করে এবং শরীর সুগঠিত করে।
৪. রূপচাঁদায় রয়েছে ওমেগা-থ্রি, যা রক্তচাপের সমস্যা সমাধানসহ হার্টের যে কোনো ধরনের রোগের ঝুঁকি কমায়। রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা ঠিক রাখে। খারাপ কোলেস্টেরলের প্রভাব থেকেও শরীরকে রক্ষা করে।
৫. নিম্ন রক্তচাপে ভোগা রোগীদের জন্য রূপচাঁদা উপকারী।
৬. কোনো কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালরি না থাকায় মাছটি ডায়েটে রাখা যেতে পারে। অর্থাৎ এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতেও সাহায্য করে।
৭. এতে থাকা আয়োডিন থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের উন্নতি ঘটায়।
৮. ইহার আমিষ পেশির ক্ষয়রোধ করে। শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের ফলে পেশিতে সৃষ্ট অস্বস্তিবোধও দূর করতে সাহায্য করে রূপচাঁদা।
৯. অস্টিওম্যালাসিইয়া টিস্যুর একটি রোগ। এই রোগে হাড়ে খনিজ সরবরাহের সময় আশপাশের টিস্যুগুলো অস্বাভাবিক আচরণ করে এবং অস্থি এতটাই নরম হয়ে যায় যে অল্প আঘাতেই ভেঙে যায়। রূপচাঁদায় থাকা ভিটামিন ডি এই রোগ থেকে দূরে রাখে। হাড়ের আরেকটি অসুখ রেচিটিক, যাতে হাড়ের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়। রূপচাঁদা মাাছ এই রোগটিও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
১০. এই মাছের আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধির মাধ্যমে অ্যানেমিয়া হতে মুক্তি দেয়।
১১. সর্দি-কাশি ও মাথাব্যথার পথ্য হিসেবেও কাজ করে মাছটি। সুস্থ ফুসফুসের নিশ্চয়তা দেয়। অ্যাজমা সারাতেও সহায়ক এই মাছ।
১২. এই মাছে আছে সেলেনিয়াম। এটি এক ধরনের এনজাইম উৎপন্ন করে, যা ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়ে। মূলত ব্রেস্ট ক্যানসার রোধে এর ভূমিকা অতুলনীয়। কিছু ক্ষেত্রে কোলোরেক্টাল, পেনক্রিয়েটিক ও প্রোস্টেট ক্যানসারও প্রতিরোধ করে। এই রোগের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে ক্রনিক ইনফেকশন। রূপচাঁদা খেলে তা থেকে নিরাপদ থাকা যায়। ক্যানসার কোষের বৃদ্ধিতেও বাধা দেয় রূপচাঁদা।
১৩. পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্য উন্নত করতে পারে মাছটি। বিশেষত শুক্রাণু সবল করে।
১৪. মেনোপজকালীন রোগ ‘হট ফ্ল্যাশ’ কমাতে পারে রূপচাঁদা। বর্ডার লাইন পার্সোনালিটি নামে নারীদের এক ধরনের রোগ হতেও মুক্ত করতে পারে এই মাছ।
১৫. গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাস এবং প্রসব-পরবর্তী মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খুবই প্রয়োজন এই মাছ। কারণ গর্ভে থাকাকালীন সময়ে শিশুর মগজ ও চোখের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে এই মাছ।
১৬. দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে রূপচাঁদা। গ্লুকোমা থেকেও রেহাই দেয়।
১৭. অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ দূর করতে এই মাছের জুড়ি নেই। আলসারেটিভ কোলাইটিসের পথ্য হিসেবে কাজ করে।
১৮. শরীরে সার্জারি হলে সেই ক্ষত দ্রুত সারাতে সাহায্য করে রূপচাঁদা।
১৯. ত্বকের সুস্থতা নিশ্চিত করে রূপচাঁদা। এছাড়া চামড়ায় আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির ক্ষতিও নির্মূল করতে পারে রূপচাঁদা।