26/07/2026
#الأرجنتين
মানুষের জীবনে রোগ, শোক, বিপদ-আপদ ও দুঃখ-কষ্ট শুধু শাস্তি নয়; এগুলো অনেক সময় গুনাহের কাফফারা (ক্ষমার মাধ্যম), ঈমানের পরীক্ষা এবং মর্যাদা বৃদ্ধির উপায়। এ বিষয়ে কুরআন ও হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
কুরআনের বাণী
১. আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করেন
"আমি অবশ্যই তোমাদেরকে কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করব। আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।" — সূরা আল-বাকারা, ২:১৫৫
২. বিপদ মানুষের কৃতকর্মের কারণেও আসে, তবে আল্লাহ অনেক গুনাহ ক্ষমা করে দেন
"তোমাদের ওপর যে বিপদ আসে, তা তোমাদের নিজেদের কৃতকর্মের কারণেই আসে। আর তিনি অনেক কিছু ক্ষমা করে দেন।" — সূরা আশ-শূরা, ৪২:৩০
৩. কষ্টের পর সহজি আসে
"নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।" — সূরা আশ-শারহ, ৯৪:৫–৬
হাদিসের বাণী
১. রোগ-শোক গুনাহ মাফের কারণ রাসূল ﷺ বলেছেন:
"মুমিনের কোনো ক্লান্তি, রোগ, দুশ্চিন্তা, শোক, কষ্ট বা দুঃখ—এমনকি কাঁটা ফুটলেও—আল্লাহ এর মাধ্যমে তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।" — Sahih al-Bukhari ও Sahih Muslim
২. আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন তাকে পরীক্ষা করেন রাসূল ﷺ বলেছেন:
"আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তাকে বিপদে ফেলেন (পরীক্ষা করেন)।" — Sahih al-Bukhari
৩. পরীক্ষার বিনিময়ে বড় প্রতিদান রাসূল ﷺ বলেছেন:
"পরীক্ষা যত বড়, প্রতিদানও তত বড়। আল্লাহ যখন কোনো জাতিকে ভালোবাসেন, তখন তাদের পরীক্ষা করেন।" — Jami' at-Tirmidhi
শিক্ষা
রোগ, শোক ও বিপদ সব সময় আল্লাহর শাস্তি নয়।
ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখলে এসব কষ্ট গুনাহ মাফের কারণ হতে পারে।
বিপদের সময় বেশি বেশি তাওবা, ইস্তিগফার, দোয়া ও সৎকাজ করা উচিত।
দোয়া:
رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ
উচ্চারণ: রব্বানা আফরিগ 'আলাইনা সাবরাও ওয়া তাওয়াফ্ফানা মুসলিমীন।
অর্থ: “হে আমাদের রব! আমাদের ওপর ধৈর্য বর্ষণ করুন এবং আমাদের মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দান করুন।” (সূরা আল-আ'রাফ, ৭:১২৬)