27/08/2025
❝অ্যালকোহল মিশ্রিত পারফিউমের শরয়ী বিধান....❞
◾প্রশ্নঃ বর্তমানে বডি স্প্রে বা পারফিউমে এ্যালকোহল ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে স্প্রে ব্যবহার করে সালাত আদায় করা যাবে কিনা? আর এই স্প্রে বিক্রি করা শরীয়তসম্মত কিনা?
◾উত্তরঃ প্রচলিত অধিকাংশ বডি স্প্রে ও সেন্ট শর্তসাপেক্ষে ব্যবহারে ও বিক্রিতে কোন সমস্যা নেই। তবে না করাই উত্তম। এর বিপরীতে এলকোহল মুক্ত আতর ব্যবহার করা উচিৎ।
📌 অ্যালকোহল মিশ্রিত পারফিউম নিয়ে কিছু কথা মনে রাখা জরুরি।
★ ১। যে সমস্ত এলকোহল খেজুর বা আঙ্গুর দ্বারা তৈরী করা হয়নি, সেগুলো মৌলিকভাবে নাপাক না এবং যতটুকু ব্যবহারে নেশার উদ্রেক হয়না ততটুকু ব্যবহার জায়েজ।
ইহা ইমাম আবু হানীফা রহঃ এবং ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ এর মতানুসারে।
[ফাতহুল ক্বদীর-৮/১৬০, ফাতওয়ায়ে আলমগীরী-৫/৪১২, আল বাহরুর রায়েক-৮/২১৭-২১৮, ফাতওয়ায়ে মাহমূদিয়া-২৭/২১৯; তানভীরুল আবসার মা'আত দুররিল মুখতার ২/২৫৯]
★ ২। বর্তমানে সুগন্ধিযুক্ত বস্তু যেমন—সেন্ট, বডি স্প্রে ইত্যাদি অ্যালকোহল ছাড়া প্রস্তুত করা দুষ্কর। আর এখনকার সেন্ট বা বডি স্প্রেগুলোতে সাধারণত আঙুর, খেজুর বা কিসমিস থেকে প্রস্তুতকৃত অ্যালকোহল থাকে না; বরং বিভিন্ন শস্যদানা, গাছপালার ছাল,ভাত, মধু, শস্য, যব, আনারসের রস, গন্ধক ও সালফেট, অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান ইত্যাদি থেকে প্রস্তুতকৃত অ্যালকোহল মেশানো হয়।
[এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা : খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৪৪- প্রকাশকাল ১৯৫০ খ্রি.]
☞ আল্লামা তাকী উসমানী হাফিঃ সহ বেশ কিছু উলামাদের স্বতন্ত্র গবেষণাতেও দেখা গেছে যে, বর্তমানে বেশির ভাগ অ্যালকোহল আঙ্গুর ও খেজুর থেকে তৈরি হয় না। সুতরাং এসব বৈধ উদ্দেশ্যে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। তদ্রুপ ওষুধ তৈরিতে বা চিকিৎসায়ও ব্যবহার করা যাবে। অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করা যাবে।
[তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ১/৩৪৮,৩/৩৩৭; ফিকহুল বুয়ূ ১/২৯৮]
★ ৩। অনুরুপ ভাবে বিভিন্ন হালাল-হারাম উপাদান মিক্সড করে যদি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় রিফাইন করার মাধ্যমে এর মৌলিকত্ব নিঃশেষ করা হয় তাহলে সেটিকে হারাম বলা যাবেনা। আর যদি সেসব হারাম বস্তুর মৌলিকত্ব বাকি থাকে, তাহলে উক্ত বস্তু যাতে মিশ্রিত করা হবে, তা ব্যবহার করা জায়েজ হবে না। [নিহায়াতুল মুহতাজ লির রামালি-৮/১২]
☞ কেননা রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন - ‘নেশা সৃষ্টিকারী প্রতিটি বস্তুই হারাম।’ [বুখারি, হাদিস নং : ৪৩৪৩]
"মদকে যখন লবন বা অন্য কিছু দ্বারা সির্কা বানিয়ে ফেলা হয়, তখন তা আমাদের (হানাফীদের) নিকট হালাল হয়ে যায়।"
[ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া-৫/৪১০, মাজমাউল আনহুর-৪/২৫১, ফাতওয়ায়ে মাহমূদিয়া-২৭/২১৮]
☞ তাই এসব বডি স্প্রে ও সেন্ট নাপাক নয়। আর এগুলো নেশার উদ্রেকও হয়না।উপরন্তু এসব উপাদান গুলো রিফাইনও হয়।এবং শরীরে কোনরুপ প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করেনা।তাই এগুলো ব্যবহারে আপত্তি নেই। তবে এরূপ সেন্ট পরিত্যাগ করাই উত্তম।
[জাদীদ ফিকহি মাসাইল : ১/৩৮ ; তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম : ১/৩৪৮, ৩/৩৩৭; ফিকহুল বুয়ু : ১/২৯৮]
★ ৪। আর যদি এতে নেশাজাতীয় উপাদান বিদ্যমান থাকে, তবুও আহনাফদের নিকট ইহা খাওয়া ব্যতিত এর পানীয় কাপড়ে বা অন্য কোথাও ব্যবহার করা সরাসরি হারাম ও নাপাক নয়। সুতরাং, এক্ষেত্রে বডি স্প্রে ব্যবহার করলেও সালাত আদায় হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
☞ ইমাম আবূ হানীফা(রহঃ) এর মতে পানি না পেলে নাবীয (এক প্রকার মাদকতাময় পানীয়) দিয়ে ওজূ করা যাবে।
[আল মাবসূত্বঃ২/৯ বাদায়েউস সানায়ে' ১/১৫; আল ইনায়াহ শরহুল হিদায়াহ ১/১১৮;আহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/৫৪৩]
ইমাম মুহাম্মদ (রহঃ) এর মতে- ওজুর সাথে তায়াম্মুমও করবে।
[আল বিনায়াহ ১/৪৬৪; ফাতহুল ক্বদীর ১/১১৮-১২৯; বাদায়েদুস সানায়ে' ১/১৫] অর্থাৎ একে সরাসরি নাপাক বলা যাবেনা।
☞ দলীলঃ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেন- যে রাতে রাসুল (ﷺ) জিনদের সাথে দেখা করেন, সে রাতে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ (রাঃ) সাথে ছিলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আব্দুল্লাহ তোমার কাছে কাছে পানি আছে কিনা। তিনি বললেন- আমার কাছে নবীয (খেজুর ডুবিয়ে রাখা একটু আঠালো পানি) আছে পাত্রে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ "আমাকে দাও, ওযু করব।'' তিনি তাই করলেন। রাসুল (ﷺ) বললেনঃ "হে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ! এটা একটা পানীয় আর পবিত্র।"
[মুসনাদ আহমাদঃ ৩৫৯৪, মুসান্নাফ ইবনু আব্দির রাযযাক্বঃ ৬৯৩, মু'জামুল কাবীর তাবারানীঃ ৯৯৬১, মুসনাদে বাযযারঃ ১৪৩৭, সুনানু দারি কুত্বনী ১/৭৬, সুনানু ইবনি মাজাহঃ ৩৮৫; শরহু মা'আনিউল আসার,ত্বহাবী ১/৯৪; তাফসীরু ইবনি কাসীর ১৩/৩৬]
☞ উল্লেখিত হাদীসের সনদে ইবনু লাহী'য়াহ নামক এক বিতর্কিত রাবী রয়েছে এবং তার দুর্বলতা সবার নিকটই প্রসিদ্ধ। কিন্তু এই হাদীসটির বিভিন্ন সনদসূত্র রয়েছে। তবে ইমাম ত্বহাবীও ইমাম আবূ ইউসূফ থেকে এর বিপরীত মতও পাওয়া যায়।
[আল মাবসূত্বঃ২/৯০; বাদায়েউস সানায়ে' ১/১৫; আল ইনায়াহ শরহুল হিদায়াহ ১/১১৮; তাবয়ীনুল হাক্বায়েক্ব ১/৩৫] এদিক বিবেচনা করলেও সেন্ট ও বডি স্প্রের ব্যবহার সম্পূর্ণ হারাম বলা যায়না। (আল্লাহু আ'লামু বিস সাওয়াব)
⚠️ বিঃদ্রঃ একইসাথে এই বিধান হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যেমন হ্যাক্সিসল ইত্যাদি। যদিও এতে ৭০% এলকোহল থাকে। এটি হাতে দিয়ে সালাত আদায়ে সমস্যা নেই। ⚠️
Copy past
SentHouse BD Reza Perfume Dubai Info