25/05/2025
একসময় আমাদের গান গুলো মানুষের কাছে পৌঁছাতে শুরু করে। যে অনুভূতি জন্ম নিয়েছিল ২০ বছর আগে জঙ্গলে মধ্য রাতে, সেটা এখন আরও অনেকে বয়ে বেড়ায়। এরা প্রত্যেকে আলাদা ভাবে গানের একটি মানে বের করে। কিংবা কেউ হয়ত কোন অর্থ খুঁজে পায় না। আমি সেখানে হস্তক্ষেপ করি না।
যখন খুব কবিতা পড়তাম আর কিছু বুঝতাম না, তখন একদিন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটা লেখা পাই।
‘অর্থ বোঝাটাই কবিতার সার্থকতা না; কবিতা পড়ার পর মনের ভেতরে যে পরিশুদ্ধ আবেগ নাড়াচাড়া করে, সেটাই কবিতা।’
গানের ক্ষেত্রেও তাই। খুব বুঝে কিন্তু অনুভব করতে পারে না, এর চেয়ে অনেক ভালো না বুঝে হলেও অনুভব করতে পারা।
টলস্টয় এই অনুভূতি নিয়ে প্রশ্ন রেখেছিলেন, “Is it really possible to tell someone else what one feels?”
কত সাধারণ একটা কথা। তবু উত্তর দিতে হলো প্রশ্ন রেখে। একজন যা অনুভব করে তা কি অন্য কাউকে বলা সত্যিই সম্ভব?
এই অসম্ভব ঘটনা ঘটতে শুরু করে আমার সাথে। যখন কনসার্ট করতে শুরু করি, জীবনে প্রথমবার দেখা মানুষদের মনে হয় পূর্বপরিচিত। কারণ তাদের চোখ বলে দেয়, আমাদের পরিচয় হয়েছে দেখা হবার আগে।
মনের ভেতরে যে অনুভূতি স্মৃতি থেকে হারিয়ে যায়, তা সামনে চলে আসে। যত বেশি সামনে আমারা নিজেদের নিয়ে যাই, আমাদের মন তত বেশি পেছনে গিয়ে থামে। তাই আমরা যখন একসাথে গাই-
‘এখনও বাকি আছে বোঝাপড়া জীবনে
পুরনো দিনের খাতায় বিপর্যস্ত কবিতা
নিভে গেলে দীপ্ত শিখা আচমকা বাতাসে
জ্বালাবে আলো, কথা দিয়েছিলে।’
আমাদের সবার উদ্দেশ্য আলাদা। গন্তব্য আলাদা। কিন্তু অনুভূতি গুলো একই রকমের। আচমকা বাতাসে নিভে যাবার জন্য আমাদের জন্ম হয় নি। কিন্তু কেউ কেউ নিভে যাই। অন্যরা বেঁচে থাকে তাদের আলোয়।
কবিতা লিখেছিলাম, নিকটবর্তী ব্যবধানে।
‘তুমি হেরে না গেলে, আমার জেতা হতো না।
আমার জেতার কারণের চেয়ে, তোমার হেরে যাবার কারণ
তোমাকে স্থান করে দেবে মহাকালের রথে।’
কিংবা নিরুদ্দেশ হয়ে আছে যে গান
‘একদিন এই হেরে হেরে জেতা, জিতে জিতে হারার
মানে বদলে যাবে।’
বারবার আমি একই কথা বলে যাই। আলোই জীবনের সার্থকতা না। সার্থক জীবন অন্ধকারেও হয়। উদাহারণ হিসেবে সফল উদ্যোক্তার কথা না লিখে, আওড়ানো জীবনানন্দ দাশ। যে এক গভির ভাবে অচল মানুষ।
মির্জা গালিব এর কবিতার মতো। অন্ধকারে মৃত্যু হয় না কারো। বরং মৃত্যু অন্ধকার হয়।
বলতে চাওয়া, বলতে না পারা, অথবা বলার পরেও যা বলতে পারি নি, তাই তো জীবন !