14/09/2026
আপনি কি কখনো সাহাবি জাবির (রা.) এর নাম শুনেছেন?
খুব অল্প বয়সেই জাবির (রা.) এর কাঁধে হঠাৎ করেই বেশ ভারী, কঠিন কতগুলো বোঝা চলে এসেছিলো! কেবলই উহুদের যুদ্ধে তাঁর বাবা শহীদ হয়েছেন। রেখে গেছেন বিরাট অংকের ঋণ! সেই সাথে সাত অথবা নয়জন মেয়ের দায়িত্ব। তাঁর এই ছোট ছোট বোনগুলোর কথা ভেবেই জাবির (রা.) এমন একজন নারীকে বিয়ে করেছিলেন, যিনি তাদের দেখাশোনা করতে পারবেন। এমনি এক সময় জাবির (রা) অন্য একটি সামরিক অভিযান থেকে তাঁর ঘর মদিনায় ফেরার পথে দারুণ এক ঘটনা ঘটে। এই অভিযানে তাঁর সাথে প্রিয় রাসূল ﷺ ও ছিলেন।
সফর থেকে ফেরার পথে জাবিরের (রা) উটটি ভীষণ ক্লান্ত হয়ে একেবারে পিছিয়ে পড়ল। স্বাভাবিকভাবেই ওনার চলতে কষ্ট হচ্ছিল! আর ঠিক তখনই প্রিয় রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর কাছে এলেন। তাঁর উটের খবর নিলেন, সেটিকে তাড়া দিলেন, এবং উটের জন্য দুআ করলেন। তারপর পাশাপাশি চলতে চলতে জাবিরের সাথে অনেক অনেক গল্প করলেন প্রিয় রসুলুল্লাহ ﷺ । এমনকি জাবিরের বিয়ের গল্পটাও শুনলেন। দাম্পত্য জীবন নিয়ে দারুণ কিছু উপদেশ দিলেন আড্ডার ছলে। এটা সেটা অনেক কিছু বলে তারা হাসতে হাসতে উটে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন! প্রিয় রসূল ﷺ আসলে এই তরুণ সাহাবির ভারী মনটাকে একটু হালকা করে দিচ্ছিলেন।
কল্পনা করতে পারেন? পৃথিবীর সেরা মানব! একটু সুযোগ খুঁজতেন কিভাবে তাঁর সাথীদের চিয়ার আপ করা যায়! এরপর কথায় কথায় রাসূল ﷺ জাবির (রা.)-এর কাছ থেকে সেই উটটি কিনে নিলেন। যদিও জাবির (রা) শুরুতে দ্বিধা করছিলেন কারণ তাঁর এই একটাই উট! তিনি চলবেন কীভাবে? তবে প্রিয় রসূল(সা) যেহেতু কিনতে চেয়েছেন, তিনি মানা করেন কীভাবে? তিনি রাজি হলেন
তবে শর্ত নিলেন যে, মদিনা পর্যন্ত পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত ঐ উটে চড়েই যাবেন। মদিনায় পৌঁছে জাবির (রা.) উট নিয়ে হাজির হলে রাসূল ﷺ তাঁকে সেই উটের পুরো দাম দিলেন। জাবির (রা) রসূল (সা) কে তাঁর উট বুঝিয়ে দিলেন! এরপর ঘটলো সেই চমৎকার ঘটনা! পেছন থেকে ডেকে রাসূল ﷺ বললেন, “জাবির! এদিকে আসো তোমার উট নিয়ে যাও। আর তোমার টাকাও তোমার কাছেই রাখো!"
সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! জাবির (রা) তো ভীষণ অবাক! মানে বুঝেছেন প্রিয় পাঠক? রাসূল ﷺ উটটিও তাঁকে ফিরিয়ে দিলেন! টাকাটিও তাঁকে দিয়ে দিলেন।
আসলে হয়তো সরাসরি কিছু টাকা দিতে চাইলে জাবির (রা.) হায়ায়, লজ্জায় নিতে সংকোচ করতেন। সেজন্য এই অভিনব পদ্ধতিতে তরুণ সাহাবীর সাথে অতি আনন্দের মজা করে প্রিয় রাসূল ﷺ তাঁর হাতে কিছু টাকা গুঁজে দিলেন, যা তাঁর ভীষণ প্রয়োজন! সাহায্যটাও তাঁর হাতে পৌঁছে গেল, আবার তাঁর আত্মসম্মানটুকুও অক্ষত রইল। আহা প্রিয় রাসূল ﷺ! কীভাবে পারতেন আপনি? আপনার কথাগুলো পড়ে কীভাবে চোখে পানি না এসে থাকবে! কত যে মিস করি আমি আপনাকে... কি আর বলবো! জান্নাতে যেন দেখা হয় আপনার সাথে, এই তো হৃদয়ের আকুতি! এখন সে অনুযায়ী আমলও যেন করতে পারি ইয়া রব!
_____________________________
হাদিসের সূত্র: সহিহ মুসলিম, ৭১৫; সহিহ বুখারি, ৫৩৬৭।