16/06/2026
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কে যারা পাত্তা দেন না তারা পোস্ট টি শেষ পর্যন্ত পড়বেন।
মহিলার বয়স ২৮ বছর। প্রেগন্যান্ট অবস্থায় লাস্টের দিকে উনার গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যা দেখা দেয়। তো উনি ভাবে যে, গর্ভাবস্থায় বাচ্চা বড় হয়,পেটে চাপ লাগে, এজন্য গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যা হচ্ছে হয়তো। এজন্য পাত্তা দেয়নি বিষয়টাকে।
কিন্তু ডেলিভারি হওয়ার পরও একই সমস্যা। প্রচন্ড গ্যাস্ট্রিক হচ্ছে। বাচ্চার বয়স ৩/৪ মাস। তাও সমস্যা কমে না। এর কিছুদিন পর, উনি খেয়াল করলেন পায়খানা কালো রংয়ের হচ্ছে। কিছুদিন কালো হয়। আবার কিছুদিন স্বাভাবিক রং হয় ।
তো এইভাবে আরো ৪/৫ মাস চলে গেছে। এরপর উনার শুরু হইছে বমি। যা খায় তাই বমি করে। কিছুই খাইতে পারতেছে না। শক্ত খাবার তো না ই। গ্যাস্ট্রিক এর জন্য ওষুধ খাচ্ছে, বমির জন্য ওষুধ খাচ্ছে তাও কোনোভাবে বমি নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না।
তরল জুস একটু আধটু খেতে পারে। জুস খেয়েই বেঁচে আছে। এরমধ্যে একমাসেই ওজন কমছে ১২ কেজি। এবার উনি নড়েচড়ে বসছে।
মেডিসিন ডাক্তারের কাছে গেলো। স্যার সব কিছু শুনে বুঝে এন্ডোস্কপি করার পরামর্শ দিয়েছেন।
এন্ডোস্কপি তে ধরা পড়লো পাকস্থলীতে বড় আলসার। সাথে পাকস্থলীর শেষের দিকে একটা টিউমারের মতো জিনিস। টিউমারের ফলে পাকস্থলীর নলের ভিতেরের অংশ ব্লক মতো হয়ে গেছে। এজন্য খাবার নিচের দিকে যেতে পারে না। ফলে উনি যা খাই সব মুখ দিয়ে বের হয়ে আসে অর্থাৎ বমি হয়।
এখন ঐ টিউমারের মতো জিনিসটা আসলেই কি,সেটা জানার জন্য হিস্টোপাথলজি পরীক্ষা করতে পাঠানো হলো। রিপোর্ট আসলো। রিপোর্টে ধরা পড়লো Adenocarcinoma অর্থাৎ ক্যান্সার 🙂। মহিলার বয়স কিন্তু ২৮। বাচ্চার বয়স মাত্র ৮ মাস। প্রথমত এই অল্প বয়সে ক্যান্সার ,তার উপর বাচ্চার বয়স মাত্র ৮. কিভাবে বুঝাবেন উনার মন কে??
এখন আসেন একটু ব্যাখ্যা করি কিভাবে ক্যান্সার হল!!
দীর্ঘদিন ধরে যাদের অনিয়ন্ত্রিত গ্যাস্ট্রিক থাকে, একসময় দেখা যাই তাদের পাকস্থলীতে আলসার হয়ে গেছে। এই আলসার থেকে রক্ত বের হয়, যেটা পায়খানার সাথে বের হয়ে যায়। এজন্য পায়খানার রং কালো হয়ে যায়।যেটা ঐ রোগীর হয়েছিলো।
যেখানে আলসার হয়, বডি ঐটাকে রিপেয়ার করার চেষ্টা। বারবার আলসার এবং বারবার রিপেয়ার এই অবস্থা চলতে থাকে। এবং একসময় সেটা ক্যান্সার এ রূপ নেয়।
এই ক্যান্সার খাদ্যনালীর পাইপ টাকে ব্লক করে ফেলে ভিতর থেকে। ফলে নিচের দিকে খাবার যেতে পারে না। এজন্য খাবার গুলা বমির মাধ্যমে মুখ দিয়ে বের হয়ে আসে।
রোগীটা ভর্তি আছেন আমাদের হাসপাতালে। কিছুদিন পর উনার অপারেশন হবে। অপারেশন টাও একটু বড় অপারেশন। রোগীর পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল। উনারা চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারবে ইনশাআল্লাহ। কিন্তু এই সমস্যা টা যদি একজন গরিব রোগীর হতো ?? কোনো একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যের হতো?? হয়তো চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। আল্লাহ হেফাজত করুক।
কিন্তু চাইলে আমরা এটাকে প্রতিরোধ করতে পারি। যদি পরিবারের কারো অনেক বেশি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকে তাইলে এমবিবিএস ডাক্তারের শরাণাপন্ন হবেন। সাথে যদি কালো পায়খানা বা বমি থাকে। তাইলে যতো দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ সরকারী হাসপাতালে ডাক্তার দেখাবেন। সামান্য গ্যাস্ট্রিক বলে অবহেলা করে রোগীর জীবন কে মৃত্যমুখী করে দিবেন না।আল্লাহ সবাইকে সুস্থ রাখুক। আমীন।
পোস্টটি শেয়ার করে সবাইকে জানানোর সুযোগ করে দিবেন। তাইলে একজন গরিব, মধ্যবিত্ত লোক হয়তো ক্যান্সার হতে সাবধান হতে পারবে। জীবন টা বেঁচে যাবে।
-ডাঃ মেহেদী হাসান সাগর
এমবিবিএস
মুমেক
©copy post