Blank Book

Blank Book Blank Book - শূন্য থেকে শুরু।

“তোমার আর আমার সংসার হলে খারাপ হবে না, বলো! দু-চারদিন তোমার হাসি দেখে অনায়াসে কাটিয়ে দেওয়া যাবে। তাই না?“আমাদের একটা ...
04/05/2026

“তোমার আর আমার সংসার হলে খারাপ হবে না, বলো! দু-চারদিন তোমার হাসি দেখে অনায়াসে কাটিয়ে দেওয়া যাবে। তাই না?
“আমাদের একটা সংসার হলে, আমি পৃথিবীর সকল স্বার্থপরতা ভুলে যেতাম, বাহার ভাই।”
বই : চিত্ত চিরে চৈত্রমাস
লেখিকা : মম সাহা

“আমাকে বিবাহিত দেখলে তোমার দুঃখ হবে। তোমায় আমি মাহাদ কী করে এই দুঃখ দিই, বলো তো, সুন্দরীতমা।”বই : প্রিয় মাহাদ লেখিকা :...
15/04/2026

“আমাকে বিবাহিত দেখলে তোমার দুঃখ হবে। তোমায় আমি মাহাদ কী করে এই দুঃখ দিই, বলো তো, সুন্দরীতমা।”

বই : প্রিয় মাহাদ
লেখিকা : লাবিবা ওয়াহিদ
বই ছবি : সংগ্রহীত

❛❛ ভালোবাসা আমার কাছে খুব মধুর একটা বিষয়। মৌমাছি ফুল থেকেই সেই মধু আহরণ করে। তার মানে ফুল মধুর উৎপত্তি! ভালোবাসাকে অবহেল...
12/04/2026

❛❛ ভালোবাসা আমার কাছে খুব মধুর একটা বিষয়। মৌমাছি ফুল থেকেই সেই মধু আহরণ করে। তার মানে ফুল মধুর উৎপত্তি! ভালোবাসাকে অবহেলা করা উচিত না। ভালোবাসার মধুরতা অনেকখানি, তাই আমি সেই ভালোবাসার ফুল দিয়েই তা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলাম। ❞



বই: তোমার মনের মধ্যিখানি
লেখক: মিমি মুসকান
বইছবি : সংগৃহীত

বুক রিভিউ ২ নৌকাডুবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রবীন্দ্রনাথের প্রতিটি উপন্যাসের উপসংহারে আছে বিচ্ছেদের ছোঁয়া। কিন্তু নৌকাডুবি এম...
11/04/2026

বুক রিভিউ ২
নৌকাডুবি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথের প্রতিটি উপন্যাসের উপসংহারে আছে বিচ্ছেদের ছোঁয়া। কিন্তু নৌকাডুবি এমন একটি উপন্যাস। যে উপন্যাসের উপসংহারে বিচ্ছেদ নয় আনন্দের ঝলক রয়েছে। "নৌকাডুবি" নিয়ে আসলে বলে শেষ করা যাবেনা। কমলা হতভাগী হলেও শেষ মুহূর্তে তার ভাগ্যটা সবার থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল। এক কথায় নৌকাডুবি উপন্যাসটি অদ্ভুত রকম সুন্দর। এই অদ্ভুত রকম সুন্দর উপন্যাসটির স্বাদ নিতে হলে অবশ্যই বইটি সংগ্রহে রাখতে হবে।
বইটি সংগ্রহ করতে Blank Book এ ইনবক্স করুন।

"আমার জন্মই হয়েছে ইমরান সাহেবের জন্য।মোনালিসা ব্যতীত ইমরান  সাহেব অপরিপূর্ণ।"বইঃ চলো দোতং পাহাড় জুম ঘরেলেখিকাঃ নীতি জাহি...
09/04/2026

"আমার জন্মই হয়েছে ইমরান সাহেবের জন্য।মোনালিসা ব্যতীত ইমরান সাহেব অপরিপূর্ণ।"

বইঃ চলো দোতং পাহাড় জুম ঘরে
লেখিকাঃ নীতি জাহিদ

❝ছেড়ে যাওয়ার জন্য হাজারটা কারণ দেখানো যায়। থেকে যাওয়ার জন্য একটা কারণই যথেষ্ট। সেই কারণটি হলো, আমি তোমাকে ভালোবাসি।❞বইঃ ...
08/04/2026

❝ছেড়ে যাওয়ার জন্য হাজারটা কারণ দেখানো যায়। থেকে যাওয়ার জন্য একটা কারণই যথেষ্ট। সেই কারণটি হলো, আমি তোমাকে ভালোবাসি।❞

বইঃ বউজান
লেখকঃ মুন্নি আক্তার প্রিয়া
বই ছবিঃ সংগৃহীত

বইটি সংগ্রহ করতে Blank Book এ ইনবক্স করুন।

1865 সালে ভারতীয় লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি দুর্গেশনন্দিনী (Durgeshnandini) একটি বাঙালি ঐতিহাসিক রোম্যান...
03/04/2026

1865 সালে ভারতীয় লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি দুর্গেশনন্দিনী (Durgeshnandini) একটি বাঙালি ঐতিহাসিক রোম্যান্স উপন্যাস। দুর্গেশনন্দিনী (Durgeshnandini) এক বাঙালি সামন্ততুল প্রভুর তিলোত্তমা এবং এক বিদ্রোহীর কন্যা আয়েশার কন্যা জগৎ সিংহের মধ্যে প্রেমের ত্রিভুজের গল্প। পাঠান নেতা যার বিরুদ্ধে জগৎ সিং লড়েছিলেন। আকবরের রাজত্বকালে এই গল্পটি আধুনিক যুগের ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমী পশ্চিম অঞ্চল পশ্চিম পশ্চিম অঞ্চলে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে সংঘটিত পাঠান-মুঘল দ্বন্দ্বের পটভূমিতে সেট করা হয়েছে।

দুর্গেশনন্দিনী (Durgeshnandini) হ’ল বঙ্কিমচন্দ্রের রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের প্রথম প্রধান উপন্যাস।

অর্ডার করতে ইনবক্সে মেসেজ দিন।
অথবা আমাদের পেজটি ফলো করে রাখুন—প্রতিদিন থাকছে চমৎকার বইয়ের রিভিউ ও অফার।

Blank Book – আপনার পাঠের জগৎ হোক আরও রঙিন।
শুধু পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে, জীবনকে জানার বইগুলো এখন হাতের নাগালে।
প্রতিদিন একুশে বইমেলার মতো সাজানো রিভিউ, হাতে-বাছাই করা সংগ্রহ, আর থাকছে সেরা মূল্যে বই পাওয়ার সুযোগ।
আজই পেজটি ফলো করুন, আর অ্যাকাডেমিকের বাইরের দুনিয়াটা আবিষ্কার করুন।

Blank Book – পড়া নয়, বাঁচার বই।

N.B : লেখা ও স্থিরচিত্র সংগ্রহীত

"কী দেখছ এমন করে?""দেখছি তুমি কত সুন্দর!""আজ বুঝি নতুন দেখলে?"স্বামীর প্রশংসায় মার্জিয়া তাঁর মুক্তঝরা দাঁতগুলো বের করে হ...
03/04/2026

"কী দেখছ এমন করে?"
"দেখছি তুমি কত সুন্দর!"
"আজ বুঝি নতুন দেখলে?"
স্বামীর প্রশংসায় মার্জিয়া তাঁর মুক্তঝরা দাঁতগুলো বের করে হাসলেন।
"তুমি রোজই নতুন। রাতে একরকম, সকালে আরেকরকম। দুটোই সর্বনাশা ধরনের সুন্দর। কোনটা যে আসল, বুঝি না!"

বইঃ দূর হতে তোমারেই দেখেছি
লেখকঃ মোর্শেদা হোসেন রুবি

বই সংগ্রহের জন্য Blank Book এ ইনবক্স করুন।

Day 02 of finding best 100 novel in Bengali literature. বিষবৃক্ষ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। এ...
01/04/2026

Day 02 of finding best 100 novel in Bengali literature.

বিষবৃক্ষ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। এটি বঙ্কিমচন্দ্রের চতুর্থ বাংলা উপন্যাস । তাঁর বিষবৃক্ষ-কৃষ্ণকান্তের উইল-রজনী গার্হস্থ্যধর্মী উপন্যাসত্রয়ীর অন্যতম। ১২৭৯ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যা (১৮৭২) থেকে চৈত্র সংখ্যা (১৮৭৩) পর্যন্ত বঙ্গদর্শন পত্রিকায় মোট বারোটি কিস্তিতে বিষবৃক্ষ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৩ সালের ১ জুন। উপন্যাসটি আধুনিক বাংলা উপন্যাস সাহিত্যের আদিযুগের একখানি উপন্যাস। বিষবৃক্ষ উপন্যাসের বিষয়বস্তু ছিল সমসাময়িক বাঙালি হিন্দু সমাজের দুটি প্রধান সমস্যা – বিধবাবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রথা । এই উপন্যাসের পটভূমি বিধবাবিবাহ আইন পাশ হওয়ার সমসাময়িক কাল।এ উপন্যাসের নায়িকা বিধবা কুন্দনন্দিনীর চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্রের কনিষ্ঠা কন্যা ছায়া অবলম্বনে রচিত হয় বলে জানা যায়।[৫]

গোবিন্দপুরের জমিদার নগেন্দ্রনাথ দত্ত কলকাতা যাত্রার পথে অনাথা বালিকা কুন্দনন্দিনীর সন্ধান পান। কুন্দকে তিনি কলকাতায় তাঁর ভগিনী কমলমণির কাছে রেখে এসেছিলেন। কিন্তু পরে স্ত্রী সূর্যমুখীর একান্ত অনুরোধে তাঁকে গোবিন্দপুরে নিয়ে আসেন। সূর্যমুখীর দূরসম্পর্কীয় ভাই তারাচরণের সঙ্গে কুন্দের বিবাহ হয়। কিন্তু বিবাহের কিছুকাল পরেই তারাচরণের মৃত্যু হলে কুন্দ বিধবা হয়। এরপর নগেন্দ্রনাথ কুন্দের রূপলাবণ্য দর্শনে তার প্রতি আকৃষ্ট হন, কুন্দও নগেন্দ্রের প্রতি অনুরক্তা হয়ে পড়েন। সূর্যমুখী বিষয়টি অনুধাবন করেন। অন্যদিকে দেবীপুরের দুশ্চরিত্র জমিদার দেবেন্দ্রও তারাচরণের গৃহে কুন্দকে দেখে তার প্রতি আকৃষ্ট হন। হরিদাসী বৈষ্ণবীর ভেক ধরে নগেন্দ্রর বাড়িতে এসে তিনি কুন্দকে কুপ্রস্তাব দিয়ে যান। হীরা দাসী এই ব্যাপারে অনুসন্ধান করে সূর্যমুখীকে হরিদাসীর প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে অবহিত করে। এদিকে সূর্যমুখী কমলমণিকে চিঠিতে নগেন্দ্রনাথের কুন্দর প্রতি অনুরাগের কথা জানালে, কমলমণি কুন্দকে কলকাতায় নিয়ে আসতে চায়। কুন্দ আত্মহত্যা করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়। হরিদাসী বৈষ্ণবীর ঘটনায় সূর্যমুখী কর্তৃক অপমানিতা হয়ে কুন্দ গৃহত্যাগ করেন। তার অদর্শনে নগেন্দ্র অস্থির এবং সূর্যমুখীর প্রতি রুষ্ট হন। তিনি গৃহত্যাগের সংকল্প করেন। এমতাবস্থায় কুন্দ ফিরে এলে সূর্যমুখী নিজের উদ্যোগে স্বামীর সঙ্গে কুন্দের বিবাহ দেন। তারপর নিজে গৃহত্যাগ করেন। নগেন্দ্রনাথ তাঁকে খুঁজতে সব জায়গায় লোক পাঠান, তিনি নিজেও বেরিয়ে পড়েন। এদিকে ঘুরতে ঘুরতে সূর্যমুখী রোগাক্রান্ত হন। শেষে এক ব্রহ্মচারীর শুশ্রুষায় সুস্থ হয়ে ওঠেন। ব্রহ্মচারীই নগেন্দ্রনাথকে সংবাদ পাঠান। পরে উভয়ের পুনর্মিলন ঘটে। নগেন্দ্রনাথ গৃহে ফিরে কুন্দর সঙ্গে দেখা না করায় কুন্দ বিষপান করে (প্রকৃতপক্ষে হীরা দাসী কুন্দকে বিষ পান করায়)। পরদিন সকালে সূর্যমুখী যখন কুন্দকে দেখতে আসেন, তখন তার অন্তিম সময় আসন্ন। শেষে নগেন্দ্রনাথের পায়ে মাথা রেখে কুন্দ ইহলোক ত্যাগ করে।

Blank Book – আপনার পাঠের জগৎ হোক আরও রঙিন।
শুধু পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে, জীবনকে জানার বইগুলো এখন হাতের নাগালে।
প্রতিদিন একুশে বইমেলার মতো সাজানো রিভিউ, হাতে-বাছাই করা সংগ্রহ, আর থাকছে সেরা মূল্যে বই পাওয়ার সুযোগ।
আজই পেজটি ফলো করুন, আর অ্যাকাডেমিকের বাইরের দুনিয়াটা আবিষ্কার করুন।

Blank Book – পড়া নয়, বাঁচার বই।

অর্ডার করতে ইনবক্সে মেসেজ দিন।
অথবা আমাদের পেজটি ফলো করে রাখুন—প্রতিদিন থাকছে চমৎকার বইয়ের রিভিউ ও অফার।

N.B : পর্যালোচনা ও স্থিরচিত্র সংগ্রহীত।

Day 01 of finding best 100 novels in Bengali literature.ঊনিশ শতকের শুরুতে বাংলা ভাষার গদ্যরূপ প্রকাশিত হয়। আরও পরে বাংলা...
31/03/2026

Day 01 of finding best 100 novels in Bengali literature.

ঊনিশ শতকের শুরুতে বাংলা ভাষার গদ্যরূপ প্রকাশিত হয়। আরও পরে বাংলা কথাসাহিত্য তথা উপন্যাস শিল্পের বিকাশ। রাজা রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগরসহ খ্যাতিমান লেখকদের সংস্কৃত এবং ইংরেজি ঘেঁষা উচ্চমার্গের সাধু ভঙ্গিতে লেখা গ্রন্থ তখন সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা অসম্ভব ছিল। প্যারীচাঁদ মিত্র তখন লেখ্য ও কথারীতির মিলন ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা অবলম্বনে সর্বজনবোধগম্য নবতর এক গদ্যরীতির সূচনা করেন। আর এ রীতি অবলম্বন করে বাংলা উপন্যাসের প্রাথমিক প্রচেষ্টা হিসেবে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য প্যারীচাঁদ মিত্রের (১৮১৪-১৮৮৩) ‘আলালের ঘরের দুলাল’ (১৮৫৮) উপন্যাসটির আবির্ভাব। সংস্কৃত এবং ইংরেজ লেখকদের অনুসরন না করে সেকালের কলকাতা অঞ্চলের মানুষের মুখের ভাষাকে বাহন হিসেবে গ্রহণ করে নিজস্ব চিন্তা-চেতনার আলোকে বিষয়বস্তু নির্বাচনের মাধ্যমে রচনা করেন ‘আলালের ঘরের দুলাল’।

‘আলালের ঘরের দুলাল’ প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ। ১৮৫৪ সাল থেকে এটি মাসিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৮৫৮ সালে। সাহিত্য সমালোচকগণের মতে; এটি বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সামাজিক নকশা। গ্রন্থটি সম্পূর্ণ সামাজিক পটভূমিকায় রচিত। নব্যশিক্ষিত ইয়ংবেঙ্গলদের কার্যকলাপ ও পরিণতি এ গ্রন্থের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। এখানে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলতা ও পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ নিয়ে লেখকের অভিমত প্রকাশ করেছেন। তবে আধুনিক ইংরেজি শিক্ষার আলোকে উচ্চ আদর্শ সম্পন্ন জীবন গঠনকে লেখক স্বাগত জানিয়েছেন। প্যারীচাঁদ মিত্র এই নবলব্ধ দৃষ্টিকোণ থেকে লক্ষ্য করেছেন যে ধর্ম ও নীতিহীনতাই উচ্ছৃঙ্খলতার মূল কারণ। ‍সুতরাং ধর্মীয় ও নৈতিক জীবনযাত্রা প্রণালীর মধ্যেই রয়েছে এ থেকে মুক্তির পথ। এ কথা প্রমাণ করার জন্যই তিনি লিখেছেন আলালের ঘরের দুলাল।

আলালের ঘরের দুলালের কাহিনী এরূপ- ধনী বিষয়ী বাবুরামের অতি আদরের পুত্র মতিলাল আবাল্য কখনও ধর্মীয় ও নীতির শিক্ষা পায় নি। শিক্ষার ব্যাপারেও পিতা ছিলেন উদাসীন। উপরন্তু কুসঙ্গ তাকে অধঃপতনের শেষ ধাপে নিয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে। পরে দুঃখের জীবনে তার বোধদয় ঘটে এবং হৃদয় মন পরিবর্তিত হয়। অন্যদিকে মতিলালের অনুজ রামলাল আদর্শ চরিত্র। বরদাবাবুর একান্ত স্নেহছায়ায় বড় হয়ে তার সকল নির্দেশ মান্য করে সে সর্বজনের প্রশংসা অর্জন করেছে। মতিলালের চৈতন্যদয় ও আদর্শ জীবনের প্রতি আকর্ষণের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটেছে উপন্যাসের। মূল ঘটনা অপেক্ষা এ বিচিত্র ক্ষুদ্র পল্লবিত ঘটনাই গ্রন্থটির আশ্চার্য সফলতার কারণ। বস্তুত: বরদাবাবুর মত মূর্তিমান নীতিপাঠ, বেনী বাবুর মত সজ্জন অথবা আদর্শ যুবক রামলাল এরা কেউই আলালের মত মূল আকর্ষণীয় নয়। এদের মধ্যে সুশিক্ষা থাকতে পারে কিন্তু উপন্যাসের যা প্রধানতম উপকরণ জীবনের স্বাদ তা এই চরিত্রগুলোতে নেই। আলালের অবিস্মরণীয় সাফল্য এনে দিয়েছে মতিলাল স্বয়ং এবং তার সাঙ্গপাঙ্গ হলধর, গদাধর ইত্যাদি। এছাড়াও ধূর্ত উকিল বটলর, ধরিবাজ মুৎসদ্দি বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর বাবু ইত্যাদি চরিত্র জীবন্ত। তবে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য হলো মোকাজন মিঞা বা ঠকচাচা। চরিত্রটি ধূর্ততা, বৈষয়িক বুদ্ধি ও প্রাণময়তা নিয়ে এ গ্রন্থের সবচেয়ে জীবন্ত চরিত্র।

আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসের কাহিনী নির্মাণে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও সমাজের খণ্ডচিত্রগুলো সুনিপুনভাবে অঙ্কিত হয়েছে। যা সহজেই পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এ গ্রন্থে তিনি প্রথমবারের মত বাংলা সাহিত্যের গদ্যরীতির নিয়ম ভেঙ্গে সচেতনভাবে সংস্কৃতের পরিবর্তে চলতি ভায়া প্রয়োগ করেছেন। যা সাধারণ মানুষের ভাষা। এ উদ্যোগটি বিশেষভাবে স্মরণীয়। এ গদ্যরীতি বাংলা সাহিত্যে ‘আলী রীতি’ হিসেবে পরিচিত। আর এর মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে আর এর মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র শিল্পনৈপূন্য প্রদর্শনপূর্বক তিনি হয়ে উঠলেন প্রথম সার্থক গদ্যশিল্পী এবং স্বকীয় সত্ত্বার ভাস্বর। আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাস হিসেবে স্বার্থক না হতে পারে কিন্তু এ গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা গদ্য সাহিত্যে এক নতুন পথ ‍সূচিত হয়েছে এবং আধুনিক উপন্যাস রচনার পথ সুগম করে দিয়েছে। আলালী ভাষারীতি বাংলা গদ্যের মাধ্যম হিসেবে টিকতে পারেনি। কিন্তু পরবর্তীকালে বঙ্কিমচন্দ্রের হাতে যে আদর্শ গদ্যরীতির উদ্ভব ঘটেছিল তার পিছনে এ আলালী রীতির অবদান অনস্বীকার্য। আর এখানেই প্যারীচাঁদ মিত্রের সার্থকতা।

প্যারীচাঁদ মিত্র ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ ছদ্মনামে এ উপন্যাসটি পত্রিকায় লেখেন। আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাস কিনা এ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। কেউ বলেন এটি বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস, আবার কারো মতে এটি উপন্যাস নয়, উপন্যাসের লক্ষণাক্রান্ত। আলালের ঘরের দুলাল সার্থক উপন্যাস না হলেও বাংলা ভাষার উপন্যাস রচনার প্লাটফর্মটি তৈরি করে দেয়। এ গ্রন্থটি ‘দি স্পয়েড চাইল্ড’ নামে ইংরেজীতেও অনূদিত হয়েছে।

লেখকের নামঃ প্যারীচাঁদ মিত্র (১৮১৪-১৮৮৩)
প্রথম প্রকাশঃ ১৮৫৮ সাল
প্রকাশকঃ অ্যাডর্ন পাবলিকেশন
পৃষ্ঠাঃ ১৫১

Blank Book – আপনার পাঠের জগৎ হোক আরও রঙিন।
শুধু পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে, জীবনকে জানার বইগুলো এখন হাতের নাগালে।
প্রতিদিন একুশে বইমেলার মতো সাজানো রিভিউ, হাতে-বাছাই করা সংগ্রহ, আর থাকছে সেরা মূল্যে বই পাওয়ার সুযোগ।
আজই পেজটি ফলো করুন, আর অ্যাকাডেমিকের বাইরের দুনিয়াটা আবিষ্কার করুন।

অর্ডার করতে ইনবক্সে মেসেজ দিন।
অথবা আমাদের পেজটি ফলো করে রাখুন—প্রতিদিন থাকছে চমৎকার বইয়ের রিভিউ ও অফার।

Blank Book – পড়া নয়, বাঁচার বই।

N.B : পর্যালোচনা এবং স্থির চিত্র সংগ্রহীত।

Address

Mirpur/2
Dhaka
1216

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Blank Book posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category