24/09/2026
সূরা বাকারাহ'র এই অলৌকিক বরকতের গল্পটা জানতে চাইলে পোস্টটা এড়িয়ে যাবেন না।
আমার পরিচিত একজন আপু আছেন।খুবই সাধারণ একজন মানুষ। অবিবাহিত। জীবনযাপনেও তেমন কোনো চাকচিক্য নেই। তেমন কোনো আলাদা,বিশেষ আমলও নেই।
তবে তাঁর জীবনে একটি আমল খুব নিয়মিত।সূরা বাকারাহ তিলাওয়াত!
আপু প্রতিদিন একবার করে সম্পূর্ণ সূরা বাকারাহ শেষ করার চেষ্টা করেন। প্রতিদিনই!
শুরুর দিকে আপু এক সপ্তাহে একবার সূরা বাকারাহ পড়ে শেষ করার টার্গেট নিতেন। পরে তিনদিনে একবার শেষ করতেন।
এভাবে তিন মাস যেতে না যেতে আপুর জন্য প্রতিদিনই একবার করে সূরা বাকারাহ তিলওয়াত করা সহজ হয়ে গেছে আলহামদুলিল্লাহ।
এখন তিনি দুই থেকে তিন ঘন্টায় একবার সূরা বাকারাহ তিলওয়াত করে শেষ করেন।
সূরা বাকারাহ কত বড় একটি সূরা। প্রতিদিন একবার সম্পূর্ণ পড়ার জন্য সময় বের করা, ব্যস্ততার মাঝেও ধরে রাখা, ক্লান্তির দিনেও ছেড়ে না দেওয়া,এটা নিঃসন্দেহে নিয়মিততার কারণেই।
আর তাঁর জীবনে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে, যেটা শুনে আমার নিজের গায়ের পশমও খাড়া হয়ে গিয়েছিলো৷
আলহামদুলিল্লাহ, আপু দুইবার হজ্ব করার তাওফিক পেয়েছেন। উমরাহ নয়,হজ্বের কথা বলছি!
এমন নয় যে, তাঁর অঢেল সম্পদ আছে। এমন নয় যে, পৃথিবীর হিসেবে তাঁর জন্য দু’বার হজ্ব করা খুব সহজ কোনো ব্যাপার ছিলো।তিনি নিজেই খুব সাধারণ জীবনযাপন করেন।কিন্তু আল্লাহর দেওয়া রিজিকের হিসাব তো মানুষের হিসাবের মতো নয়!
মানুষ যেখানে শুধু নিজের সামর্থ্য, আয়-ব্যয়, সম্পদ আর সুযোগের হিসাব করে,আল্লাহ সেখানে এমন জায়গা থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন, যেটা বান্দা কল্পনাও করতে পারে না।
আপু বিশ্বাস করেন,সূরা বাকারাহ'র বরকতেই তাঁর দুই দুইবার হজ্ব করার তওফিক হয়েছে।
কুরআনের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কখনোই বৃথা যায় না। বিশেষ করে সূরা বাকারাহ তিলওয়াত জীবনে বরকত নিয়ে আসে৷
রাসুল ﷺ সূরা বাকারাহ তিলাওয়াতের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। সহীহ হাদীসে এসেছে, যে ঘরে সূরা বাকারাহ তিলাওয়াত করা হয়, শয়তান সে ঘর থেকে দূরে সরে যায়।
আপনার যদি রিজিকের পেরেশানি থাকে,বিয়ে না হয়,জ্বিন-জাদুর সমস্যা থাকে, সন্তান না হয়,সামগ্রিক সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য এবং সামগ্রিক কল্যাণের লাভের জন্য নিয়্যাত করে সূরা বাকারাহ তিলওয়াত করবেন।
হয়তো শুরুর দিকে আপনি প্রতিদিন পুরো সূরা বাকারাহ পড়তে পারবেন না।সমস্যা নেই।অল্প দিয়ে শুরু করুন। প্রতিদিন কয়েক পৃষ্ঠা। ২০/৩০/৫০ আয়াত!
তারপর ধীরে ধীরে বাড়ান।সম্ভব হলে নির্দিষ্ট একটি সময় ঠিক করুন।ফজরের পর, রাতে, কিংবা দিনের এমন কোনো সময় যখন আপনি তুলনামূলকভাবে নিরিবিলি থাকেন।
এভাবে আস্তে আস্তে নিয়মিত সূরা বাকারাহ পড়া অভ্যাসে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ। আপনি নিজেই এর ফলাফল টের পাবেন ইনশাআল্লাহ 🤍🌷
লেখা সংগৃহীত ফ্রম: NAMAZIA