04/06/2025
আরাফার রোজার ফজিলত ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। আরাফার দিন হলো হিজরি বর্ষের ১২তম মাস জ্বিলহজ্বের ৯ তারিখ, যেদিন হজ পালনের অংশ হিসেবে হাজিরা আরাফার ময়দানে অবস্থান করেন। এ দিনটি হজের অন্যতম রুকন এবং ইসলামের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দিনগুলোর একটি।
আরাফার রোজার ফজিলত:
হাদিস শরিফে আরাফার রোজা রাখার অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে যারা হজে যাননি, তাদের জন্য এই রোজার গুরুত্ব অনেক বেশি।
১. দুই বছরের গুনাহ মাফ:
হাদিস:
> আবু কাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হলো আরাফার রোজা সম্পর্কে। তিনি বললেন:
"এটা গত এক বছর ও আগত এক বছরের গুনাহসমূহ মোচনের আশা করা হয়।"
(সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১১৬২)
২. গুনাহ মাফ ও নাজাতের দিন:
আরাফার দিনকে বলা হয় "ইয়াওমু আরাফাহ", এটি এমন একটি দিন যে দিন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা অধিক সংখ্যক বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।
হাদিস:
> রাসূল (সা.) বলেছেন,
“আরাফার দিনের চেয়ে বেশি সংখ্যক লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তির কোনো দিন নেই।”
(সহীহ মুসলিম)
৩. দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়:
আরাফার দিনটি দোয়া কবুলের সবচেয়ে উত্তম সময়গুলোর একটি।
হাদিস:
> রাসূল (সা.) বলেন,
“আরাফার দিনের দোয়া, সবচেয়ে উত্তম দোয়া। আর আমি ও আমার আগে নবীরা যেই দোয়া বলেছি, সেটি হলো:
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শরিকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, ও হুয়া আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর।’”
(তিরমিযি, হাদিস: ৩৫৮৫)
কে রোজা রাখবে?
হজে যারা নেই, তাদের জন্য এই রোজা রাখা সুন্নত এবং অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
হজে থাকা ব্যক্তিদের জন্য আরাফার রোজা রাখা মুস্তাহাব নয়, বরং না রাখাই উত্তম, যাতে আরাফার দিনে ইবাদতে পূর্ণ শক্তি দিতে পারে।
উপসংহার:
আরাফার রোজা রাখা একটি বড় ইবাদত ও সওয়াবের কাজ। এটি যেন আমরা অবহেলায় না হারাই। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই ফজিলতপূর্ণ রোজা রাখার তাওফিক দিন, আমিন।