06/10/2021
ফলের চিনি VS কৃত্রিম চিনি
প্রাকৃতিক চিনি VS প্রক্রিয়াজাত চিনি
গ্লুকোজ VS ফ্রুক্টোজ
অনেকেই ডায়েটে শর্করা তো বাদ দেয়ই, এমনকি মিষ্টি ফল খাওয়াও বাদ দিয়ে দেয়। যার কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ ফলের চিনি সরাসরি প্রক্রিয়াজাত চিনি থেকে অনেক ভিন্ন।
কেনো? সরল শর্করায় ৩ ধরনের শর্করা থাকে-
১. গ্লুকোজ
২. ফ্রুক্টোজ ( ফলের চিনি)
৩. সুক্রোজ ( দুধের চিনি)
★ আমরা যখন সরল শর্করা (প্রক্রিয়াজাত চিনি/খাবার, সিরাপ, ক্যান্ডি, ফল, দুধ ও দুধের খাবার ইত্যাদি) জাতীয় খাবার খাই তখন সেটা ভেংে খুব কম সময়ে সরাসরি গ্লুকোজ তৈরি হয়, আর রক্তে গ্লুকোজ আসা মাত্রই অগ্ন্যাশয় থেকে ইন্সুলিন তৈরি হয়ে রক্ত থেকে গ্লুকোজ সংগ্রহ করে তাকে কোষে পৌছে দেয়, সেখানে গ্লুকোজ থেকে শক্তি তৈরি হয়।
★ ফ্রুক্টোজ ও একটি সরল শর্করা এবং এটি ফলের চিনির প্রাথমিক উৎস। ফ্রুক্টোজ লিভারে বিপাক হয়ে গ্লাইকোজেন ও ট্রাইগ্লিসারাইড হিসেবে জমা থাকে। তাই অতিরিক্ত গ্লুকোজ বা ফ্রুক্টোজ উভয়ই ওজন বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত।
★ রক্তে গ্লুকোজ আসা মাত্র যে পরিমাণ ইন্সুলিন উৎপাদন হয়, ফ্রুক্টোজের ক্ষেত্রে সেই পরিমাণ অনেক কম।
★ সরল শর্করা যেমন প্রক্রিয়াজাত চিনি বা খাবার অনেক বেশি পরিমাণে গ্লুকোজ তৈরি করে, আর এই বাড়তি গ্লুকোজ থেকে তৈরি হয় ফ্যাট যা চামড়ার নিচের কোষে সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট হিসেবে জমা থাকে।
★ অন্যদিকে বাড়তি ফ্রুক্টোজ থেকে ফ্যাট তৈরি হয়ে তা লিভার ও ভিসেরাল কোষ অর্থাৎ পেটের আসেপাশে জমা হয়।
★ স্টাডিতে দুই দলের গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ফলের চিনি গ্রহণ করে তাদের ওজন কমার হার যাদের কোনো ধরনের ফ্রুক্টোজ সমৃদ্ধ খাবার দেয়া হয়নি, তাদের তুলনায় অনেক বেশি।
★ মূল কথা ফলের চিনির থেকে কৃত্রিম চিনির বিপাক অনেক ভিন্ন। গ্লুকোজের বিপাক সময় কম যার ফলে কম সময়ে অত্যধিক ক্যালরি দেয়ার পরেও অতিরিক্ত হিসেবে ফ্যাট আকারে দেহে জমা হয়।
★ অন্যদিকে ফ্রুক্টোজের বিপাক সময় বেশি কারন ফ্রুক্টোজ কে প্রথমে ভেংে গ্লুকোজ তৈরি করতে হয়। পাশাপাশি ফ্রুক্টোজ সমৃদ্ধ ফল অনেক্ক্ষণ পেটে থাকে, কম ক্যালরি দেয়।
তবে শেষ কথা গ্লুকোজ বা ফ্রুক্টোজ যাই হোক না কেন সবকিছুই অনুমোদিত পরিমাণে খেতে হবে। অন্যথায় ওজন বৃদ্ধি সহ নানান অসংক্রামক রোগ হতে পারে।
সাধারণত সারাদিনে ৩ সারভিং ফল খাওয়ার জন্য বলা হয়। তাই, ডায়েট চলাকালীন সময়েও নিশ্চিন্তে খাদ্য তালিকায় ফল রাখতে পারেন।
© Nutritionist Fahmida Hashem