21/10/2020
।।। সালাম নিয়ে কিছু কালাম ।।।
- উস্তায আব্দুল্লাহ আল মাসউদ
ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলাম। সিএনজি থেকে নেমে হাঁটছি। বাজার পার হয়ে একটু সামনে বাড়তেই গ্রামের শুভ্রদাড়ির একজন মুরুব্বি সামনে পড়লেন। তাকে সহাস্যমুখে সালাম দিলাম,
- আসসালামুআলাইকুম
- ওয়ালাইকুমুসসালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।
আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।
তার উত্তর নিয়ে পরে আবার পাল্টা সালাম দেওয়া দেখে দাঁড়িয়ে গেলাম। উত্তর দিবো কি দিবো না ভাবতে ভাবতেই তিনি আমাকে পেছনে ফেলে সামনে চলে গেলেন। আমি কিছু না বলেই আবার হাঁটা শুরু করলাম।
বাড়িতে এসে হাতমুখ ধুয়ে যোহরের নামাজ আদায় করলাম। তারপর খাওয়াদাওয়ার পাট চুকিয়ে শরীরটা এলিয়ে দিলাম খাটে। এবার একটু বিশ্রাম করা যাক। বিশ্রামের সময়টাতে যতোক্ষণ না ঘুমঘুম ভাব না আসে, ততোক্ষণ সাধারণত কোন লেকচার শুনতে থাকি। ল্যাপটপটা ওপেন করে একটা লেকচার প্লে করলাম। ইয়ারফোন কানে গুঁজে চোখ বন্ধ করে বালিশে মাথা ঠেকালাম।
লেকচারার একজন উর্দুভাষী। তিনি ডালাসে এসে কথা শুরু করলেন এভাবে,
- ইস স্টেজ পর মউজুদ মেরে হারদিল আযীয দোস্ত, আওর ইস নিশাস্ত কা নাজেমে জলসা, আওর ইস মেহফিল মে মউজুদ মেরি ওয়ালিদ সাব কা, দীগর বুযুর্গুঁকা, তামাম ভায়ুঁ কা আর বেহনুঁ কা, ম্যায় ইসলামী তরীকে সে ইস্তেকবাল করতাহুঁ- আসসালামুআলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু!
এখানেও সালামের অপপ্রয়োগ হলো। আর শুনতে মন চাইলো না। লেকচারটা অফ করে কান থেকে ইয়ারফোনটা খুলে নিলাম।
এর কয়েকদিন দিন পরের ঘটনা। একজন প্রকাশক তাদের নতুন বই প্রকাশ উপলক্ষে লাইভে এসেছেন। তিনি আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ে কথা শুরু করলেন এভাবে-
'দেশেবিদেশে অবস্থান রত অমুক পাবলিকেশন্সের সম্মানিত পাঠকবৃন্দ, শুভানুধ্যায়ীবৃন্দ, লেখকবৃন্দ এবং আরো যারা আমাদের ভালোবাসেন আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু।'
সালাম নিয়ে আমাদের সমাজে ঘটে চলা ঘটনাগুলোর সামান্য ক'টি খণ্ড চিত্র এগুলো। এর বাইরেও আরও বহু চিত্র আছে। যেগুলো সালাম নিয়ে আমাদেন জানার কমতি ও বুঝের ঘাটতি থাকার কথাই প্রমাণ করে।
প্রথম ঘটনায় সেই মুরুব্বিকে আমি আগে সালাম দিয়েছিলাম। তিনি উত্তর নিলেন। ব্যাস, হয়ে গেলো। কিন্তু উনি উত্তর নিয়ে পরে আবার পাল্টা যে সালাম দিলেন এটি হলো ভুল প্রথা। সুন্নাহ একে সমর্থন করে না। সুন্নাহ যেটা বলে সেটা হলো, একজন সালাম দিবে অন্যজন তার উত্তর দিবে। ব্যাস, এটুকুই। সালামের উত্তর নেওয়া