Book’s with Boni

Book’s with Boni Poetry
Poetry
&
Poetry!

27/06/2026

সাপ্তাহিক বিচিত্রার প্রচ্ছদ (১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২ খ্রি.)...🥰

27/06/2026

আমার শৈশবে বাড়িতে যেদিন টেলিভিশন কেনা হলো সেদিন গোটা বাড়িতে বেশ উৎসবের আমেজ। টেলিভিশন চালু করা হলো। একটা ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান চলছে। অনুষ্ঠানের নাম এই মুহূর্তে স্মরণ করতে পারছি না। সেই অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে একজন জাদুকর জাদু দেখাতে আসলেন। গলাকাটা জাদু। তিনি একজন মহিলাকে একটি প্রচন্ড ধারালো ব্লেডযুক্ত মেশিনের সাথে আটকে দিলেন এবং মহিলার গলার মাঝ বরাবর ব্লেড চালিয়ে দিলেন! আমাদের পুরো ঘরে তখন পিনপতন নীরবতা। আমি প্রচন্ড ভয় পাচ্ছি কিন্তু এরপর কি ঘটে তা জানার আগ্রহে টেলিভিশনের পর্দায় তাকিয়ে আছি! কিছুক্ষণ পর মহিলাটি সম্পূর্ণ সুস্থ্য অবস্থায় মেশিন থেকে বের হলেন! জাদুকর পুরো কাজটি অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল মুখে সম্পাদন করলেন। আমি মুগ্ধ নয়নে জাদুকরের দিকে তাকিয়ে রইলাম! এই ভয়ংকর জাদু আমাকে ভীত করলেও জাদুকরের হাস্যোজ্জ্বল মুখ আমাকে বিমোহিত করলো।

সেদিনের সেই জাদুকরের নাম জুয়েল আইচ, দ্যা গ্রেট ম্যাজিশিয়ান। যে কজন ব্যক্তিকে নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে গর্ব করতে পারে তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম।

হুমায়ূন আহমেদ তাঁর ”কালো যাদুকর” বইটি জুয়েল আইচকে উৎসর্গ করে লিখেছেন -
”জুয়েল আইচ
জাদুবিদ্যার এভারেস্টে যিনি উঠেছেন।
এভারেস্টজয়ীরা শৃঙ্গ বিজয়ের পর নেমে আসেন।
ইনি নামতে ভুলে গেছেন।”

আসলেই তিনি নামতে ভুলে গেছেন।

আজ Jewel Aich ভাইয়ার জন্মদিন। শুভ্র মনের এই মানুষটিকে জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে যতগুলো প্রাপ্তি আছে, এই অসীম হৃদয়ের মানুষটির স্নেহমাখা স্পর্শ তার মধ্যে অন্যতম। যে মমতা তিনি আমার প্রতি দেখিয়েছেন সেই মমতা বহুগুণে তাঁর প্রতি ফিরে আসুক, পরম করুণাময়ের কাছে এই আমার বিনীত প্রার্থনা। আপনার নান্দনিক জীবন আরও বিকশিত হোক। আনন্দময় হোক আগামীর পথচলা। বেঁচে থাকুন আমাদের মাঝে যুগ থেকে যুগান্তরে...

লেখা- RAHAT JAMIL।

27/06/2026

প্রথম নাটক তিনবার লিখেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ!

১৯৮৩ সালের শুরুর দিক। ইব্রাহীম খাঁর গল্প ‘পাখির বিদায়’ অবলম্বনে একটি নাটকের শুটিং করতে এসেছেন প্রখ্যাত প্রযোজক ও নাট্যনির্মাতা নওয়াজীশ আলী খান। বাড়ির নাম দখিন হাওয়া; উত্তম পুরুষে লেখা গল্প, গল্পে এই বাড়ির উল্লেখ আছে। ইব্রাহীম খাঁর ছেলে হাবিবুর রহমান শুটিংয়ের অনুমতি দিয়েছেন। মূল চরিত্র পাখি হয়েছেন ফাল্গুনী হামিদ।

শুটিং শুরু হলো। দখিন হাওয়ার সামনে দক্ষিণ দিকে মনোরম বাগান, সেখানেই শুটিং। হঠাৎ নওয়াজীশ আলী খান লক্ষ করেন, ক্যামেরার মনিটরে অভিনেতা-অভিনেত্রী ছাড়াও আরেকটি মুখ দেখা যাচ্ছে—কন্যাশিশু কোলে এক যুবক।
‘কাট’ বলে চেঁচিয়ে ওঠেন নওয়াজীশ।
সহকারী পরিচালক যুবকটিকে সরে যেতে বলেন।

চা-বিরতির সময় বাড়ির কর্তা হাবিবুর রহমান জানান, যুবকটি তাঁর জ্যেষ্ঠ জামাতা। হুমায়ূন আহমেদ। সদ্য আমেরিকা থেকে ডক্টরেট নিয়ে ফিরেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন পড়ান। লেখকও তিনি।
নওয়াজীশ আলী খান কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকান যুবকের দিকে। আরে, এর লেখা দুটি উপন্যাস তো তিনি পড়েছেন—‘শঙ্খনীল কারাগার’ ও ‘নন্দিত নরকে’। দুটি উপন্যাস নিয়েই নাটক হয়েছে। তিনি হুমায়ূন আহমেদকে প্রস্তাব দেন টিভি নাটক লেখার। সে প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করেন হুমায়ূন।
হুমায়ূনের ভাষ্য, তিনি গল্প-উপন্যাসের লোক, নাটক লেখা তাঁর কর্ম নয়।
নওয়াজীশ আবার অনুরোধ করেন, একই জবাব আসে।
হুমায়ূনের শ্যালিকারা অনুরোধ করেন, তা-ও হুমায়ূনের একগুঁয়ে জবাব, না।
নওয়াজীশ আলী খান অগত্যা হুমায়ূনের বাড়ির ঠিকানা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোন নম্বর নিয়ে চলে আসেন।

পরে বেশ কয়েকবার ফোন করেন নওয়াজীশ। হুমায়ূন আহমেদকে পাওয়া যায় না। তিনিও নাছোড়বান্দা। ফোন দিতেই থাকেন। অবশেষে পানও হুমায়ূনকে। এবারও যথারীতি একই উত্তর, হুমায়ূন আগ্রহ বোধ করছেন না।

নওয়াজীশ সোজা গিয়ে ওঠেন হুমায়ূনের বাড়িতে। হুমায়ূন তখন শ্যামলীতে থাকেন, নওয়াজীশের বাসাও কাছাকাছি ছিল। তবু হুমায়ূন রাজিই হচ্ছিলেন না। শেষমেশ রাজি হলেন, স্ত্রীর পীড়াপীড়িতে।
কথা আদায় করে নওয়াজীশ ফিরে যান। এরপরও তিনি হুমায়ূনকে ফোন দিয়ে তাগাদা দিতে থাকেন। তারপর একদিন দেখা গেল, সত্যি সত্যি পান্ডুলিপি নিয়ে বিটিভিতে হাজির হয়েছেন হুমায়ূন। নাটকের নাম ‘প্রথম প্রহর’। মেসবাড়িকেন্দ্রিক নাটক। সরল-সহজ সংলাপ, ছোট ছোট দৃশ্য। চরিত্রও কম। প্রথমবার শুনেই নওয়াজীশ মুগ্ধ হলেন। জোর প্রস্তুতি চলল দৃশ্যধারণের।

এমন সময় ছোট্ট এক সমস্যা বাধাল গল্পের মহিম নামের একটি চরিত্র। এই চরিত্র ধুতি পরে।
মাত্র কিছুদিন আগেই আবদুল্লাহ আল মামুন (প্রয়াত) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি নাটক করেছেন, যেখানে সংগত কারণেই পুরুষ শিল্পীরা ধুতি পরেছে এবং তা নিয়ে বেশ একচোট হম্বিতম্বি করে গেছেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান।

মহিমের চরিত্র দেখে নওয়াজীশ আলী খানের অবস্থা ঘরপোড়া গরুর মতন। সিঁদুরে মেঘ দেখেছেন তিনি। এ নাটক বানাবেন কীভাবে? যোগাযোগ করলেন নাটক বিভাগের প্রধান আতিকুল হক চৌধুরীর সঙ্গে। আতিকুলও মহিম চরিত্র রাখতে রাজি হলেন না।
সে সময় বিটিভির একটি গানের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার। তাঁর পরনে তিন পকেটওয়ালা শার্টের সঙ্গে প্যান্ট। সিদ্ধান্ত হলো মহিমকে এমন একটি শার্টের সঙ্গেই পাজামা পরানো হবে।

কয়েক দিন পর হুমায়ূন আসেন। সব শুনে পান্ডুলিপি ফেরত নিয়ে যান তিনি। পরদিন একই নামে আরেকটি নাটকের পান্ডুলিপি নিয়ে আসেন। এবারও নওয়াজীশ আলী খান মুগ্ধ। বনফায়ার ঘিরে নাটকটি। চরিত্ররা বনে এক রাতে ‘বনফায়ার’ উৎসবে মাতোয়ারা। হঠাৎ পাশের জলাশয়ে এক তরুণীর লাশ ভাসতে দেখা যায়। শুরু হয় জল্পনাকল্পনা। এ লাশ কার? এটি খুন, নাকি আত্মহত্যা? ...সেই ভাসতে থাকা তরুণীর লাশ নিয়ে নাটক এগিয়ে যায়।
এই নাটকটিও করা হয়নি। কারণ, এর চিত্রায়ণের জন্য যা যা প্রয়োজনীয়, বিটিভির তা ছিল না। ফলে আবার ‘প্রথম প্রহর’ বাদ।

এবারও উদ্ধারকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হুমায়ূন। প্রবল ধৈর্য দেখিয়ে আবার একই নামে একটি নাটক লিখে আনেন। এবারের বিষয় সততা। তখন বিটিভি থেকে ত্রৈমাসিক টিভি গাইড বের হতো, সেটাতে ‘প্রথম প্রহর’-এর ঘোষণা চলে গিয়েছিল, ফলে বারবার একই নামের কাছে আশ্রয় নেওয়া। এবার আর কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি। ১৯৮৩ সালের আগস্টে প্রচারিত হয় ‘প্রথম প্রহর’ (আদতে একে ‘তৃতীয় প্রহর’ বলাই উত্তম)। অভিনয় করেছিলেন মাসুদ আলী খান, আবুল হায়াত, লাকী ইনাম প্রমুখ।
‘প্রথম প্রহর’ দেখে বহু দর্শক ফোন করে প্রতিক্রিয়া জানান। বিটিভির স্বনামধন্য প্রযোজক বেলাল বেগ জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের টিভি নাটকে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। সত্যিকারের টিভি নাটক এমনই হওয়া উচিত।
সে-ই শুরু!

সূত্র: অন্যদিন বিশেষ সংখ্যা, নওয়াজীশ আলী খানের লেখা থেকে।

27/06/2026

শাহ আব্দুল করিম সুনামগঞ্জের অখ্যাত এলাকার লোক। তিনি খুবই শাদামাটা কৃষিজীবী ধরনের মানুষ। গান করেন সুর বাঁধেন এটা তাঁর এলাকার লোকজনই জানতো। জাতীয়ভাবে তাঁর কোন পরিচিতি ছিল না। তবে তাঁর গান সুনামগঞ্জের লোকজনেরা বেশ গাইতো। সেই সুনামগঞ্জের ছেলে তুহিন। একদিন সে সাধারণ এক অনুষ্ঠানে করিমের -‘‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’’ গানটি গায়। সেই অনুষ্ঠানে ঘটনাক্রমে হুমায়ূন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। গানটি তাঁর খুব ভাল লাগে। তিনি তুহিনকে ডেকে গানটি সম্পর্কে জানতে চান। তুহিন বলে শাহ আব্দুল করিমের কথা। সে আবার কে?

হুমায়ূন আহমেদ করিমের সাথে দেখা করতে চান। কিন্তু করিমের বাড়ি শহর থেকে অনেক দূরে-দুর্গম হাওর অঞ্চলে। যে কারণে খুব সহজে করিমের সাথে হুমায়ূন আহমেদের দেখা হয় না। তিনি তুহিনকে বলে আসেন - যে করেই হোক করিমকে যেন ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

তারপর অনেক ঝামেলা পোহায়ে তুহিন করিমকে ঢাকায় নিয়ে আসে। হুমায়ূন আহমেদ করিমের প্রতিভায় মুগ্ধ হোন। তিনি নিজের খরচে নুহাশ চলচ্চিত্রের ব্যানারে করিমের ছয়টি গান রেকর্ড করে বাজারজাত করেন। এবং করিমের গান নিয়ে টেলিভিশনে প্রোগ্রাম করেন।করিম রাতারাতি সারা দেশে জাতীয়ভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তারপরের ঘটনা এখন সবারই জানা।

কুদ্দুস বয়াতীকেও হুমায়ূন আহমেদ নেত্রকোনার অজ পাড়া গাঁ থেকে তুলে এনে জাতীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। কুদ্দুস ছিল এক পল্লী গায়ক। পথে প্রান্তরে পালা গেয়ে বেড়াতো।এক অক্ষর লেখাপড়া জানে না সে। একেবারেই হতদরিদ্র ঘরের ছেলে। গেঁয়ো কৃষক। সেই তাকে হুমায়ূন আহমেদ অন্বেষণ করলেন।তার বিখ্যাত নাটক ‘খাদক’ এ পাঠ দিলেন। সেই নাটক টি ভি তে প্রচার হলো। তারপর প্রাথমিক শিক্ষায় জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণ অনুষ্ঠানের জন্য কুদ্দুসকে দিয়ে গান গাওয়ালেন। গান তিনি নিজে লিখলেন -

এই দিন দিন না
আরো দিন আছে।
এই দিনেরে নিবা তোমরা
সেই দিনের কাছে।

প্রোগ্রামটি ছিল ‘ইউনিসেফ’ এর অর্থায়নে। সারা দেশে সেই গান প্রচার হলে কুদ্দুস রাতারাতি স্টার হয়ে গেল। তারপর কুদ্দুস এ পর্যন্ত পৃথিবীর অনেক দেশে বাংলাদেশের পালা গেয়ে অনুষ্ঠান করে এসেছে।

- Mominul Islam


#হুমায়ূন_আহমেদ

#হুমায়ূনের_ভুবন
#হুমায়ূন

27/06/2026
27/06/2026

আমি এবং দৈনিক বাংলা
- হুমায়ূন আহমেদ (দৈনিক বাংলা, ০৬/১১/১৯৮৫)

*(হুমায়ূন আহমেদের এই লেখাটা তাঁর কোন গ্রন্থে অর্ন্তভুক্ত হয়নি)*

উনিশ শ সাতষট্টি সনের কথা। সবেমাত্র ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি। থাকি মুহসীন হলে। বিশাল হল। শুধু হল নয়, ইউনিভার্সিটির সবকিছুই বিশাল। সবকিছুই অচেনা। বন্ধুবান্ধবও তৈরি হয়নি, মোটামুটিভাবে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করছি বলা যেতে পারে। এর মধ্যেই এক কাণ্ড—রাতের বেলা ঘুমাবার আয়োজন করছি, হঠাৎ শুনি তুমুল হইচই। এনএসএসএফের ছাত্ররা নাকি কাকে ধরে পেটাচ্ছে। আমার চোখের সামনেই ঝাঁকড়া চুলের কয়েকজন ছাত্র হকিস্টিক হাতে ছুটে গেল। ছয়তলা থেকে বিছানা–বালিশ নিচে ছুড়ে ফেলা হতে লাগল—ভয়ানক অবস্থা।

অত্যন্ত লজ্জা ও বিনয়ের সঙ্গে স্বীকার করছি, এ রকম একটা ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমার মধ্যে ‘কাব্যভাব’ উপস্থিত হলো। দরজা বন্ধ করে আমি পরপর দুটি কবিতা (?) লিখে ফেললাম। পৃথিবীর যাবতীয় ব্যর্থ কবিদের মতো আমারও ধারণা হলো, শ্রেষ্ঠ কবিতা দুটি এই মাত্র লেখা হয়েছে। পাঠক–পাঠিকাদের কাছে অতি দ্রুত এদের পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে আমার পরবর্তী পবিত্র দায়িত্ব।

সেই রাতের গন্ডগোল ও হইচই সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে আমি গভীর রাত পর্যন্ত কবিতা দুটির অসংখ্য কপি তৈরি করে পরদিন ভোরেই সব পত্রপত্রিকায় পাঠিয়ে দিলাম। তবে কবির নামের জায়গার নিজের নাম দেওয়ার সাহস হলো না। ছোট বোনের নাম লিখলাম—মমতাজ আহমেদ শিখু।

শুরু হলো প্রতীক্ষার পালা। বলাই বাহুল্য মহিলা কবি মমতাজ আহমেদ শিখুর কাব্যপ্রতিভা সম্পর্কে সম্পাদকেরা আমার সঙ্গে একমত হলেন না। কবিতা দুটি কোথাও ছাপা হলো না। একসময় বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হয়ে গেল। ছুটি কাটাতে বাবা–মার কাছে গিয়েছি। তখন এক কাণ্ড। একদিন দৈনিক বাংলা (তখন দৈনিক পাকিস্তান) খুলে দেখি দুটি কবিতাই মহিলা পাতায় ছাপা হয়েছে। (‘ফানুস’: দিতে পারো এক শ ফানুস এনে। আজন্ম সলজ্জ সাধ একদিন আকাশে কিছু ফানুস উড়াই...। ‘সময়’: সময়, ঘোড়া এক শিকারী বুড়ো...)।
সাহিত্যজগতে আমি আত্মপ্রকাশ করলাম মহিলা কবি হিসেবে। আহ্ কী আনন্দের দিনই না ছিল সেটি! দৈনিক বাংলাকে মনে হয়েছিল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম পত্রিকা।

সুখের বিষয়, আমার কাব্যভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পড়াশোনার চাপে কবিতা মাথায় উঠল। তা ছাড়া নিজেকে মহিলা কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার তেমন ইচ্ছাও আমার ছিল না।
এর প্রায় বছর তিনেক পরের কথা। হঠাৎ একদিন রসায়ন বিভাগের সভাপতি ড. মুকাররাম হোসেন খন্দকার মারা গেলেন। তাঁর সঙ্গে আমার তেমন কোনো যোগাযোগ ছিল না। তবু তাঁর মৃত্যু আমাকে নাড়া দিল। কারণ, মৃত্যুর আগের দিন তিনি ল্যাবরেটরিতে এসেছিলেন এবং অত্যন্ত আন্তরিক ভঙ্গিতে আমাকে বলেছিলেন, তোমরা আমাকে এত ভয় পাও কেন? চশমা ছাড়া আমার মধ্যে ভয় পাওয়ার আর কী আছে বলো? স্যারকে নিয়ে ছোট্ট একটা প্রবন্ধ লিখে ফেললাম। নাম ‘পড়বে না তাঁর পায়ের চিহ্ন’।
লেখাটা পকেটে নিয়ে ভয়ে ভয়ে গেলাম দৈনিক বাংলায়। কার কাছে লেখা দিতে হয় কিছুই জানি না। হয়তো চোখের সামনেই তাঁরা লেখাটা ফেলে দেবেন। কিংবা গম্ভীর মুখে বলবেন, কিছুই হয়নি।

দোতলার একটি ঘরে কয়েকজন বসেছিলেন। তাঁদের কাউকেই আমি চিনি না। সবাই অস্বাভাবিক গম্ভীর। আমি ক্ষীণস্বরে বললাম, আমাদের একজন স্যার মারা গেছেন। তাঁর ওপর আমি একটা লেখা এনেছি।
‘কবে মারা গেছেন?’
‘আজই মারা গেছেন।’
‘আর সঙ্গে সঙ্গে লিখে ফেলেছ?’
‘জি। ছোট লেখা।’
‘ঠিক আছে। রেখে যাও।’
আমি টেবিলে লেখাটি রেখে প্রায় ছুটে পালিয়ে এলাম। অবাক কাণ্ড—তারপর দিনের দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত হলো, ‘পড়বে না তাঁর পায়ের চিহ্ন’। নিজের নামে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত আমার প্রথম রচনা। দৈনিক বাংলা আমাকে অভিভূত করে ফেলল।

উনিশ শ বাহাত্তর সনের কথা। জীবনের ওপর দিয়ে বড় রকমের ঝড় বয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধে বাবা শহিদ হয়েছেন। মায়ের হাত শূন্য। আমরা তিন ভাইবোন তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। টাকাপয়সার অভাবে আমাদের পড়াশোনা বন্ধ হবার মতো সমস্যাও দেখা দিয়েছে। ভয়াবহ অনিশ্চয়তা।
এর মধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে আমার প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে। একটি বইও বিক্রি হচ্ছে না। বইটির প্রকাশক একদিন মহাবিরক্ত হয়ে বললেন, ‘আহমদ ছফা সাহেব হেনতেন কত কিছু বলে বইটি গছিয়ে গেছেন। এখন মহামুসিবত। তিন মাসে দশ-বারোটা বিক্রি হয়েছে কি না সন্দেহ।’
আমি অপ্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।
‘মানুষজন ধরাধরি করে আলোচনার ব্যবস্থা করেন। তাতে যদি কিছু বিক্রি হয়।’
‘কাকে ধরব?’
‘কবি-সাহিত্যিকদের ধরবেন। পত্রিকার লোকদের ধরবেন।’
‘কবি-সাহিত্যিক কাউকে আমি চিনি না। তাঁরাও কেউ আমাকে চেনেন না। আমার কোনো গল্প কোথাও প্রকাশিত হয়নি।’ একমাত্র প্রকাশিত রচনা ‘পড়বে না তাঁর পায়ের চিহ্ন’। কে আমাকে নিয়ে আলোচনা করবে? কার এত গরজ পড়েছে।
আমি নিজেও খুব লাজুক স্বভাবের। নিজের লেখা নিয়ে অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করার মতো সাহস আমার কোথায়? খুব মন খারাপ করে গুটিয়ে নিলাম নিজেকে। লেখালেখি আমাকে দিয়ে হবে না। বাংলাদেশের মানুষ একজন অপরিচিত লেখকের রচনায় আগ্রহী নন।

আমার এ রকম দুঃসময়ে এগিয়ে এল দৈনিক বাংলা। সে সময়কার দৈনিক বাংলায় অনেক রথী-মহারথীর সমাবেশ। তাঁরা একের পর এক আমার চটি উপন্যাসটি প্রসঙ্গে লিখলেন। কবি হাসান হাফিজুর রহমান, কবি শামসুর রাহমান, আহমেদ হুমায়ূন, সালেহ চৌধুরী। তাঁরা আমাকে রাতারাতি বিখ্যাত করে ফেললেন। একজন অখ্যাত–অজ্ঞাত, লাজুক লেখকের লেখা এঁদের ভালোবাসায় ভরসা ফিরে পেল। বুঝতে পারল, সে একা নয়।

দৈনিক বাংলার জন্মদিনে পুরোনো সব কথা মনে পড়ছে। এই পত্রিকাটি আমার পেছনে এসে না দাঁড়ালে আমি কি পারতাম লেখালেখি চালিয়ে যেতে?
হয়তো পারতাম, হয়তো পারতাম না। কিন্তু আমার দুঃসময়ে এই পত্রিকাটি ভালোবাসার বিশাল বাহু প্রসারিত করেছিল আমার দিকে। সেই ঋণ কখনো শেষ হবার নয়। এই পত্রিকার জন্মদিনে কিছু লিখতে পেরে বড় ভালো লাগছে।

দৈনিক বাংলা তুমি সুখে থাকো। ভালো থাকো।

27/06/2026

"হিমুর আছে জল" বইটা বরেণ্য অভিনেতা তারিক আনাম খাঁনকে উৎসর্গ করে হুমায়ূন আহমেদ লিখেছেন-

“একজন মানুষকে চেনা যায় যুদ্ধক্ষেত্রে এবং ছবির আউটডোর শুটিং-এ।
নিষাদের প্রিয় দাড়িওয়ালা মামাকে।
তারিক আনাম খাঁন।”

আজ অভিনেতা Tariq Anam Khan - এর জন্মদিন।

জন্মদিনে গুণী এই অভিনেতাকে হুমায়ূনের ভুবন ☑️ - এর পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা আর অভিবাদন...🥰

Address

Dhaka
1215

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Book’s with Boni posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category