05/04/2026
ছবিটিতে বইটি কিছুটা বেঁকে আছে, তাই না?
আপনার চোখ তো দেখছি জহুরির মতো! আচ্ছা, ছবিটা যে সামান্য হেলে আছে—সেটা কি স্রেফ আপনার তীক্ষ্ণ দৃষ্টির কারসাজি, নাকি মনের কোনো এক কোণে লুকিয়ে থাকা ‘পারফেকশন’ খোঁজার OCD-এর ফল?
থাক, সে কথা। বরং চলুন, আপনাকে একটা গল্প শোনাই।
আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশ বছর আগের কথা। ধূসর মরুর বুক চিরে আরব উপদ্বীপ তখন ডুবে আছে এক ঘনকালো অন্ধকারে। যে সমাজে মনুষ্যত্বের চেয়ে পাশবিকতাই ছিল বড় পরিচয়। কনকনে মরুঝড়ে একরত্তি মেয়েকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলা, তুচ্ছ অজুহাতে বছরের পর বছর রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা জিইয়ে রাখা, আর প্রাণহীন পাথরের মূর্তির পায়ে মাথা ঠুকে চলা—এই ছিল তাদের তথাকথিত আভিজাত্য।
মানুষের বিবেক আর দ্বীন তখন সত্যের পথ থেকে ঠিক ১৮০ ডিগ্রি বেঁকে গিয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় কী জানেন? বর্তমান আয়নার সামনে দাঁড়ালে হয়তো আপনার প্রতিচ্ছবিটাও অনেকটা তেমনই দেখাবে। মুখে আধুনিকতার খোলস কিংবা বিশ্বাসের বুলি আউড়ালেও, আমাদের যাপিত জীবনটা যেন সেই 'জাহেলিয়াতের'ই কার্বন কপি।
তখন তারা পূজা করত পাথরের মূর্তির। আমরা এখন পূজা করি সোশ্যাল মিডিয়ার ভিউ, অর্থ-সম্পদের মোহ আর সীমাহীন ভোগবাদের। শুধু নাম বদলেছে, কিন্তু গোলামির শিকলটা সেই আগের মতোই রয়ে গেছে। আমাদের অন্তরগুলো আজ সেই পুরনো জাহেলিয়াতেই বন্দি।
এখন প্রশ্ন হলো—এই মরীচিকা থেকে মুক্তির উপায় কী?
আসুন না, একটু পেছনে ফিরে তাকাই। একটু পরখ করে দেখি—সেই অন্ধকার সময়ের একেকটা মানুষ কীভাবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতে পরিণত হয়েছিলেন। আমরাও কি পারি না তাদের মতো হতে? অন্তত চেষ্টা করতে?
সুকুন পাবলিশিং
শব্দে আঁকা স্বপ্ন…