09/10/2024
আমরা যখন কাউকে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে দেখি, তাকে কত হাসিখুশি প্রাণবন্ত লাগে❗যে হয়তো কখনো অভাব দ্যাখেনি, কখনো কর্কশ ভাষায় কারো ধমক শুনেনি। অথবা হতে পারে নিজের বাড়িতে অনাদরে বড় হওয়া একটা মেয়ে একটা অচেনা ছেলের কথায় পুরো পৃথিবীর সুখকে পায়ে ছুড়ে দিয়ে চলে এসেছে একটু ভালোবাসার জন্য। একটা ভালো বাসার জন্য।
আমি ভাবতে থাকি....
এই লাল শাড়ি, ডিজাইনার লেহেংগা, কক্স কিংবা কাশ্মীরের হানিমুনটা সেরে ফেললেই পরের সপ্তাহেই যে একটা অদ্ভুত অচেনা অগ্নিপরীক্ষার শুরু হবে তার জন্যে, সেই পরীক্ষায় টিকে থাকার যুদ্ধে লড়তে থাকা এই হাসিখুশি বাচ্চা মেয়েটাকে পাঁচ বছর পর কেমন দেখবো?
আদো দেখবো?
নাকি দেখাও পাওয়া যাবেনা আর কখনো?
স্বামীর অফিস, বাবা-মার অসুস্থতা, বাচ্চাদের পরীক্ষার কথা বলে বান্ধবীদের দেখা সাক্ষাৎ এ এটেন্ড করতে পারবেনা, এক বছরে দুটো দিন নিজের জন্যে বের করার অবসর পাবেনা।
পৃথিবীতে টিকে থাকার এই বিচ্ছিরি প্রতিযোগিতায় সব মেনে নিতে নিতে আর সবকিছুর সাথে মানিয়ে নিতে নিতে দশ বছর পর এই হাস্যোজ্জ্বল চোখদুটো কি জীবিত থাকবে?
নাকি আর দেখবো না কোনোদিন?
বিয়ের পর যেই মেয়েটা বাবার বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে যায়, সে কি আর কোনোদিন ফিরে আসে?
প্রতিনিয়ত নিজেকে ভেঙ্গে সেই ধ্বংসস্তুপের উপর আবার উঠে দাঁড়াতে হয়।
প্রতিবার বাবার বাড়িতে এলেই সবাই অবাক হয়ে যায়।
"আমাদের এইটুকুন মেয়েটা আজ কত্ত কিছু সামলাচ্ছে!"
এইটুকুন মেয়েটাকে কি আর কখনো খুঁজে পাওয়া যায়?
প্রতিরাতে সেই এইটুকুন মেয়েটা নিজেই নিজের জানাযা পড়ে কেউ কি জানে?
জানতে চায়?
আমি খুব খুব খুব ভাবি ওদের কথা।
প্রতিবার আমার মনে হয় এইটুকুন মেয়েটাকে শেষবার জড়িয়ে ধরি। পরেরবার আর পাবোনা ওকে। পরেরবার ও আসবে অমুকের বউ হয়ে৷
তমুকের ছেলের বউ কিংবা অমুকের মা হয়ে।
ওর নাম হবে তখন "বউমা/আম্মু/বউ"
খুব ইচ্ছা করে এইটুকুন মেয়েটার মিষ্টি নামটা ধরে বারবার ডাকি।
বিয়ে এমনই একটা পরীক্ষা।
সংসার মানেই আগুনপানির সাথে খেলা।
কেউ বলেনা।
কোনো প্রবেশনাল পিরিয়ড নেই। কোনো ডিসক্লেইমার নেই। নেই কোনো ট্রেইনিং। হুট করে ঘুম থেকে উঠে মনে হয় জীবন আর জীবনাদর্শ দুটোই বোধয় বদলে গেছে!
পৃথিবীর সবচেয়ে ব্রিলিয়ান্ট মেয়েটা, সবচেয়ে ধনী বাবার মেয়েটা, সবচেয়ে দ্বীনি ঘরের মেয়েটা, সবচেয়ে গরীব ঘরের মেয়েটারও বিয়ের পর আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগতে হয়। মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়ে, পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যায়। দুই ঘন্টা রেস্টুরেন্টে হাত ধরে বসে থাকলেই কেউ কখনো বলতে পারে না সেই মানুষটা এক ছাদের নিচে বসবাস করার সময় কেমন সাপোর্ট দিবে। আদো দিবে কিনা তাও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনা। ভালো প্রেমিক মানেই ভালো স্বামী হবে, ভালো প্রেমিকা মানেই ভালো বউ হবে, তার কোনো গ্যারান্টি কেউ দিতে পারেনা।
এ যেন সাক্ষাৎ জুয়া খেলা!
যে জিতলো, সে ভাগ্যের জোরে জিতলো।
যে হারলো, সে কিন্তু আবার ভাগ্যের দোষেই হারলো।