09/06/2026
আপনি কি জানেন, ইতিহাসে মাত্র ৩ জন শিশু দোলনায় থাকা অবস্থায় কথা বলেছিল?
প্রথম শিশুটি ছিলেন ঈসা (আ.)। কিন্তু বাকি দুইজন কে ছিলেন এবং কেন তারা কথা বলেছিলেন? সেই অলৌকিক ঘটনাগুলো জানলে চোখের কোণে পানি চলে আসবে।
বনী ইসরাঈলের এক নেককার ব্যক্তি ছিলেন ‘জুরাইজ’। তিনি সারাদিন ইবাদতখানায় মগ্ন থাকতেন। একদিন তাঁর মা এসে ডাকলেন, কিন্তু জুরাইজ সালাতে থাকায় সাড়া দিলেন না। ব্যথিত মা দুআ করলেন— "হে আল্লাহ! ব্যভিচারিণীর মুখ না দেখা পর্যন্ত যেন জুরাইজের মৃত্যু না হয়।"
মায়ের সেই দুআ কবুল হয়ে গেল। এক দুশ্চরিত্রা নারী জুরাইজের ওপর ব্যভিচারের মিথ্যা অপবাদ দিল। ক্রুদ্ধ জনতা জুরাইজের ইবাদতখানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল এবং তাঁকে গালিগালাজ করতে শুরু করল।
ঠিক সেই মুহূর্তে জুরাইজ ওযু করে সালাত আদায় করলেন এবং সেই নারী যে নবজাতক শিশুটি প্রসব করেছিল, তার কাছে গেলেন। তিনি শিশুটিকে জিজ্ঞেস করলেন— "হে শিশু! তোমার পিতা কে?"
দোলনায় থাকা সেই দুগ্ধপোষ্য শিশুটি পরিষ্কার গলায় জবাব দিল— "সেই রাখাল!" বিস্মিত জনতা জুরাইজের পা ধরে মাফ চাইল এবং তাঁর ইবাদতখানা সোনা দিয়ে বানিয়ে দিতে চাইল। কিন্তু বিনয়ী জুরাইজ শুধু মাটি দিয়েই তা গড়তে বললেন।
আরেকটি শিশু তাঁর মায়ের দুধ পান করছিল। এমন সময় এক সুদর্শন আরোহী পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। মা দুআ করলেন— "আল্লাহ, আমার ছেলেটিকে এই লোকের মতো বানাও।"
হঠাৎ শিশুটি মায়ের স্তন ছেড়ে দিল এবং আরোহীর দিকে তাকিয়ে বলল— "হে আল্লাহ! আমাকে তাঁর মতো করো না।"
একটু পরেই এক লাঞ্ছিত দাসীকে লোকে ‘চোর’ এবং ‘ব্যভিচারিণী’ বলে গালি দিতে দিতে নিয়ে যাচ্ছিল। মা দুআ করলেন— "হে আল্লাহ! আমার শিশুকে এর মতো করো না।"
শিশু চিৎকার করে বলল— "হে আল্লাহ! আমাকে তাঁর মতোই করো।"
বিস্মিত মা কারণ জিজ্ঞেস করলে শিশুটি জবাব দিল— "সেই আরোহী ছিল এক যালিম! আর এই দাসীটি নির্দোষ, অথচ লোকে তাকে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।"
(সহীহ বুখারী ও মুসলিম)