10/05/2026
“দুই বছর পর হঠাৎ আমার প্রাক্তন স্বামী ফোন করে তার নতুন মেয়ের আকিকার দাওয়াত দিল… আমি শুধু বলেছিলাম— ‘আমি হাসপাতালে। আমার ছেলের ওপেন হার্ট সার্জারি চলছে… কোথাও যেতে পারব না।’
কখনো ভাবিনি, ওর কণ্ঠ আবার শুনবো।
সকালে আমি ঢাকার একটা বড় হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারের সামনে বসে ছিলাম। হাতে তসবিহ, ঠোঁটে শুধু একটা দোয়া— “আল্লাহ, আমার ছেলেটাকে ফিরিয়ে দিও…”
ঠিক তখনই ফোনটা কেঁপে উঠলো।
স্ক্রিনে ভেসে উঠলো একটা নাম— “সাব্বির রহমান”
আমার বুকের ভেতরটা হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে গেল।
কলটা কেটে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ধরলাম… কারণ জানতাম, না ধরলে সে থামবে না।
— “কী চাই তোমার?”
ওপাশে সাব্বিরের গলায় অদ্ভুত এক অহংকার।
— “আজ আমার মেয়ের আকিকা। ভাবলাম তোমাকে দাওয়াত দিই… আল্লাহ যেই সুখটা আমাকে দিয়েছে, যেটা তুমি দিতে পারোনি।”
কথাটা শুনে বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো।
আমি ঠোঁট কামড়ে চোখের পানি সামলালাম।
— “সাব্বির… আমি হাসপাতালে। আমার ছেলে ‘আরিশ’ এখন অপারেশন থিয়েটারে… প্লিজ, এসব নিয়ে আজ কথা বলো না।”
কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে সে ঠান্ডা গলায় বলল—
— “ওহ! তাই নাকি? মানে তুমি আবার বিয়েও করেছো… সন্তানও হয়েছে? ভালোই তো।”
এরপর লাইন কেটে দিল।
আমি চুপচাপ করিডোরের বেঞ্চে বসে রইলাম।
চারপাশে মানুষের ভিড়, নার্সদের ছোটাছুটি, স্ট্রেচারের শব্দ… কিন্তু আমার কানে শুধু ভেসে আসছিল দুই বছর আগের সেই রাতটার কথা।
যেদিন সাব্বির আমাকে একটা ব্যাগ হাতে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল।
আমাদের ডিভোর্সটা ভালোবাসা শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে হয়নি…
হয়েছিল কারণ ওর পরিবার বিশ্বাস করেছিল, আমি কখনো মা হতে পারব না।
শাশুড়ি প্রতিদিন খোঁটা দিতেন— “এমন মেয়ে ঘরে রেখে কী লাভ?” “আমার ছেলের জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে!”
আর সাব্বির?
সে একবারও আমার পাশে দাঁড়ায়নি।
ডাক্তারের রিপোর্ট আসার আগেই সে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল— সমস্যাটা আমার।
ডিভোর্সের কাগজে সই করার সময়ও আমি বিশ্বাস করতাম, একদিন সে সত্যিটা জানবে।
কিন্তু সে অপেক্ষা করেনি।
তার ঠিক দুই মাস পর আমি জানতে পারি… আমি মা হতে চলেছি।
সেদিন বৃষ্টির মধ্যে আমি একা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কেঁদেছিলাম।
কারণ আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সুখের খবরটা শোনানোর মতো মানুষটাও তখন আর আমার ছিল না।
এক ঘণ্টা পর নার্স এসে আমাকে একটা ব্যাগ দিল।
— “রোগীর জামাকাপড় রাখেন।”
আমি ব্যাগটা নিতে গিয়েই থমকে গেলাম।
সামনেই দাঁড়িয়ে সাব্বির।
দামী পাঞ্জাবি, হাতে গাড়ির চাবি… কিন্তু মুখটা অদ্ভুত ফ্যাকাশে।
সে চারপাশে পাগলের মতো তাকাচ্ছিল।
— “ছেলেটা কোথায়?”
আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম।
— “তুমি এখানে কেন? আর হাসপাতালের কথা জানলে কীভাবে?”
সে আমার প্রশ্নের উত্তর দিল না।
দ্রুত কাঁচঘেরা কেবিনের দিকে চলে গেল, যেখানে অপারেশনের আগে আরিশকে রাখা হয়েছিল।
ছোট্ট আরিশ অক্সিজেন মাস্ক পরে নিঃশব্দে শুয়ে ছিল।
সাব্বির কাঁচের ওপরে হাত রাখলো।
তারপর ফিসফিস করে বলল—
— “এটা… এটা তো ছোটবেলার আব্বুর মতো দেখতে…”
আমি দৌড়ে গিয়ে ওকে সরাতে চাইলাম।
— “চলে যাও এখান থেকে!”
সাব্বির ঘুরে আমার দিকে তাকালো।
চোখদুটো কাঁপছিল।
— “তুমি তো বলেছিলে ডাক্তার বলেছে তুমি মা হতে পারবে না… তাহলে?”
আমি হঠাৎ হেসে উঠলাম।
সেই হাসির মধ্যে রাগ ছিল, অপমান ছিল, বছরের পর বছর জমে থাকা কষ্ট ছিল।
— “আমি কখনো বলিনি আমি মা হতে পারব না। তোমার মা আর তোমার বর্তমান স্ত্রী মিলে রিপোর্ট বদলে ফেলেছিল… যেন আমাকে সরিয়ে তোমার মামাতো বোনকে বিয়ে দিতে পারে!”
সাব্বির যেন দাঁড়িয়ে থেকেও পড়ে গেল।
সে দুহাতে মাথা চেপে ধরলো।
— “মানে… আরিশ আমার ছেলে?”
আমার চোখ ভিজে উঠলো।
— “যেদিন আমাকে দরজা থেকে বের করে দিয়েছিলে, সেদিনই তুমি ওর বাবা হওয়ার অধিকার হারিয়েছো।”
ঠিক তখনই করিডোরে হাইহিলের শব্দ।
আমরা দুজনেই তাকালাম।
সাব্বিরের বর্তমান স্ত্রী তানিয়া দৌড়ে আসছে।
গায়ে জমকালো শাড়ি, হাতে এখনো মেহেদির রঙ… কিন্তু মুখটা মৃত মানুষের মতো সাদা।
সে আরিশের স্ট্রেচারের দিকে তাকিয়ে কাঁপা গলায় বলে উঠলো—
— “সাব্বির! তুমি এখানে কী করছো?! ওই ছেলে বাঁচতে পারবে না… ওকে বাঁচানো যাবে না!”
আমি হতবাক।
সাব্বির চিৎকার করে উঠলো—
— “তানিয়া! তুমি কী বলছো?! ও আমার ছেলে!”
তানিয়া হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো।
— “না! তুমি বুঝছো না… ওই ছেলেটা বেঁচে থাকলে আমার মেয়ে মারা যাবে!”
আমার মাথার ভেতর ঝাঁকুনি লাগলো।
সাব্বির পেছনে সরে গেল।
— “মানে?”
তানিয়া দেয়ালে হেলান দিয়ে ভেঙে পড়লো।
— “তোমার মেয়ের বিরল রক্তের রোগ ধরা পড়েছে… ডাক্তার বলেছে বোন ম্যারো লাগবে। আর পুরো রিপোর্টে একমাত্র ম্যাচ এসেছে ওই ছেলেটার সঙ্গে…”
আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল।
তানিয়া কাঁদতে কাঁদতে আরও বলল—
— “কারণ… কারণ আরিশ শুধু তোমার ছেলে না…”
করিডোরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
আমার বুকের ভেতর ধকধক শব্দ হচ্ছিল।
সাব্বির কাঁপা গলায় বলল—
— “তাহলে?”
তানিয়া চোখ তুলে তাকালো।
তারপর এমন একটা কথা বলল, যেটা শুনে আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেল—
— “কারণ আমার মেয়েও তোমারই সন্তান, সাব্বির… আরিশ আর ও একই বাবার সন্তান বলেই ম্যাচ করেছে…”
আমি জমে গেলাম।
সাব্বির যেন নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেছে।
আর আমার মাথার ভেতর তখন শুধু একটা প্রশ্ন ঘুরছিল—
তাহলে… তানিয়া এতদিন কী লুকিয়ে রেখেছিল?
আর কেন সে চাইছিল আমার ছেলেটা মারা যাক?
অপারেশন থিয়েটারের লাল বাতিটা তখনও জ্বলছিল… আর আমি বুঝতে পারছিলাম, আজ শুধু একটা অপারেশন না— অনেক বছরের লুকানো সত্যও খুলে যেতে চলেছে।
চলবে…
#শেষ_অধ্যায়ের_আগে
[লেখক #গল্প_ঘর ]
#শেষ_অধ্যায়ের_আগে #পর্ব_২
লেখক: #গল্প_ঘর
অপারেশন থিয়েটারের সামনে দাঁড়িয়ে আমি শুধু তানিয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলাম।
মেয়েটা হাঁপাচ্ছিল।
চোখের কাজল গলে মুখজুড়ে কালো দাগ পড়ে গেছে।
সাব্বির কাঁপা হাতে ওর বাহু চেপে ধরল।
— “সব খুলে বলো, তানিয়া! একটাও মিথ্যা বলবে না!”
করিডোরের বাতাস যেন জমে গিয়েছিল।
দূরে কোথাও একটা বাচ্চা কাঁদছিল… আর এখানে তিনটা মানুষের জীবন একসাথে ভেঙে পড়ছিল।
তানিয়া ঠোঁট কাঁপিয়ে বলল—
— “তোমার মা… সব জানতো।”
আমার বুকের ভেতরটা ধপ করে উঠলো।
— “মানে?”
তানিয়া মাথা নিচু করল।
— “তোমাদের ডিভোর্সের আগে তোমার আসল রিপোর্ট এসেছিল। সেখানে পরিষ্কার লেখা ছিল— সমস্যা তোমার না… সমস্যা ছিল সাব্বিরের।”
সাব্বির যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিল না।
— “না… না, এটা মিথ্যা…”
— “মিথ্যা না!” তানিয়া হঠাৎ চিৎকার করে উঠলো। “খালা রিপোর্ট বদলে ফেলেছিল! কারণ ও চেয়েছিল তুমি আমাকে বিয়ে করো। তোমাদের বিয়ের আগেই আমাদের সম্পর্ক ছিল…”
আমার চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হয়ে গেল।
সাব্বির দু’পা পিছিয়ে দেয়ালে হেলে পড়লো।
তার চোখে সেই প্রথমবার আমি ভয় দেখলাম।
একজন পুরুষের ভয়।
যে হঠাৎ বুঝতে পারে— সে নিজের হাতেই নিজের জীবন ধ্বংস করেছে।
তানিয়া কাঁদতে কাঁদতে বলল—
— “আমি তখন প্রেগন্যান্ট ছিলাম… কিন্তু তোমাকে বলিনি। কারণ খালা বলেছিল, তুমি যদি জানতে বাচ্চাটা আসছে, তাহলে কখনো ওই মেয়েকে—”
সে আমার দিকে তাকাল।
কথাটা শেষ করতে পারলো না।
আমি ধীরে ধীরে বললাম—
— “তাহলে তোমরা সবাই মিলে আমাকে সরিয়ে দিয়েছিলে।”
তানিয়া ফুঁপিয়ে উঠলো।
— “আমি ভুল করেছি… অনেক বড় ভুল…”
ঠিক তখনই অপারেশন থিয়েটারের দরজা খুলে গেল।
আমরা সবাই একসাথে তাকালাম।
ডাক্তার মাস্ক খুলতে খুলতে বললেন—
— “অপারেশন সফল হয়েছে। কিন্তু—”
আমার বুক থেমে গেল।
— “ওর দ্রুত বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট দরকার। সময় খুব কম।”
সাব্বির তৎক্ষণাৎ বলল—
— “আমি দেব! আমার যা লাগে আমি করব!”
ডাক্তার ধীরে মাথা নেড়ে বললেন—
— “আপনার ম্যাচ হয়নি। সবচেয়ে ভালো ম্যাচ আপনার মেয়ের সাথেই।”
করিডোরে আবার নীরবতা নেমে এলো।
তানিয়া হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো।
— “আমার মেয়েটা খুব ছোট, ডাক্তার…”
ডাক্তার শান্ত গলায় বললেন—
— “আমরা ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করব। কিন্তু দুই শিশুর জীবনই এখন একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।”
আমি কাঁচের ওপাশে তাকালাম।
ছোট্ট আরিশ ঘুমিয়ে আছে।
মুখে অক্সিজেন মাস্ক।
বুকটা খুব আস্তে উঠানামা করছে।
হঠাৎ আমার মনে হলো— এই ছোট্ট বাচ্চাটা তো কোনো দোষ করেনি।
তানিয়ার মেয়েটাও না।
দোষ ছিল বড়দের।
আমাদের অহংকারের।
আমাদের নোংরা সিদ্ধান্তের।
আমি ধীরে ধীরে তানিয়ার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।
সে মাথা নিচু করে কাঁদছিল।
আমি শান্ত গলায় বললাম—
— “তোমার মেয়ের নাম কী?”
তানিয়া অবাক হয়ে তাকালো।
— “আ… আয়রা।”
আমি চোখ বন্ধ করলাম।
তারপর খুব আস্তে বললাম—
— “আরিশ বাঁচবে। আয়রাও বাঁচবে। আমি কোনো শিশুকে তার বাবা-মায়ের ভুলের শাস্তি পেতে দেব না।”
সাব্বির ফ্যালফ্যাল করে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল।
তার চোখে অপরাধবোধ, অনুতাপ, লজ্জা— সব একসাথে জমে ছিল।
সে হঠাৎ আমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো।
করিডোরে থাকা কয়েকজন মানুষ থেমে তাকালো।
কিন্তু সে কিছুই খেয়াল করলো না।
কাঁপা গলায় বলল—
— “আমি তোমাকে বিশ্বাস করিনি… আমি তোমার পাশে দাঁড়াইনি… আমাকে একবার ক্ষমা করে দাও।”
আমার চোখ ভিজে উঠলো।
দুই বছর আগের সেই রাতটা মনে পড়লো।
বৃষ্টিভেজা রাস্তা।
একটা ব্যাগ।
বন্ধ দরজা।
একটা মেয়ের পৃথিবী ভেঙে যাওয়ার শব্দ।
আমি নিচু হয়ে সাব্বিরের দিকে তাকালাম।
— “ক্ষমা আর ফিরে পাওয়া এক জিনিস না, সাব্বির।”
সে মাথা নিচু করলো।
আমি ধীরে বললাম—
— “আমি তোমাকে ঘৃণা করি না আর। কারণ ঘৃণা ধরে রাখার মতো শক্তি আমার আর নেই। কিন্তু যেদিন তুমি আমাকে দরজা থেকে বের করে দিয়েছিলে… সেদিন আমি তোমাকে হারিয়ে ফেলেছিলাম।”
সাব্বির নিঃশব্দে কেঁদে ফেললো।
প্রথমবার।
হয়তো জীবনে সত্যিকারের প্রথমবার।
---
দুই মাস পর।
হাসপাতালের ছাদে বিকেলের আলো পড়েছে।
আকাশে হালকা মেঘ।
দূরে আজানের শব্দ ভেসে আসছে।
আরিশ ছোট্ট একটা বল হাতে দৌড়াচ্ছে।
তার বুকের অপারেশনের দাগটা এখনো স্পষ্ট… কিন্তু মুখে প্রাণভরা হাসি।
আর একটু দূরে হুইলচেয়ারে বসে আয়রা তাকে দেখছে।
দুজনেই বেঁচে গেছে।
ডাক্তাররা একে অলৌকিক বলেছিল।
আমি বেঞ্চে বসে ওদের দেখছিলাম।
ঠিক তখন সাব্বির পাশে এসে দাঁড়ালো।
আগের সেই অহংকার নেই।
চোখের নিচে ক্লান্তি।
চুলে অল্প পাক ধরা।
সে ধীরে বলল—
— “তানিয়া মেয়েকে নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমাদের ডিভোর্স হয়ে যাবে।”
আমি চুপ রইলাম।
সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— “জানো, এতদিন ভাবতাম সুখ মানে বড় বাড়ি, পারফেক্ট পরিবার… কিন্তু আসলে সুখ ছিল ওই রাতে, যখন তুমি রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে হাসতে হাসতে আমাকে চা দিতেও।”
আমার বুকটা হালকা কেঁপে উঠলো।
কিছু ভালোবাসা শেষ হয়ে যায় না।
শুধু মানুষ দেরি করে ফেলে।
আমি আকাশের দিকে তাকালাম।
— “আমাদের গল্পটা এখানেই শেষ হওয়াই ভালো, সাব্বির।”
সে কিছুক্ষণ চুপ থেকে মাথা নেড়ে হাসলো।
একটা ভাঙা, ক্লান্ত হাসি।
— “হয়তো এটাই আমাদের শাস্তি।”
দূরে আরিশ দৌড়ে এসে আমার হাত ধরলো।
— “আম্মু! দেখো আমি কত দ্রুত দৌড়াতে পারি!”
আমি হাসলাম।
চোখের কোণে পানি জমে উঠলো।
তারপর ছেলেকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে নিলাম।
সাব্বির দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সেটা দেখছিল।
তার চোখে তখন এক অদ্ভুত শান্তি।
কারণ সে বুঝে গেছে—
সব সম্পর্ক ফিরে পাওয়া যায় না।
কিন্তু কিছু মানুষকে ভালোবাসা যায়… দূর থেকেও।
শেষ বিকেলের আলো ধীরে ধীরে হাসপাতালের ছাদে ছড়িয়ে পড়ছিল।
আর বহু বছরের মিথ্যা, বিশ্বাসঘাতকতা আর কান্নার পর—
অবশেষে
লাল বাতিটা নিভে গিয়েছিল।
#শেষ_অধ্যায়ের_আগে_পর্ব_২
—সমাপ্ত—