12/09/2026
যদি কখনো শোনেন, আপনার স্বামী আপনার আপন বোনের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত—তখন কী করবেন?
কিছুদিন আগে একজন আপু আমাদের পেজের ইনবক্সে নক করে প্রথমে একটা শাড়ির ছবি পাঠিয়ে জানতে চাইলেন—
“আপু, এই শাড়িটা কি আপনাদের পেজের?”
আমরা বললাম,
“জি আপু, এই শাড়িটা আমাদের পেজেরই। আপনি কি নিতে চাচ্ছেন?”
উনি বললেন,
“না আপু, আমি শাড়িটা নিতে চাচ্ছি না। তবে একটা ডিটেইলস জানতে চাচ্ছি।”
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
“কী ডিটেইলস জানতে চাচ্ছেন আপু?”
তখন উনি জানতে চাইলেন—
“এই শাড়িটা কি আপনাদের পেজ থেকে আসিফ নামের কোনো ব্যক্তি অথবা তনিমা নামের কেউ পারচেজ করেছে?”
আমি তখন বললাম,
“আপু, এটা আমাদের কাস্টমারের পার্সোনাল ডিটেইলস। আমাদের নিয়ম অনুযায়ী কোনো কাস্টমারের ব্যক্তিগত তথ্য আমরা অন্য কাউকে দিতে পারি না।”
তখন আপু বললেন—
“আপু, আসলে একটা সন্দেহ থেকেই আপনাকে নক করেছি। কিন্তু আমার সন্দেহটা যদি সত্যি হয়, তাহলে ব্যাপারটা আর শুধু পার্সোনাল থাকবে না।”
আমি তখন বললাম,
“আপু, আমি আসলে আপনার কথাটা বুঝতে পারছি না। কী হয়েছে একটু খুলে বলবেন?”
তখন উনি আমাকে পুরো ঘটনাটা বললেন।
“আপু, কিছুদিন আগে আমি আপনাদের পেজে একটা শাড়ি পছন্দ করেছিলাম। শাড়িটা আমার খুব পছন্দ হয়েছিল, তাই আমার হাসব্যান্ডকে দেখাই। সে বলেছিল, ‘আমি তোমাকে এমন একটা শাড়ি কিনে দেব। আমাদের বিবাহবার্ষিকীও তো সামনে।’
এর কিছুদিন পর আমি আলমারিতে কাপড়ের নিচে, তার কিছু অফিসিয়াল কাগজপত্রের পেছনে আপনাদের পেজের একটা শাড়ির বক্স লুকানো অবস্থায় দেখতে পাই।
আমি সাধারণত তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্রে হাত দিই না। কিন্তু বক্সটা দেখে কৌতূহল হলো। খুলে দেখি—ভেতরে সেই শাড়িটাই, যেটা আমি আপনাদের পেজে পছন্দ করেছিলাম।
আমি ভাবলাম, হয়তো আমার জন্যই বিবাহবার্ষিকীর উপহার হিসেবে কিনে রেখেছে। তাই কিছু না দেখার ভান করে চুপ করে থাকলাম।
কিন্তু বিবাহবার্ষিকীর দিন সে আমাকে স্বাভাবিকভাবেই ফুল, কেক—এরকম কিছু উপহার দিল। আমি মনে মনে আশা করেছিলাম, হয়তো শাড়িটাও আমাকে দেবে।
কিন্তু সে শাড়িটা আমাকে দিল না।
এরপর একদিন আমার ছোট বোন আমাদের বাসায় আসে।
আর তখনই আমি এমন কিছু দেখলাম, যেটা দেখে আমি একদম অবাক হয়ে গেলাম—
আমার ছোট বোন সেই একই শাড়িটা পরে এসেছে।
আমি তখন কিছু বলিনি। শুধু ওকে জিজ্ঞেস করলাম—
‘এই শাড়িটা কোথা থেকে পেলি? কবে কিনলি?’
সে বলল—
‘আমার এক ফ্রেন্ড আমার জন্মদিনে গিফট করেছে।’
কিন্তু ওর কথা শুনেই আমি বুঝতে পারলাম, ও আমাকে মিথ্যা বলছে।
কারণ ও আমার ছোট বোন। ছোটবেলা থেকে আমি ওকে চিনি। আর ওর এমন কোনো বন্ধু নেই যে এত দামি একটা শাড়ি ওকে জন্মদিনে গিফট করবে।
এর আগেও আমার বোনের কাছে বেশ কিছু দামি দামি গিফট দেখেছি। এমন জিনিস, যেগুলো ওর নিজের পক্ষে কেনা সম্ভব না। অথচ ওর এমন কোনো প্রেমিকও নেই যে তাকে নিয়মিত এত দামি জিনিস গিফট করতে পারে।
তাই সবকিছু মিলিয়ে আমার সন্দেহটা আরও বাড়তে থাকে।
শেষ পর্যন্ত শুধু একটা বিষয়ই জানতে চাচ্ছিলাম—
শাড়িটা আসলে কার জন্য কেনা হয়েছিল?
সেই কারণেই আপনাদের পেজে নক করেছিলাম।”
এরপর আমি অর্ডারের ডিটেইলস চেক করলাম।
আর তখনই দেখলাম—
হ্যাঁ, শাড়িটা আমাদের পেজ থেকেই পারচেজ করা হয়েছিল।
অর্ডারটা করা হয়েছিল আসিফ নামের একজনের মাধ্যমে।
তখন আমি আপুকে বললাম—
“আপু, ব্যাপারটা যেহেতু এখন অনেকটা অন্য একটা দিকে চলে গেছে, তাই আপনাকে এই তথ্যটা শেয়ার করতে বাধ্য হলাম। আমাদের নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমারের ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা হয় না। তবে আপনার পরিস্থিতিটা যেহেতু আলাদা, তাই যতটুকু বলা সম্ভব বলছি—আসিফ নামের একজন এই শাড়িটা পারচেজ করেছিলেন।
আপনার যদি আরও কোনো ডিটেইলস জানার প্রয়োজন হয়, তাহলে আমাকে নক করতে পারেন। আমি যতটুকু নিয়মের মধ্যে থেকে সম্ভব, আপনাকে সাহায্য করব।”
আর সবচেয়ে বড় কষ্টের ব্যাপার হলো—
তার স্বামী যার সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছিল, সে অন্য কোনো নারী ছিল না।
সে ছিল তার নিজের আপন ছোট বোন।
আর যে শাড়িটা আপু ভেবেছিলেন, তার স্বামী হয়তো তাদের বিবাহবার্ষিকীতে তাকে উপহার দেওয়ার জন্য কিনে রেখেছে—
সেই শাড়িটাই শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের ছোট বোনের গায়ে দেখলেন।