Haya for MUSLimaH

Haya for MUSLimaH To Hold Iman tightly Haya is very important.

কিভাবে বুঝবেন,আল্লাহ আপনাকে তাঁর দিকে টানছেন?অনেক সময় আমরা ভাবি, "আল্লাহ কি আমাকে মনে রেখেছেন?"  উত্তর হলো — হ্যাঁ। আর য...
29/09/2026

কিভাবে বুঝবেন,আল্লাহ আপনাকে তাঁর দিকে টানছেন?

অনেক সময় আমরা ভাবি, "আল্লাহ কি আমাকে মনে রেখেছেন?"
উত্তর হলো — হ্যাঁ। আর যখন আল্লাহ কাউকে ডাকেন, তিনি ভিন্ন ভিন্ন ভাবে সংকেত দেন।

এখানে ৭টা লক্ষণ লিখলাম। মিলিয়ে দেখুন, আপনার সাথে কোনটা ঘটছে:

১. গু'না'হে'র পর অস্থির লাগা:
আগে যে কাজটা করে মজা পেতেন, এখন করার পর বুকের ভেতর কষ্ট হয়। ঘুম আসে না।
এটা আল্লাহর ডাক।তিনি বলছেন, "বান্দা ফিরে আয়।"

২. আজান শুনলে কলিজায় লাগা:
আগে আজান কানে যেত না। এখন আজান দিলেই কাজ ফেলে নামাজের কথা মনে পড়ে।
এটা আল্লাহর টান।তিনি আপনাকে তাঁর সামনে দাঁড় করাতে চান।

৩. কুরআন অথবা ওয়াজ ভালো লাগা:
হঠাৎ ইউটিউবে বা ফেইসবুকে ইসলামিক ভিডিও আসলে স্কিপ না করে শুনতে ইচ্ছা করে। কুরআনের আয়াত পড়ে চোখে পানি আসে।
এটা রহমতের দরজা খুলে যাওয়া।

৪. দুনিয়ার প্রতি মন উঠে যাওয়া:
টাকা, জামা, মানুষের প্রশংসা — এগুলা আর আগের মতো টানে না। ভেতর থেকে একটা শূন্যতা লাগে।
কারণ আল্লাহ আপনার কলবকে দুনিয়া থেকে তুলে নিয়ে তাঁর দিকে লাগাতে চান।

৫. বিপদে এসে আল্লাহর কথা মনে পড়া:
যখনই কষ্ট, অসুস্থতা বা টেনশন আসে, সবার আগে "ইয়া আল্লাহ" বলে ফেলেন।
—এটা সবচেয়ে বড় প্রমাণ।আল্লাহ চান আপনি শুধু তাঁকেই ডাকুন।

৬. তওবার ইচ্ছা জাগা:
"আর গু'না'হ করবো না। নামাজ ধরবো। পর্দা করবো।" — এই নিয়ত বারবার আসা।
~এটা হেদায়েতের প্রথম স্টেপ। শয়তান কখনো তওবার কথা মনে করায় না।

৭. নেককার মানুষের صحبت ভালো লাগা:
হঠাৎ নামাজি, দ্বীনদার মানুষদের সাথে সময় কাটাতে ইচ্ছা করে।
-কারণ আল্লাহ আপনাকে নেককারদের লাইনে দাঁড় করাতে চান।

তাহলে এখন কি করবেন?

আল্লাহ যখন ডাকেন, দেরি করবেন না। শ'য়'তা'ন বলবে "কাল থেকে"।
আপনি আজ থেকেই শুরু করুন:

১. ২ রাকাত ত্বওবার নামাজ পড়ে আল্লাহকে সব বলে কান্না করুন
২. ১ পাতা কুরআন অর্থসহ পড়ুন। দেখুন আল্লাহ আপনাকে কি বলছেন
৩. ১টা গু'না'হ ছাড়ুন যেটা সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়
৪. দু'য়া করুন:

يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
"ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব, সাব্বিত কলবি আলা দ্বীনিক"

অর্থ: হে অন্তর পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের উপর অটল রাখুন।

আল্লাহ যদি আপনাকে না-ই ডাকতেন, তাহলে আপনার এই প্রশ্নটাই আসতো না।
আপনার অন্তরে যে অস্থিরতা, ওইটাই আল্লাহর সবচেয়ে সুন্দর ডাক।

আল্লাহ বলেছেন,
"আর যে আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই"_ — [হাদিসে কুদসি]

আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমিন।

25/09/2026
তিন বছর ধ্বংসস্তূপের নিচে, তবুও মৃতদেহ অক্ষত সিজদা অবস্থায় ! নাগরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ গত বুধবার জানিয়েছে, মধ্য গাজার আল...
25/09/2026

তিন বছর ধ্বংসস্তূপের নিচে, তবুও মৃতদেহ অক্ষত সিজদা অবস্থায় !

নাগরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ গত বুধবার জানিয়েছে, মধ্য গাজার আল-ইয়ারমুক এলাকায় অবস্থিত আল-তাজ কমপ্লেক্সের ধ্বংসস্তূপ থেকে শহীদদের মরদেহের অবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। ১৭ দিন ধরে চলা অনুসন্ধান অভিযানে মোট ১০১ জন ফিলিস্তিনি শহীদের মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিলেন। মিশরীয় কমিটির সহযোগিতায় এই উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয়।

ফিলিস্তিনি সূত্র অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে আহমদ আবু হাবলও ছিলেন। তাঁর মরদেহ তিন বছর ধরে ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিল। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, যখন তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তখন তিনি সিজদার অবস্থায় ছিলেন। দেখে মনে হচ্ছিল, যেন ঠিক সেই মুহূর্তেই তিনি সিজদারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর দেহ একেবারে অক্ষত ছিল এবং রক্তও বের হচ্ছিল।

আহমদের ভাই আইমান আবু হাবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর দাফনের একটি ভিডিও প্রকাশ করে ভাইকে হারানোর বেদনা ও তিন বছরের অপেক্ষার কথা তুলে ধরে লিখেছেন:

তিন বছর ধরে আমার ভাই, শহীদ আহমদ বিন মাহমুদ আবু হাবলকে হারানোর পর আজ আমরা আল-তাজ ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁর পবিত্র মরদেহ উদ্ধার করেছি। তিনি জুলুম ও অন্যায় আগ্রাসনের শিকার হয়েছিলেন এবং তিন বছর ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে ছিলেন।

তিনি আরও লিখেছেন:

তাঁর মরদেহ আমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি কারামতের মতো ছিল। মনে হচ্ছিল, যেদিন তিনি শহীদ হয়েছিলেন, সেদিনই যেন তাঁকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। হে আল্লাহ! তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁকে ক্ষমা করুন এবং তাঁর মর্যাদা ও আবাসকে সম্মানিত করুন। হে সর্বাধিক দয়ালু!

নাগরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আল-তাজ কমপ্লেক্সে শহীদদের সন্ধান ও দেহাবশেষ উদ্ধারের কাজ ১৭ দিন ধরে চলার পর বুধবার শেষ পর্যায় সম্পন্ন হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, ওই এলাকা থেকে উদ্ধার করা মরদেহের মোট সংখ্যা ১০১ জনে দাঁড়িয়েছে। শহীদদের সম্মিলিত দাফনের জন্য আগামী দিনগুলোতে তারিখ ঘোষণা করা হবে।তিন বছর পর আহমদ আবু হাবলসহ ১০১ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ তাঁদের পরিবারের কাছে পৌঁছানো গাজার সেই হাজারো ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনাকে আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখানে মানুষ তাদের প্রিয়জনকে দাফন করার অধিকারটুকুও পাননি এবং তাঁদের মরদেহ দীর্ঘ সময় ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিল।

রোগী দেখতে গেলে পড়তে হয় যে দুয়া।
24/09/2026

রোগী দেখতে গেলে পড়তে হয় যে দুয়া।

গীবত থেকে বাঁচার কিছু উপায়ঃ১. হুটহাট করে কিছু বলে ফেলবেন না। কথা বলার আগে ভেবে চিন্তে কথা বলুন। এমনকি যতটুকু সম্ভব কম কথ...
17/09/2026

গীবত থেকে বাঁচার কিছু উপায়ঃ

১. হুটহাট করে কিছু বলে ফেলবেন না। কথা বলার আগে ভেবে চিন্তে কথা বলুন। এমনকি যতটুকু সম্ভব কম কথা বলাই ভালো, চুপ থাকাও একটা ইবাদত।

২. আপনার বন্ধু অথবা কাছের আত্নীয়র অনুপস্থিতিতে তাদের নামে ভালো কথাও বলবেন না। কারণ ভালো কথা বলতে গিয়ে শয়তান আপনাকে দিয়ে কখন যে গীবত করিয়ে নিবে আপনি টেরই পাবেন না।

৩. অতি প্রয়োজন ছাড়া লোকসমাগম জায়গা এড়িয়ে চলুন। কেননা যেখানে মানুষ বেশি থাকে সেখানে গীবত ও বেশি হয়।

৪.আপনার কাছে কেউ গীবত করলে তাকে থামিয়ে দিবেন। সম্ভব হলে বুঝিয়ে বলবেন।কারণ গীবত করা ও গীবত শোনা দুই টাই হারাম।
নিজেও যখন কথা বলতে বলতে গীবত করে ফেলবেন এবং হঠাৎ খেয়াল হবে আরে আমি তো গীবত করে ফেলতেছি সাথে সাথে থেমে যাবেন এবং তওবা করবেন।

৫.অমুক কেমন জানি পোশাক পরে, অমুকের রান্না ভালো না,অমুক মোটা,অমুক কালো, দেখতে একদম ভালো না ইত্যাদি এই ধরনের কথা বলাও এক ধরনের গীবত। তাই এই ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

৬. অমুক এই এই কাজ গুলো ভালো করেনি।অমুকের এই এই স্বভাব ভালো না। অমুকের নামে এই এই বদনাম আছে।ওমুক আমার এই এই ক্ষতি করছে। এগুলো বলা মানে মানুষের দোষ নিয়ে কথা বলা যে টা গীবতের অন্তর্ভুক্ত।

৭.এর পরেও যদি গীবত হয়ে যায়, তাহলে সাথে সাথে আস্তাগফিরুল্লহ্ অথবা দুই রাকাত নফল নামাজ পরে ফেলতে পারেন।

কাউকে নিয়ে কোন অভিযোগ থাকলে সেটা আমরা আল্লাহর কাছে বলব। পারলে তাকে ক্ষমা করে দিব ।মানুষের কাছে এগুলো নিয়ে আলোচনা করে উল্টা আরো গোনাহ কামানো কোনো বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারেনা। অন্যের দোষ ঢেকে রাখলে আল্লাহ তার দোষ ঢেকে রাখবেন ইনশাআল্লাহ

মনে রাখবেন গীবত আমাদের নেক আমল গুলো ধ্বংস করে দিবে।
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে এবং আপনাদেরকে আমল গুলো করার তাওফিক দান করুক....আমিন

একটি রেডিওতে ইন্টারভিউ দিচ্ছিলেন নাইজেরিয়ান বিলিয়নিয়ার ফেমি ওতেদোলা। উপস্থাপক তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনার কি এমন কোনো স্...
31/08/2026

একটি রেডিওতে ইন্টারভিউ দিচ্ছিলেন নাইজেরিয়ান বিলিয়নিয়ার ফেমি ওতেদোলা। উপস্থাপক তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনার কি এমন কোনো স্মৃতি আছে, যখন আপনার মনে হয়েছিল আপনি এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ?’ ওতেদোলা উত্তরে বললেন, "আমার জীবনে আমি সুখের খোঁজে চারটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। তারপর অবশেষে আমি সত্যিকারের সুখের খোঁজ পেয়েছি। প্রথম পর্যায় ছিল যত পারা যায় ধনসম্পদ, অর্থখড়ি উপার্জন। কিন্তু সবকিছু অর্জন করেও আমি সুখের দেখা পাইনি। এরপর দ্বিতীয় পর্যায় ছিল দামি ও বিলাসবহুল জিনিসপত্র কেনা। আমার কাছে মনে হতো এর মাধ্যমে আমি সুখ পাব। একজন মানুষ যা খুশি তাই কিনতে পারছে, আমার কাছে মনে হতো এটাই সুখ। কিন্তু আমি বুঝতে পারলাম দামি ও বিলাসবহুল জিনিসের প্রতি আকর্ষণ, এটাও ক্ষণস্থায়ী। আমি এবারও সুখের দেখা পেলাম না। এরপর এলো তৃতীয় পর্যায়— বড় বড় প্রজেক্ট নিজের করে নেওয়া। একটা সময় এমন হলো যে, না'ইজেরিয়া ও আফ্রি'কার ৯৫% ডিজেলের সাপ্লাইয়ার ছিলাম আমি। আফ্রি'কা ও এশিয়ায় সবচেয়ে বড় জাহাজ ছিল আমার। কিন্তু এরপরও আমি সুখ পেলাম না।এই অবস্থায় একদিন আমার এক বন্ধু অনুরোধ করল ২০০ প্রতিব/ন্ধী বাচ্চার জন্য হুইলচেয়ার কিনে দিতে। বন্ধুর অনুরোধে আমি তখনই ২০০ হুইলচেয়ার কিনে ফেললাম। কিন্তু আমার বন্ধু বলল আমি নিজেই যেন বাচ্চাদের হাতে হুইলচেয়ারগুলো তুলে দিই। তাই বন্ধুর সাথে আমি সভাস্থলে উপস্থিত হলাম। আমি গিয়ে বাচ্চাদের হাতে হুইলচেয়ার তুলে দিলাম। হুইলচেয়ার পেয়ে তারা আনন্দের সাথে এখানে ওখানে ছুটাছুটি করতে লাগল। একেকজনের মুখে সে কি অপ্রার্থব হাসি। যেন এর চেয়ে আনন্দের দিন তাদের জীবনে আর আসেনি। বাচ্চাদের আনন্দ দেখে আমার মনে হচ্ছিল তারা কোনো পিকনিক স্পটে এসেছে, আর সবাই লটারিতে বিশাল অঙ্কের টাকা জিতে নিয়েছে। এসব দেখে নিজের মধ্যে কেমন এক আনন্দ অনুভূত হলো। মনে হলো জীবনে আগের চারটি পর্যায় পার হয়েও, সবকিছু পেয়েও , এতটা আনন্দ কখনও হয়নি। এরপর যখন আমি অনুষ্ঠান থেকে বিদায় নিতে যাব হঠাৎ এক বাচ্চা আমার পা জড়িয়ে ধরল। আমি তার কাছ থেকে নিজের পা ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলাম, কিন্তু বাচ্চাটি আরও শক্ত করে পা ধরে এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। আমি হাঁটু গেড়ে বসে বাচ্চাটিকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোমার কি আর কিছু দরকার?’ জবাবে বাচ্চাটি যা বলল, সেটা শুধু আমাকে আনন্দিতই করেনি, বরং সেদিন থেকে আমার কাছে জীবনের অর্থই পাল্টে গেল। বাচ্চাটি বলেছিল, ‘আমি আপনার চেহারাটা ভালোভাবে মনে রাখতে চাই। যদি জান্নাতে আমাদের দেখা হয় সেদিনও যেন আমি আপনাকে চিনতে পারি আর আজকের এই দিনটির জন্য আরও একবার ধন্যবাদ দিতে পারি।’ যেদিন আমরা এই পৃথিবীতে থাকব না, মানুষ আমাদের কথা মনে করবে এমন কোনো আমল কি আছে আমাদের?এমন কেউ কি আছে যে জান্নাতে গিয়েও, সবকিছু আর সবার ভিড়ে আমাদের মুখটা খুঁজে বেড়াবে?

প্রিয় নবীজি ﷺ এর রওজা মোবারকের পাশ থেকে চারজন পুলিশ এক যুবককে আটক করে; তারা কোনো কথা না বলেই সাথে সাথে যুবকটির পেছনে দড়...
31/08/2026

প্রিয় নবীজি ﷺ এর রওজা মোবারকের পাশ থেকে চারজন পুলিশ এক যুবককে আটক করে; তারা কোনো কথা না বলেই সাথে সাথে যুবকটির পেছনে দড়ি দিয়ে তার দু'হাত বেঁধে ফেলে। যুবকটি পুলিশদের জিজ্ঞেস করতে লাগলো তোমাদের কী হয়েছে; আমিতো চোরও নই, ডাকাতও নই, তাহলে আমার সাথে এমন আচরণ করছ কেন?!

দূর থেকে একজন বয়স্ক মুরব্বী পুরো বিষয়টি লক্ষ্য করছিলেন। তখন তিনি কাছে এসে পুলিশদের বললেন, "আমি এই যুবককে চিনি।"

পুলিশরা তাকে বললো: আপনি তাকে কীভাবে চিনেন?

মুরব্বী বললেন: আমি তাকে দেখি সে সবসময় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর রওজার সামনে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে, বসে-বসে দুরূদ পড়ে, সালাম দেয়, কান্নাকাটিও করে। তোমরা তাকে গ্রেফতার করেছ কেন, সে কি চোর?



যুবকটি ছিলো আলবেনিয়ার নাগরিক, বয়স ৩৫ অথবা ৩৬ হবে। তার মাথা ভর্তি ঘাড় বাবরি চুলে আর মুখ ভর্তি হালকা দাড়িতে।



পুলিশ বললো: না, সে চোর নয়। এই যুবক আলবেনিয়ার অধিবাসী, সে মদিনায় ছয় বছর ধরে বসবাস করছে অথচ এখানে তার কোনো বসবাসের কাগজপত্র নেই। আমরা তাকে ধরে আলবেনিয়ায় পাঠিয়ে দিতে চাচ্ছি ছয় বছর যাবৎ কিন্তু প্রতিবারই তাকে ধরার পর সে আমাদের থেকে পালিয়ে যায়। আমরা তাকে প্রতিবারই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদ থেকে ধরি। এবারও তাই হলো। তাকে এবার পাওয়া মাত্রই সাথে সাথে দড়ি দিয়ে বাঁধা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় ছিল না!

মুরব্বী পুলিশদের বললেন: এখন তোমরা তাকে নিয়ে কী করবে?

তারা বললো: রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগ করবো। আমরা তাকে এখন ধরে নিয়ে প্লেনে উঠিয়ে দিবো এবং তারপর সে আলবেনিয়ায়।.....

যুবকটি তখন কাঁদছিল আর ভাবছিল এবার মনে হয় তাকে সত্যি সত্যিই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদ ছেড়ে যেতে হবে! রাসূলের স্মৃতি বিজড়িত মদীনা শহর ছেড়ে যেতে হবে! কিছুক্ষণ ভেবে যুবকটি পুলিশদের বলতে লাগলো: দেখুন ভাই, আমি এখানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও কারো সাথে প্রতারণা করি না। আমি এখানে এসেছি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসার টানে, এছাড়া অন্য কোনো দুনিয়াবি উদ্দেশ্য আমার নেই।

পুলিশরা বললো: না, এটা গ্রহণযোগ্য কথা নয়, আপনাকে অবশ্যই দেশে ফিরে যেতে হবে। বহিরাগতদের রাষ্ট্রীয় আইনে এখানে থাকার সুযোগ নেই।

পুলিশরা যুবককে নিয়ে মসজিদে নববী থেকে বের হয়ে গেলো। যুবক পথিমধ্যে তাদের বললেন: আমার একটি শেষ অনুরোধ রাখবেন? পুলিশরা তার অনুরোধ শুনলো এবং সুযোগ দিল।

যুবকটি তখন সবুজ গম্বুজের দিকে তাকিয়ে আবেগতাড়িত কণ্ঠে বললো:

هل هكذا كان الإتفاق بينن؟!

"ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাদের মধ্যে চুক্তিটা কি এমন হয়েছিল!

হে রাসূল! আপনার প্রতিবেশী হবো, তাই আমি আমার দোকান, ব্যবসা, মা-বাবাকে ছেড়ে এখানে এসেছি কিন্তু তারা আমাকে আর থাকতে দিচ্ছে না। এই কথা বলতে বলতে যুবক মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।

পুলিশরা বলেছে: আমরা ভাবলাম, যুবক ইচ্ছাকৃতভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে, সে জ্ঞান হারানোর ভান করছে , হয়তো আবার পালানোর পাঁয়তারা করছে।

পুলিশ সদস্যরা কিছুক্ষণ পর যুবককে মাটি থেকে টেনে উঠালো, দেখল সে সত্যিই অচেতন, মুখে পানি ঢেলে দিলেও যুবক আর নড়ছে না। তাদের মধ্যে একজন বললো: তার হয়তো স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, এক্ষুনি অ্যাম্বুলেন্স আনো। অ্যাম্বুলেন্স এসেছিল এবং যুবককে হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছিল, ডাক্তার তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর বললেন: আরো দেড় ঘণ্টা আগে যুবক এই পৃথিবী থেকে চলে গেছে, সে বেঁচে নেই।

পুলিশ সদস্যরা তখন কান্নায় ভেঙে পড়েছিল এবং বলছিল: আল্লাহর শপথ, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার নমুনা অনুভব করতে পারিনি।



এরপর গোসল ও জানাযা শেষে যুবককে অ্যাম্বুলেন্সে করে জান্নাতুল বাকিতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দাফন করা হয়।

আলবেনিয়ার পথে রওনা দেওয়া যুবক, জান্নাতুল বাকিতে চলে গেলেন। রেখে গেলেন পৃথিবীবাসীর জন্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালোবাসার অনুপম উপমা।

~ আরবি থেকে অনূদিত

📌📌 সবার জানা মতে দাজ্জাল এক চোখে অন্ধ হবে... কিন্তু খুব কম মানুষই জানে, তার দ্বিতীয় একটি বর্ণনা ইতোমধ্যেই আমাদের সময়ে ...
24/08/2026

📌📌 সবার জানা মতে দাজ্জাল এক চোখে অন্ধ হবে...
কিন্তু খুব কম মানুষই জানে, তার দ্বিতীয় একটি বর্ণনা ইতোমধ্যেই আমাদের সময়ে প্রতিফলিত হতে শুরু করেছে।
অথচ এ বিষয়টি নিয়ে প্রায় কেউ কথা বলে না।
আর সেটিই হয়তো আরও ভয়ংকর।

রাসূল ﷺ বলেছেন: "তার সঙ্গে থাকবে একটি জান্নাত ও একটি জাহান্নাম। কিন্তু তার জাহান্নাম হবে প্রকৃতপক্ষে শীতল পানি, আর তার জান্নাত হবে আগুন।"

দাজ্জালের ফিতনা শুধু প্রতারণা নয় এটি হলো সত্য ও মিথ্যার উল্টে যাওয়া, মানে সত্য মিথ্যা হবে আর মিথ্যে সত্য হবে।

যেখানে যা তোমাকে বাঁচাবে, সেটাকেই ভয়ংকর মনে হবে; আর যা তোমাকে ধ্বংস করবে, সেটাকেই আকর্ষণীয় মনে হবে।

আমরা দাজ্জালকে একজন দানবের মতো দেখতে অভ্যস্ত। কিন্তু দাজ্জালের সবচেয়ে ভয়ংকর বৈশিষ্ট্য হলো: সে হবে একজন "প্রদানকারী"।

সে মানব জাতিকে ডোপামিন, খাদ্য এবং নিরাপত্তা দিবে।
অধিকাংশ মানুষ তাকে অনুসরণ করবে এই কারণে না যে তারা আল্লাহকে ঘৃণা করে; বরং তারা তাকে অনুসরণ করবে স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতি আসক্তির কারণে।

এ কারণেই দাজ্জালের ফিতনা প্রকাশ্য মন্দের মতো দেখাবে না। বরং তা সমাধানের রূপে সামনে আসবে:

• অর্থনৈতিক নিরাপত্তা।
• প্রযুক্তিগত উন্নয়ন।
• বৈশ্বিক সংকট থেকে মুক্তি।

প্রতারণা সবচেয়ে সফল হয় তখনই, যখন তা মুক্তির পোশাক পরে আসে।

হাদিসে আরও এসেছে, দাজ্জালের দুই চোখের মাঝখানে (কাফির) "ك ف ر" লেখা থাকবে। রাসূল ﷺ বলেছেন, প্রত্যেক মুমিন সে শিক্ষিত হোক বা অশিক্ষিত এই লেখা পড়তে পারবে।

এ থেকে বোঝা যায়, এই প্রতারণা "দেখতে" পারা তোমার IQ বা ডিগ্রির ওপর নির্ভর করে না।

আজ মানবজাতি গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যকার দূরত্ব পরিমাপ করতে পারে, DNA-এর গঠন বিশ্লেষণ করতে পারে; অথচ নিজের আত্মাকে চিনতে সংগ্রাম করে।

জ্ঞান বেড়েছে, কিন্তু প্রজ্ঞা যেন কমে গেছে।

আমরা সবকিছুর মধ্যে"কীভাবে" দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু প্রায় ভুলে গেছি "কেন?"

যদি তোমার বসীরাহ (আধ্যাত্মিক অন্তর্দৃষ্টি) থাকে, তাহলে তুমি সুদ, শোষণ এবং নৈতিক অবক্ষয়ের আধুনিক ব্যবস্থাগুলোর ওপর সেই "কুফর" এর ছাপ দেখতে পারবে।

যেখানে "একচোখা" জনতা প্রযুক্তির এক সোনালি যুগ দেখছে, সেখানে মুমিন দেখতে পায় প্রতারণার এক সোনালি খাঁচা।

কুরআন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়: "নিশ্চয়ই চোখ অন্ধ হয় না; বরং অন্ধ হয় বুকের ভেতরের হৃদয়।"
[সূরা আল-হাজ্জ, ২২:৪৬]

আধ্যাত্মিক অন্ধত্ব শারীরিক অন্ধত্বের চেয়েও বিপজ্জনক। কারণ এটি একজন বান্দাকে তার শৃঙ্খলকেই ভালোবাসতে শেখায়। এ কারণেই আমরা প্রতি শুক্রবার সূরা আল-কাহফ পাঠ করি।

এই সূরাটি যেন বিভ্রম চিনে নেওয়ার একটি শিক্ষা। এতে চারটি বড় পরীক্ষার কথা উঠে আসে:

ঈমান, সম্পদ, জ্ঞান ও ক্ষমতা।

প্রতিটি ঘটনা পৃথিবী কীভাবে সত্যকে উল্টে দিতে পারে, তার একটি ভিন্ন দিক তুলে ধরে।

সূরা আল-কাহফে দুই বাগানের মালিক মনে করেছিল, সে তার সম্পদকে "উন্নত" করছে। নিজের চোখে সে কোনো "খলনায়ক বা villain" ছিল না। বরং পৃথিবীর ভাষায় সে ছিল একজন সফল উদ্যোক্তা।

আত্মবিশ্বাসী। স্বনির্ভর। নিজের সাফল্যের ব্যাপারে নিশ্চিত
আর এখানেই বিপদটা আরও গভীর। কারণ সে সরাসরি আল্লাহকে অস্বীকার করেনি। সে শুধু উৎসকে ভুলে গিয়েছিল এবং সম্পদের প্রতি মগ্ন হয়ে পড়েছিল।

সে বাগান দেখেছিল, কিন্তু সেই বাগান যিনি দিয়েছেন তাঁকে দেখেনি। সে তার সম্পদকে নিজের যোগ্যতার নিদর্শন হিসেবে দেখেছিল।

এরপর আসে আল-খিদরের ঘটনা, যেখানে সত্য ও বাহ্যিক দৃষ্টির এই উল্টে যাওয়া আরও স্পষ্ট হয়।

একটি নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত করা হলো।

চোখে যা দেখা যায়: অন্যায়। ক্ষতি। লোকসান।
কিন্তু বাস্তবে?
সুরক্ষা। রহমত। বেঁচে থাকার ব্যবস্থা।
একটি শিশুকে নিয়ে নেওয়া হলো।
চোখে যা দেখা যায়:
বিয়োগান্তক ঘটনা ও অসহনীয় কষ্ট।
কিন্তু বাস্তবে?
সেই বাবা-মায়ের ঈমানের জন্য সুরক্ষা এবং এমন এক রহমত, যা তারা তখন বুঝতে পারেনি।

এটাই সেই প্যাটার্ন যেখানে "ইসলাম"এর যুগ শেষ। আমরা এখন মূলের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত থাকার যুগে প্রবেশ করছি।

তুমি যদি তোমার সন্তানদের সুরক্ষিত রাখতে চাও, শুধু তাদের সূরা আল-কাহফ পড়তে শেখানো যথেষ্ট নয়।

তাদের গুহার শিক্ষা শেখাও:

• যখন জনতা ভুল পথে থাকে, তখন কীভাবে একা দাঁড়াতে হয়।
• "দুর্ভাগ্যজনক" ঘটনাগুলোর মধ্যেও কীভাবে আল্লাহর হিকমাহ দেখতে হয়।
• কীভাবে কোনো ব্যবস্থার চেয়ে নিজের আত্মার মূল্যকে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়।

দাজ্জালীয় ব্যবস্থা তোমার মনোযোগ, তোমার ক্ষোভ এবং তোমার আত্মা চায়। রাসূল ﷺ আমাদের সতর্ক করেননি শুধু যেন আমরা একজন মানুষকে চিনতে পারি। তিনি সতর্ক করেছেন, যেন আমরা সেই জনতার অংশে পরিণত না হই, যারা তাকে স্বাগত জানাবে।

জনতার স্বাচ্ছন্দ্যে প্রতারিত হয়ো না। এই উল্টে যাওয়ার প্রক্রিয়া আমাদের চারপাশে রয়েছে আর প্রতিদিন তোমার সামনে রয়েছে একটি সিদ্ধান্ত।

"হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"

(আমিন)

একজন সাহাবী তার আশেপাশের অনেককে ঋ'ণ দেন। পরিচিত-অপরিচিত কারো ঋ'ণ লাগলে তার কাছে আসতো, তিনি সবাইকে ঋ'ণ দিতেন।একবার তিনি অ...
19/08/2026

একজন সাহাবী তার আশেপাশের অনেককে ঋ'ণ দেন। পরিচিত-অপরিচিত কারো ঋ'ণ লাগলে তার কাছে আসতো, তিনি সবাইকে ঋ'ণ দিতেন।

একবার তিনি অসু'স্থ হলেন। খেয়াল করলেন তাকে কেউ দেখতে আসছে না। তিনি বেশ অ'বাক হলেন। বিছানায় পড়ে আছেন, অথচ আ'ত্মীয়-স্বজ'ন, পাড়া-প্রতিবেশী তেমন কেউ আসছে না।

তিনি খোঁ'জ নিয়ে জানতে পারলেন তারা তার কাছে আসতে বিব্র'ত'বোধ করছে। তারা তো এখনো ঋ'ণ পরিশোধ করতে পারেনি। এই অবস্থায় কীভাবে তার সামনে আসবে?

এটা শুনে তিনি ঘোষণা দিলেন, "আমি যাদেরকে ঋ'ণ দিয়েছি, সবার ঋ'ণ মা'ফ করে দিলাম ( মাশাআল্লাহ্)। আপনাদেরকে এই ঋ'ণ পরিশোধ করতে হবে না।"

ঘোষ'ণাটি মদীনায় ছড়িয়ে পড়লো।

মু'হূর্তের মধ্যে মানুষজন হুম'ড়ি খেয়ে রওনা দিলো তার বাড়িতে। দলে দলে লোকজন আসা শুরু করলো।

সেদিন তার বাড়িতে এতো লোক সমাগম হয়েছিলো যে, তাঁর বাড়ির একটি সিঁড়ি ভে'ঙ্গে যায়!

চিন্তা করুন, কতো শতো মানুষকে তিনি ঋ'ণ দিয়েছিলেন!

সেই সাহাবীর নাম কায়স ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

(ঘটনাটি পাবেন সিয়ারুস সাহাবা বইয়ে কায়স ইবনে সা'দ রা. –এর জীবনীতে)

গাইয়্যা...!জাহান্নামের এমন এক স্থান, যার নামও অধিকাংশ মুসলিম কোনোদিন শোনেনি।আপনি কি জানেন, কুরআনে এমন একটি ভয়াবহ স্থান...
12/08/2026

গাইয়্যা...!

জাহান্নামের এমন এক স্থান, যার নামও অধিকাংশ মুসলিম কোনোদিন শোনেনি।

আপনি কি জানেন, কুরআনে এমন একটি ভয়াবহ স্থানের কথা উল্লেখ আছে, যার ব্যাপারে আমাদের অনেকেই প্রায় সম্পূর্ণ অজ্ঞ?

এটি জাহান্নামের এমন এক স্থান, যেখানে যাওয়ার ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ নিজেই সতর্ক করেছেন। অথচ আমরা অনেকেই জানি না— কাদের জন্য এই ভয়াবহ পরিণতি নির্ধারিত হয়েছে!

গাইয়্যা (غَيًّا) সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন—

"অতঃপর তাদের পরে এমন একদল লোক এলো, যারা সালাত নষ্ট করল এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করল। অচিরেই তারা 'গাইয়্যা'র সম্মুখীন হবে।"
— (সূরা মারইয়াম, ১৯:৫৯)

এখানে আল্লাহ শুধু বলেননি যে তারা জাহান্নামে যাবে; বরং বিশেষভাবে "গাইয়্যা" নামটি উল্লেখ করেছেন।

অনেক প্রখ্যাত মুফাসসির, যেমন ইবন কাসীর (রহ.)-এর তাফসিরে এসেছে, "গাইয়্যা" বলতে জাহান্নামের একটি গভীর উপত্যকা বা এমন এক ভয়াবহ শাস্তির স্থানকে বোঝানো হয়েছে, যা অত্যন্ত নিকৃষ্ট ও ভীতিকর। আবার কেউ কেউ বলেছেন, এর অর্থ ধ্বংস ও পথভ্রষ্টতার পরিণতি। অর্থাৎ আয়াতটি এমন এক ভয়াবহ শাস্তির সতর্কবার্তা বহন করে, যা অবহেলাকারীদের জন্য অপেক্ষা করছে।

যদি এটি সত্যিই জাহান্নামের একটি গভীর উপত্যকা হয়, তবে সেটি এমন এক স্থান, যেখানে আগুনের শাস্তি থেকে সামান্যতম মুক্তিও নেই। সেখানে পৌঁছানো মানেই আল্লাহর ক্রোধের এক ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হওয়া। কুরআন এই নামটি এমনভাবেই উল্লেখ করেছে, যাতে একজন মুমিন শিউরে ওঠে এবং নিজের আমল নিয়ে ভয় পায়! আর আমরা? (আল্লাহুম্মাহফাযনা)

খেয়ায় করুন— এখানে প্রথম যে অপরাধের কথা বলা হয়েছে, তা হলো সালাত নষ্ট করা। শুধু নামাজ ছেড়ে দেওয়াই নয়; ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করা, গুরুত্ব না দেওয়া, দুনিয়ার কাজকে সালাতের ওপর প্রাধান্য দেওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

আর আজ আমাদের অবস্থা দেখুন — মনে হয় এই কথার জিবন্ত রুপ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল, সিরিজ, আড্ডা বা ব্যবসার জন্য সময় আছে; কিন্তু আযান হওয়ার পরও সালাতের জন্য কয়েক মিনিট সময় বের করা কঠিন হয়ে যায়। কেউ বলে "পরে পড়ব", কেউ বলে "আজ অনেক ব্যস্ত", আবার কারও কাছে ফজরের সালাত ঘুমের কাছে হেরে যায়। অথচ সয়ং আল্লাহ তায়ালা এটিকে হালকাভাবে নেননি।

এরপর এসেছে প্রবৃত্তির অনুসরণ— যেখানে মানুষ আল্লাহর আদেশের চেয়ে নিজের ইচ্ছাকে বড় করে দেখে।

আর এখন আমরা কি করি? কত সহজেই বলে ফেলি, সবাই তো করছে, এতে সমস্যা কী?, মন যা চায় সেটাই করব। হালাল-হারামের সীমা, পর্দা, দৃষ্টি সংযম, গান, সুদ, সম্পর্ক— অনেক ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধানের পরিবর্তে নিজের ইচ্ছাকেই আমরা মানদণ্ড বানিয়ে ফেলি। অথচ একজন মুমিনের পরিচয় হলো—নিজের নফস কে দমন করে, আল্লাহর আদেশের অনুসরণ করা।

একবার নিজের হৃদয়কে প্রশ্ন করুন—
আজ কি আমার সালাত সত্যিই আল্লাহর জন্য, নাকি সুবিধামতো? আমি কি আমার নফসকে অনুসরণ করছি, নাকি আল্লাহর আদেশকে?

আমরা দুনিয়ার আগুন থেকেই এত ভয় পাই। অথচ এমন একটি স্থানের কথা কুরআনে আছে "গাইয়্যা" সম্পর্কে আমাদের সতর্ক করে দেওয়ার পরও যার নামই অধিকাংশ মানুষ জানেই না।

যে রব আমাদের এত ভালোবাসেন, তিনিই যদি একটি নির্দিষ্ট স্থানের নাম উল্লেখ করে সতর্ক করেন, তবে সেই সতর্কবার্তা কতটা ভয়াবহ হতে পারে! কুরআনের এসব আয়াত গল্প নয়, কল্পনাও নয়; এগুলো সেই ভবিষ্যতের বাস্তবতা, যার মুখোমুখি আমাদের প্রত্যেককেই একদিন হতে হবে। তাই আজও যদি আমরা নিজেদের সংশোধন না করি, তাহলে কবে করব?

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সালাতের হিফাজতকারী বানান, নফসের অনুসরণ থেকে রক্ষা করুন এবং জাহান্নামের প্রতিটি স্তর ও প্রতিটি শাস্তি থেকে নিরাপদ রাখুন।
اللهم أجرنا من النار. آمين.
~উম্মে উসমান

Address

Dhaka
1207

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Haya for MUSLimaH posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share