17/08/2026
রাবিয়াকে এক কথায় চেনা যায় না।
প্রথম দেখায় তাকে চঞ্চল, প্রাণবন্ত একটা মেয়ে বলেই মনে হবে। একটু দুষ্টুমি, একটু খেয়ালিপনা, নিজের মতো করে চলার একটা স্বভাব। এমন চরিত্র আমাদের চারপাশে কম দেখা যায় না। হয়তো পড়তে পড়তে কখনো মনে হবে, এই মেয়েটাকে তো চেনা চেনা লাগছে!
কিন্তু রাবিয়ার গল্পটা সেখানেই থেমে থাকে না।
একটা ছোট্ট দুষ্টুমি থেকে এমন কিছু ঘটনার শুরু হয়, যার ঢেউ একসময় তার নিজের জীবন ছাড়িয়ে আরও কয়েকজন মানুষের জীবনে গিয়ে লাগে। যে কাজটা করার সময় হয়তো এতটা ভেবে দেখার অবকাশ ছিল না, পরে সেই কাজের পরিণতিটাই হয়ে ওঠে তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা।
রাবিয়াকে পড়তে পড়তে মনে হয়েছে, মানুষকে তার একটা মুহূর্ত দিয়ে বিচার করা কতটা সহজ। আমরা দেখি সে কী করেছে। কিন্তু কেন করেছে, তখন তার মনে কী চলছিল, সে কি বুঝতে পেরেছিল সামনে কী অপেক্ষা করছে, কিংবা পরে নিজের কাজটাকে সে কীভাবে দেখেছে, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে মানুষটাকে আর এত সহজ মনে হয় না।
“শারারাত”-এ রাবিয়ার এই দিকটাই আমার কাছে সবচেয়ে আগ্রহের। সে নিখুঁত নয়, ভুল করে। কখনো আবেগ তাকে টেনে নিয়ে যায়, কখনো নিজের সিদ্ধান্তের ভার তার সামনেই এসে দাঁড়ায়। তার গল্প পড়তে গিয়ে তাই শুধু রাগ বা মায়া, একটিমাত্র অনুভূতিতে আটকে থাকা যায় না। কখনো তাকে বুঝতে ইচ্ছে করে, কখনো প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে, আবার কখনো বা চুপচাপ তার পাশে বসে থাকতে ইচ্ছে করে।
আর মেহরোজের সঙ্গে তার সম্পর্কের গল্পটা যত এগোয়, রাবিয়াকেও তত অন্যভাবে দেখতে হয়। তাদের মধ্যে যা ঘটে, সেটাকে শুধু ভালোবাসা কিংবা অভিমানের গল্প বলে শেষ করা সম্ভব নয়। কিছু ভুল, কিছু না বলা কথা আর কিছু পরিস্থিতি মানুষকে এমন জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেয় যে, নিজের আগের সিদ্ধান্তগুলোর দিকেও নতুন করে তাকাতে হয়।
এই চরিত্রগুলোর জীবন নিয়ে আজ আর বেশি কিছু বলব না। কারণ রাবিয়াকে নিয়ে আমার বলা কথার চেয়ে আপনার নিজের পড়ার অভিজ্ঞতাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু এটুকু বলি, রাবিয়াকে প্রথমে যেমন মনে হবে, গল্পের শেষ পর্যন্ত তাকে হয়তো আর ঠিক তেমন মনে থাকবে না।
“শারারাত” যারা হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন, তারা চাইলে এখনই বইটি প্রি অর্ডার করে রাখতে পারেন।