28/07/2026
১.৪ টেরাবাইট। এটা কোনো সিনেমা লাইব্রেরির সাইজ না একটা এআই মডেলের ওজন। বেইজিংয়ের মুনশট এআই (Moonshot AI) তাদের কিমি কে৩ (Kimi K3)-এর সম্পূর্ণ মডেল ওয়েট প্রকাশ করেছে হাগিং ফেসে (Hugging Face), আর এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ওপেন-ওয়েট এআই মডেল।
গত সপ্তাহেই কিমি কে৩-কে নিয়ে লিখেছিলাম, যখন মাইক্রোসফট (Microsoft) কপাইলটে এই মডেল টেস্ট করছিল আর এলন মাস্কও (Elon Musk) এক ইন্টারভিউতে এর প্রশংসা করেছিলেন। এবার মুনশট নিজেদের ২৭ জুলাইয়ের ডেডলাইনের কিছুটা আগেই পুরো মডেল ওয়েট, টেকনিক্যাল রিপোর্ট এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার স্ট্যাক ওপেন সোর্স করে দিয়েছে।
কিমি কে৩-এর টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশনঃ
> মোট ২.৮ ট্রিলিয়ন প্যারামিটার, কিন্তু প্রতি টোকেনে সক্রিয় থাকে মাত্র ১০৪ বিলিয়ন (৮৯৬টি এক্সপার্টের মধ্যে ১৬টি)
> মিক্সচার-অফ-এক্সপার্টস (MoE) আর্কিটেকচারের কারণে ১০ লক্ষ টোকেনের কনটেক্সট উইন্ডো, সাথে নেটিভ ভিশন (ছবি এবং ভিডিও প্রসেস করতে পারে)
> নতুন আর্কিটেকচার "কিমি ডেল্টা অ্যাটেনশন" (KDA) এবং "অ্যাটেনশন রেসিডুয়ালস"-এর মাধ্যমে আগের কিমি কে২ (Kimi K2)-এর চেয়ে প্রতি ইউনিট কম্পিউটে প্রায় ২.৫ গুণ বেশি ইন্টেলিজেন্স।
> দাম: ক্যাশ-হিট ইনপুট প্রতি মিলিয়ন টোকেন ০.৩০ ডলার, ক্যাশ-মিস ইনপুট ৩ ডলার, আউটপুট ১৫ ডলার।
মুনশট নিজেই কিছু চমকপ্রদ কেস স্টাডি প্রকাশ করেছে যা প্রমাণ করে এই মডেলের প্রকৃত ক্ষমতাঃ
> মডেলটিকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল নিজেই একটি চিপ ডিজাইন করার জন্য। এটি সফলভাবে ৪ বর্গ মিলিমিটারের একটি চিপ ডিজাইন, অপ্টিমাইজ এবং ভেরিফাই করেছে, যা সিমুলেশনে সেকেন্ডে ৮,৭০০-এর বেশি টোকেন প্রসেস করতে পারে।
> শূন্য থেকে নিজেই একটি জিপিইউ কম্পাইলার (MiniTriton) তৈরি করেছে, যা কিছু ক্ষেত্রে ইন্ডাস্ট্রি-স্ট্যান্ডার্ড ট্রাইটনকেও (Triton) ছাড়িয়ে গেছে।
> একটি জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান গবেষণার কাজ, যা একজন অভিজ্ঞ গবেষকের ১-২ সপ্তাহ সময় লাগত, সেটা মডেলটি মাত্র ২ ঘণ্টায় সম্পন্ন করেছে ২০টিরও বেশি গবেষণাপত্র যাচাই করে এবং ৩০০টিরও বেশি সমীকরণ মূল্যায়ন করে।
ওপেন-ওয়েট হওয়ার অর্থ হলো, যেকোনো ডেভেলপার বা প্রতিষ্ঠান চাইলে এই মডেলটি নিজের সার্ভারে ডাউনলোড করে চালাতে পারবেন কোনো এপিআই সাবস্ক্রিপশন ছাড়াই। তবে বাস্তবতা হলো, ২.৮ ট্রিলিয়ন প্যারামিটারের এই মডেল চালাতে অন্তত ৬৪টি বা তার বেশি অ্যাক্সিলারেটরের সুপারনোড কনফিগারেশন লাগবে, যা বাংলাদেশের কোনো সাধারণ প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে জোগাড় করা কার্যত অসম্ভব।
সৎভাবে বলি: মুনশট নিজেই তাদের টেকনিক্যাল রিপোর্টে মডেলটির সীমাবদ্ধতা খোলাখুলি স্বীকার করেছে। তারা লিখেছে, "সামগ্রিকভাবে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক মডেল হওয়া সত্ত্বেও, কে৩ এখনো ক্লড ফেবল ৫ এবং জিপিটি-৫.৬ সোলের তুলনায় ইউজার এক্সপেরিয়েন্সে একটি লক্ষণীয় ফারাক রেখে যায়"। এছাড়া তারা এটাও সতর্ক করেছে, মডেলটি জটিল কাজে অতিরিক্ত "প্রোঅ্যাক্টিভ" হয়ে ইউজারের পক্ষ থেকে অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারে।
একটি চীনা স্টার্টআপ যখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় এআই মডেলটি সম্পূর্ণ ফ্রিতে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়, তখন এটি কি সত্যিকারের "এআই-এর গণতন্ত্রীকরণ", নাকি এটি শুধু বড় বড় প্রতিষ্ঠান আর ক্লাউড প্রোভাইডারদেরই সুবিধা দেবে? কমেন্টে আপনার মতামত জানান 👇
আর এমন Exclusive Tech, AI, and Social Media News পেতে ফলো করুন এবং পোস্টটি শেয়ার ও সেভ করুন 🙏