21/07/2026
নীল শাড়ির মায়া
নীল শাড়িটার দিকে তাকিয়েই আনমনে হেসে ফেলল অবনী। আজ তনুর সাথে ওর দেখা হওয়ার কথা। তনু সব সময় বলে, "তোমাকে নীল শাড়িতে একদম আকাশের মতো দেখায়, যার কোনো শেষ নেই।"অবনী আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখছিল। ঠোঁটে হালকা লাল লিপস্টিক আর কানে ঝুমকো দুল। ও ঠিক করল আজ তনুকে একটু চমকে দেবে। ঠিক বিকেল চারটায় ওরা চারুকলা মেহগনি তলায় দেখা করবে বলে কথা হয়েছে।এদিকে তনু ছটফট করছে। ঘড়ির কাঁটা যেন আজ বড্ড ধীরে চলছে। অবনীর সাথে ওর পরিচয়টা ছিল ভীষণ অদ্ভুত। এক বর্ষার বিকেলে রিকশা না পেয়ে দুজনেই একটা লাইব্রেরির শেডের নিচে দাঁড়িয়েছিল। তনুর হাতে ছিল একটা কবিতার বই, আর অবনী আনমনে বৃষ্টির ফোঁটা গুনছিল। সেই যে শুরু, তারপর থেকে অবনীর ওই শান্ত চোখ দুটো তনুর পুরো আকাশ জুড়ে মেঘের মতো জড়িয়ে গেছে।চারুকলায় পৌঁছাতেই তনুর চোখ আটকে গেল। মেহগনি গাছের নিচে একটা কাঠের চেয়ারে বসে আছে অবনী। পরনে গাঢ় নীল রঙের জমকালো একটা শাড়ি, যার পাড়ে সোনালী ও বেগুনী জরির কাজ। অবনী এক হাত বাড়িয়ে গাছের পাতা থেকে ঝরে পড়া রোদের আলো ধরার চেষ্টা করছে।তনু কিছুক্ষণ দূর থেকে দাঁড়িয়ে শুধু দেখল। ওর মনে হলো, এই দৃশ্যটার জন্য একটা আস্ত জীবন অপেক্ষা করা যায়। ও পায়ে পায়ে এগিয়ে গিয়ে অবনীর ঠিক সামনে দাঁড়াল।অবনী চোখ তুলে তাকাতেই তনু আলতো হেসে বলল, "আজ কি নীল আকাশটা মেঘ ভেঙে মাটিতে নেমে এলো?"অবনী লজ্জা পেয়ে চোখ নামিয়ে নিল, কিন্তু ওর ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল মিষ্টি এক চিলতে হাসি। ও বলল, "দেরি করলে কেন? আমি কতক্ষণ ধরে বসে আছি!"তনু পকেট থেকে একটা ছোট কাঠের বাক্স বের করে অবনীর দিকে বাড়িয়ে দিল। অবনী বাক্সটা খুলতেই দেখল ভেতরে এক জোড়া নীল কাঁচের চুড়ি।তনু ফিসফিস করে বলল, "শাড়িটা খুব সুন্দর, কিন্তু এই হাত দুটো খালি দেখাচ্ছিল। ভালোবাসাগুলো সব সময় গুছিয়ে বলা যায় না অবনী, কিছু ভালোবাসা এভাবে নীল চুড়ির শব্দে মিশে থাকে।"অবনী চুড়িগুলো হাতে পরতে পরতে তনুর চোখের দিকে তাকাল। সেই চোখে কোনো জটিলতা ছিল না, ছিল শুধু এক সমুদ্র খাঁটি ভালোবাসা। চারপাশের কোলাহল যেন মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে গেল, রয়ে গেল শুধু দুজন মানুষের এক অদ্ভুত মায়াবী নীরবতা।
#কাল্পনিক_গল্প #ভালোবাসার_গল্প #নীল_শাড়ি #গল্পের_আড্ডা