Book Review With Galib

Book Review With Galib বই নিয়ে থাকি। বই পড়তে ভালোবাসি। বইয়ের সাথে বাঁচি।

01/11/2025

বিশ্বাস করুন, আমি যখন পুতিনকে নিয়ে সেদিন পোস্টটা করি, আমার হাত কাঁপছিল। মন বারবার বলছিল এটা করিস না তাওহীদ, লোকে তোর পার্সপেক্টিভ নেবে না। তুই প্রচুর সমালোচিত হবি। এর থেকে ভালো তুই কেবল সেই ক্লাসিক নলেজগুলোই শেয়ার করে যা, যা প্রায় সবার জন্যই প্রযোজ্য। এই হিডেন বিষয়গুলো নিজের কাছেই রাখ।
কিন্তু আমার সব সংশয়কে ভুল প্রমাণিত করে আপনারা যে আগ্রহ দেখিয়েছেন, যে গভীরতার আলোচনা চেয়েছেন, তা ভোলার মতো নয়। সেই ধারাবাহিকতায়, আপনাদের অনেকের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আজ হাজির হলাম The 48 Laws of Power এর রিভিউ নিয়ে।
তবে একটা কথা না বললেই নয়। আমার এই রিভিউ এই বইয়ের এক শতাংশও তুলে ধরতে পারবে কিনা সন্দেহ। আমি তো মনে করি, আমি যদি এমন একশোটা রিভিউ-ও লিখি, তবুও এই বইয়ের সম্পূর্ণ দর্শন আপনাদের সামনে তুলে ধরতে পারব না।
তো রবার্ট গ্রিন এখানে যা কম্পাইল করেছেন, তা হাজার হাজার বছরের মানব ইতিহাস, মনস্তত্ত্ব এবং ক্ষমতার করিডোরে ঘটে যাওয়া বাস্তব ঘটনার এক নির্মম সারসংক্ষেপ।
তাই আমি চাইবো, বইটা যেন আপনি নিজে পড়ে দেখেন।
আমি ইনশাআল্লাহ এই বইয়ের ওপর মাঝেমধ্যেই আরও কন্টেন্ট শেয়ার করব। দুটোকে একসাথে মিলিয়ে নিলে বোঝাটা অনেক সহজ হয়ে যাবে, আরও বেশি রিলেটেবল মনে হবে এবং দ্রুত লাইফে ইমপ্লিমেন্ট করতে পারবেন।
যেমন এই বইয়ের মতোই আরও একটা চমৎকার বই হচ্ছে ম্যাকিয়াভেলির The Prince। সত্যি বলতে, আমি ওটা কেনার পর থেকে এখন পর্যন্ত দুইবার পড়েছি, কিন্তু এখনও এর সম্পূর্ণ গভীরতা ধরতে পারিনি। ইনশাআল্লাহ সেটা নিয়েও সামনে আপনাদের সাথে আলোচনা হবে।
তো চলুন, এবার মূল প্রসঙ্গে ফিরে যাই।
The 48 Laws of Power কোনো সেলফ হেল্প বই নয়।
এটা আপনাকে ভালো মানুষ হতে শেখাবে না। এটা একটা অপারেটিং ম্যানুয়াল। মানব সভ্যতার, বিশেষ করে ক্ষমতার করিডোরে টিকে থাকার এক নির্মম প্র্যাক্টিক্যাল গাইড। গ্রিন এখানে কোনো নৈতিকতার চশমা পরেননি। তিনি আপনাকে বলছেন না কোনটা ঠিক বা কোনটা ভুল।
তিনি শুধু দেখাচ্ছেন কোনটা কার্যকর আর কোনটা অকার্যকর।
এই বইটা পড়া মানে হলো রেড পিল নেওয়া। একবার এই বইয়ের দর্শন আপনার মাথায় ঢুকে গেলে, আপনি আর কখনোই পৃথিবীটাকে আগের মতো করে দেখতে পারবেন না। আপনি মানুষের প্রতিটি কথার পেছনে তার হিডেন এজেন্ডা খুঁজতে শুরু করবেন। প্রতিটি হাসির পেছনে ক্যালকুলেটেড মুভ দেখতে পাবেন।
এটাই এই বইয়ের শক্তি, এবং এটাই এর আতঙ্ক।
প্রথমেই বুঝতে হবে, পাওয়ার বা ক্ষমতা কোনো স্ট্যাটিক জিনিস নয়, এটা একটা ডাইনামিক ফ্লুইড। এটা শুধু রাষ্ট্রপ্রধান বা সিইও-র চেয়ারে সীমাবদ্ধ নয়। গ্রিনের দর্শন অনুযায়ী এবং আমিও তাই মনে করি যে, ক্ষমতা হলো একটা সোশ্যাল গেম।
প্রতিটা ইন্টার‍্যাকশন, প্রতিটা মিটিং, প্রতিটা সম্পর্ক হলো একটা পাওয়ার ট্রানজ্যাকশন। আপনি হয় ইনফ্লুয়েন্স গেইন করছেন, নয়তো কন্ট্রোল সারেন্ডার করছেন। আপনি এই খেলা ইগনোর করতে পারেন, কিন্তু আপনি এই খেলার বাইরে নন।
আপনি যখন বলেন আমি এসব পলিটিক্সের মধ্যে নেই, আপনি আসলে নিজেকে সেই পলিটিক্সের সবচেয়ে সহজ শিকারে পরিণত করছেন।
গ্রিন বলছেন, যেহেতু খেলতেই হবে, তাহলে নিয়ম না জেনে প্যন (Pawn) হওয়ার চেয়ে, নিয়ম জেনে প্লেয়ার হওয়াই শ্রেয়।
এই বইয়ের সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হলো এর অ্যামোরালিটি বা নৈতিকতার ঊর্ধ্বে ওঠার দর্শন। আমরা শিখি সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা।
কিন্তু গ্রিন দেখাচ্ছেন,
ইতিহাসের প্রতিটি উইনার এই নিয়মটাকেই সবচেয়ে বেশিবার ভেঙেছে। লুই চতুর্দশ থেকে শুরু করে আধুনিক কর্পোরেট জায়ান্ট, সবাই বুঝেছিল যে, ক্ষমতা আর নৈতিকতা এক রাস্তায় হাঁটে না। ক্ষমতা চায় প্র্যাগম্যাটিজম।
আপনার মুভ কি আপনার এন্ড গোল অ্যাচিভ করতে সাহায্য করছে?
যদি করে, তবে তা স্ট্র্যাটেজিক্যালি সাউন্ড। যদি না করে, তবে তা ইমোশনাল ব্লান্ডার। এই বই আপনাকে সেই কঠিন প্রশ্নটার সামনে দাঁড় করিয়ে দেবে: আপনি কি নৈতিকভাবে শুদ্ধ হয়ে হেরে যেতে চান, নাকি স্ট্র্যাটেজিক্যালি কার্যকর হয়ে টিকে থাকতে চান?
এই বইয়ের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো পার্সেপশন ম্যানেজমেন্ট, বাস্তবে কী ঘটছে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষ কী দেখছে বা আপনি কী দেখাচ্ছেন।
যেমন, অলওয়েজ সে লেস দ্যান নেসেসারি।
এটা শুধু চুপ থাকা নয়। এটা হলো ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার। আপনি যত কম কথা বলবেন, আপনার কথার ওজন তত বাড়বে। আপনি যত কম বলবেন, আপনার প্রতিপক্ষ তত কম ইনটেলিজেন্স পাবে।
সবচেয়ে বড় কথা, আপনি যখন একটা ইনফরমেশন ভ্যাকুয়াম তৈরি করেন, আপনার প্রতিপক্ষ সেই শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য অস্থির হয়ে ওঠে। তারা কথা বলতে শুরু করে, তারা তাদের নিজেদের প্ল্যান, ভয়, দুর্বলতা সবকিছু রিভিল করে দেয়। আপনি নীরব থেকে প্রতিপক্ষের সমস্ত অ্যামুনিশন সংগ্রহ করে নিচ্ছেন।
যে ব্যক্তি নীরব, তাকে নিয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয়। মানুষ অস্পষ্টতাকে ভয় পায়। তারা জানে না আপনি কি বোকা, নাকি আপনি সবার চেয়ে তিন ধাপ এগিয়ে ভাবছেন।
এই স্ট্র্যাটেজিক অ্যামবিগুইটি বা কৌশলগত অস্পষ্টতাই আপনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
এর সাথেই সম্পর্কিত, কনসিল ইওর ইনটেনশনস বা নিজের উদ্দেশ্য গোপন রাখুন। আজকের ট্রান্সপারেন্সি'র যুগে এটা একটা কাউন্টার-ইনটুইটিভ ধারণা।
কিন্তু ক্ষমতার খেলায়, স্বচ্ছতা হলো স্ট্র্যাটেজিক সুইসাইড।
আপনি যদি আপনার আসল লক্ষ্য আগেই প্রকাশ করে দেন, আপনার প্রতিপক্ষ খুব সহজেই কাউন্টার-স্ট্র্যাটেজি সাজিয়ে ফেলবে। তাই তো একটু আগে এক ভাইয়া তার প্ল্যান আমার কাছে শেয়ার করার সময় বললো, উদ্যোক্তার কাছে বললো আইডিয়া তার প্রিয় বউটার মত।
গ্রিন বলছেন, ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন চালান। মানুষকে একটা মিথ্যা লক্ষ্যের পেছনে তাড়া করতে দিন। তারা যখন সেই ডেকয় বা টোপ গিলতে ব্যস্ত, আপনি তখন পর্দার আড়ালে আপনার আসল কাজটা সেরে ফেলুন।
এটা শুধু জিওপলিটিক্যাল চাল নয়, এটা প্রতিটা কর্পোরেট টেকওভার বা বোর্ডরুম ব্যাটল-এর রিয়েলিটি।
আপনার কলিগ যে প্রজেক্ট নিয়ে খুব উৎসাহ দেখাচ্ছে, হতে পারে ওটা তার আসল উদ্দেশ্য নয়। আসল উদ্দেশ্য হয়তো ওই প্রজেক্টের মাধ্যমে অন্য কোনো ডিপার্টমেন্টের ইনফ্লুয়েন্স বা রিসোর্স দখল করা।
এই মাল্টি-লেয়ার্ড ইনটেনশন যদি আপনি পড়তে না পারেন, আপনি গেমটা শুরু হওয়ার আগেই হেরে বসে আছেন।
এই বইয়ের সবচেয়ে ডার্ক দিকটা হলো এর সাইকোলজিক্যাল ম্যানিপুলেশনের দিকগুলো।
যেমন, প্লে এ সাকার টু ক্যাচ এ সাকার বা বোকা ধরার জন্য বোকা সাজো। অর্থাৎ, আপনার প্রতিপক্ষকে এটা বিশ্বাস করান যে আপনি তার চেয়ে কম বুদ্ধিমান। এটা হলো ইগো-বেইটিং-এর মাস্টারস্ট্রোক।
যখন কেউ ভাবে সে আপনার চেয়ে স্মার্ট, সে অহংকারী হয়ে ওঠে। তার কগনিটিভ বায়াসগুলো প্রকট হয়। সে আপনাকে আন্ডারএস্টিমেট করে, সে ভুল করে, সে আনগার্ডেড হয়ে যায়।
আর ঠিক সেই মুহূর্তেই আপনি আঘাত হানেন।
এটা এক ধরনের সাইকোলজিক্যাল জুডো, প্রতিপক্ষের ইগোকেই তার বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা। ইতিহাস এমন ডার্ক হর্স-দের গল্পে পরিপূর্ণ, যারা বোকা সেজে পুরো সিস্টেমকে ওভারথ্রো করে দিয়েছে।
আরেকটা মাইন্ড ব্লোয়িং কনসেপ্ট হলো, ইউজ অ্যাবসেন্স টু ইনক্রিজ রেসপেক্ট অ্যান্ড অনার। এটা হলো ম্যানুফ্যাকচারিং স্কারসিটি বা ঘাটতি তৈরি করার শিল্প।
অর্থনীতির বেসিক নিয়ম: যে জিনিসের সাপ্লাই যত কম, তার ভ্যালু তত বেশি। এটা মানুষের ক্ষেত্রেও একশ ভাগ সত্যি। আপনি যদি খুব বেশি অ্যাভেইলেবল হন, মানুষ আপনাকে টেকেন ফর গ্র্যান্টেড ধরে নেবে।
আপনার সোশ্যাল ভ্যালু কমে যাবে। কিন্তু আপনি যদি কৌশলগতভাবে নিজেকে অ্যাবসেন্ট রাখেন, একটা গ্যাপ তৈরি করেন, মানুষ আপনার অভাবটা বুঝতে শুরু করে। আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ড-এর একটা প্রিমিয়ামাইজেশন ঘটে।
এই কারণেই বড় বড় নেতারা সব জায়গায় সস্তা ভাষণ দিয়ে বেড়ান না। তারা তাদের উপস্থিতিকে একটা ইভেন্টে পরিণত করেছেন। এটা তাদের অরা বা প্রভাববলয়কে শক্তিশালী করে।
তবে আমার মতে, এই বইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে কঠিন আইন হলো:
নেভার আউটশাইন দ্য মাস্টার।
এটা পড়ে অনেকেই হতাশ হন। তার মানে কি আমি আমার প্রতিভাকে চেপে রাখব? গ্রিন বলছেন, না। তিনি ডোমিনেন্স হায়ারার্কি বা ক্ষমতার পিরামিডটা বুঝতে বলছেন। বাস্তবতা হলো, আপনার ওপরে যে বসে আছে, সে তার পজিশন নিয়ে ইনসিকিওর।
আপনি যদি আপনার প্রতিভার ঝলকানি দিয়ে তাকে ইনসিকিওর করে তোলেন, সে আপনাকে থ্রেট বা হুমকি হিসেবে দেখবে এবং সে তার সমস্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে আপনাকে নিউট্রালাইজ বা নিষ্ক্রিয় করে দেবে, তা আপনি যতই ট্যালেন্টেড হোন না কেন।
এর মানে এই নয় যে আপনি কাজ করবেন না। এর মানে হলো, আপনার কৃতিত্বগুলোকেও এমনভাবে ফ্রেম করতে হবে যেন তা আপনার মাস্টারের ব্রিলিয়ান্ট লিডারশিপ এর ফসল।
এটা কিছুটা তেল মারার মতো, ভদ্র ভাষায় যাকে বলে চাটুকারিতা।
তবে এটা কিছুটা অপছন্দ আমার কাছে, যাইহোক আপনার জয়কে তার জয় হিসেবে দেখাতে হবে। তাকে ক্রেডিট দিতে হবে, সবার সামনে বলতে হবে এর পিছনে তার অবদান কত বেশি, যদিও বাস্তবে তার ছিটেফোঁটাও থাকে না।
এটা একটা ধূর্ততা, একটা সূক্ষ্ম আর্ট। এটা হলো কোভার্টলি বা গোপনে নিজের শক্তি সঞ্চয় করা, যখন আপনার মাস্টার ভাবছে আপনি তার সবচেয়ে অনুগত শিষ্য।
আর যে এই ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট করতে পারে, সেই শেষ পর্যন্ত পিরামিডের শীর্ষে পৌঁছায়।
এখন অনেকেই প্রশ্ন করেন, এই বই কি মানুষকে ম্যানিপুলেটিভ সোসিওপ্যাথ হতে শেখাচ্ছে না? এটা কি একটা শয়তানের বাইবেল নয়?
এইখানেই আমার পার্সপেক্টিভটা আমি শেয়ার করি।
আমি মনে করি, এই বইটা একটা কগনিটিভ টুলকিট। আপনি যদি এই আইনগুলো নাও ব্যবহার করেন, আপনার চারপাশে কেউ না কেউ অবশ্যই এগুলো আপনার ওপর ব্যবহার করছে।
আপনার কর্পোরেট বস, আপনার প্রতিযোগী, এমনকি আপনার কাছের বন্ধুটিও হয়তো কনসাসলি বা আনকনসাসলি এই গেমগুলো খেলছে।
আপনি যদি এই ট্যাকটিক্স বা কৌশলগুলো সম্পর্কে সচেতন না হন, আপনি সারাজীবন এই অদৃশ্য খেলার ভিকটিম হয়ে থাকবেন।
আপনি বুঝতেই পারবেন না কেন আপনি এত খেটেও প্রমোশন পাচ্ছেন না, বা কেন আপনার ভালো আইডিয়াগুলো চুরি হয়ে যাচ্ছে।
এই বইটা আপনাকে সেই ডিফেন্সিভ আরমার বা প্রতিরক্ষা বর্মটা দেয়। এটা আপনাকে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা সাইকোলজিক্যাল ম্যানিপুলেশন চিনতে শেখায় এবং তা কাউন্টার করতে সাহায্য করে।
ডার্ক সাইকোলজি বা ক্ষমতার এই দর্শনকে ইগনোর করাটা আর চোখ বন্ধ করে জিওপলিটিক্যাল চেসবোর্ড-এ হাঁটার মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। আপনি চোখ বন্ধ করে ভাবতেই পারেন যে সব ঠিক আছে, কিন্তু তাতে আপনার চেকেমট হওয়ার সম্ভাবনা একবিন্দুও কমে না। The 48 Laws of Power হলো সেই চোখ খুলে দেওয়া একটা বই।
এটা আপনাকে জগতের সেই দিকটা দেখায়, যা আমরা স্বীকার করতে ভয় পাই। আমরা ভাবতে ভালোবাসি পৃথিবীটা সুন্দর, মানুষ ভালো। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পৃথিবীটা একটা কম্পিটিটিভ অ্যারেনা, আর এখানে সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট নয়, সারভাইভাল অফ দ্য স্মার্টেস্ট বা মোস্ট অ্যাডাপ্টিভ-ই শেষ কথা।
বইটার আরেকটা দিক হলো এর ঐতিহাসিক প্যাটার্ন রেকগনিশন।
প্রতিটা আইনের সপক্ষে গ্রিন যে গল্পগুলো বলেছেন, তা অবিশ্বাস্য। তিনি হাজার হাজার বছরের ইতিহাস ঘেঁটে, বিভিন্ন সাম্রাজ্যের পতন-উত্থান বিশ্লেষণ করে এই আইনগুলো বের করেছেন।
আপনি যখন পড়বেন, কীভাবে সামান্য একজন সভাসদ তার সফট পাওয়ার দিয়ে রাজাকে নিয়ন্ত্রণ করছে বা কীভাবে একজন সেনাপতি সামান্য একটা ইমোশনাল ডিসিশন-এর কারণে পুরো যুদ্ধ হেরে যাচ্ছে, আপনি তখন শুধু একটা আইন শিখছেন না, আপনি মানব ইতিহাসের একটা রিপিটেটিভ প্যাটার্ন বুঝতে পারছেন।
আপনি বুঝতে পারছেন যে সময় বদলায়, টেকনোলজি বদলায়, কিন্তু মানুষের বেসিক ইনসটিংক্ট— তার লোভ, তার ভয়, তার ইগো, তার ক্ষমতা দখলের আকাঙ্ক্ষা, এগুলো হাজার বছরেও বদলায়নি।
আজ যে কর্পোরেট মিটিং রুমে যে পাওয়ার প্লে চলছে, তা হয়তো শত শত বছর আগে কোনো রাজার দরবারে অন্য কোনো ফর্মেটে ঘটে গেছে।
এই প্যাটার্ন রেকগনিশন এর ক্ষমতাটাই আপনাকে ভিড়ের মধ্যে আলাদা করে তুলবে। সো আমি এই বইটাকে একটা টুলকিট হিসেবে দেখি। একটা হাতুড়ি দিয়ে আপনি একটা ঘরও বানাতে পারেন, আবার কারো মাথাও ফাটাতে পারেন। দোষটা হাতুড়ির নয়, দোষটা ব্যবহারকারীর। এই বইয়ের জ্ঞানটাও সেরকম।
আপনি এটা দিয়ে মানুষকে এক্সপ্লয়েট করতে পারেন, আবার এই জ্ঞান ব্যবহার করে নিজেকে এবং নিজের টিমকে অন্যের এক্সপ্লয়েটেশন থেকে রক্ষা করতে পারেন। সিদ্ধান্তটা আপনার।
আমার উদ্দেশ্য হলো আপনাদেরকে এই আনসেন্সর্ড টুলসগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, যাতে আপনারা অন্তত নিজেদের ডিফেন্সটা করতে পারেন। যাতে কেউ এসে আপনাকে ম্যানিপুলেট করে চলে যেতে না পারে।
শেষ করার আগে একটা কথা বলি।
এই বইটা একবারে পড়ে শেষ করার মতো নয়।
এটা একটা লাইফলং রেফারেন্স গাইড। আপনি এটা পড়বেন, বাস্তব জগতের সাথে মেলাবেন, আবার পড়বেন। প্রতিবার পড়ার সাথে সাথে আপনার উপলব্ধি নতুন একটা লেভেলে পৌঁছাবে।
আপনি হয়তো প্রথমবার পড়ে কিছু আইনকে খুব নিষ্ঠুর মনে করতে পারেন। কিন্তু কয়েকমাস পর যখন আপনি বাস্তব জীবনে কোনো কর্পোরেট ব্যাকস্ট্যাবিং বা পলিটিক্যাল গেম-এর শিকার হবেন, তখন হয়তো হঠাৎ করেই আপনার সেই আইনটার কথা মনে পড়বে।
আপনি বুঝতে পারবেন, গ্রিন ঠিক কী বলতে চেয়েছিলেন।
এই বইয়ের আসল মজাটা সেখানেই। এটা আপনার চিন্তার জগৎকে চিরদিনের জন্য ওলটপালট করে দেবে।
আমি জানি এই আলোচনাটা অনেক ভারী এবং অনেকের জন্যই হজম করা কঠিন। কিন্তু আপনারা যেহেতু গভীর কন্টেন্ট চেয়েছেন, আমি আমার সেরাটা দিয়ে এই বইয়ের মূল দর্শনটা, সেই হিডেন নলেজ তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।
এটা সেই জ্ঞান যা আপনাকে পৃথিবীটাকে আর দশটা সাধারণ মানুষের মতো সিম্পল বা সরল দেখতে দেবে না।
আপনারা এই বিষয়ে কী ভাবেন? আপনারা কি মনে করেন এই একবিংশ শতাব্দীর ডিজিটাল অ্যারেনাতে রবার্ট গ্রিনের এই অ্যানালগ আইনগুলো এখনও ততটাই প্রাসঙ্গিক? নাকি কানেক্টিভিটির এই যুগে এগুলো সেকেলে হয়ে গেছে? কমেন্ট সেকশনে আপনাদের বিশ্লেষণ জানার অপেক্ষায় থাকলাম।
আর হ্যা, যারা এই বুকটা পরে দেখতে চান তারা কিন্তু নিচের লিংক-এ ক্লিক করে খুব সহজেই অর্ডার করে ফেলতে পারবেন। সো আর দেরি কেন, বইটা এখনই অর্ডার করে ফেলি এন্ড নিজের পার্স্পেটিভকে অন্যের থেকে আলাদা করে গড়ে তুলি।

[Tohidul Islam]

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Book Review With Galib posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share