BookPanda

BookPanda READ MORE. IMAGINE MORE.

মুহাম্মাদ ﷺ—শুধু একজন নবী নন, ইতিহাসের এক বিস্ময়কর মানবপ্রতিভা।এমন এক সময়ে আমরা বাস করছি, যখন পৃথিবী আগের যেকোনো সময়ে...
22/08/2026

মুহাম্মাদ ﷺ—শুধু একজন নবী নন, ইতিহাসের এক বিস্ময়কর মানবপ্রতিভা।

এমন এক সময়ে আমরা বাস করছি, যখন পৃথিবী আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সত্যিকারের আদর্শ লিডারের সংকট অনুভব করছে। ব্যক্তি, সমাজ ও বিশ্ব—সবখানেই এমন নেতৃত্বের প্রয়োজন, যা মানুষকে সত্য, ন্যায় ও মুক্তির পথ দেখাতে পারে।

এই গ্রন্থ কোনো প্রচলিত সিরাতগ্রন্থ নয়। এখানে নবিজি ﷺ-এর জীবনের ঘটনাপ্রবাহ নয়; বরং তাঁর অসাধারণ নেতৃত্ব, প্রজ্ঞা, চরিত্র, সামরিক কৌশল, পারিবারিক জীবন ও মানবিক গুণাবলিকে যুক্তি ও বাস্তবতার আলোকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

ত্রিশ বছরের অধ্যয়ন ও জীবনানুভবের ফসল এই রচনা প্রমাণ করে যে, মুহাম্মাদ ﷺ শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণেই মহান নন; তিনি মানবসভ্যতার ইতিহাসেও নেতৃত্ব, প্রতিভা ও মানবকল্যাণের এক অনন্য মানদণ্ড।

নবিজি ﷺ-কে নতুন এক দৃষ্টিতে আবিষ্কার করতে চাইলে, এই গ্রন্থ আপনার জন্য।
লেখক : আব্বাস মাহমুদ আল আক্কাদ, অনুবাদক : কাউসার বিন ইবরাহীম
প্রকাশনী : মাকতাবাতুল আসলাফ
বিষয় : সীরাতে রাসূল (সা.)
পৃষ্ঠা : 328, কভার : হার্ড কভার, সংস্করণ :
1st published, 2026, ভাষা : বাংলা
অর্ডার করতে ইনবক্স করুন
অথবা যোগাযোগ করুন ০১৭৮৯-১৪২ ৪৬১ এই নাম্বারে।

ইতিহাসের মানদন্ডে এর চেয়ে উচ্চস্তরের গ্রন্থ রচনা করা সম্ভব ছিলো,তবে এটা অসম্ভব যে,কোন অমুসলিম লেখক ভক্তি-ভালবাসার,এর চেয়...
22/08/2026

ইতিহাসের মানদন্ডে এর চেয়ে উচ্চস্তরের গ্রন্থ রচনা করা সম্ভব ছিলো,তবে এটা অসম্ভব যে,কোন অমুসলিম লেখক ভক্তি-ভালবাসার,এর চেয়ে সুন্দর কোন উপঢৌকন দরবারে নববীতে পেশ করতে পারবেন।টাই এই গ্রন্থের সর্বোত্তম বৈশিষ্ট্য।কিতাবটি পড়লে দুই নয়ন জলে সিক্ত হয়ে যায়।এবং লজ্জায় মস্তক অবনত হয়ে যায় এভেবে,অন্য ধর্মালম্বী যদি আমাদের নবীকে এমন করে ভালবাসতে পারে,তাহলে আমরা কেমন হওয়ার কথা ছিলো! সর্বোপরি কিতাবটি নবী-ভক্ত পাঠকদের নবী-প্রেমের একটি নতুন সৌর্ন্দযে অবগাহন করার সুযোগ করে দিবে বলে আশা করা যায়।আর যারা বিমূখ,তাদের মন-মগজের সব জন্ঞ্জাল একজন অমুসলিমের হ্রদয় থেকে উৎসারিত নবীপ্রেমের স্রোতে ভেসে এবং পরিশুদ্ন হওয়ারও সুযোগ পাবে ইনশাআল্লাহ।
অর্ডার করতে ইনবক্স করুন
অথবা যোগাযোগ করুন ০১৭৮৯-১৪২ ৪৬১ এই নাম্বারে।

নাশাত পাবলিকেশনের তাহাফুতুল মালাহিদা সিরিজের সপ্তম ও অষ্টম বই হিসেবে থাকছে 'সংশয়ে কবলে সিরাত' ১ম খণ্ড ও ২য় খণ্ড। এটি মূল...
12/08/2026

নাশাত পাবলিকেশনের তাহাফুতুল মালাহিদা সিরিজের সপ্তম ও অষ্টম বই হিসেবে থাকছে 'সংশয়ে কবলে সিরাত' ১ম খণ্ড ও ২য় খণ্ড। এটি মূল উর্দু সিরিজের চতুর্থ খণ্ডের অনুবাদ। প্রায় ৬৫০+ পৃষ্ঠা বিস্তৃত এই খণ্ডের অনুবাদ সিরাত ও সুন্নাহ সম্পর্কিত সংশয় নিরসনে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

বইটিতে সিরাত, হাদিস ও সুন্নাহর ওপর উত্থাপিত ৪২টি বহুল চর্চিত আপত্তির নির্মোহ, প্রামাণিক ও বস্তুনিষ্ঠ খণ্ডন উপস্থাপন করা হয়েছে। বর্তমান মুক্তচিন্তা, নাস্তিক্যবাদ ও ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণায় সিরাতকে যেভাবে বাঁকা চোখে দেখা হয়, তার একটি সার্বিক ব্যবচ্ছেদ রয়েছে এখানে।

বইটির বেশিরভাগ আপত্তিই নেওয়া হয়েছে নাস্তিক আলি সিনার 'Understanding Muhammad' বই থেকে। আধুনিক যুগে সিরাত নিয়ে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষীদের তোলা যাবতীয় আপত্তির সিংহভাগই মূলত এই একটি বইয়ের পরোক্ষ অনুসরণেই করা। লেখক আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কুতর্ক, বিভ্রান্তিকর ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ এবং খণ্ডিত তথ্যের আড়ালে লুকানো বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতারণাগুলোকে কুরআন, বিশুদ্ধ হাদিস, প্রাচীন ইতিহাস ও আধুনিক যুক্তিবিদ্যার অকাট্য দলিলাদি দিয়ে একে একে অসার প্রমাণ করেছেন

বইটির অন্যতম সেরা ও শক্তিশালী অংশ হলো উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সঙ্গে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিবাহ ও তাঁর বয়সসংক্রান্ত আলোচনা। এই একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এত বিস্তৃত, প্রামাণিক এবং ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গির গভীর বিশ্লেষণ করা হয়েছে যে, যা এককভাবে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থের মর্যাদা দাবি করে। সপ্তম শতাব্দীর সামাজিক প্রেক্ষাপট, বয়সের হিসাব নিয়ে প্রাচীন ও আধুনিক বর্ণনার তুলনামূলক পর্যালোচনা, তৎকালীন আরব সংস্কৃতি এবং প্রাচ্যবিদদের উত্থাপিত মনস্তাত্ত্বিক আপত্তির বস্তুনিষ্ঠ জবাব এখানে দেওয়া হয়েছে।

প্রথম অংশের অনুবাদ করেছেন সাদিক শাহরিয়ার। দ্বিতীয় অংশের অনুবাদ করেছি আমি। (এবং এটিই এই সিরিজে আমার অনুবাদে সর্বশেষ সংযোজন)।

‘তাহাফুতুল মালাহিদা’ সিরিজের চতুর্থ বই ‘ইসলাম ও বিবর্তনবাদ’। এটি সম্পূর্ণরূপে ডারউইনীয় বিবর্তনবাদকে কেন্দ্র করে রচিত বু...
11/08/2026

‘তাহাফুতুল মালাহিদা’ সিরিজের চতুর্থ বই ‘ইসলাম ও বিবর্তনবাদ’। এটি সম্পূর্ণরূপে ডারউইনীয় বিবর্তনবাদকে কেন্দ্র করে রচিত বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ।

বইটিতে লেখক দুটি প্রধান উদ্দেশ্য সামনে রেখেছেন। প্রথমত, আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষাতেই বিবর্তনবাদের সীমাবদ্ধতা ও অসংগতিগুলো তুলে ধরা। দ্বিতীয়ত, যেসব মুসলিম চিন্তাবিদ বিবর্তনবাদকে সত্য মনে করে কুরআনের আয়াতের সাথে তার এক ধরনের জোরপূর্বক সমন্বয় খোঁজার চেষ্টা করছেন, তাঁদের তাত্ত্বিক দুর্বলতা স্পষ্ট করা এবং এ বিষয়ে ইসলামের সঠিক অবস্থান তুলে ধরা।

বইটির আলোচনাকে প্রধানত ৪টি অংশে ভাগ করে উপস্থাপন করা হয়েছে:

১. পরিভাষাগত ভিত্তি ও ঐতিহাসিক পটভূমি

জটিল আলোচনার গভীরে প্রবেশের আগে শুরুতেই পদার্থ, মৌল, পরমাণু, অ্যামিনো অ্যাসিড, ডিএনএ, আরএনএ, ক্রোমোজোম, মিউটেশন ও প্রোটিনের মতো ১৯টি আবশ্যকীয় বৈজ্ঞানিক পরিভাষা সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এরপর অ্যানাক্সিম্যান্ডার ও এম্পেডোক্লেস থেকে শুরু করে ডারউইন-পূর্ব যুগের বিবর্তনীয় চিন্তা এবং আল-জাহিজ, আল-ফারাবি, ইবনে সিনা ও ইবনে রুশদের মতো মুসলিম পণ্ডিতদের চিন্তাধারার একটি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।

২. ডারউইনীয় তত্ত্বের বিশদ বিশ্লেষণ

ল্যামার্কবাদের অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশগতি থেকে শুরু করে ডারউইনবাদ, ‘ইউনিভার্সাল কমন ডিসেন্ট’, প্রাকৃতিক নির্বাচন, মাইক্রো ও ম্যাক্রো-ইভোল্যুশনের সূক্ষ্ম পার্থক্য এবং নিও-ডারউইনবাদ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে আলোচিত হয়েছে। বিবর্তনের পক্ষে বহুল প্রচলিত ৫টি প্রধান প্রমাণ (শারীরস্থান-ভ্রূণতত্ত্ব, আণবিক জীববিজ্ঞান, জীবভৌগোলিক বিদ্যা, জীবাশ্ম রেকর্ড এবং মাইক্রো-ইভোল্যুশনের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ) প্রথমে বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং এরপর সেগুলোর বৈজ্ঞানিক খণ্ডন উপস্থাপন করা হয়েছে।

৩. বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক খণ্ডন

এই অংশে জৈব রসায়ন, প্রোটিন গঠন, ব্যাকটেরিয়াল ফ্ল্যাজেলামের অখণ্ডনীয় জটিলতা (Irreducible Complexity), জেনেটিক্স, মনস্তত্ত্ব, কগনিটিভ সায়েন্স ও প্রত্নতত্ত্বের আলোকে প্রায় ৩০টি সুনির্দিষ্ট যুক্তিতে বিবর্তনবাদের অসংগতি দেখানো হয়েছে। মানব বিবর্তনের কথিত ধাপগুলো (অস্ট্রালোপিথেকাস থেকে হোমো সেপিয়েন্স) আলোচনার পাশাপাশি ‘লুসি’, নিয়ানডার্থাল ও ডেনিসোভান জীবাশ্ম নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যকার তীব্র মতভেদ তুলে ধরা হয়েছে। সেই সাথে কার্বন-১৪ ডেটিং পদ্ধতির নির্ভরযোগ্যতার সীমানাও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

৪. ইসলাম ও বিবর্তনবাদ: সমন্বয়ের প্রয়াস ও বাস্তবতা

শেষাংশে ডক্টর মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ ও ডক্টর ইসরার আহমদের মতো চিন্তাবিদদের অবস্থান পর্যালোচনা করা হয়েছে, যাঁরা বিবর্তনবাদকে কুরআনিক বয়ানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করতেন। মাওলানা রুমির ‘মসনবি’ কিংবা আল-জাহিজের ‘কিতাবুল হাইওয়ান’-এর বহুল প্রচারিত উদ্ধৃতিগুলো যাচাই করে প্রমাণ করা হয়েছে যে, এগুলো কোনো ডারউইনীয় বিবর্তনের বয়ান নয়, বরং আধ্যাত্মিক ও রূপক আলোচনা। আল্লাহর ‘কুন’ (হও) নির্দেশের চার পর্যায় এবং সৃষ্টিতত্ত্ব বনাম ডারউইনবাদের ৫টি মৌলিক দার্শনিক বৈপরীত্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে বইটি শেষ হয়েছে।

বৈশিষ্ট্য:

শুরুতেই প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক পরিভাষার সংজ্ঞা দিয়ে নেওয়ায় সাইন্স বা বিজ্ঞানের ব্যাকগ্রাউন্ডের বাইরের পাঠকের জন্যও মূল আলোচনা অনুসরণ করা বেশ সহজ হবে। বিপক্ষের যুক্তিগুলোকে আগে পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপন করে তারপর ধাপে ধাপে খণ্ডন করার পদ্ধতি বইটির বস্তুনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করেছে। লেখক নিজেই ‘কিতাবুল হাইওয়ান’-এর সাতটি খণ্ড গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখিয়েছেন যে, বিবর্তনবাদের পক্ষে আল-জাহিজের নামে প্রচারিত প্রচলিত উদ্ধৃতিটির আদতে কোনো অস্তিত্বই নেই। এই ধরনের প্রাথমিক উৎস (Primary Source) পরীক্ষা করার প্রচেষ্টা বইটির অ্যাকাডেমিক মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এমনিভাবে Nature ও Science-এর মতো বিশ্বমানের পিয়ার-রিভিউড জার্নাল থেকে বহু তথ্যসূত্র উদ্ধৃত করেছেন। এর পাশাপাশি অনুবাদক নিজেও প্রাসঙ্গিক অনেক সম্পূরক তথ্য (যেমন: ডেনিসোভান সংক্রান্ত সাম্প্রতিক তথ্য) যুক্ত করে বইটিকে আরও পূর্ণাঙ্গ করেছেন।

সবমিলিয়ে বলা যায়, বিবর্তনবাদ ও এর খণ্ডন নিয়ে বাংলা ভাষায় এমন সুবিন্যস্ত ও বিস্তৃত সংকলন বেশ বিরল। যারা বিবর্তনবাদ নিয়ে বাংলা ভাষায় ইসলামি ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি সুসংগঠিত, তথ্যসমৃদ্ধ ও পরিভাষাগতভাবে স্পষ্ট আলোচনা খুঁজছেন, তাদের জন্য এই বইটি হতে পারে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সম্পদ। বিশেষ করে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বিজ্ঞানেরই একটি তত্ত্বকে বস্তুনিষ্ঠভাবে ব্যবচ্ছেদ করার ক্ষেত্রে বইটি দারুণ এক সংযোজন।

তাহাফুতুল মালাহিদা সিরিজের ষষ্ঠ বই:পবিত্র কুরআনের সত্যতা ও ঐশ্বরিকত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ ও আপত্তি উত্থাপন কোনো সাম্প্রতি...
10/08/2026

তাহাফুতুল মালাহিদা সিরিজের ষষ্ঠ বই:

পবিত্র কুরআনের সত্যতা ও ঐশ্বরিকত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ ও আপত্তি উত্থাপন কোনো সাম্প্রতিক প্রবণতা নয়। বরং এটি ঐতিহাসিক একটি ধারাবাহিকতা। ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়—একসময় মক্কার কাফের-মুশরিকরা কুরআনের সত্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করত, পরবর্তীকালে প্রাচ্যবিদরা সেই একই সংশয়কে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করেছে। আর বর্তমান যুগে নাস্তিকরা সেই পুরোনো অভিযোগগুলোকেই আধুনিকতার মোড়কে জড়িয়ে নতুন করে হাজির করছে।

'সংশয়ের কবলে কুরআন' গ্রন্থে লেখক কুরআন বিষয়ক এসব আধুনিক আপত্তির অত্যন্ত সুচারু ও যৌক্তিক খণ্ডন করেছেন। পাশাপাশি তিনি পবিত্র কুরআনের মুজেজা ও অলৌকিকত্বের এক অনন্য বিবরণও তুলে ধরেছেন।

ইসলামবিরোধীদের এসব আপত্তি মূলত বহুমাত্রিক। কখনো তা আরবি ভাষাতত্ত্ব ও ব্যাকরণকেন্দ্রিক, কখনো কোনো নির্দিষ্ট আয়াতের বক্তব্য সম্পর্কিত, আবার কখনও বা আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে উত্থাপিত।

যেমন: বাস্তব জগতেই যদি চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়ে থাকে, তবে তৎকালীন সমকালীন ইতিহাসবিদদের বিবরণে এর কোনো উল্লেখ নেই কেন?

ছাগলে কুরআনের আয়াত সংবলিত পাতা খেয়ে ফেলেছিল—এসংক্রান্ত বর্ণনার পর কুরআনের সুরক্ষা ও বিশ্বাসযোগ্যতা কীভাবে অক্ষুণ্ণ থাকে?

সৌরজগতের কেন্দ্রে সূর্য নাকি পৃথিবী?—কুরআনে তো সূর্যের নিজ কক্ষপথে পরিভ্রমণের কথা বলা হয়েছে!

এ ধরনের প্রায় অর্ধশতাধিক আপত্তির চুলচেরা বিশ্লেষণ ও প্রাঞ্জল আলোচনা স্থান পেয়েছে এই খণ্ডে। আপত্তির রূপ বা ধরন যাই হোক না কেন, লেখক অকাট্য দালিলিক প্রমাণ ও নিখুঁত যুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি সংশয়ের চূড়ান্ত নিরসন ঘটিয়েছেন।

(এটি তাহাফুতুল মালাহিদার তৃতীয় খণ্ডের অনুবাদ। এটি অনুবাদ করেছেন মুহাম্মদ সুহাইলুল কাদের ভাই)

‘তাহাফুতুল মালাহিদা’ সিরিজের পঞ্চম বই ‘কুরআনের ইতিহাস’। এটি পবিত্র কুরআনের ঐশী সুরক্ষা ও সংকলনের প্রামাণ্য ইতিহাসকে কেন্...
10/08/2026

‘তাহাফুতুল মালাহিদা’ সিরিজের পঞ্চম বই ‘কুরআনের ইতিহাস’। এটি পবিত্র কুরআনের ঐশী সুরক্ষা ও সংকলনের প্রামাণ্য ইতিহাসকে কেন্দ্র করে রচিত। বৈচিত্র্য ও প্রায়োগিক দিক থেকে এটি পুরো সিরিজের অন্যতম কেন্দ্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি খণ্ড। লেখকের মতে, কুরআনের শতভাগ অবিকৃত ও সুরক্ষিত থাকার সুদৃঢ় দাবিটিই এমন এক অদ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য, যেখানে অন্য কোনো ধর্মগ্রন্থ এর সমকক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। আর এ কারণেই আধুনিক সংশয়বাদী ও প্রাচ্যবিদদের আক্রমণের মূল তিরটি এসে পড়ে এই সংরক্ষণের প্রামাণিকতার ব্যাপারেই।

বইটির আলোচনাকে প্রধানত ৪টি প্রধান অংশে বিভক্ত:

১. ওহি: প্রকৃতি ও প্রয়োজনীয়তা

শুরুতেই মানুষের জন্য ওহির (ঐশী প্রত্যাদেশ) অপরিহার্যতা এবং এর অবতরণ-পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ওহি আসার বিভিন্ন ধরণ—যেমন: ঘণ্টার ঝংকারতুল্য তীব্র আওয়াজ, জিবরাইল আ.-এর মানুষের রূপ কিংবা স্বরূপে আগমন, সত্য স্বপ্ন, সরাসরি ঐশী সংলাপ এবং হৃদয়ে ইলহাম লাভ—এসব মাধ্যমের খুঁটিনাটি রূপরেখা এতে স্থান পেয়েছে।

২. ‘মৃগীরোগের’ অপবাদ ও বৈজ্ঞানিক খণ্ডন:

নবিজি সা.-এর ওপর ওহি অবতরণের সময়ের শারীরিক প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রাচ্যবিদ ও সংশয়বাদীরা যে ‘মৃগীরোগ’ (Epilepsy)-এর অভিযোগ তুলে থাকে, তার একটি প্রযুক্তিগত ও চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবচ্ছেদ করা হয়েছে এই অংশে। মস্তিষ্কের গঠন (ফ্রন্টাল, প্যারাইটাল, টেম্পোরাল ও অক্সিপিটাল লোব) এবং জটিল খিঁচুনির চিকিৎসাসংক্রান্ত লক্ষণসমূহ (Complex Partial Seizure) বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফ্রাঙ্ক আর. ফ্রিম্যান, স্যাম কিন কিংবা ইভান ডি. মারির মতো প্রখ্যাত গবেষকদের পিয়ার-রিভিউড গবেষণাপত্র উদ্ধৃত করে দেখানো হয়েছে যে, ক্লিনিক্যাল বিচারে এসবের কোনো লক্ষণই হাদিসে বর্ণিত নবিজি সা.-এর ওহিকালীন অবস্থার সাথে মেলে না। পাশাপাশি আলফ্রেড লর্ড টেনিসন, জোয়ান অব আর্ক কিংবা নেপোলিয়নের মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের প্রসঙ্গ টেনে দেখানো হয়েছে যে, যেকোনো অস্বাভাবিক বা ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতাকৈ ঢালাওভাবে ‘মৃগীরোগ’ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়াটা চূড়ান্তমাত্রায় একপেশে ও অনৈতিহাসিক।

৩. কুরআন সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিল:

নবিজির জীবদ্দশাতেই কুরআনের লিখিত রূপ বিদ্যমান থাকার ৭টি ঐতিহাসিক প্রমাণ, আয়াত ও সুরার ক্রমবিন্যাস সংক্রান্ত সংশয়ের নিরসন এবং পরবর্তীকালে সাহাবি আবু বকর (রা.) ও উসমান (রা.)-এর আমলে গৃহীত সংকলন-পদ্ধতির সূক্ষ্ম বৈচিত্র্য ও হিকমত এখানে উন্মোচিত হয়েছে। জায়েদ ইবনু সাবিত (রা.)-কে সংকলনের মূল দায়িত্বে মনোনীত করার ৫টি কারণ এবং উসমানি সংকলনের রাষ্ট্রীয় তদারকি, আধুনিক 'পিয়ার রিভিউ'-এর সমতুল্য পুনঃনিরীক্ষণ ও প্রশাসনিক-আইনি সুরক্ষার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এছাড়াও 'সাবআতু আহরুফ' (সাত উপভাষা/ক্বিরাআত) সংক্রান্ত বৈচিত্র্য এবং আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.)-এর মুসহাফ বিষয়ক জটিলতার হাদিসভিত্তিক সনদ-বিশ্লেষণ সংবলিত বৈজ্ঞানিক জবাব দেওয়া হয়েছে।

৪. পাণ্ডুলিপিতত্ত্ব ও তুলনামূলক ধর্মগ্রন্থ বিশ্লেষণ:

শেষাংশে ‘তাওয়াতুর’ (অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিক বর্ণনা)-এর জ্ঞানতাত্ত্বিক শক্তি ব্যাখ্যা করে বেদ, বাইবেল ও তাওরাতের আধুনিক টেক্সচুয়াল ক্রিটিসিজমের সঙ্গে কুরআনের তুলনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে সানা'আ, তাশখন্দ, তোপকাপি ও বার্মিংহাম পাণ্ডুলিপির আদ্যোপান্ত আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষত সানা'আ পাণ্ডুলিপির 'লোয়ার টেক্সট' ও 'আপার টেক্সট' নিয়ে সংশয়বাদীদের তোলা আপত্তির জবাবে প্রফেসর আসমা হিলালীর গবেষণাকে শানিত হাতিয়ার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বার্মিংহাম পাণ্ডুলিপির রেডিওকার্বন ডেটিং (৫৬৮–৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দ)-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত আয়াতের সাথে বর্তমান কুরআনের শতভাগ হুবহু মিল থাকার তথ্য হাজির করে সংশয়বাদীদের দ্বিমুখী মানদণ্ডকে চমৎকারভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।

বইটিতে হাদিসশাস্ত্র, আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান (Neuroscience), পাণ্ডুলিপিতত্ত্ব (Manuscript Studies) এবং তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব—এই চার ভিন্ন ধারার উচ্চমার্গীয় বিদ্যার অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছে, যা এটিকে পুরো সিরিজের মধ্যে অনন্য উচ্চতায় উন্নীত করেছে। অনুমানের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি বক্তব্যের পক্ষে আধুনিক বিজ্ঞান সাময়িকী, পিয়ার-রিভিউড জার্নাল এবং প্রাচ্যবিদদের প্রাথমিক গবেষণার ফুটনোট দিয়ে যুক্তিগুলোকে নিরেট করা হয়েছে। আর্থার জেফারি ও প্রফেসর পুইনের মতো প্রাচ্যবিদদের নির্দিষ্ট দাবি উদ্ধৃত করে সরাসরি জবাব দেওয়ার পদ্ধতি অবলম্বিত হয়েছে, যা বইটিকে বিমূর্ত তত্ত্ব না রেখে সুনির্দিষ্ট বিতর্কের জবাব-কেন্দ্রিক করে তুলেছে। আবু বকর ও উসমান (রা.)-এর সংকলন প্রক্রিয়াকে আধুনিক প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক পরিভাষার (যেমন: পিয়ার রিভিউ) সঙ্গে তুলনা করায় তা আধুনিক মননের জন্য বোঝা বেশ সহজ ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

যারা বাংলা ভাষায় কুরআনের সংরক্ষণ, সংকলন-প্রক্রিয়া এবং আধুনিক পাণ্ডুলিপিতত্ত্ব নিয়ে প্রচলিত সংশয়বাদী আপত্তিগুলোর একটি সুসংগঠিত, বস্তুগতি ও রেফারেন্সনির্ভর উত্তর খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত দরকারি একটি গ্রন্থ। বিষয়বস্তুর গভীরতা এবং তথ্যের বৈচিত্র্যের কারণে কেবল দাওয়াহর ময়দানে যুক্ত পাঠকদের জন্যই নয়, বরং ইসলামি ঐতিহ্য ও ইতিহাস নিয়ে চর্চারত যেকোনো গবেষকের জন্যই এই বইটি অপরিহার্য ও সহায়ক হবে, ইনশাআল্লাহ।

(তাহাফুতুল মালাহিদার দ্বিতীয় খণ্ড থেকে সিরিজের চতুর্থ ও পঞ্চম বইটি প্রস্তুত করা হয়েছে)।

তাহাফুতুল মালাহিদা সিরিজের তৃতীয় বই ‘ইসলাম ও আধুনিক ধর্মতত্ত্ব।’আজকের আধুনিক যুগে নাস্তিক্যবাদ ও সংশয়বাদের প্রশ্নগুলো ক...
10/08/2026

তাহাফুতুল মালাহিদা সিরিজের তৃতীয় বই ‘ইসলাম ও আধুনিক ধর্মতত্ত্ব।’

আজকের আধুনিক যুগে নাস্তিক্যবাদ ও সংশয়বাদের প্রশ্নগুলো কেবল আর পশ্চিমাদের অ্যাকাডেমিক বৃত্তে সীমাবদ্ধ নেই, সেগুলো ছড়িয়ে পড়েছে আমাদের তরুণদের চিন্তাজগতেও। এই বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে ‘ইসলাম ও আধুনিক ধর্মতত্ত্ব’ বইটি ইসলামি আকিদা ও ধর্মবিশ্বাসের পক্ষে যুক্তিভিত্তিক প্রতিরক্ষা দাঁড় করানোর একটি জোরালো প্রয়াস।

বইটির মূল উদ্দেশ্য আধুনিক থিওলজি বা ধর্মতত্ত্বের পরিভাষা, নাস্তিকতার বৈচিত্র্যময় প্রকারভেদ এবং স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণের ধ্রুপদী দার্শনিক যুক্তিগুলোকে একটি গোছানো কাঠামোয় পাঠকের সামনে উপস্থাপন করা।

বইটির মূল আলোচনাকে প্রধানত তিনটি অংশে ভাগ করে পর্যালোচনা করা যায়:

১. পরিভাষাগত ভিত্তি: শুরুতেই লেখক ‘থিওলজি’, ‘দীন’ ও ‘ধর্ম’ শব্দগুলোর ভাষাগত ও পারিভাষিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে আলোচনার মজবুত ভিত্তি তৈরি করেছেন। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার সংজ্ঞার আলোকে দেখানো হয়েছে যে, নাস্তিকতা বা সেক্যুলারিজমও কার্যত একধরনের ‘দীন’ বা জীবনদর্শন। এর মাধ্যমে নাস্তিকদের ‘আমাদের কোনো ধর্ম নেই’—এই দাবিকে বেশ চমৎকারভাবে চ্যালেঞ্জ ও খণ্ডন করা হয়েছে। পাশাপাশি ঈশ্বরবাদ, একত্ববাদ, বহুঈশ্বরবাদ, ডিইজম, অ্যাগনস্টিসিজম ও নাস্তিকতার ৬টি রূপ এবং নাস্তিকতার ৬টি ভিন্ন উপপ্রকার (Intellectual, Activist, Seeker ইত্যাদি) খুব সুন্দরভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে।]

২. খোদার অস্তিত্বের যুক্তিসমূহ : এটি বইয়ের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও বিস্তৃত অংশ। এখানে ৬টি ক্লাসিক্যাল দার্শনিক যুক্তিকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে উপস্থাপনা করা হয়েছে:

• সম্ভাব্যতাভিত্তিক যুক্তি (Argument of Contingency)
• সৃষ্টির/উৎপত্তির যুক্তি (Argument of Origination)
• সূক্ষ্ম-সমন্বয় যুক্তি (Fine-tuning Argument)
• সীমাবদ্ধতা থেকে প্রমাণ (Argument from Limitation)
• সত্তাতাত্ত্বিক যুক্তি (Ontological Argument)
• কালামি মহাজাগতিক যুক্তি (Kalam Cosmological Argument)

প্রতিটি যুক্তির পর সংশ্লিষ্ট আপত্তিগুলোর জবাব দেওয়া হয়েছে। এমনকি রিচার্ড ডকিন্সের মতো কট্টর নাস্তিকদের সুনির্দিষ্ট আপত্তিও বাদ যায়নি। এর পাশাপাশি ‘বস্তুনিষ্ঠ নৈতিকতা’ (Objective Morality) থেকেও একটি চমৎকার যুক্তি হাজির করা হয়েছে।

৩. তাওহিদ, সিফাত ও তাকদির প্রসঙ্গ: শেষাংশে আলোচনা সরাসরি ইসলামি আকিদার দিকে মোড় নেয়। আল্লাহর একত্ব প্রমাণ, তাঁর গুণাবলি (সিফাত) সংক্রান্ত সংশয় নিরসন এবং তাকদির নিয়ে ‘কাদারিয়া’ ও ‘জাবারিয়া’দের চরমপন্থার বিপরীতে ইসলামি মধ্যপন্থী অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। বইটি শেষ হয়েছে বহুল-প্রচলিত একটি প্যারাডক্সের—“আল্লাহ কি এমন পাথর বানাতে পারবেন যা তিনি নিজে তুলতে পারবেন না?”—যৌক্তিক উত্তরের মাধ্যমে। এখানে সূর্য ও ফায়ার লেন্সের উপমা ব্যবহার করে ‘কাদির’ ও ‘মাকদুর’-এর সূক্ষ্ম পার্থক্য দারুণভাবে বোঝানো হয়েছে।

যারা ইসলামি আকিদা, নাস্তিক্যবাদ খণ্ডন এবং স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণের দার্শনিক যুক্তিগুলো নিয়ে বাংলা ভাষায় একটি সুসংগঠিত ও প্রাঞ্জল বই খুঁজছেন, তাদের জন্য বইটি একটি প্রয়োজনীয় সংকলন। যুক্তির ধারাবাহিকতা, প্রশ্নোত্তর পদ্ধতি এবং প্রাঞ্জল ভাষার কারণে দাওয়াতি কাজ বা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় যুক্ত পাঠকদের জন্য এটি একটি অনন্য সহায়ক বই হিসেবে বিবেচিত হবে।

(তাহাফুতুল মালাহিদার প্রথম খণ্ড থেকে 'ইসলাম ও পাশ্চাত্যবাদ, ইসলাম ও আধুনিক জ্ঞানতত্ত্ব এবং ইসলাম ও আধুনিক ধর্মতত্ত্ব' এই তিনটি বই তৈরি করা হয়েছে)।

ইসলাম ও জ্ঞানতত্ত্ব(তাহাফুতুল মালাহিদা সিরিজের দ্বিতীয় বই)ড. মুফতী ইয়াসির নাদীমবইটির অনুবাদ করেছেন মাওলানা মাহদি হাসান।ম...
10/08/2026

ইসলাম ও জ্ঞানতত্ত্ব
(তাহাফুতুল মালাহিদা সিরিজের দ্বিতীয় বই)
ড. মুফতী ইয়াসির নাদীম
বইটির অনুবাদ করেছেন মাওলানা মাহদি হাসান।

মাহদি হাসান ১৯৯৬ সালের ২৫শে আগস্ট মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানাধীন লতব্দী ইউনিয়নের পুরান ভাসান চর গ্রামে জন্ম। বর্তমান সময়ে যে কজন তরুণ আলিম লেখালেখির অঙ্গনে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলছেন, মাওলানা মাহদি হাসান তাদের একজন। কওমী মাদরাসা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষে শুরু হয় লেখালেখি ও অনুবাদ সাহিত্যে তার বিচরণ ও পথচলা। ইতোমধ্যে অর্জন করেছেন বিপুল পাঠকের আস্থা ও ভালোবাসা। এরই স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে পেয়েছেন ইসলামী ইতিহাস ও ঐতিহ্য ক্যাটাগরীতে ‘রকমারি বেস্টসেলার অ্যাওয়ার্ড।’ এ যাবত তার অনুবাদে ত্রিশের অধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি অনুবাদ নিরীক্ষণ এবং সম্পাদনায়ও অবদান রেখে চলছেন।

তাহাফুতুল মালাহিদা সিরিজের প্রথম বই : ইসলাম ও পাশ্চাত্যবাদআধুনিক বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে পাশ্চাত্য সভ্যতার আধিপত্য ও এর সংঘ...
10/08/2026

তাহাফুতুল মালাহিদা সিরিজের প্রথম বই : ইসলাম ও পাশ্চাত্যবাদ

আধুনিক বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে পাশ্চাত্য সভ্যতার আধিপত্য ও এর সংঘাতমূলক বুদ্ধিবৃত্তিক স্রোতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মুসলিম উম্মাহর চিন্তাগত অবস্থান নির্ধারণ এক অপরিহার্য বিষয়। ‘তাহাফুতুল মালাহিদা’ ধারাবাহিক গ্রন্থক্রমের প্রথম গ্রন্থ ‘ইসলাম ও পাশ্চাত্যবাদ’—মূলত এই লক্ষ্যকেই সামনে রেখে রচিত।

এই বইয়ে লেখক পাশ্চাত্য সভ্যতার পরিচিতি, ইতিহাস, ঐতিহাসিক বিকাশ ও এর আড়ালে সক্রিয় মৌলিক দর্শনগুলোকে ব্যবচ্ছেদ করেছেন। তাঁর মতে, পাশ্চাত্য সভ্যতাকে বৌদ্ধিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মোকাবিলা করার পূর্বশর্ত হচ্ছে এর উৎপত্তি, বিবর্তন ও রূপান্তরের নাড়ীনক্ষত্র গভীরভাবে অনুধাবন করা।

এই বইয়ে লেখক পাশ্চাত্য সভ্যতার ক্রমান্বয় বিবর্তনকে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট যুগে বিভক্ত করে বিশ্লেষণ করেছেন। এই ঐতিহাসিক পরিক্রমা পর্যবেক্ষণ করলে স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, বর্তমান আধুনিক সেকুলার ও নাস্তিক্যবাদী চেতনার মূল উৎস নিহিত রয়েছে ঐতিহাসিক চার্চের অবক্ষয়ের ভেতর। গ্রন্থে খ্রিষ্টধর্মের প্রাতিষ্ঠানিক বিভাজনের ৭টি মৌলিক কারণ এবং ইউরোপীয় রেনেসাঁর ৬টি অনুঘটক কারণ বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে।

চার্চের কর্তৃত্ববাদী নিপীড়ন ও সংকীর্ণতার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই জন্ম নেয় ‘হিউম্যানিজম’ (Humanism)। এই চিন্তাধারা ঈশ্বরকে মহাবিশ্বের কেন্দ্র থেকেচ্যুত করে মানুষকে মূলবিন্দুতে স্থাপন করে, যা পরবর্তী সময়ে আধুনিক নাস্তিক্যবাদের তাত্ত্বিক ভিত্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

এই বইয়ের অন্যতম শক্তিমত্তা হচ্ছে সেকুলারিজমের বহুমুখী অনুপ্রবেশের ব্যবচ্ছেদ। লেখক নিপুণভাবে দেখিয়েছেন যে, সেকুলারিজম কেবল রাষ্ট্র ও রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা দর্শন, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, সামাজিক মূল্যবোধ (যেমন: LGBTQ+-এর মতাদর্শিক স্বীকৃতি), শিল্পকলা এবং এমনকি খ্রিষ্টীয় আকিদা বা ধর্মতত্ত্বকেও গ্রাস করেছে।

পাশ্চাত্য দর্শনের বিকাশপ্রক্রিয়া আলোচনা করতে গিয়ে লেখক দেখিয়েছেন কীভাবে তা যুক্তিবাদ (Rationalism) ও অভিজ্ঞতাবাদ (Empiricism)-এর পারস্পরিক দ্বন্দ্বে রূপ নেয়। এই মৌলিক দার্শনিক দ্বন্দ্ব থেকেই পর্যায়ক্রমে ডেইজম (Deism), অগ্নোস্টিসিজম (Agnosticism) এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে অ্যাথেইজম (Atheism)-এর উদ্ভব ঘটেছে।

আধুনিক পাশ্চাত্য বিজ্ঞানের ভিত্তি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে লেখক এর দুটি মৌলিক নেতিবাচক দিক চিহ্নিত করেছেন:

১. কোয়ান্টিফিকেশন অব নেচার (Quantification of Nature): প্রকৃতির প্রতিটি বস্তুকে স্রেফ গাণিতিক সংখ্যা ও পরিমাপে সীমাবদ্ধ করে এর আধ্যাত্মিক মাত্রাকে পূর্ণত বর্জন করা।

২. রিডাকশনিজম (Reductionism): মানবচেতনা, প্রেম কিংবা ভক্তির মতো জটিল মানবিক অনুভবকে কেবল হরমোন বা ভৌত-রাসায়নিক উপাদানে নামিয়ে এনে ব্যাখ্যা করার সংকীর্ণ প্রবণতা।

বিজ্ঞান-দর্শনের এই ৫টি ভিত্তি আলোচনার সমান্তরালে লেখক ইমাম গাজালির বিখ্যাত ‘কার্যকারণবাদ’ (Causality) সংক্রান্ত ঐতিহাসিক সমালোচনাকে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছেন। এর মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয় যে, প্রকৃতির নিয়মসমূহ কোনো স্বয়ংক্রিয় বা স্বাধীন সত্তা নয়, বরং তা পরম সত্তা আল্লাহর ইচ্ছার অধীন।

এছাড়াও বইটিতে মধ্যযুগ থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের প্রধান প্রধান পশ্চিমা চিন্তাবিদদের দর্শনের তাত্ত্বিক ও যৌক্তিক ব্যবচ্ছেদ স্থান পেয়েছে। লেখক খ্রিষ্টীয় চিন্তক সেন্ট অগাস্টিন ও সেন্ট আনসেলম থেকে শুরু করে আধুনিক চিন্তার স্থপতি ফ্রান্সিস বেকন, রেনে দেকারত, থমাস হবস, জন লক, ডেভিড হিউম এবং ইমানুয়েল কান্ট-এর মতো দার্শনিকদের দৃষ্টিভঙ্গির তাত্ত্বিক পর্যালোচনা তুলে ধরেছেন।

এই বইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে, পাশ্চাত্য সভ্যতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মুসলিম উম্মাহর মেধা ও কৌশলের রূপরেখা নির্ধারণ করা। লেখক এখানে মুসলিমদের গৃহীত দুটি চরমপন্থী ও ভুল প্রবণতা চিহ্নিত করেছেন এবং তার বিপরীতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সঠিক অবস্থান প্রস্তাব করেছেন। পরিশেষে, ইসলামি জীবনদর্শন এবং আধুনিক পাশ্চাত্য জীবনদর্শনের মৌলিক বৈপরীত্যকে সুস্পষ্ট করে বইটির ইতি টানা হয়েছে।

মোটকথা, বইটি ইসলামি চিন্তক, গবেষক ও পাঠকদের জন্য পাশ্চাত্য দর্শনের অলিগলি বোঝার এবং আধুনিক চিন্তাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য মোক্ষক সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

‘তাহাফুতুল মালাহিদা’ গ্রন্থের দ্বিতীয় অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে ইসলাম ও আধুনিক জ্ঞানতত্ত্ব নিয়ে।এই অধ্যায়ের মূল লক্ষ্য আধ...
09/08/2026

‘তাহাফুতুল মালাহিদা’ গ্রন্থের দ্বিতীয় অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে ইসলাম ও আধুনিক জ্ঞানতত্ত্ব নিয়ে।

এই অধ্যায়ের মূল লক্ষ্য আধুনিক নাস্তিক্যবাদ ও সংশয়বাদের বিপরীতে ইসলামি ধর্মবিশ্বাসের প্রতিরক্ষায় একটি শক্তিশালী জ্ঞানতাত্ত্বিক রূপরেখা বা কাঠামো তৈরি করা। বইটিতে আধুনিক জ্ঞানতত্ত্বের (Epistemology) পরিভাষা, আদল ও কাঠামো ব্যবহার করে ঐতিহ্যবাহী ইসলামি কালাম-শাস্ত্রের (বিশেষত ইমাম গাজালি ও ‘শরহে আকায়িদ’-এর রূপরেখাভিত্তিক) অবস্থানকে অত্যন্ত সুসংহত ও যুক্তিনির্ভরভাবে পুনর্গঠন করা হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য একটিই, জ্ঞান কাকে বলে এবং তার সীমা কতটুকু তা ব্যবচ্ছেদ করে শেষ পর্যন্ত যুক্তির নিরিখেই ওহিকে জ্ঞানের একটি বৈধ ও অনস্বীকার্য উৎস হিসেবে নিশ্চিত করা।

এই অধ্যায়ে আলোচিত প্রধান বিষয়সমূহ:

১. জ্ঞানের সংজ্ঞা, মানদণ্ড ও সত্যের প্রকৃতি
অধ্যায়ের শুরুতেই জ্ঞানের মূল শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে নিশ্চিত বিশ্বাস (Certainty) হিসেবে। জ্ঞানের প্রচলিত মানদণ্ড—যেমন অস্বীকার-অসম্ভবতা, প্রমাণের উপস্থিতি, প্রায়োগিকতা বা সর্বজনীন ঐকমত্যের সীমা ও আপত্তিগুলো এখানে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আলোচনার প্রাসঙ্গিকতায় এসেছে দেকার্তের বিখ্যাত ‘স্বপ্ন যুক্তি’ (Dream Argument) ও আধুনিক ‘ম্যাট্রিক্স তত্ত্ব’।

জ্ঞানতত্ত্বের চিরাচরিত শর্ত—JTB (Justification, Truth, Belief তথা বিশ্বাস, সত্য ও প্রমাণ)—এর আলোকে জ্ঞানের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে। পাশাপশি সত্যের প্রকৃতি আলোচনায় সোফিস্ট বা প্রাচীন সংশয়বাদী ধারা (ইনাদিয়্যাহ, ইনদিয়্যাহ, লা-আদরিয়্যাহ), পোস্টমডার্নিজম এবং থমাস হাক্সলের অজ্ঞেয়বাদকে সংলাপাকারে খণ্ডন করা হয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য, সত্যের সংগতিবাদ (Coherence Theory) এবং অনুরূপতাবাদ (Correspondence Theory)-এর সুক্ষ্ম পার্থক্য প্রায়োগিক উদাহরণের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে।

২. জ্ঞানের উৎসের ব্যবচ্ছেদ: ইন্দ্রিয় ও বুদ্ধি

জ্ঞানের বিভিন্ন উৎসের ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে এই অধ্যায়ে পশ্চিমা প্রধান দুটি ধারাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে।অভিজ্ঞতাবাদের (Empiricism) সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে প্রত্যক্ষদর্শনের প্রকারভেদ (Seeing that/as/simple seeing) ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর যুক্তিবাদের (Rationalism) চরম ও মধ্যমপন্থী ধারার বিশ্লেষণ, সহজাত ধারণা (Innate Knowledge/Concept) এবং রেনে দেকার্তের সসীম-অসীম সত্তার যুক্তি আলোচিত হয়েছে।

অভিজ্ঞতাবাদ বনাম যুক্তিবাদের ঐতিহ্যবাহী বিতর্কের পাশাপাশি অবরোহী যুক্তির সীমাবদ্ধতা (Problem of Deduction) দেখানো হয়েছে। বুদ্ধি ও শরিয়তের ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বোঝাতে লেখক ইমাম গাজালির আলোচনা টেনেছেন।

৩. খবর/সাক্ষ্য (Testimony) ও ওহির যৌক্তিক প্রতিষ্ঠা

এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মূল অংশ হচ্ছে ‘খবর’ বা সাক্ষ্যকে জ্ঞানের স্বতন্ত্র উৎস হিসেবে প্রমাণ করা। ডেভিড হিউমের রিডাকশনিজম (খবরকে কেবল অভিজ্ঞতার অধীন করা) বনাম থমাস রিডের নন-রিডাকশনিজমের প্রেক্ষাপটে এখানে ইসলামি জ্ঞানতত্ত্বের হাদিস শাস্ত্রের ‘খবরে মুতাওয়াতির’ এবং ‘খবরে রাসুল’-এর জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থান পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।

ওহির অবতীর্ণ হওয়া ও তার বার্তা পৌঁছানোর মেকানিজমকে আধুনিক মানসে গ্রহণযোগ্য করতে লেখক হিপনোটিজম/মেসমেরিজম এবং আধুনিক ডেটা-ট্রান্সফারের (Data Transfer) উপমা টেনেছেন। যদিও এগুলো কঠোর দর্শনের বিচারে রূপক বা সাদৃশ্যভিত্তিক আলোচনা, পূর্ণাঙ্গ প্রথাগত দার্শনিক প্রমাণ নয়, তবে সাধারণ পাঠককে ওহির সম্ভাব্যতা বোঝাতে এগুলো চমৎকার অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

সংক্ষেপে বলা যায়, এই অধ্যায়ে অত্যন্ত সুবিন্যস্তভাবে প্রথাগত সংশয়বাদের ব্যবচ্ছেদ করে প্রমাণ করা হয়েছে যে, ধর্মবিশ্বাস কোনো অন্ধ বা অযৌক্তিক ধারণা নয়, বরং তা জ্ঞানতাত্ত্বিকভাবে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। ওহি বা দিব্যজ্ঞানকে অস্বীকার করলে মানুষের জ্ঞানার্জনের সমগ্র ব্যবস্থাই যে ধসে পড়ে, বইটি যুক্তি ও দর্শনের আধুনিক পরিভাষায় সে সত্যটিই সফলভাবে উন্মোচন করেছে।

লিখেছেন: মাহদি হাসান
অনুবাদক: তাহাফুতুল মালাহিদা (একাংশ)

Address

Banglabazar
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when BookPanda posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category