10/06/2026
২০০০ বছর আগে রোমান কবি জুভেনাল শাসকদের একটা চক্রান্ত ফাঁস করেছিলেন, যার নাম "Bread and Circuses" (রুটি ও সার্কাস)। পলিসিটা খুব সিম্পল, জনগণকে সস্তা খাবার (রুটি) আর গ্যালারির হিংস্র খেলাধুলা (সার্কাস) দিয়ে এমনভাবে বুঁদ করে রাখো, যেন তারা শোষণের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার চিন্তাই ভুলে যায়।
আজ ২০০০ বছর পর, রোমের সেই পাথুরে কলোসিয়াম রূপ নিয়েছে বিলিয়ন ডলারের আধুনিক ফুটবল স্টেডিয়ামে। চক্রান্তের কাঠামো বদলেছে, কিন্তু মনস্তত্ত্ব বিন্দুমাত্র বদলায়নি। ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের মতো মেগা-ইভেন্টগুলো আসলে আধুনিক সভ্যতার তৈরি করা ‘সামিরীর বাছুর’। এর চোখ ধাঁধানো গ্ল্যামার আর হাইপ আমাদের ব্রেন ও অ্যাটেনশনকে হ্যাক করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
গা*জা, Feeলিস্তিন কিংবা Kaশ্মীরের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে যখন আমাদের নিষ্পাপ ভাই-বোনদের শেষ আর্তনাদ ভেসে আসে, ঠিক তখনই স্টেডিয়ামের হাজার ওয়াটের আলো আর লাখো মানুষের জয়োল্লাস সেই কান্নাকে পৃথিবীর কান থেকে আড়াল করে দেয়। গ্লোবাল সিস্টেম যখন মুসলিমদের রক্ত দিয়ে ভূ-রাজনীতির নতুন ইতিহাস লিখছে, আমরা তখন সবুজ গালিচায় একটা চামড়ার বলের পেছনে ২২ জন মানুষের ৯০ মিনিটের দৌড়ঝাঁপ দেখে নিজেদের বিবেককে বন্ধক রাখছি। ওপারে যখন লাশ কাফনে গোনা হয়, আমরা তখন এপারে স্ক্রিনের সামনে গোল গুনে রিলস আর স্ট্যাটাস বানাতে মেতে উঠি।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, মুমিনরা একটি দেহের মতো, যার এক জায়গায় আঘাত লাগলে পুরো শরীর ব্যথায় ছটফট করে। কিন্তু আধুনিক কলোসিয়ামের বিনোদনের আফিম আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে এমনভাবে প্যারালাইজড করে দিয়েছে যে, উম্মাহর শরীর কেটে টুকরো টুকরো হয়ে গেলেও আমরা কোনো ব্যথা অনুভব করছি না।
যে জেনারেশন বিনোদনের গ্যালারিতে বসে উম্মাহর রক্ত আর নিজের আসল গন্তব্য ভুলে যেতে পারে, আল্লাহর দরবারে শেষ বিচারের দিনে তাদের জবাবদিহিতা কতটা কঠিন হবে?
এই ৯০ মিনিটের কৃত্রিম মোহ এবং সিস্টেমের এই ডিজিটাল ট্র্যাপ ছিঁড়ে আমাদের চেতনাকে মুক্ত করার সময় এখনই। আধুনিক কলোসিয়ামের দর্শক হওয়া বন্ধ করে, ইতিহাসের মূল ময়দানে নিজেদের দায়িত্বকে চেনার সময় এসেছে।