27/06/2026
প্রশ্ন ২: "তাহলে কি আপনি বলতে চান ইমাম বুখারী, ইমাম তিরমিজি, ইমাম মুসলিমরা সবাই ভুল ছিলেন বা তারা ষড়যন্ত্র করেছেন? আপনি তাদের চেয়ে বড় জ্ঞানী বর আলেম মহা পন্ডিত হয়ে গেলেন?"
প্রশ্নকারীর মাইন্ডসেট: ব্যক্তির আবেগ (Personal Attack) ব্যবহার করে আপনাকে কোনঠাসা করা।
জবাব:
"চরম ধূর্ততাপূর্ণ এবং আবেগীয় এক চাল চেলেছেন! আমাদের কোণঠাসা করতে ইমামদের প্রতি মানুষের আবেগকে অস্ত্র বানানোর এই সস্তা চেষ্টা আল্লাহর নিখুঁত কুরআনের যুক্তি আর ইতিহাসের অকাট্য সত্যের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। চলুন এভিডেন্স দিয়ে এই ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলের মুখোশটা টেনে খুলি:
'রাজার আসল ফরমান' বনাম 'উজিরের ডায়েরি'
ধরুন, একটি রাজ্যের রাজা একটি ফরমান বা অফিশিয়াল আইন জারি করে পুরো রাজ্যবাসীকে ঢোল পিটিয়ে বললেন—'আমার এই আদেশ বা ডায়েরি ছাড়া অন্য কোনো কাগুজে নির্দেশ কেউ রাজ্যে চালাবে না, যা লিখেছ তা এখনই পুড়িয়ে বা মুছে ফেলো!'
রাজার মৃত্যুর আড়াইশ বছর পর, সেই রাজ্যেরই একজন অত্যন্ত সৎ, নিষ্ঠাবান এবং বিশ্বস্ত উজির বা সেনাপতি সারা রাজ্য ঘুরে ঘুরে প্রজাদের মুখে মুখে প্রচলিত রাজার আমলের কিছু গল্প সংকলন করলেন। তিনি দিনরাত পরিশ্রম করে একটা ডায়েরি বানালেন।এখন প্রজাদের মধ্যে কিছু মানুষ যদি এসে বলে—'উজির সাহেব এত কষ্ট করে ডায়েরি লিখেছেন, তাই রাজার সেই আদি ফরমান বা আইন আমরা মানি না; উজিরের ডায়েরিই আমাদের জন্য চূড়ান্ত আইন!'—তখন অন্য একজন প্রজা যদি রাজার আসল ফরমানটি বের করে বলে—'ভাই, উজির সাহেব মানুষ ভালো হতে পারেন, কিন্তু আমি তো রাজার আসল আদেশটাই মানব!'—এখন ওই উজিরভক্তরা যদি চেঁচিয়ে বলে—'কী! তুমি উজির সাহেবের চেয়ে বড় পণ্ডিত হয়ে গেছ? তুমি উজিরকে অপমান করছ!'—আপনার সাধারণ বিবেক কী বলে? অপরাধী কে? যে রাজার আসল আইন মানছে সে, নাকি যারা উজিরের দোহাই দিয়ে রাজার আইন অমান্য করছে তারা?
ঠিক একইভাবে, স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.) সহীহ মুসলিমের ৩০০৪ নম্বর হাদীসে পরিষ্কার আদেশ দিয়ে গেছেন—'আমার কাছ থেকে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু লিখো না, আর যে লিখেছ তা মুছে ফেলো!' আমরা সেই নবীর প্রধান ও অফিশিয়াল নির্দেশকে সম্মান করছি। এখন আপনিই বলুন, আমরা কি নবীর কথা মেনে 'কুরআন ছাড়া অন্য কিছু না লিখে' নবীর প্রতি অনুগত থাকব? নাকি আড়াইশ বছর পর মানুষের করা সংকলনকে নবীর আদেশের চেয়ে বড় মনে করব?
২. ইমাম বুখারী নিজেই যেখানে ৯৯% হাদীস ধ্বংস বা বর্জন করেছেন (The 99% Deletio