11/09/2026
মেয়েটি হাতে ধরা বোন স্পেসিমেনটা অন্যমনস্কভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছিল। আঙুলগুলো অভ্যাসবশত প্রতিটি ল্যান্ডমার্ক ছুঁয়ে যাচ্ছিল—টিউবারকেল, গ্রুভ, কন্ডাইল। অথচ তার মন সেখানে ছিল না। আগামীকালের অ্যানাটমি পরীক্ষায় কোন প্রশ্নের উত্তরে কোথা থেকে শুরু করবে, কোন শব্দটা ভুলে গেলে পুরো উত্তরটাই ভেঙে পড়বে—মস্তিষ্ক যেন সেই হিসাবেই ব্যস্ত।
হঠাৎই, কোনো সতর্কতা ছাড়াই, বহুদিন চাপা পড়ে থাকা একটি স্মৃতি ভেসে উঠল। স্মৃতিগুলো কখনও অনুমতি চায় না; সবচেয়ে অনুপযুক্ত মুহূর্তটাকেই বেছে নেয়। এক সেকেন্ড আগেও যে মস্তিষ্ক হাড়ের গঠন মুখস্থ করছিল, পরের সেকেন্ডেই তা অতীতের এক অসমাপ্ত দৃশ্যে আটকে গেল। বুকের ভেতর অদৃশ্য এক টান অনুভব করল সে। মনে হলো, শব্দগুলো ধীরে ধীরে মাথা থেকে মুছে যাচ্ছে, অথচ সেই স্মৃতির প্রতিটি খুঁটিনাটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
'না... এখন না।'
নিজেকেই যেন ধমক দিল সে। প্রায় পালিয়ে বাঁচার মতো তাড়াহুড়ো করে ফোনটা হাতে তুলে নিল। ফোনটি তখনও লক করা। অন্ধকার স্ক্রিনে ভেসে থাকা মেসেঞ্জারের নোটিফিকেশনটায় চোখ আটকে গেল। আঙুল ছোঁয়াতেই পপ-আপে ফুটে উঠল আসিফের বার্তা—
“শরীরের ওপর অনেক চাপ যাচ্ছে। পড়া শেষ করে দুধ খেয়ে ঘুমাবে কিন্তু। তোমাকে খুব শুনতে ইচ্ছে করছে। পড়া শেষ করে কল দিয়ো। আমি তোমার জন্য জেগে থাকব।”
বার্তাগুলো খুব সাধারণ। তবু ঠিক এই মুহূর্তে সেগুলোই যেন তার ভেতরের বিশৃঙ্খলার বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা এক টুকরো স্থিরতা। বুকের ভেতর শক্ত হয়ে থাকা অস্বস্তিটা ধীরে ধীরে নরম হয়ে এল। মনে হলো, কেউ যেন নিঃশব্দে এসে তার কাঁধ থেকে অদৃশ্য ভারের খানিকটা নামিয়ে দিয়েছে।
মেয়েটি অজান্তেই মৃদু হাসল। কয়েক মুহূর্ত আগেও যে মন অতীতের অন্ধকার গলিতে হারিয়ে যাচ্ছিল, সেই মন এখন ধীরে ধীরে পা রাখছে এক নতুন জগতে—যেখানে ভয় আছে, অনিশ্চয়তা আছে, তবু তার চেয়েও গভীরভাবে আছে একজন মানুষের নিঃশব্দ উপস্থিতি। আবারো সে আনমনে হারিয়ে যেতে থাকল ভিন্ন কোনো জগতে।
অসমাপ্ত দৃশ্য
এস এম অভি
৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রি.