08/09/2024
বই:জীবন যদি হতো নারী সাহাবীর মত।
লেখক : ড. হানান লাশিন।
প্রকাশনী : সমকালীন প্রকাশন।
অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মজুমদার।
সম্পাদনা: উস্তায আবুল হাসানাত কাসেমী, উস্তায আব্দুল্লাহ মাহমুদ।
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৮ টি।
মূল্য:২৮০
ছাড় মূল্য: ২০০
__________________________________
জীবন পথে সুখ-সৌভাগ্যের বাজারটা অতিক্রম করে আনুগত্যের মজা থেকে অঞ্জলিটা ভরে নিতে পারলেই তো আসল জীবনের স্বাদ অনুভব করা যাবে।ইসলাম মন-মস্তিষ্ক প্রসূত কোনো ধর্ম নয়।ইসলাম আল্লাহর পক্ষ থেকে একমাত্র দ্বীন।মহান আল্লাহ ইসলামকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) কে প্রেরণের মাধ্যমে। নবিজি যখন এক চরম,পরম,ও মহাসত্যের দিকে মানুষকে আহ্বান করলেন,তখন অনেকের মতো চারদিক থেকে তৃষিত হৃদয়ে ছুটে এলো নারীদের দলও।কিন্তুএই সত্যের পথ যোগদান দেয়াটা সহজ ছিল না।প্রিয়জনদের হারিয়ে অমানবিক নির্যাতন ও অত্যাচার সহ্য করেও তারা অটল ছিল এক আল্লাহর পথে।কেমন ছিল সেসব তৃষিত প্রান যাঁরা,,,রঙিন স্বাপ্নিক মুহূর্তগুলো ভুলে গিয়ে মরুর বুকে ছুটে চলেছিল এক ধ্রুব সত্যের পানে।যে পথে ছিল হাজারো ত্যাগ-তিতিক্ষা।তাদের জীবনালেখ্য কতনা সংগ্রাম।সুখ-সৌভাগ্যের বাজারটা অতিবাহিত করে তারা তুলে আনলেন মণিমুক্তো।যে মুক্তো আজ ছড়িয়ে আছে বিশ্বব্যাপী।তাঁরা হলেন সব নারীদের উপক্রমনিকা।তাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেকে বদলে নিতে পারলেই তো নিরবধি জীবন হবে উদ্ভাসিত।তাদের জীবনালেখ্য সহসা বদলে দেয় কত শত জীবনকে।এ ভূতলের অভীপ্সাকে ইতি টেনে তবে শূচনা করা যাক এক শুভ্র-সফেদ জীবনের।
🌑বিষয়বস্তু:ইসলাম এক ধ্রুব সত্য।এই সত্য যখন থেকে প্রতিষ্ঠিত হলো বিশ্বাসীরা একে একে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হলো।জীবন বিসর্জন দিয়ে,,পরিবারের মায়া ত্যাগ করে এক আল্লাহর মনোনীত দ্বীন ইসলামকে বেছে নিয়েছে তারা। তাদের জীবনটা সহজ ছিল না, হাজারটা ত্যাগের বিনিময়ে তারা পরকালের আগাম সুসংবাদ পেয়েছেন,আর নতুন প্রজন্মের জন্য রেখে গেছেন এক সোনালী ইতিহাস।যে ইতিহাস আজও প্রতিটি বিশ্বাসী মুসলিমের অন্তরে তাক লাগিয়ে দেয়।এই ইতিহাসেরই সারসংক্ষেপ দেয়া হয়েছে বইটিতে ।
⚫অনুভূতি:বইটি গভীর ভাবগম্ভীর্যপূর্ন।প্রতিটি পাতা হৃদয়ের গভীরে লিপিবদ্ধ করে রাখার মতো।বইটি পড়ে ব্যক্তিগতভাবে থমকে গেলাম,নিজেকে তুলনা করলাম সাহাবীদের সাথে।তাদের জীবনীগুলো আমাদের জন্য নির্দেশনাস্বরূপ।
—————————————————-
⚫কেন পড়বেন??:নারী সাহাবীদের জানার তাগিদে প্রতিটি মুসলিম নারীর বইটি পড়া উচিত।তাদের জীবনী আমাদের উৎসাহ দেয়।এ দুনিয়ায় আমাদের লক্ষ্য কি?কেন আমরা এসেছি?এ প্রশ্নের উত্তর পাবেন।
————————————————————-
⚫বইকথন:লেখক মোট তিনটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন গ্রন্থটি।নারীকে কখনো শুভ্র ফুল,কখনো আবার গোলাপের পাপড়িগুলোর ন্যায় তুলনা করেছেন।বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত পর্দার ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন লেখক।বইটি পাঠকের আত্নউন্নয়ন ঘটাবে,এতে কোনো সন্দেহ নেই, তবে আল্লাহ্ না চাইলে সেটা হবে ভিন্ন কথা।এতটা আবেগের সাথে লেখাগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে বইটিতে যা অল্পতেই পাঠকের হৃদয় কেড়ে নেবে।
আল্লাহ্ আমাদের সঠিক বোঝার তাওফিক দান করুন।আমিন।
_____________________________________
●প্রথম অধ্যায়: বইয়ের শুরুটা হয়েছে একজন অনুগত কন্যা,অনুগত স্ত্রীর গল্প দিয়ে।রয়েছে মহাসত্যের পথে অবিচল থেকে নিজ পরিবারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসা সেই মহীয়সী নারীর গল্প।হ্যাঁ তিনিই উম্মে কুলসুম যিনি ঠোঁট ভেজাতেন তাসবিহ পড়ে।শুধু তাই নয়,,,,,,,ইসলামের খেদমত তো করেছেন ই স্বামী ও সংসারকে গুছিয়ে রেখেছেন সর্বদা।ভালোবাসার পরম চাদরে ঢেকে রেখেছেন সংসারকে।আছিয়া,উম্মে কুলসুম, ফাতেমা, উম্মুদ দাহদাহর, যাইনাব, হালিমা আসমা বিনতে উমাইস রাদিয়াল্লাহু আনহুম এর মতো মহীয়সী নারীদের ত্যাগ-তিতিক্ষার গল্পগুচ্ছ দিয়ে লেখিকা সাজিয়ে তুলেছেন গ্রন্থটির প্রথম অধ্যায় কে।
_____________________________________
●দ্বিতীয় অধ্যায়: এই তো প্রথম……প্রথমবারের মতো একবার পুলসিরাতে দাঁড়াতেই হবে।কবে গুনাহ ছেড়ে দেবো প্রথমবারেরমতো?খাঁটি তওবা হবে কোনদিন?কবে ফিরে যাবো আল্লাহর কাছে?কবে তার সাথে প্রথম দেখা হবে হাউজে কাউসারে?কবে আল্লাহর সাহচর্য পাবো প্রথমবারেরমতো?
লেখিকা তার মনের সবটুকুন গাম্ভীর্য মনে হয় বইটিতে ঢেলে দিয়েছেন।কাব্যিক ভাষায় বইটিকে এতটা সমৃদ্ধ করেছেন যা পাঠকের হৃদয়ের গভীরে আঘাত করবেই।
________________________________________
●তৃতীয় অধ্যায়:লজ্জা নারীর অলংকার।প্রতিটি সত্যিকারের মুসলিম রমনীর কাছে পর্দা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।পর্দা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নিয়ামত,,,যা নারীর অধিকারকে আরো জোরদার করে দিয়েছে।লেখিকা নারীর লজ্জাকে শুভ্র ফুলের সাথে তুলনা করেছেন।ফুল বড় লজ্জাশীল।সলজ্জ ভঙ্গিতে তার পাপড়িগুলো দিয়ে নিজেকে ঢেকে রাখে, যতক্ষণ না বসন্ত আসে।এমনটা আমরাও।তাই তো হিজাবে নিজেকে আবৃত রাখব,যতক্ষণ না বসন্তের মতো একজন নেককার স্বামী আসে।
__________________________________
●শিক্ষা:বর্তমান যুগে আধুনিক মেয়েরা ইসলামের জ্ঞানকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে মেতে উঠেছে পশ্চিমা সভ্যতায়।আফসোস!এমন মুসলিমদের জন্য যারা রবের হিদায়াত থেকে বঞ্চিত হয়েছে।ইসলাম নারীকে দিয়েছে অসীম সম্মান।আর পশ্চিমা সভ্যতা নারীকে লজ্জার বেড়াজাল থেকে বের করে পুরুষদের বিনোদনের মাধ্যম তৈরী করে দিয়েছে।আর সেই সভ্যতার চর্চা করে চলছে নামধারী মুসলিম।তাদের জন্য বইটি অসাধারণ কার্যকর।
_________________________________________
●শেষ কথা:জীবনে একবার হলেও বইটি পড়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।প্রিয় বোনেরা,জানি না আল্লাহ আমাদের কার জন্য কতটুকু হিদায়াত রেখেছেন।তবু আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করুন যেন আল্লাহ আমাদের সকলকে ইমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করার তাওফিক দান করেন।আমিন🌼
ফিতনার এই যুগে কীভাবে আমরা আমাদের জীবনকে নারী সাহাবীদের জীবনের আদর্শের আলোকে গড়ে তুলব, স্বামীভক্তি এবং তাওয়াক্কুলের আদলে কীভাবে পথ চলব লেখিকা ড. হানান লাশীন সেই উপায়গুলোই এখানে,সহজ,সাবলিল মনোমুগ্ধকর ভাষায় তুলে ধরেছেন। বইটিকে তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত করা হয়েছে।
#প্রথম অধ্যায়,যেখানে লেখিকা আমাদের হতে বলেছেন নারী সাহাবীদের মতো। কখনও আসমা বিনতু আবি বকরের পিতা অনুগত হওয়া থেকে,আবার উম্মু কুলসুম বিনতু উকবাহর মত হৃদয়ের হিজরত করতে যেখানে ছিল আত্নত্যাগ,রাব্বের প্রতি অগাধ ভালোবাসা আবার কখনও বা উম্মুদ দাহদাহ’র মত স্বামীভক্ত হতে বলেছেন,যে কিনা স্বামীর সিদ্ধান্তের উপর সর্বদা অটল। (আল্লাহ তাদের উপর সন্তুষ্ট থাকুন)
#দ্বিতীয় অধ্যায়ে – অনুভূতি,প্রথম কোন ভাল কাজ করার অনুভূতি,পর্দা করার অনুভূতি,অসহায় মানুষকে সাহায্য করার অনুভূতি,সলাতে রাব্বের সামনে দাড়ানোর অনুভূতি,গুনাহ করে তাওবা দিয়ে ফিরে আসার অনুভূতি যা কিনা কেবল একটি স্বচ্ছ হৃদয় দ্বারাই অনুভব করা যায়।
#তৃতীয় অর্থাৎ শেষ অধ্যায়ে লেখিকা তুলে ধরেছেন জীবনের বাস্তবতা। কারো স্বপ্নের রাজকুমারকে নিয়ে আকাশ-কুসুম কল্পনা না করে মানিয়ে নিতে বলেছেন। রাব্বের প্রতিটা সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট এবং ধৈর্য ধরতে বলেছেন।
শেষের দিকে লেখিকা যে গুরুত্বপূর্ণ মেসেজটি আমাদের দিয়েছেন তা হলঃ “কখনো যেন মনে না করি,নারীত্ব মানে হাই হিল পরা,নারীত্ব মানেই ঠোঁটে গাঢ় লিপস্টিক কিংবা আটসাট কাপড় পরিধান করা। বরং নারীত্ব হল কোমল আচরণ। নারীত্ব কেবল পোশাকে নয়। নারীত্ব চিন্তায়,কথাবার্তায়,উত্তম আচরণে ও আল্লাহকে সন্তুষ্টকারী ইল্ম অর্জনে।”
রিভিউ দাতা: Qurratu Aynin Sabiyya