09/08/2026
"কী করে ভুলব আমি ফেলানীর শোক?
কাঁটাতারে ঝুলে ছিল ষোলো কোটি লোক।"
উর্দুকে বলা হয় কবিতা লেখার আদর্শ ভাষা, বাংলার সাথে ভিনদেশি শব্দের প্রয়োগ মাধুর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই কারিগর, যিনি অদ্বিতীয়, পরম করুণাময়! সেই অসীম সত্তাকে তিনি ধারণ করলেন নিজের কবিতায়। দারুণ প্রেমময় সম্বোধন, শুদ্ধ আবেগের বাক্য, হৃদয় নিঙরে নেয়া চরণগুলো দিয়ে যেন আপনার চেয়ে আপন করে নিলেন সুমহান স্রষ্টাকে। অবশ্য কিছু কিছু কবিতা নিয়ে ধার্মিক মুসলিমদের মনে জাগতে পারে অভিযোগের তির। তবে সেগুলো চিন্তার খোরাক, রূপকার্থে লেখা। আমার মতে, এটুকু স্বাধীনতা একজন কবিকে দেওয়া উচিত, যিনি বহু সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি ভালোবাসতে পারেন। আল্লাহ বলেছেন, আমার বান্দা আমার ব্যাপারে যেমন ধারণা পোষণ করে আমি তার জন্য তেমনই।
স্বৈরাচার সরকারের বিরোধিতা আর সমালোচনাকে তিনি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। জুলাইয়ের সেই দুর্বিনীত দিনগুলোতে তাঁকে দেখেছি অসীম সাহস আর শানিত লেখায় বিপ্লবের অংশ হতে। আইবিএ তে পড়া এই যুবক চাইলেই মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকতে পারতেন, কিন্তু বিবেক আর শিরদাঁড়া তাঁকে দ্রোহের আগুনের দিকে ঠেলে দেয়, এখানেই তাঁর কবিসত্ত্বার সার্থকতা। এমন কতো প্রতিবাদী প্রাণ হারিয়ে গেল - ভাবলে চোখ জ্বালা করে। জুলাই আর জুলুমের ভয়াবহ সেই অতীত বইটিতে অবধারিতভাবে এসেছে কবিতার আড়ালে।
রোমান্টিক কবিতা রয়েছে প্রচুর। আমার বিশ্বাস, এই পঙক্তিগুলো মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে যাবে সময়ের সাথে। কোনোটি প্রেয়সীর বর্ণনা দিতে দিতে পৌঁছে গেছে আরশে আজিম অধীশ্বরের কাছে প্রার্থনার মিনতি হয়ে, আবার কোথাও নিরেট বিরহ। কবিতা পড়ার অভ্যাস না থাকলেও এই বই পড়তে আপনার ভালো লাগবে। ছন্দের শেকলে তিনি বুনেছেন স্বপ্ন, নিরাশা, আনন্দ আর স্মৃতির সনির্বন্ধ শিল্পকর্ম। কবিতার শব্দশৈলীর ব্যাপারে তিনি আমার মতোই শুচিবায়ুগ্রস্ত বলা যায়, প্রত্যেকটি কবিতা সলিড ও এক্যুরেট। প্রায় পাঁচ বছর ধরে গড়ে তোলা বাগান থেকে সেরা ফুলগুলো বেছে নিয়েই যেন বইটি সাজিয়ে তুলেছেন তিনি। সুতরাং, এই কাব্যগ্রন্থ আমার চোখে দশে দশ - আমি সুবিচার করেছি কি না তা না হয় আপনারাই পাঠ করে বিবেচনা করুন!
বই : বর্ষাদ্রোহকাল।
প্রকাশনী : উপকথা প্রকাশন।