02/09/2024
এসবের বাইরে যে জিনিসটা দেখে আমার দু’চোখ প্রশান্তিতে ভরে উঠলো তা হলো মসজিদের ভেতরে জায়গায় জায়গায় হওয়া ইলমি দারস।
কিছু মানুষ গোল হয়ে বসে আছে। প্রায় প্রত্যেকের সামনে বই, খাতা আর কলম। তাদের সম্মুখে একটা চেয়ারে বসে আছেন দারস প্রদানকারী উস্তায। অত্যন্ত যত্ন নিয়ে তিনি সামনের লোকগুলোকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন নানান বিষয়। তার বলার ভঙ্গিমা, নিঁচু স্বর, চেহারার ভাবগাম্ভীর্যতা এবং পাঠদানের নিবিষ্টতা—সবটা মিলিয়ে এই জনতার সম্মিলন যেন একটা উন্মুক্ত পাঠশালায় পরিণত হয়েছে।
শুধু একটা নয়, সারা মসজিদ ঘুরে আমি সেদিন অন্তত সাত থেকে আটটি দারস দেখলাম ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়। যেন সারি সারি সেতারা জ্বলজ্বল করছে আলোর পিদিমের মতো। প্রত্যেকটি দারসে উৎসুক ছাত্র অথবা জনতার ভীড়ও ছিলো যথেষ্ট চোখে পড়ার মতো। দারসের এই দৃশ্যগুলো দেখে আমার নববী যুগের কথা মনে পড়ে গেলো সহসা।
সেই সাড়ে চৌদ্দ’শ বছর আগেও এই জায়গাগুলোতে এরকম ইলমি দারস হতো। সাহাবি আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু উস্তাযের আসনে হয়তো থাকতেন, চুপচাপ শুনতেন অন্য সাহাবিরা। রাসূলের সাহচর্য পায়নি, কিন্তু সাহাবাদের সাহচর্য লাভে ধন্য হয়েছেন এমন কোনো তাবিয়ি হয়তো জানতে চাইলেন আল্লাহর রাসূলের কোনো সুন্নাহ সম্পর্কে। অত্যন্ত দরদ আর ভালোবাসায় সেটা তাকে জানাতেন সাহাবি আবু দারদা। ‘ক্বলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বলতে গেলেই ধরে আসছে তাঁর গলা, ভারি হয়ে আসছে চোখ—নবিজীর প্রতি নিঃসীম ভালোবাসায়।
হয়তো কখনো উন্মুক্ত জনতাকে হাদিস শোনাতেন সাহাবি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু। কুরআনের নির্যাস বুঝে নিতে হয়তো এই কোণগুলোতেই একদিন লোকেরা এসে ভিড় করতো আর সেই ভিড়ের মধ্যমণি হয়ে থাকতেন তাফসির শাস্ত্রের প্রবাদপুরুষ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু।
ইমাম মালিক, ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল, ইমাম বোখারী রাহিমাহুল্লাহ সহ ইলমি রাজ্যের অসংখ্য নক্ষত্রেরা কোনো না কোনো সময় এই জায়গাগুলোতে বসেছেন। শিখেছেন এবং শিখিয়েছেন। এই দারসগুলো থেকে তৈরি হয়েছে পৃথিবী-বিখ্যাত অসংখ্য মানুষ যারা কুরআন আর সুন্নাহর আলো নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছেন দুনিয়াময়। দূর করেছেন অজ্ঞতার অন্ধকার, বিলিয়েছেন নির্মল আর সজীব জীবনের সুধা।
( বহুল প্রতীক্ষিত সফরনামা ‘উমরাহ সফরের ডায়েরি’ নিয়ে পুরোদমে কাজ চলছে, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ চান তো, আগামি বইমেলায় বইটা Sukun Publishing থেকে প্রকাশিত হবে। )