Shera Golper Bahar

Shera Golper Bahar সময়ের সেরা গল্প।
গল্প , বাংলাগল্প , Story

অ্যানাকোন্ডা নামের বৃহৎ অজগরটি এক ইন্ডিয়ান মেয়েকে দৃঢ়ভাবে পেঁচিয়ে ধরে নদীর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। খুব সকালবেলা ঔষুধি গাছ...
18/04/2026

অ্যানাকোন্ডা নামের বৃহৎ অজগরটি এক ইন্ডিয়ান মেয়েকে দৃঢ়ভাবে পেঁচিয়ে ধরে নদীর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। খুব সকালবেলা ঔষুধি গাছ সংগ্রহ করতে আসা নাথান র্্যান্ড ইয়ানোমামোর নিজ গ্রামে ফেরার সময় মেয়েটির চিৎকার শুনল । ঔষুধি গাছ ব্যাকটন ফেলেই সে দৌড়ে গেল মেয়েটিকে সাহায্য করতে। দৌড় শুরু করতেই সে তার কাঁধে ঝোলানো শর্ট ব্যারেলের শটগানটা হাতে নিয়ে উঁচু করে ধরলো । জঙ্গলে একা থাকাকালীন সময়ে সবাই অস্ত্র বহন করে। ঘন ঝোপঝাড় ভেঙে এগোতেই নাথান সাপ আর মেয়েটিকে দেখতে পেল। তার দেখা সবচেয়ে বড় অ্যানাকোন্ডার মধ্যে এটা একটা । প্রায় চল্লিশ ফুট লম্বা সাপটির অর্ধেক পানিতে, বাকি অর্ধেকটা নদীপাড়ের কাদার মধ্যে। শরীরের কালো আশটেগুলো ভিজে চকচক করছে। মেয়েটি যখন পানি নিতে নদীতে আসে, নিশ্চিতভাবে সাপটা সে-সময়ে ওৎ পেতে ছিল। দৈত্যাকার এইসব সাপের পক্ষে সেইসব প্রাণীদের শিকার করা মোটেই অস্বাভাবিক নয় যেগুলো পানি পান করতে নদীতে আসে বুনো শূকর, তীক্ষ দাঁতের ক্যাপিরা কাঠবিড়ালী, বুনো হরিণ। কিন্তু মানুষদের সাধারনত আক্রমণ করে না এই বৃহদাকার সাপেরা । জল ও বনে ঘেরা এই আমাজনে একজন এথনোবোটানিস্ট হিসেবে গত এক দশক ধরে কাজ করতে গিয়ে নাথান র্ ্যান্ড একটি বিষয় বেশ ভালভাবেই শিখতে পেরেছে : যখন কোন জন্ত তীব্র ক্ষুধার্ত হয়ে যায় তখন সব নিয়ম ভেঙে পড়ে। এই সীমাহীন সবুজের সাগরে তখন পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়ায় খাও অথবা খাবার হও। পরিস্কারভাবে দেখার জন্য বন্দুকের গান-সাইটের মধয়ে তীক্ষ দৃষ্টি হানল নাথান। “ওহ্ গড়, টামা!” মেয়েটিকে চিনতে পারল সে ।নবছর বয়সী মেয়েটি স্থানীয় এক গোত্রীয় প্রধানের ভায়ের মেয়ে। মাসখানেক আগে নাথানের এই গ্রামে আসা উপলক্ষে এই হাসিখুশি মেয়েটি তাকে ফুলের তোড়া দিয়েছিল উপহার হিসেবে। পরে তার হাতের উপর বসে মেয়েটি নাথানের চুল ধরে টানাটানি করেছিল। মসৃণ ত্বকের ইয়ানামোমোদের মধ্যে তার কোমলতা ছিল দূর্লভ পর্যায়ের। মেয়েটি তাকে একটা নামও দিয়েছিল, জ্যাকো ব্যাসো – বানর ভাই।

নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে সে তার অস্ত্রে বসানো লেন্সের মধ্যে দিয়ে ওদেরকে দেখতে লাগল। পরভোজীটা পেশীবহুল শরীর দিয়ে মেয়েটিকে পেঁচিয়ে রেখেছে। ওটাকে সরাসরি গুলি করার চিন্তা মাথা থেকে সরিয়ে রাখতে হল নাথানকে।

‘ধুর শালা!” শটগান ফেলে দ্রুত কোমরের বেল্টে গোঁজা বড় ছুরিটা হাতে নিয়েই সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ল সে। কিন্তু কাছে যেতেই মেয়েটিকে পুরোপুরি পেঁচিয়ে ধরে নদীর কালো পানিতে ডুবে গেল সাপটি। থেমে গেল তার চিৎকার, বুদবুদ উঠতে লাগল তার ডুবে যাওয়া জায়গা থেকে ।

কোনকিছু চিন্তা না করেই নাথান ঝাপ দিল পানিতে। আমাজনের ভালোপথগুলোই এটার অন্যসব পরিবেশ থেকে বিপজ্জনক। শান্তশিষ্ট পানির নিচে ঘাপটি মেরে থাকে অগণিত বিপদ। হাঁড়খেকো পিরানহা মাছের ঝাঁক একদিকে যেমন গভীর পানিতে চষে বেড়ায় অন্যদিকে কাদার মধ্যে গা-ঢাকা দিয়ে থাকে স্টিং-রের মত চ্যাপ্টা মাছ যা মেরুদন্ড দিয়ে প্রচন্ড বেগে আঘাত করতে পারে শত্রুকে। আর ডুবন্ত গাছের গুঁড়ি বা শেকড়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ইলেকট্রিক ইল বা বাইন তো আছেই। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে পানির নিচে মানুষের সত্যিকারের খুনি হল দৈত্যাকার কুমিরের মত সরীসৃপের দল। এইসব বিপদ-আপদের কথা আমাজনের ইন্ডিয়ানরা এই অচেনা-অদেখা পানির জগতে ডুব না দিলেও ভালই জানে। কিন্তু নাথান কোন ইন্ডিয়ান নয় ।

শাস বন্ধ করে ঘোলা পানিতে ডুব দিতেই নাথান পেঁচানো সাপটির অবস্থান বুঝতে পারলো । দুর্বল একটা বাহু দুলছে সেখানে। পা দিয়ে মাটিতে এক ধাক্কা দিতেই ছোট হাতটার কাছে পৌছে গেল সে। শক্ত করে ধরে নিয়ে উপরে তুলল হাতটা । নাথানকে জাপটে ধরার জন্য হাতটাও যেন মরিয়া হয়ে উঠেছে। টামার চেতনা এখনও আছে। মেয়েটির হাত ব্যবহার করেই নিজেকে সাপটার কাছে টেনে নিল নাথান। অন্য হাত দিয়ে ছুরিটা পেছনে গুজে নিল সে। একদিকে পা দিয়ে মাটি ঠেলে রাখতে হচ্ছে নিজের জায়গা ধরে রাখতে অপরদিকে টামার হাত ধরে টেনে বের করার প্রচেষ্টা।

হঠাৎ সামনের কালো পানিতে একটা ঘুর্ণি উঠলো, নাথান আবিষ্কার করল দৈত্যাকার সাপটি তার দিকে রক্তিম চোখে খুনে দৃষ্টি হানছে। নিজের আহার টিকিয়ে রাখতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হল যেন সাপটিকে। ওটার কালো মুখগহ্বর খুলে যেতেই আহড়ে পড়ল নাথানের উপর। আঘাত এড়াতে একটু পাশে সরে গেল নাথান। মেয়েটির এত ধরে রাখতে তাকে যুদ্ধ করতে হচ্ছে।

অ্যানাকোন্ডাটি এবার নাথানের বাহুতে কামড় বসিয়ে খুব জোরে চোয়াল দিয়ে চেপে ধরল । যদিও এটার কামড় বিষাক্ত নয় কিন্তু হাতে যে অস্বাভাবিক চাপ পড়ছে তাতে তার কজি ভেঙে যাবার উপক্রম হল। পাহাড় সমান ভয় আর তীব্র ব্যাথা উপেক্ষা করে নাথান আরেক হাত দিয়ে ছুরি ঘুরিয়ে এনে সোজা তাক করল সাপটির চোখ বরাবর।

একেবারে শেষ মুহূর্তে বিশাল অ্যানাকোন্ডাটি নাথানকে পেঁচিয়ে ধরে নদীর তলায় নিয়ে কাদার মধ্যে চেপে ধরল । মাংসপেশীর সহ্যক্ষমতার প্রায় চারশ পাউন্ড চাপের ফাঁদে আটকা পড়তেই নাথানের মনে হল তার ফুসফুস ফেটে বাতাস বের হয়ে যাবে। সে লড়ে যাচ্ছে সাপের সাথে কিন্তু নদীর পিচ্ছিল কাদার মধ্যে ধরার মত কিছুই পেল না ।

এদিকে সাপের পেঁচানো অংশ একটু ওপরে উঠে যেতেই নাথানের হাত থেকে মেয়েটার আঙুলগুলো ছুটে গেল। না…টামা!

সে হাত থেকে ছুরিটা ছেড়ে দিয়ে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে নিজেকে সাপটার বিশাল দেহ থেকে মুক্ত করতে চাইল । নদীগর্ভের নরম কাদায় তার কাঁধ ডুবে গেল কিন্তু নাথান হাল ছাড়ল না একটুও। প্রচন্ড শক্তি দিয়ে সে একেকটা প্যাচ খুলছে তো আর আরেকটা প্যাচ পড়ছে আগের জায়গায়। তার বাহুগুলো যেন আর চলে না, একটু বাতাসের জন্য তার ফুসফুস চিৎকার করছে যেন। ঠিক এই মুহূর্তটায় নাথান বুঝতে পারলো, তার এমন বিপদে পড়াতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ সে জানত তার ভাগ্য তাকে এমন দন্ডই দিয়ে রেখেছে-এটাই তার নিয়তি, তার পরিবারের অভিশাপ। বিগত বিশ বছরে তার বাবা-মাকে এই আমাজন বন গিলে খেয়েছে । তার বয়স যখন এগার, তার মা এই জঙ্গলের অজানা এক জ্বরে ঘায়েল হয়ে মিশনারির এক ছোট্ট হাসপাতালে মারা যায় । তারপর চার বছর আগে তার বাবা জঙ্গলে অদৃশ্য হয়ে যায় একেবারে সবার অগোচরে ।

বাবাকে হারানোর কষ্টের কথা মনে উঠতেই নাথানের বুকে ক্রোধের আগুন জ্বলে উঠলো। অভিশাপ হোক আর যাই হোক, সে তার বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করতে চাইলো না মোটেই। কিন্তু সেটার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো টামাকে হারাতে চায় না সে।

নাথান পা দিয়ো অ্যানাকোন্ডার বিশাল দেহটা একটু ঠেলে দিল। এক মুহূর্তের জন্য মুক্ত হতেই পা দোলাতে লাগলো উপরে ওঠার জন্য। এদিকে গোড়ালি পর্যন্ত পা ডুবে গেছে কাদায়। ফুসফুসের আটকে পড়া বাতাসটুকু বের করে দেওয়ার জন্য ছটফট করছে নাথানের বুক। আর একটা ধাক্কা দিতেই সরাসরি তার মাথাটা পানির উপর তুলতে পারলো । মুক্ত বাতাসে বুকভরে শ্বাস নিয়েই আমাজনের এই কালো পানিতে আবারও ডুব দিল সে।

এবার সাপটার সাথে সরাসরি কোন যুদ্ধে গেল না। একটা হাত বুকের সাথে শক্ত করে ধরে রেখে পেঁচানো অংশে ঢুকে গেল। শ্বাসরোধ করার জন্য আরেক হাতে দিয়ে সাপটার গলা বরাবর দিল এক প্যাঁচ। বেশ কাজ হলো এতে। সাপটাকে ফাঁদে ফেলতেই নাথান ওটার চোখ বরাবর বা-হাতের বুড়ো আঙুলটা সজোরে বসিয়ে দিল । তীব্র যন্ত্রণায় নাথানকে নিয়ে পানির উপর দলা পাকিয়ে ঠেলে উঠলো সাপটি। মুহুর্তের মধ্যেই পানিতে ঝপাত করে আছড়ে পড়লো আবার। নাথানও নাছোড়বান্দা। ধরেছে তো ধরেছেই, একেবারে শক্ত করে। বানচোত, উঠে আয়!

সে তার হাতের কব্জিটা একটু ঘোরালো। তারপর ঐ হাতটার বৃদ্ধাঙ্গুল বসিয়ে দিল সাপের অবশিষ্ট চোখে। দু-পাশেই সমান চাপ দিল নাথান। সরীসৃপলে সাইকোলজি নিয়ে ট্রেনিঙের সময় নাথান যা শিখেছিল তা-ই সত্য হতে দেখল কোন সাপের দু-চোখে চাপ দেয়া মানে ওটার চোখ আর মস্তিষ্ক সংযোগকারী স্নায়ুর মধ্যে গোঁজ ঢুকিয়ে দেওয়ার সূত্রপাত করা । আরও জোরে চাপ দিতে থাকলো নাথান। এদিকে হৃদপিণ্ডের ধকধক শব্দ কানে বেজে চলেছে।

হঠাৎ তার কজি চাপমুক্ত হয়ে গেল, সাপটি নাথানকে এত দ্রুত আর এত জোরে নদীর পাড়ে ছুঁড়ে মারল যে তার শরীরের উপরের অংশ গিয়ে আছড়ে পড়ল কাদায়। মাথা ঘুরিয়ে একটু এদিক-সেদিক দেখতেই কাদার মধ্যে উপুড় হয়ে থাকা আবছা কিছু একটা চোখে পড়ল যুদ্ধজয়ী নাখানের।

টামা! যেমনটি আশা করেছিল, সাপটার অস্ত্রে চাপের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার খেলাই তাদের দুই বন্দীকে মুক্ত করে দিয়েছে। নাথান ঝাপিয়ে পড়ে দু-হাত দিয়ে মেয়েটার নিথর দেহ নিজের দিকে টেনে নিল। কাঁধে ঝুলিয়ে দ্রুত ছুটল নিরাপদ স্থানের দিকে। তার ভেঁজা শরীরটা পাড়ের মাটির উপর ছড়িয়ে দিল সে। মেয়েটির শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ, ঠোঁট দুটো একেবারে রক্তবর্ণ। নাথান তার নাড়িস্পন্দন পেল ঠিকই কিন্তু বেশ দুর্বল।

সাহায্যের জন্য অসহায়ভাবে একটু এদিক-সেদিক চোখ বুলাল। কেউ নেই আশেপাশে । এখন মেয়েটির পুণর্জীবন পাওয়াটা নাথানের উপরেই নির্ভর করছে। ঝুঁকিপূর্ণ জঙ্গল ভ্রমণের আগেই নাথানকে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং সিপিআর (কার্ডিও পালমোনারি রিসাসিটেইশন) সম্বন্ধে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু নাথান কোন ডাক্তার নয়। হাটু গেঁড়ে মেয়েটিকে উপুড় করে দিয়ে পিঠে হাত রেখে কয়েক বার চাপ দিতেই নাক-মুখ দিয়ে কিছু পানি ছিটকে বেড়িয়ে এল। এবার তাকে ঘুরিয়ে চিৎ করে দিয়ে মেয়েটির মুখ দিয়ে বাতাস ঢুকিয়ে দিল হৃদপিণ্ড সচল কার জন্য। ঠিক এই মুহূর্তে মধ্যবয়সী এক ইয়ানামামো মহিলা জঙ্গল থেকে বের হয়ে এলো । আর সব ইন্ডিয়ানদের মতই তার উচ্চতাও ছিল পাঁচ ফুটের নিচে । গতানুগতিক বাটি ছাঁট চুল, কানে পালক ও বাঁশের তৈরি দুল। সাদা চামড়ার একজন মানুষকে ছোট একটি বাচ্চার উপর ঝুঁকে থাকতে দেখে মহিলার চোখ বড় বড় হয়ে গেল ।

নাথান জানত ব্যাপারটা দেখতে কেমন লাগবে। টামার হঠাৎ করে চেতনা ফিরে আসা শুরু করতেই দ্রুত উঠে দাঁড়াল সে। ব্যাথার বহিপ্রকাশ ঘটানো ছোট ছোট কাশি দিতেই তার মুখ দিয়ে কিছুটা পানি বের হয়ে এল। ছোট হাত দিয়ে নাথানকে খামচে ধরে রইলো মেয়েটি-সাপের আতঙ্ক চোখেমুখে । এখনও সেটা কাটে নি।

“এখন তুমি নিরাপদ, সোনা,” ইয়ানামামো ভাষায় বলে মেয়েটির হাত শক্ত করে ধরার চেষ্টা করল নাথান তারপর সবকিছু ব্যাখ্যা করার জন্য মহিলার দিকে ঘুরল, খাটো ইন্ডিয়ান তার বাস্কেট ফেলে দৌড়ে ঘন জঙ্গলে হারিয়ে গেছে ততোক্ষণে, তবে নির্বাক থাকলো না সে। বিশেষ এক ধরনের চিকার করতে থাকলো। নাথান জানে এই সংকেতের মানে কি-যখন গ্রামের কেউ আক্রমণের শিকার হয় তখনই এই সংকেত দেওয়া হয়।

“দারুণ, আসলেই দারুণ,” চোখ দুটো বুজে ফেলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল নাথান।

প্রবীণ সামানের কাছ থেকে চিকিৎসাবিষয়ক জ্ঞান অর্জন করার জন্য নাথান চার সপ্তাহ আগে প্রথম যখন এই গ্রামে আসে দলীয়প্রধান তাকে স্থানীয় মহিলাদের থেকে দূরে থাকতে অনুরোধ করেছিলেন। অতীতে এমন সুযোগ ছিল যখন আগন্তুকেরা স্থানীয় মহিলাদের ভোগ করার সুযোগ গ্রহণ করত। নাথান সেই অনুরোধের সম্মান রেখেছে। এমনকি কিছু নারী তাদের বিছানা নাথানের সাথে ভাগাভাগি করার জন্য অত্যুত্সাহী থাকার পরও। তার ছয় ফুটের চেয়ে বেশি শারিরীক কাঠামো, নীল চোখ আর সোনালী চুল সবকিছুই নতুনত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছিল এইসব মহিলাদের কাছে ।

কিছুটা দূরে, দৌড়ে পালানো মহিলার চিৎকারে সাড়া দিল বেশ কয়েকজন ইয়ামোমামো। স্থানীয়ভাবে ইয়ানামামোদেরকে দূর্ধর্ষ জাত’ বলেও ডাকা হয়। আগে এই গোত্রের লোকজনকে বর্বর যোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করা হত ।গ্রামের হুইয়াস’ বা তরুণেরা বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ প্রকাশ্যেই তুমুল যুদ্ধে উপনীত হত কখনও প্রতিবেশী গোত্রের সাথে, কখনও বা নিজেদের মধ্যেই। আর এই বিবাদের কারণ হিসেবে থাকত তাদের উপর আরোপিত অভিশাপ মোচনের ব্যাপারটি অথবা সম্মানের আসন ধরে রাখা। কারো নাম ব্যঙ্গ করে বলার মত ছোটখাট অপমানসূচক কাজকে কেন্দ্র করে মারামারি বাধিয়ে পুরো গ্রাম ছারখার করে দেয়ার মত নজিরও এদের আছে।

নাথান বড়বড় চোখ করে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে রইলো। এই ব্যাপারটিকে হুইসরা কিভাবে নেবে যেখানে এক সাদাচামড়ার মানুষ তাদেরই গোত্রের তাদেরই প্রধানের ভাইঝিকে আহত করেছে। নাথানের পাশেই টামা শুয়ে আছে। মেয়েটার আতঙ্ক ধীরে ধীরে কাটতে থাকলেও কিছুক্ষণ পরপর ক্লান্তি তাকে অচেতন করে ফেলছে। তার শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়মিতই হচ্ছে কি নাথান যতবারই তার কপালে হাত রাখছে ততবারই ধেয়ে আসা জ্বরের উপস্থিতি বুঝতে পারছে সে। হঠাৎ তার চোখ গেল মেয়েটির শরীরের ডান দিকটাতে। কালচে হয়ে থাকা বুকের পাঁজরে হাত বুলাতেই নাথান বুঝতে পারলো অ্যানাকোন্ডা তার বিধ্বংসী চাপ দিয়ে টামার দুটি হাঁড় ভেঙে দিয়ে গেছে । নিচের ঠোট কামড়ে ধরে নাথান গোড়ালির ওপর ভর করে বসে পড়তেই অসহায়ভাবে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। মেয়েটিকে বাঁচাতে হলে এখনই চিকিৎসা দিতে হবে। মেয়েটিকে দু-হাতে তুলে নিল নাথান। সবচেয়ে কাছের হাসপাতালটি সাও গ্যানিয়েলের ছোট্ট এক শহরে, আর সেটাও নদীপথে নিদেনপক্ষে দশমাইল দূরের । তবু টামাকে সেখানেই নিতে হবে।

কিন্তু এখন সবচেয়ে বড় সমস্যার নাম হলো ইয়ানোমামো । কোন রাস্তা দিয়েই মেয়েটিকে নিয়ে দূরে যেতে পারবে না, পালানো তো দূরের কথা। এটা হলো ইন্ডিয়ানদের ভূখন্ড। নাথান এই ইন্ডিয়ানদের সম্পর্কে ভাল না জানলেও কিছুই যায় আসে না। কারণ সে তো তাদের কেউ না। এই আমাজনজুড়ে একটা প্রবাদ প্রচলিত আছে না বোয়েসি, ইঙ্গি আল সানি। এই জঙ্গলে ইন্ডিয়ানরা সবকিছুই জানে। পাশাপাশি এরা অসাধারণ শিকারী, তীর-বর্শা-লাঠি ছোঁড়ায় দক্ষ আর ব্লো-গান তো আছেই পার্লানোর কোন রাস্তা নেই তার।

নাথান কি পারবে টামাকে বাচাতে ? না কি ইয়ানোমামোরা নাথানকে ভুল বুঝে হত্যা করবে?

উত্তর জানতে 👉👉👉 https://n9.cl/qyrry

28/12/2025

আমেরিকার একটি জনপ্রিয় উপন্যাস Fourth Wing বাংলায় এক্সপ্লেইন করার প্রচেষ্টা করা হয়েছে

পর্ব ১= https://sheragolperbahar.blogspot.com/.../blog-post_60.htmlপর্ব ২= https://sheragolperbahar.blogspot.com/.../blo...
23/12/2025

পর্ব ১= https://sheragolperbahar.blogspot.com/.../blog-post_60.html
পর্ব ২= https://sheragolperbahar.blogspot.com/.../blog-post_6.html
পর্ব ৩= https://sheragolperbahar.blogspot.com/2025/12/blog-post_23.html

পর্ব ৪

*** কল্পনার জগত থেকে বের হন মিস্টার রূপ চৌধুরী। আমি সেই আগের কথা নেই যে আপনার শত অবহেলা অপমানের পরে ও আপনার পিছু পিছু ঘুরবো। আজকের কথা আর আগের কতার মাঝে প্রচুর তফাত । যা আপনি ধীরে ধীরে খুব ভাল ভাবে বুঝে যাবেন।জাস্ট ওয়েট এন্ড সি মিস্টার রূপ চৌধুরী -কথা

রূপ আর কিছু না বলে কথার হাতটা ছেড়ে দিলো। ছাড়া পাওয়ার সাথে সাথে কথা নিজের রুমে চলে গেলো। কিন্তু রুমে ঢুকতেই কথা দেখলো তার বিছানার উপর একটি ব্যাগ রাখা রয়েছে। কথা এগিয়ে গিয়ে ব্যাগটা খুলতেই দেখতে পেলো তার ভিতরে আরো দুইটি ব্যাগ আছে। প্রথম ব্যাগটি খুলে কথা পেলো একটি হলুদ রঙের শাড়ি।

শাড়িতে খুব সুন্দর করে ওয়েল পেইন্ট করা। শাড়িতে প্রথম দেখায় যে কারোরই মনে ধরে যাবে। এত অপূর্ব দেখতে শাড়িটা।সাথে রয়েছে শাড়ির সাথে মিলানো কিছু জুয়েলারি।একগুচ্ছ হলুদ আর লাল রঙ মিশ্রণের চুড়ি। আর দ্বিতীয় ব্যাগের ভিতর ছিল দুই বক্স চকলেট। তাও কথার পছন্দের চকলেট।কথা হাতে নিয়ে ভাবতে লাগলো এগুলো কে দিলে আবার। তখনি রূপের কথার ঘরের দরজার পাশে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে বলে উঠলো,

এত ভেবে লাভ নেই।এগুলো আমিই দিয়েছি – রূপ
মানে। আপনি কেন দিলেন এসব – কথা
আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই দিয়েছি – রূপ
কথা জিনিসগুলো ব্যাগের ভিতর ভরে রূপের কাছে এসে এগিয়ে দিয়ে বললো,
সরি ভাইয়া আমি এসব নিতে পারবো না – কথা

কেন? কারণটা কি জানতে পারি? – রূপ
আমি সব মানুষের থেকে গিফট নিতে লাইক করি না – কথা
আমি কি তোর পর নাকি যে নিতে পারবি না – রূপ
এখানে পর বা আপনের কথা হচ্ছে না। এখানে মূল কথা হচ্ছে আমি নিতে পছন্দ করি না গিফট আশা করি বুঝবে – কথা

আচ্ছা ঠিক আছে আছে তোর কথা মানলাম। কিন্তু ভাই হিসেবে তো গিফট টা নিতেই পারিস তাই না – রূপ

আচ্ছা ঠিক আছে – কথা।
ওদের কথার মাঝে সেখানে আরশি এসে উপস্থিত হলো।রূপ আর কথাকে একসাথে দাড়িয়ে থাকতে দেখে আরশি প্রশ্ন করলো,
ভাইয়া তুমি এখানে কি করছো? – আরশি

একটা কাজে এসেছিলাম।কিন্তু তুই এরকম রেডি হয়ে এ অসময়ে কোথায় যাচ্ছিস – রূপ
আসলে আজকে একটু ঘুরতে যাব বাহিরে আমরা ফ্রেন্ড রা। – আরশি
আচ্ছা ঠিক আছে সাবধানে যাবি আর তারাতাড়ি বাসায় ফিরে আসবি – বলে রূপ চলে গেলো
তুই এখনো রেডি হসনি কেনো কথা? – আরশি

যারা এখান থেকে গল্প পড়ছেন সবাই এই লেখায় ক্লিক করে অ্যাপস একবার ইনস্টল করে দেখেন

আরে আর বলিস না আমি তো ঠিকই করতে পারলাম না যে কোন ড্রেস পরবো – কথা
তোর হাতে এটা কি কথা? – আরশি
আরে এটা আমাকে রূপ ভাইয়া গিফট করেছে – কথা
ওয়াও শাড়িটা সুন্দর তো – আরশি

হুম।আচ্ছা তুই ভেতরে আয় আমাকে ড্রেস পছন্দ করতে সাহায্য কর – কথা
তারপর আরশি একটা ড্রেস বের করে কথাকে দিয়ে বললো এই ড্রেসটা পড়। এটা তোকে অনেক মানাবে – আরশি
আচ্ছা ঠিক আছে আমি চেঞ্জ করে আসছি। তুই ড্রয়ারের ভেতর থেকে এটার সাথে মেচিং হবে এরকম কোনো ঝুমকো বের কর – বলে কথা ওয়াশরুমে চলে গেলো।
রেডি হয়ে বাসা থেকে বের হতে হতে আরশি আর কথার বারোটা বেজে গেলো। গাড়িতে গিয়ে বসতেই আকাশ আর রিয়াকে নিজের দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে কথা বললো,

সরি সরি আর হবেনা কখনো লেট – কথা
এই কখনো যে কবে আসবে এটা আল্লাহই ভাল জানে – আকাশ
আকাশের কথা শুনে রিয়া আর আরশি হাসতে শুরু করলো।
হয়েছে হয়েছে আমি লেট করেছি সব ঠিকই দেখলো।এখন যে আকাশ ড্রাইভিং শুরু না করে সময় নষ্ট করছে এটা কেউ দেখে না। – কথা

পেত্নীর নানী তুই কি কখনো ভাল হবিনা? – আকাশ
আমি যথেষ্ট ভাল। আর ভাল কিভাবে হবো? – কথা
হইছে আম্মা আব্বা। তোরা দুইটা থাম। তোরা এখন ঝগড়া শুরু করলে আমার আর আরশির সারাদিন গাড়িতেই কেটে যাবে – রিয়া
হুম ঠিক আছে। কিন্তু আমি ঝগড়া করি না। সব ঝগড়া এই ডাইনি মহিলা করে – বলে আকাশ গাড়ি ড্রাইভ করা শুরু করলো

কথা আকাশের কথা পাত্তা না দিয়ে আরশি আর রিয়ার সাথে গল্প শুরু করে দিলো। শপিংমলের সামনে এসে আকাশ গাড়ি দাঁড় করালো। আর বলতে লাগলো,
আমার আজকে শিক্ষা হয়ে গেছে বাপু এমন ভুল আর আমি জীবনে কোনোদিন ও করবো না – আকাশ
ভুল তো তুই সারাজীবন করেই এসেছিস। আর বাকি জীবন করেই যাবি। কিন্তু আজকে হঠাৎ আবার তুই কি ভুল করলি – কথা

আরে তোদের মত তিন বাঁচাল মহিলাকে গাড়িতে বসিয়ে নিয়ে এসেছি এটাই মনে হয় আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল – আকাশ
কি বলতে চাচ্ছিস সেটা ক্লিয়ার করে বল তুই – আরশি
আরে তোরা তিনজন যে পরিমাণ বাঁচাল। আজকে আমার কানের সব পোকা মরে গেছে – আকাশ
নিজে যে এতগুলো কথা বললি তার কি – রিয়া
আরে তুই জানিস না রিয়া আকাশ তো কথাই বলতে পারেনা। আবার এত কথা কিভাবে বলবে ? – কথা
আলুর বাচ্চা আলু – আকাশ

আমার এখনো বিয়েই হলো না বাবু কই থেকে আসলো আমার – কথা
হইছে বাবা তোরা থাম সবাই। আর ভিতরে চল শপিং মলের এখনো আমাদের হলুদের শাড়ি আর পাঞ্জাবি ঠিক করা বাকি বিয়ের মাএ পাঁচ দিন বাকি – আরশি
হুম চল – আকাশ

প্রথমে সবাই গেলো আকাশের জন্য পাঞ্জাবি কিনতে। পাঞ্জাবি কেনা শেষ হতেই সবাই শাড়ি দেখা শুরু করলো। এক দোকানের প্রায় সব শাড়ি দেখার পরই মেয়েদের একজনের ও কোনো শাড়ি পছন্দ হয়নি। তাই বের হয়ে অন্য দোকানে যেতে লাগলো। তখন আকাশ বললো,
এখন দোকানে না গিয়ে চল আগে হোটেলে যেয়ে লান্স শেষ করি। তারপর শাড়ি দেখবো কেমন – আকাশ
হুম ঠিক বলেছিস আমার অনেক খিদে লেগেছে – রিয়া
আচ্ছা চল সবাই – আরশি

লান্স শেষ করে সবাই আবার নানা দোকানে শাড়ি দেখতে শুরু করলো। কোনো মতেই কারোর শাড়ি পছন্দ হচ্ছিল না। তাই আকাশ বললো এবার সবার জন্য ও শাড়ি ঠিক করবে।মেয়েরা ও আকাশের কথায় রাজি হয়ে গেলো। তারপর আকাশ সবাইকে শাড়ি পছন্দ করে দিলো। আরশি রিয়া আর কথার শাড়ি একই কিন্তু রঙ ভিন্ন। কথার শাড়ি হলুদ রঙের,রিয়ার শাড়ি সবুজ রঙের আর আরশির শাড়ি লাল রঙের। শাড়ি কেনা শেষে সবাই ঘুরে ঘুরে নিজেদের বাকি টুকিটাকি জিনিসপত্র কিনতে লাগলো।

আকাশের একটা কল আসায় সে সবাইকে বলে শপিংমলের বাইরে চলে গেলো। ঘুরতে ঘুরতে কথা দেখতে পেলো রূপ একটি মেয়ের সাথে শাড়ির দোকানে ঢুকলো। কথা রূপকে দেখে সেদিকে এগিয়ে গেলো। রূপ নিজে মেয়েটাকে শাড়ি পছন্দ করে দিলো। তারপর দুজনে ঘুরে ঘুরে আরে কিছু জিনিস কিনলো। কথার নজর রূপ আর সেই মেয়েটার দিকেই ছিল সবসময়। কেনাকাটা শেষ হতেই রূপ আর মেয়েটি চলে গেলো। তখনি আকাশ এসে কথার পাশে দাঁড়ালো।কথা আকাশকে বললো,

আমার আর ভাল লাগছে না আকাশ আমি অনেক ক্লান্ত। বাসায় যাব – কথা
কি হইছে? তোর কি শরীর খারাপ লাগছে বল আমাকে – আকাশ
না আমি সম্পূর্ণ ঠিক আছি। শুধু একটু ক্লান্ত লাগছে আর মাথা ব্যাততা করছে – কথা।
ঠিক আছে তুই নিচে যা। গিয়ে গাড়িতে বস আমি ওদের দুজনকে নিয়ে আসি – আকাশ
আচ্ছা – কথা

বাসায় আসতে আসতে সন্ধ্যা ৭ টা বেজে গেলো।বাসায় এসে জানতে পারলো রূপ বাসায় নেই। কোন প্রয়োজনে জানি বাইরে গিয়েছে। কথাটি শুনো কথার মুখে ফুটে উঠলো তাচ্ছিল্যের হাসি। সবার সাথে কথা বলে সে কথা রুমে আসলো।

তারপর ভাবতে লাগলো রূপ আর মেয়েটার কথা। সে একা একাই বলতে লাগলো,
তাহলে এটা তোমার সেই যোগ্য মেয়ে তাই তো রূপ ভাইয়া। হুম সত্যি সে অনেক সুন্দরী। তোমার পাশে তাকে অনেক মানাবে। আর আমি হ্যা আমার তো কোনো যোগ্যতাই নেই তোমার পাশে দাঁড়ানোর। এই কারণেই বদলে গেলাম।তুমি যে কি চাচ্ছো আমি বুঝতে পারছি না। কেন হচ্ছে আমার সাথে এসব – বলে কথা কান্না করতে লাগলো

Be Continue.....

21/12/2025
রূপকথা পর্ব ৩***নিচে থেকে রুহি চৌধুরী রূপ বলে ডাকতেই কথার কাছে থেকে সরে দাঁড়ালো রূপ। তারপর চারিদিকে তাকিয়ে কথাকে উদ্দেশ্...
06/12/2025

রূপকথা পর্ব ৩

***
নিচে থেকে রুহি চৌধুরী রূপ বলে ডাকতেই কথার কাছে থেকে সরে দাঁড়ালো রূপ। তারপর চারিদিকে তাকিয়ে কথাকে উদ্দেশ্য করে বললো,
এখনি নিচে আয় তুই। নাহলে আমি আবার আসবো। তখন কোলে করে নিচে নিয়ে যাব – বলে রূপ নিচে চলে গেলো।

রূপ নিচে যাওয়ার সাথে সাথে কথা আবার রুমের দরজা বন্ধ করে দিলো।যাবেনা সে নীচে।কেন যাবে সে ? সে কি রূপকে ভয় পায় নাকি।মোটেও না কথা রূপকে একটু ও ভয় পায়। লোকটা নিজেকে কি যে ভাবে আল্লাহই জানে। কি করে সাহস পায় সে কথাকে স্পর্শ করার। কি যে চাচ্ছে লোকটা তা কথার মোটেও বোধগম্য হচ্ছে না।কথা চায় না রূপকে নিয়ে ভাবতে। রূপকে নিয়ে তার মনে যে সব অনুভূতি ছিল সেগুলো গভীর রাগ আর অভিমানের মাঝে চাপা পরে গিয়েছে। কথা আর ভাবতে চাচ্ছে না কিছুই। ঘড়িতে দেখলো দশটা বেজে গেছে রাত।সে ঘরের লাইট বন্ধ করে দিয়ে শুয়ে পরলো।

রাত ২ টা বাজে। চারিদিক নীরব হয়ে রয়েছে। মাঝেমধ্যে দুই একটা কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছে। শীত কাল চারিদিকে কুয়াশা। এমন সময় কথার রুমের বেলকনি দিয়ে ভিতরে ঢুকলো একজন লোক। লোকটি আর কেউ না সে হচ্ছে রূপ। রূপ রুমে ঢুকে দেখলো কথা ঘুমিয়ে আছে। গায়ের কম্বল অন্য পাশে পরে আছে। কথাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে তার শীত লাগছে। তাই রূপ গিয়ে কথার গায়ের উপর কম্বলটা সুন্দর করে দিয়ে দিলো। তারপর কথার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলতে লাগলো,

হয়তো তোর জানায় ভুল ছিল নয়তো আমার কাজে ভুল ছিল।এত টা যে বদলে যাবি এটা আমি বুঝিনি।আঘাতটা হয়তো খুব বেশিই দিয়ে ফেলেছি।কিন্তু আমি নিজ ইচ্ছেতে এসব করিনি।তোর জন্যই যে সব করেছি। আমার উপর তোর এত এত রাগ এত এত অভিমান তৈরি হয়ে গেছে তাই না। কিন্তু আমি যে নিরুপায় ছিলাম।অনেক হয়েছে এখন থেকে আমি আর কোনোরকম ছাড় দিব না। দরকার পরলে জোর করে তোকে নিজের সাথে বেধে রাখবো। আমি তোকে পাওয়ার জন্য সবকিছু করতে পারি কথা। – কথাগুলো এক নাগাড়ে বলে থামলো রূপ
তারপর কিছু সময় মাথার পাশে বসে থেকে। কথার কপালে একটি ভালোবাসার পরশ একে দিয়ে রূপ আবার বেলকনি দিয়ে নিজের ঘরে চলে গেলো।
সকালে আরশির ডাকে ঘুম থেকে উঠে কথা। বিরক্ত নিয়ে আরশির উদ্দেশ্য কথা বলে,
কি সমস্যা অরু তোর। আজ তো ভার্সিটি বন্ধ। তো এই শীতের মধ্যে এত সকালে উঠালি কেন। সর যা আমি ঘুমাবো। – বলে কথা আবার শুয়ে পরলো
আরু কথাকে টেনে উঠিয়ে বলতে লাগে,,
৮ টা বেজে গেছে কথা – আরশি

হুম তো – কথা
আজকে কি – আরশি
আজকে শুক্রবার। আর কি – কথা
আরে বাবা। আজকে আমাদের কি প্ল্যান ছিল সব ফ্রেন্ড দের – আরশি
কি জানি মনে নেই আমার – কথা

আরশি উঠে গিয়ে এক গ্লাস পানি নিয়ে এসে কথার মুখের উপর ঢেলে দিয়ে বলতে লাগলো,
এখনো কি তোর ঘুম পাচ্ছে কথু – আরশি
অরুর বাচ্চা আমি তোকে খুনই করে ফেলবো আজ। তুই আমার ঘুমের মার্ডার করেছিস।আজকে আমিও তোকে মার্ডার করে ফেলবো – কথা

আমার কোনো দোষ নেই। আকাশ তোকে কল দিচ্ছে। রিসিভ কর ও তোকে সব বলবে। আজকে যে কতগুলো বকা খাবি তুই কথু – বলে হাসতে হাসতে রুম ত্যাগ করলো আরশি
কথা ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো ফোন বন্ধ। ফোন অন করতেই স্কিনে ভেসে উঠলো আকাশে ৪০+ কলের আর অসংখ্য মেসেজের নোটিফিকেশন।তাই কথা আবার আকাশকে কল ব্যাক করলো। সাথে সাথে রিসিভ করলো আকাশ,

কতগুলো কল করেছি আর মেসেজ দিয়েছি – আকাশ
সরি রে আমি ঘুমে ছিলাম – কথা
তো ঘুমে থাকলে কি এতগুলো কলের শব্দ কানে যায় না – আকাশ

আরে এটা কখন বললাম।আমাকে অরু মাএ ঘুম থেকে উঠালো।তারপর ফোন হাতে নিয়ে দেখি ফোন বন্ধ তারপর ফোন চালু হওয়ার সাথে সাথে তোকে মেসেজ দিলাম।এখন বল এখানে কি আমার কোনো দোষ আছে – কথা
না, তোর কি কখনো কোনো দোষ থাকতে পারে।সব দোষ হচ্ছে আমার তাই না – আকাশ
আরে বাবা আর রাগ করতে হবে না।এখন বল তো আজকে কি আর তোরা দুজন কেন আমার ঘুমটাকে মার্ডার করলি।- কথা

আরে তুই না নিজেই প্ল্যান করলি আজকে আমরা সব ফ্রেন্ড রা মিলে ঘুরতে যাব।তুই কিভাবে ভুলে গেলি এটা? – আকাশ
ও আচ্ছা মনে পরছে। তো কখন বের হবি – কথা
১০ টায় বের হয়ে একটু ঘুরবো। তারপর লান্স করবো বাইরে। তারপরে ঘুরবো আর সেই সাথে রিয়ার বিয়ের জন্য আমাদের বাকি শপিংগুলো ও করে ফেলবো বুঝলি – আকাশ
আচ্ছা ঠিক আছে।এখন যাই টাটা – কথা
হুম টাটা – আকাশ

কথা বলা শেষে কতা ফ্রেশ হয়ে নিচে নামলো। এতক্ষণে সবার ব্রেকফাস্ট করা শেষ কথা জানে৷আব্বু আর বড়আব্বু অফিসে চলে গেছে। তাদের সাথে রূপও অফিসে চলে গেছে। সেই কারণে কথা নিশ্চিন্তে নিচে আসলো। কিন্তু নিচে আসতেই তার ভাবনা ভুল প্রমাণিত হলো।কারণ রূপ ড্রইংরুমে সোফায় বসে আছে। পরনে তার অফিসের ড্রেস।কিন্তু ও এখনো অফিসে যাইনি কেন সেটা কথা জানেনা।রূপকে বসে থাকতে দেখে ও কথা সেদিকে পাত্তা না দিয়ে কিচেনে চলে গেলো। কথাকে দেখে রুহি চৌধুরী বললো,

রাতে খেতে আসলি না কেন মা? – রুহি চৌধুরী
আসলে বড়আম্মু খেতে ইচ্ছে করছিলো না তাই আর আসিনি। কিন্তু এখন খিদের জন্য আমার পেটে ইঁদুর দৌড়াচ্ছে। – কথা
টেবিলে তোমার কাবার রাখা আছে। আমি কিছুক্ষণ আগে রেখে এসেছি। গিয়ে খাওয়া শুরু করো আমি কফি নিয়ে আসছি – নীলা চৌধুরী
ওকে আম্মু – কথা

ব্রেকফাস্ট শেষে কথা ছাদে চলে গেলো। ছাদে গিয়ে কানে হেডফোন লাগিয়ে নিজের পছন্দের একটি গান ছেড়ে বসে পরলো। কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পরই কথা বুঝতে পারলো তার পাশে কেউ বসে আছে।পাশে তাকাতেই দেখতে পেলো রূপকে।
তুমি এখানে কি করছো ভাইয়া – কথা
তোর জন্যই আসছি। তুই কালকে রাতে আমি বলার পর ও খেতে আসিসনি কেনো। আমার কথার কি কোনো দাম নেই তোর কাছে – রূপ

না নেই। – বলে কথা ওখানে থেকে চলে আসতে নিবে তখনই রূপ তার হাত ধরে তাকে আটকিয়ে ফেললো।
কথাকে নিজের কাছে নিয়ে এসে বলতে লাগলো,
আমার কথার অবাধ্য হওয়া আমি মোটেও পছন্দ করি না। তুই বার বারই সেই একই ভুল করছিস কথা – রূপ
তুমি আমার হাত ছাড়ো। কোনো রকম অধিকার নেই তোমার আমার হাত ধরার – কথা
তোর উপর যদি কারোর অধিকার থাকে সেটা শুধুই আমার।তো দ্বিতীয় বার আমার অধিকার নিয়ে কথা বলার আগে ভেবে নিস কার কাছে কি বলছিস – রূপ

কল্পনার জগত থেকে বের হন মিস্টার রূপ চৌধুরী। আমি সেই আগের কথা নেই যে আপনার শত অবহেলা অপমানের পরে ও আপনার পিছু পিছু ঘুরবো। আজকের কথা আর আগের কতার মাঝে প্রচুর তফাত । যা আপনি ধীরে ধীরে খুব ভাল ভাবে বুঝে যাবেন।জাস্ট ওয়েট এন্ড সি মিস্টার রূপ চৌধুরী -কথা
রূপ আর কিছু না বলে কথার হাতটা ছেড়ে দিলো। ছাড়া পাওয়ার সাথে সাথে কথা নিজের রুমে চলে গেলো। কিন্তু রুমে ঢুকতেই কথা দেখলো সেখানে

পর্ব ১= https://sheragolperbahar.blogspot.com/.../blog-post_60.html

পর্ব ২= https://sheragolperbahar.blogspot.com/2025/12/blog-post_6.html

রূপকথা পর্ব ২***হুম আলু তুই আমাকে ধরে বস। আমি ও চালানো শুরু করছি – আকাশদূর থেকে আকাশ আর কথাকে এতোটা ক্লোজ ভাবে দেখে যে এ...
03/12/2025

রূপকথা পর্ব ২

***
হুম আলু তুই আমাকে ধরে বস। আমি ও চালানো শুরু করছি – আকাশ
দূর থেকে আকাশ আর কথাকে এতোটা ক্লোজ ভাবে দেখে যে একজনে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে এটা ওদের জানা হলো না। ওরা চলে যেতেই লোকটি বলে উঠলো,,
তোমার অনেক কিছু জানার বাকি আছে কথা। আমার অপেক্ষা না করেই যে তুমি এতবড় একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিবা আমি ভাবিনি।

আকাশ আর কথা ভার্সিটিতে ঢুকতেই তাদের দিকে একজন মেয়ে এগিয়ে আসলো। এসেই বলতে শুরু করলো,,
তোরা আসতে এত লেট করলি কেন – রিয়া
আমরা কখন লেট করলাম।আমরা তো ঠিক সময়ই এসেছি। – কথা
আমি আরো এক ঘন্টা আগে এসেছি। – রিয়া
তুমি তো আসছো তোমার উনির সাথে ইটিশপিটিশ করতে। আমাদের তো আর কোনো উনি নাই তাই আমরা এক ঘন্টা পরেই আসি – বলে আকাশ হাসতে শুরু করলো। সাথে যোগ দিলো কথা ও।
দেখ আকাশ ভাল হচ্ছে না কিন্তু। আর ইটিশপিটিশ কি হুমম ? – রিয়া
ওরে তুমি তো দেখি শিশু বাচ্চা। কিছুই বুঝো না। তুই প্রেম করে আর এক সাপ্তাহ পরে বিয়ে ও করে ফেলবি। আমরা কি করলাম জীবনে – আকাশ

তোর মত খাটাশের সাথে কোন মেয়ে প্রেম করবে ? – কথা
দেখ আলু এটা কিন্তু ঠিক না। আর তুই যেমন মিঙ্গেল। তুই ও তো আমার মতো সিঙ্গেলই। দুজনে আমরা এক গোয়ালেরই গরু।- আকাশ
এটা অবশ্য ঠিক। আচ্ছা শোন আজকে আমরা ক্লাস করবনা। – রিয়া
তো কি করবো আমরা? – কথা
আজকে আমরা সবাই একটু শপিং করতে যাবো। বিয়ের মাএ কিছু দিন বাকি। আচ্ছা আমি তো খেয়ালই করিনি অরু কোথায়? – রিয়া

হ্যা ঠিকই তো। অরু কোথায় রে আলু? আজকে আসেনি কেন? – আকাশ
আজকে ওর ভাই আসবে তাই আসেনি। তো চল আমরা শপিং এ যাই – কথা
হুম কথা তুই আকাশের সাথে যা। আমি রিয়ানের সাথে আসছি।- রিয়া
হ আমরা যাই দুজনে। তোমরা নিব্বা নিব্বির মত প্রেম করতে করতে আসো -আকাশ
(রিয়া হচ্ছে কথার আরেক বেস্ট ফ্রেন্ড।পুরো নাম রিয়া খান। রিয়ার বিয়ে আরো এক সাপ্তাহ পরে।আর রিয়ান হচ্ছে রিয়ান হবু বর। সাথে ওদের ভার্সিটির টিচার। বাকিটুকু গল্পে জানতে পারবেন)
অন্য দিকে,

চৌধুরী বাড়িতে সকলে মেতে উঠেছে রূপকে নিয়ে। রূপ ও সবার সাথে খুশি মনে মেতে উঠেছে। আরশি বললো,
ভাই – আরশি
হুম বল – রূপ
তুমি আমার জন্য কি নিয়ে আসছো – আরশি

এই যে তোর আস্ত জলজ্যান্ত ভাই আমি নিজে এসেছি তোর জন্য। তোর আর কি চাই হুম – রূপ
তাও তো আসছোই। কিন্তু তুমি যে আসছো সেই উপলক্ষে আমার গিফট কই – আরু
আচ্ছা ঠিক আছে। তোমাদের সবার জন্য আমি গিফট এনেছি।সবাই বসো তোমাদের দেখাচ্ছি – রূপ
রূপ একে একে সকলের হাতে তাদের জন্য আনা গিফট দিলো।তারপর বলতে লাগলো,
তোমাদের সবার ভাল লেগেছে তো? – রূপ
এসবের কি কোনো প্রয়োজন ছিল রূপ। আমাদের ছেলে যে এসেছে এতেই তো আমরা কত খুশি। আমাদের আর কি চাই – নীলা চৌধুরী
ঠিক বলেছিস ছোট। – রুহি চৌধুরী
প্রয়োজন অপ্রয়োজন কি হুম।তোমরা সবাই হচ্ছো আমার ভালোবাসার মানুষ। আর ভালোবাসার মানুষদের তো গিফট দেওয়াই যায় – রূপ

ভাই সব ঠিক আছে। কিন্তু – আরশি
কিন্তু আবার কি ? তোর কি গিফট পছন্দ হয়নি – রূপ
না তা নয়।গিফট আমার অনেক ভাল লেগেছে কিন্তু তুমি তো সবার জন্য কিছু না কিছু আনলে তো কথার জন্য কি কিছু নিয়ে আসো নাই ? – আরুশি
না। – রূপ
গিফট না এনেই ভাল করেছো ভাইয়া।আসলে আমি সবার থেকে গিফট জিনিসটা নিতে পছন্দ করিনা।যদি আনতে তাহলে তা তোমাকে ফিরিয়েই দিতাম।তো তার থেকে এটাই ভালো হয়েছে তুমি গিফট আনোনি। মা আমি বাইরে থেকে লান্স করে এসেছি তো এখন আর কিছু খাবনা। আর আরু তুই একটু আমার রুমে আসিস তোর কিছু জিনিস আমার কাছে – বলে কথা তার নিজের ঘরে চলে গেলো।

ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে কথা ভাবতে লাগলো কিছুক্ষণ আগের কথা। শপিং শেষে সবাই যে যার বাসায় চলে যায়। কথা ড্রইংরুমে প্রবেশ করেই শুনতে পেলো আরু আর রুপের কথোপকথন।আগের কথা হলে হয়তো সে এখন কিছু বলতো না। নীরবে রুমে এসে কান্না করতো।কিন্তু সে তো এখন বদলে গিয়েছে। সে আর আগের কথা নেই।তার মন এখন আর রূপ নামের মানুষ টার উপর দূর্বল না।তাই তো জবাব দিয়ে এসেছে রূপের কথার।এসব কিছু ভেবে কথা গোসল করে এসে বিছানায় শুয়ে পরলো। শপিংমলে ঘুরতে ঘুরতে সে পুরো ক্লান্ত হয়ে গিয়েছে।

সন্ধ্যা সময় ঘুম ভাঙতেই কথা ফ্রেশ হয়ে নিচে চলে গেলো। গিয়ে দেখলো রূপ আরশি বড়মা আর মা আড্ডা দিচ্ছে। কথা সেদিকে পাত্তা না দিয়ে কিচেনে চলে গেলো। গিয়ে নিচের জন্য এক কাপ কফি বানালো।তারপর রুমে আসতে লাগলো।তকন তাকে আরশি দেখে বললো,
কথু আয় এখানে সবাই আড্ডা দিচ্ছি। -আরশি

না আমার ভাল লাগছে না রুমে যাবো। ভাল লাগলে পরে আসবো- বলে কথা রুমে চলে গেলো
আমার মেয়েটা যে কেন এমন হয়ে গেলো বুঝি না। এক সময় যে মেয়ে পুরো চৌধুরী বাড়ি মাতিয়ে রাখতো। এখন সে রুমে থেকেই বের হতে চায় না – নীলা চৌধুরী
হুম এটা আমি ও লক্ষ্য করেছি আগে তাও ঘরে থেকে অত্যন্ত বের হতো। এখন তো প্রয়োজন ছাড়া বেরই হয়না।কখন আসে কখন যায় তাও জানিনা। – রুহি চৌধুরী

কিছু তো একটা হয়েছে কথুর। কিন্তু ও কাউকে বলছে না। আগে তো আমাকে সবকিছু বলতো। এখন আমার সাথে ও ওর কেমন জানি একটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। এখন ও কারোর সাথেই কথা বলেনা।মোটামুটি যাই একটু আকটু বলে তাও আকাশের সাথেই বলো – আরশি
রূপ সবকিছু লক্ষ্য করলো। কথা সত্যি অনেক বদলে গিয়েছে। আগে যে কথা প্রতিমুহূর্ত রূপ ভাইয়া রূপ ভাইয়া করে তাকে পাগল করতো। এখন সে কথা এতদিন পর আসার পরেও এতক্ষণে তার সাথে ভালো মন্দ কোনো কথাই বলেনাই। হয়তো সত্যি কথা বদলে গিয়েছে।

রাতে ডিনার টাইমে রুহি চৌধুরী রূপকে বলে কথাকে ডেকে নিয়ে আসতে। আজকে সবাই একসাথে খাবার খাবে। রূপ ও যায় কতার রুমে। দরজায় গিয়ে নক করতেই কথা ভেতর থেকে বলে –
মা আমি খাবনা। – কথা
আমি চাচী না আমি রূপ।দরজা খুল কতা আছে – রূপ
কথা দরজা খুলে দেয়। রূপ রুমের ভিতরে চলে আসে। তারপর দরজা বন্ধ করে দেয়।কথা বলে উঠে,
কি ব্যাপার ভাইয়া কি বলবা আর দরজা কেন বন্ধ করলে? – কতা
খেতে যাবি না কেন? – রূপ

খিদে লাগেনি তাই খাবনা। তুমি এখন যাও আমি ঘুমাবো – কথা
হঠাৎই রূপ কথাকে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে বলতে লাগে,
সমস্যা কি তোর? আসার পী থেকেই আমাকে ইগনোর করছিস। ভাল লাগছে না কিন্তু আমার – রূপ
আমাকে ছাড়ো ভাইয়া।আমাকে ধরার অধিকার কোথায় পেলে তুমি। ছাড়ো আমাকে ।- কথা
রূপ আরেকটু চেপে ধরে কথাকে আর বলে,

আমার মাথা গরম করো না। আমি একবার রেগে গেলে কিন্তু ফল ভাল হবেনা – রূপ
ভাইয়া তুমি যা মন চায় তাই কর। আর আমার রুম থেকে বেরোও – কথা
তুই এখনি নিচে যাবি আমার সাথে। নাহলে – কথার মুখের দিকে একটু এগিয়ে গিয়ে বললো রূপ
নিচে থেকে রুহি চৌধুরী রূপ বলে ডাকতেই কথার কাছে থেকে সরে দাঁড়ালো রূপ। তারপর চারিদিকে তাকিয়ে কথাকে উদ্দেশ্য করে বললো,
এখনি নিচে আয় তুই। নাহলে আমি আবার আসবো। তখন কোলে করে নিচে নিয়ে যাব – বলে রূপ নিচে চলে গেলো

পর্ব ১= https://sheragolperbahar.blogspot.com/2025/11/blog-post_60.html

এক মুঠো কাঁচের চুরি _ পর্ব ১৩***সারাদিন পেড়িয়ে বিকাল গড়িয়ে আসছে।ফুটপাতের রাস্তা ধরে হাঁটছে ইফাদ আর চৈতালি।চৈতালি’র মুখ ব...
03/12/2025

এক মুঠো কাঁচের চুরি _ পর্ব ১৩

***
সারাদিন পেড়িয়ে বিকাল গড়িয়ে আসছে।ফুটপাতের রাস্তা ধরে হাঁটছে ইফাদ আর চৈতালি।চৈতালি’র মুখ বাংলার পাঁচের মতো হয়ে আছে।রাগী দৃষ্টিতে ভাইয়ের দিকে তাকাচ্ছে বারবার।ইফাদের মুখ গম্ভীর্য ভাব বিদ্যমান।দু’জন বাসার কাছে চলে এসেছে।চৈতালি রেগে বলল।
–ভাইয়া’র বাচ্চা তুমি এতটা খারাপ আগে জানলে..
চৈতালির কথা শুনে ইফাদ পেছনে ঘুরে দেখতে লাগলো।চারিদিকে ঘুরে চৈতালির দিকে তাকালো।
–এভাবে কি খুঁজছো।
–আমার বাচ্চাকে।
–এ্যাঁ”!

–তুই তো’ আমার বাচ্চাকে ডাক দিলি।কোথায় আমার বাচ্চা।এখন আমাকে আমার বাচ্চা দে’।
–তুমি সেই খারাপ ভাইয়া আমি ভাবিকে সব বলে দিব।
ইফাদ রাগী দৃষ্টিতে চৈতালির দিকে তাকালো।চৈতালি দৌড়ে বাসার মধ্যে চলে গেলো।ইফাদ-ও চৈতালির পেছনে গেলো।চৈতালি বাসায় এসে নিজের রুমে প্রবেশ করলো।তারপরে নিজের রুমের দরজা বন্ধ করে দিল।ইফাদ আসলে,চৈতালি’কে তাজাই খেয়ে ফেলবে।

তানহা দুপুরের নামাজ পড়ে,ইফাদ আর চৈতালির জন্য অপেক্ষা করছিল।কখন যে,ঘুমিয়ে গিয়েছে।সে,নিজেও জানে না।ইফাদ রুমে প্রবেশ করে,কিছুক্ষণ ঘুমন্ত তানহার দিকে তাকিয়ে থাকলো।একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফ্রেশ হতে চলে গেলো’।
ইফাদ খেতে বসেছে।রোকেয়া বেগম আর ইফাদে’র কথার আওয়াজে তানহা’র ঘুম ভেঙে গেলো।তাড়াতাড়ি করে উঠে বসলো।ঘুমের রেশ এখনো কাটে নাই।ইফাদের গলার আওয়াজ শুনে বুকের ভেতরে ধুকপুকানির আওয়াজ বাড়তে শুরু করেছে।আবার-ও সেই ভয় এসে মনে হানা দিয়েছে।একটু শান্তিতে ঘুমিয়ে ছিল।ইফাদের গলার আওয়াজ সব শান্তি নিমিষেই উধাও করে দিল।

তানহা উঠতে যাবে।তখনই ইফাদ রুমে প্রবেশ করে।অসহায় দৃষ্টিতে ইফাদের দিকে তাকিয়ে আছে।ইফাদ ফোনটা নিয়ে বেড়িয়ে গেলো।তানহা উঠে ইফাদের পিছু পিছু গেলো।তানহা’কে নিজের পেছনে দেখে ভ্রু কুঁচকে গেলো ইফাদের।ইফাদ আবার নিজের রুমে আসলো।তানহা-ও ইফাদের পেছনে আসলো।তানহাকে উসখুস করতে দেখে ইফাদ বলল।

–সমস্যা কি’ এভাবে পিছু পিছু ঘুরছো কেনো?
–বিশ্বাস করুন আমি জানতাম না আবির ভাই চৈতালির কলেজের শিক্ষক।জানলে কখনোই যেতাম না।আবির ভাই যে,চুড়িটা আপনাকে দিয়েছে।সেটা আমার চুড়ি না।

তানহার কথা শুনে ইফাদের গম্ভীর্য মুখটা আরো গম্ভীর হয়ে গেলো।ইফাদ একদম স্তব্ধ হয়ে গেলো।ইফাদের নীরবতা তানহাকে বেশি কষ্ট দিচ্ছে।মনের মধ্যে ঝড় বইয়ে যাচ্ছে।ইফাদ কি’ তানহার মনের অবস্থা দেখতে পাচ্ছে না।তাহলে কেনো নীরব রয়েছে।ইফাদের থেকে কোনো উওর না পেয়ে।তানহা দু-চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।দু’জনে-ই সামনাসামনি দাঁড়িয়ে আছে।দু’জনেই নীরব।তানহা মাথা নিচু করে আছে।অনবরত চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।এক হাত দিয়ে চোখের পানি মুছছে বারবার।

যারা এখান থেকে গল্প পড়ছেন সবাই এই লেখায় ক্লিক করে অ্যাপস একবার ইনস্টল করে দেখেন

তানহার অবস্থা দেখে ইফাদ শব্দ করে হেসে ফেললো।ইফাদের হাসি দেখে তানহা চোখ তুলে ইফাদের দিকে তাকালো।কি’ সুন্দর সেই হাসি।ইফাদের ভুবন ভুলানো হাসি দেখে,নিমিষেই তানহার সব দুশ্চিন্তা দূর হয়ে গেলো।পলকহীনভাবে ইফাদের দিকে তাকিয়ে আছে।হাসলে মানুষটাকে কত সুন্দর দেখায়।তানহার মনে হচ্ছে,সময়টা যদি থেমে যেত।ইফাদের হাসি মুখটা দেখে হাজার বছর কাটিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে তানহার।ইফাদ নিজের হাসি কিছুতেই থামাতে পারছে না।ইফাদের হাসি দেখে তানহা-ও হেসে ফেললো।তানহার হাসি দেখে ইফাদ হাসি থামিয়ে ভ্রু কুঁচকে তানহার দিকে তাকালো।

–তুমি হাসছো কেনো?
–আপনি হাসছেন তাই!
–আমি তো’ একটা কারনে হাসছি।তুমি কারন ছাড়াই হাসছো।
–আমার সামনে কেউ হাসলে,আমার খালি হাসি পায়।
–তুমি না কান্না করছিলে,এখন হাসলে কেনো?নাও আবার কান্না শুরু করো।তুমি আবার ছেলেদের সাথে কথা বলেছো।এটা তোমার শাস্তি।

তানহা অসহায় দৃষ্টিতে ইফাদের দিকে তাকালো।ইফাদের কথা শুনে তানহার মনটা আবার খারাপ হয়ে গেলো।তানহাকে অবাক করে দিয়ে।ইফাদ তানহার দুই গাল স্পর্শ করে যত্ন সহকারে দু-চোখের পানি মুছে দিল।
–তুমি কান্না করছো কেনো?তুমি কি কোনো অন্যায় করেছো পাগলি।আমি তোমাকে কিছু বলেছি।তোমার দু-চোখ কান্না মানায় না।সব সময় হাসবে দেখো তো’ তোমাকে হাসলে কত সুন্দর দেখায়।

–আপনি আমাকে আবার ভুল বুঝেছেন তাই না আমি জানি।
–তানহা তুমি একটা পবিত্র ফুল।আমি এই পবিত্র ফুলটাকে কিভাবে ভুল বুঝবো বলতো।আমি জানি আমার বউজান কেমন।তুমি আমাকে এতটাই খারাপ মনে করো।আমি কি এতটাই খারাপ তানহা।যে,চোখের দেখা দেখে,সত্যি মিথ্যা যাচাই না করে।তোমাকে ভুল বুঝবো।

তুমি আমার বাগানে ফোঁটা জ্যান্ত গোলাপ ফুল।আমি এই ফুলটাকে কিভাবে কষ্ট দিতে পারি।আমি তো’ তোমার সাথে এমনি এমন করছিলাম।তুমি রাগ করে ছিলে,আমার সাথে কথা বলছিলে না।আমার অনেক খারাপ লাগছিল।আমি ইচ্ছে করে এমন করছি।এমন না করলে তুমি আমার সাথে কথা বলতে।এমন করলাম দেখেই তুমি আমার সাথে কথা বললে।
তানহা হতভম্ব হয়ে ইফাদের দিকে তাকালো।

–আপনার মতো বাজে লোক দু’টো দেখি নাই।আমাকে বোকা বানানো।আজকে রাতে আপনার ভাত বন্ধ।
–লক্ষি সোনা বউ আমার এমন করে না।তোমার জন্য সারপ্রাইজ আছে।
–আমার কোনো সারপ্রাইজ লাগবে না।ভয়ে আমার দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয়ে গিয়েছিল।আর উনি মজা নিয়ছে।আপনি একদম আমার সাথে বলেন না।বের হন আমার রুম থেকে।

–এতক্ষণ ভেজা বিড়ালের মতো হয়েছিলে।সত্যি কথা বলে দিলাম।এখন আমার রুম থেকে আমাকেই তাড়িয়ে দিচ্ছো।এই জন্যই বলে,সত্যি কথার ভাত নাই।
তানহা ঝাড়ু হাতে নিলো।তেড়ে ইফাদের দিকে আসতে লাগলো।ইফাদ দৌড়ে বাহিরে চলে গেলো।তানহা রেগে দরজা লাগিয়ে দিল।
ইফাদ জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে।

–কি’ মেয়ে রে’ বাবা নিমিষেই রুপ বদলে ফেললো।এই চৈতালি দরজা খোল।
–আগে আমাকে দশ হাজার টাকা দিবে।তারপরে তোমার জিনিস ফেরত পাবে।
–তুই ছোট মানুষ এত টাকা নিয়ে কি করবি বোঝা আমাকে।
–তুমি ভাই নিরামিষ মানুষ।এসব জিনিস পত্র কিভাবে তোমার বউকে দিবে।এসব বরং আমার কাছেই থাক।আমি ব্যবহার করবো।

–আমার কিন্তু খুব রাগ হচ্ছে চৈতালি।সন্ধ্যা হয়ে আসছে।
–আগে টাকা দিবে।
–তোর এত সাহস তুই আমার মুখের ওপরে কথা বলিস।
–মার খেলে খাব।তবু্ও টাকা নিব।
–আমার কাছে এত টাকা নাই।তুই পঞ্চাশ টাকা নে’ বোন।আমার জিনিস আমাকে দিয়ে দে’।
–সারাদিন আমাকে খাটিয়েছো।আমাকে মাত্র পঞ্চাশ টাকা দিবে।তোমার জিনিস তোমাকে দিতে চেয়ে ছিলাম।কিন্তু এখন দিব না।

–লাগবে না তোর জিনিস।আমি বাসার বাহিরে চলে গেলাম।ইফাদ রেগে পারার মোরে চলে গেলো।চৈতালি দরজা খুলে দেখলো ইফাদ চলে গেছে।হতাশ হয়ে আবার নিজের রুমে চলে গেলো।
ঘড়ির কাটায় রাত নয়টা ছুঁই ছুঁই।তানহা রান্না ঘরে তরকারি গরম করছে।চৈতালি মেঝেতে পাটি বিছিয়ে।খাবার প্লেট গুলো নিয়ে এসে বসলো।রোকেয়া বেগম নিজের ঘরে আছেন।দরজায় কলিং বেল বেজে উঠলো।চৈতালি উঠে গিয়ে দরজা খুলে দিল।

–তোর ভাবি কই।
–রান্না ঘরে তরকারি গরম করছে।
ইফাদ কোনো কথা না বলে রান্না ঘরের দিকে গেলো।
–তুমি একা একা রান্না করছো।আমি তোমাকে সাহায্য করি।
তানহা রেগে ইফাদের শরীরে ঠান্ডা পানি ছুরে মারলো।

–আল্লার কসম তানহা শীত লাগে না।এভাবে কেউ ঠান্ডা পানি ছুরে মারে।
–আমি আলগা দরদ দেখাতে আসতে বলছিলাম।রেগে তরকারি নিয়ে ড্রয়িং রুমে চলে গেলো।ইফাদ হতাশ হয়ে রুমে নিয়ে শার্ট চেঞ্জ করে আসলো।সবাই খেয়ে রুমে চলে গিয়েছে।ইফাদ চৈতালির রুমে আসলো।
–ভাইয়া তুমি সেই খারাপ।আমি মনে করে ছিলাম।ভাবির জন্মদিনে ভাবিকে উপহার দিব।তুমি আমার থেকে সবকিছু জেনে,নিজেই কিনে ফেললে।

টাকা আমার বউ আমার কিনেছি বেশ করেছি।এই ধর তিন হাজার টাকা।
–আমি দশ হাজার টাকা চেয়ে ছিলাম।
–পারলে আম্মুর কাছে থেকে চেয়ে নে’।আমার কাছে আর টাকা নেই।এখন আমার জিনিস আমাকে ফেরত দে’।
–এখন দিয়ে দিচ্ছি।তুমি কিন্তু আম্মুকে বলে সাত হাজার টাকা নিয়ে দিবে।আমার আংটিটা সত্যি খুব পছন্দ হয়েছে ভাইয়া।
–আচ্ছা আমি আম্মুকে বলবো।

চৈতালি অনেক গুলো ব্যাগ এনে ইফাদের হাতে ধরিয়ে দিল।ইফাদ সেগুলো নিয়ে নিজের রুমে আসলো।তানহা কাত হয়ে শুইয়ে ছিল।ইফাদ গিয়ে তানহার পাশে বসে ডাকলো।
–তানহা উঠো না।
–আপনি সরে যান।আমার সাথে কথা বলবেন না।
–আচ্ছা বলবো না।একবার উঠে বসো।
–আমি আপনার কথা শুনতে বাধ্য নই।

ইফাদ তার ঠান্ডা হাত তানহার গালে চেপে ধরলো।তানহা তড়িঘড়ি করে ইফাদের দিকে তাকালো।
–সমস্যা কি’ প্রতিশোধ নিচ্ছেন।
–তুমি আগে উঠো,তারপরে বলছি।
তানহা কোনো কথা বলছে না।চুপ করে শুইয়ে আছে।ইফাদ তানহার হাত ধরে তুলে বসালো।সব গুলো ব্যাগ হাতে দিয়ে বলল।
–তোমার জন্য “বউজান”।

তানহা অবাক হয়ে ইফাদের দিকে তাকিয়ে আছে।এতকিছু তার জন্য নিয়ে এসেছে।ইফাদের মাথা কি’ খারাপ হয়ে গিয়েছে।
–এভাবে তাকিয়ে দেখছো কি’।সবকিছু খুলে দেখো তোমার পছন্দ পছন্দ হয়েছে কি না’।
তানহা সবকিছু খুলে দেখতে লাগলো,কালো রংয়ের একটা বোরকা,কালো রংয়ের শাড়ি,কালো রংয়ের চুড়ি,কিন্তু চুড়িগুলো কাঁচের না।কালো রংয়ের থ্রি-পিস,কালো রংয়ের জুতা।কালো রংয়ের একটা চাদর।সাজার গহনা মোটামুটি সবগুলোই প্রায় কালো।একজোড়া নুপুর-ও আছে।

তানহা অবাক দৃষ্টিতে ইফাদের দিকে তাকিয়ে আছে।আবার অনেক খুশিও লাগছে তানহার।ইফাদ তার জন্য এতকিছু নিয়ে এসেছে।ভাবতেই তানহার চোখ দু’টো চিকচিক করে উঠলো।খুশি হয়ে বলল।
–সবকিছু আমার’।
–না আমার আরো একটা বউ আছে তার জন্য।
–আপনি কি করে জানলেন আমার কালো রং পছন্দ।
–জামাই হই আমি তোমার।আমি জানবো না।তাহলে কে জানবে শুনি।

আল্লাহ এগুলো সব আমার খুব খুশি লাগছে।তানহা খুশি সবকিছু নেড়েচেড়ে দেখছে।তানহার হাসিমাখা মুখটা দেখে,ইফাদে’র মনে প্রশান্তি বাতাস বইয়ে গেলো।মুগ্ধ দৃষ্টিতে তানহার দিকে তাকিয়ে আছে।তানহাকে দেখে মনে হচ্ছে,পৃথিবীর সবথেকে সুখী মানুষটা তানহা।দুইটা বছর তানহার কোনো খোঁজ খবর রাখে নাই ইফাদ।অল্প কয়টা জিনিস পেয়েই মেয়েটা কতটা খুশি।তানহা হাতে চুড়ি গুলো পড়তে পড়তে বলল।

–আমার কিন্তু কাঁচের চুড়ি চাই।আপনি আমাকে ুঠো_কাঁচের_চুরি কিনে দিবেন।
–কাঁচের চুরি পড়া লাগবে না।
–না আমি পড়বো।
–জীবনে প্রথম কিছু চাইলাম।কিনে,দিবেন না।
–না’।তোমাকে সোনার চুড়ি বানিয়ে দিব।

–আমার আর কিছু লাগবে না।আপনি পুরো দোকান আমার জন্য নিয়ে আসছেন মনে হচ্ছে।
–এগুলো কিছু না তানহা।তুমি এখনো আমার থেকে অনেক কিছু পাবে।ইনশাআল্লাহ আমি তোমার সবকিছু পূর্ণ করার চেষ্টা করবো।
–আমার তো’ আপনাকে লাগবে।আপনি আপনাকে দিয়ে দিন।আমার আর কিছু লাগবে না।
–এভাবে বলো না।আমার শরম করে।
–আমি এগুলো একটু পড়ে দেখি।
–তোমার জিনিস তুমি পড়বে,আমাকে বলার কি আছে।
–আপনি একটু বাহিরে যাবেন।
–আমি থাকলে সমস্যা কোথায়।
–এখন শরম করবে না।

রাগ দেখাচ্ছো কেনো?আমি বলেছি যাব না।একটা কথা বলতেই পারি না।সাপের মতো ফোস করে ওঠে।বলতে বলতে ইফাদ চলে গেলো।
তানহা কালো রংয়ের শাড়িটা পড়ে নিল।কালো রংয়ের শাড়িটা তানহার ফর্সা শরীরে একটু বেশি চকচক করছে।তানহার সুন্দর্য দিগুন বাড়িয়ে তুলেছে।তানহা ঠোঁটে হালকা করে লিপস্টিক দিয়ে নিল।সে,তো’ আর বাহিরে যাচ্ছে না।তার স্বামীর জন্যই সাজছে।তানহা দরজা খুলে দিয়ে ইফাদ’কে বলল।

–আমাকে কেমন লাগছে।
–সর্বনাশ করে ফেলছো।
ইফাদের এমন কথায় তানহা ভরকে গেল।
–কি করেছি আমি’।
–বউ তুমি এভাবে বাহিরে যাবে না।আল্লাহ আমার বউ এত সুন্দর।কাক যদি ঠোঁটে করে নিয়ে চলে যায়।তাহলে আমার কি’ হবে।তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে তানহা।

–সত্যি সুন্দর লাগছে।
–হ্যাঁ সত্যি অনেক সুন্দর লাগছে।একদম পরীর মতো।
–একটু বেশি বলে ফেলছেন।
আমার সাথে আসো।ইফাদ তানহাকে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে।তানহার পায়ে নুপুর পড়িয়ে দিলো’।
–মাশাল্লাহ অনেক সুন্দর লাগছে। আমার বউজান’কে!
তানহা লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে ফেললো।

–তানহা তুমি অনুমতি দিলে,আমরা কয়টা ছবি তুলতে পারি।
–আপনি আমাকে ফেসবুক আইডি খুলে দিবেন।
–তুমি ফেসবুকের কথা কিভাবে জানলে।তোমার ফেসবুক ব্যবহার করা লাগবে না।
–কেনো আমি ফেসবুক খুললে,আপনার সব কার্যক্রম ধরে ফেলবো।ভয় পাচ্ছেন।
–তুমি আমার ফোন নিয়ে সবকিছু দেখতে পারো।কিছু নেই আমার ফোনে।আমি মেয়েদের সব সময় ঘৃণা করি।
–আমাকে’ও।
ইফাদ মাথা নিচু করে ফেললো।

–আচ্ছা আমি তোমাকে আইডি খুলে দিচ্ছি।তোমার ফোন নিয়ে এসো।
তানহা ফোন নিয়ে আসতে গেলো।ইফাদ ফ্লোরে বসে পড়লো।নিজের বিছানা তৈরি করে ফেললো।তানহা ফোন নিয়ে এসে ইফাদের পাশে বসলো।ইফাদ তানহার হাত থেকে ফোন নিয়ে ফেসবুক আইডি খুলে দিল।
–রিলেশনশিপের জায়গায় সিঙ্গেল দিবেন।
ইফাদ ভ্রু কুঁচকে তানহার দিকে তাকালো।
তুমি সিঙ্গেল?
–পিওর সিঙ্গেল।আমাকে দেখে কি মনে হয় আপনার।
ইফাদ রাগী দৃষ্টিতে তানহার দিকে তাকিয়ে আছে।
চলবে.................................
পর্ব ১= https://sheragolperbahar.blogspot.com/2025/11/blog-post.html
পর্ব ২= https://sheragolperbahar.blogspot.com/.../blog-post_8.html
পর্ব ৩= https://sheragolperbahar.blogspot.com/.../blog-post_56.html
পর্ব ৪= https://sheragolperbahar.blogspot.com/.../blog-post_33.html
পর্ব ৫= https://sheragolperbahar.blogspot.com/.../blog-post_48.html
পর্ব ৬= https://sheragolperbahar.blogspot.com/.../blog-post_9.html
পর্ব ৭= https://sheragolperbahar.blogspot.com/.../blog-post_26.html
পর্ব ৮= https://sheragolperbahar.blogspot.com/.../blog-post_0.html
পর্ব ৯= https://sheragolperbahar.blogspot.com/.../blog-post_29.html
পর্ব ১০ = https://sheragolperbahar.blogspot.com/2025/11/blog-post_13.html
পর্ব ১১ = https://sheragolperbahar.blogspot.com/2025/12/blog-post.html
পর্ব ১২ = https://sheragolperbahar.blogspot.com/2025/12/blog-post_3.html

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Shera Golper Bahar posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share