06/06/2026
আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে আমেরিকাকে টপকে চীন জিতে যাচ্ছে।যেমন আজ থেকে ঠিক ৪০ বছর আগে একটি দেশেরও এমন উত্থান দেখা গিয়েছিল।যেমনটা আজ চীনের।
•~ বিগত ৬ মাসে মার্কিন ডলারের বিপরীতে চীনা মুদ্রা ইউয়ানের মান প্রায় ৪.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
•~ সবাই এখন একই আওয়াজ উঠছে "চীন জিতে যাচ্ছে, আর আমেরিকা হেরে যাচ্ছে।"
•~ তবে এই ছবির পেছনে সম্পূর্ণ অন্য এক বিপদের আভাসও পাওয়া যাচ্ছে।
•~ কারণ আজ থেকে ঠিক ৪০ বছর আগে বিশ্বের অন্য একটি দেশের মুদ্রার মানও ঠিক এইভাবে আচমকা আকাশচুম্বী হয়েছিল। আর সেই দেশটি আজ অব্দি সেই ভুলের চড়া মাসুল গুনে চলেছে।
•~ ইতিহাসের সেই পাতাটি একটু উল্টে দেখা যাক -
•~ এখানে মূল অংকটা বুঝতে হলে আমাদের একটু পেছনের ইতিহাসে যেতে হবে।
•~ ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার অনেক আগে থেকেই চীনের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত একটি নির্দিষ্ট অভিযোগ করে আসছিলেন:
"চীন হলো একটি মুদ্রা কারসাজিকী বা কারেন্সি ম্যানিপুলেটর।"
•~ তাঁর এই কথার অর্থ ছিল খুব পরিষ্কার -
।।।।।।।•~ চীন আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের মুদ্রার মান ইচ্ছা করে কৃত্রিম উপায়ে কম বা দুর্বল করে রাখে। আর ইউয়ানের মান দুর্বল থাকার কারণে বিশ্ববাজারে চীনা পণ্যের দাম সবসময় অত্যন্ত সস্তা থাকে, যার ফলে পুরো পৃথিবী সস্তার চীনা পণ্যে সয়লাব হয়ে যায়।•~।।।।।।।
•~তাই ট্রাম্পের মূল চাওয়াও ছিল সবসময় একটাই -
•~ ইউয়ানের মান যেন আন্তর্জাতিক বাজারে বৃদ্ধি পায়, যাতে চীনা পণ্যের দাম রাতারাতি বেড়ে যায় এবং বিশ্ববাজারে তাদের দাপট কমে।
•~ এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি বছরের পর বছর ধরে চীনা পণ্যের ওপর ভারী ট্যারিফ {শুল্ক} বসিয়েছেন, বেইজিংয়ের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছেন এবং বারবার বলেছেন,
"চীন বাণিজ্যের নামে আমাদের পিষে ফেলছে।"
•~ আর আজ বর্তমানের এই ২০২৬ সালের এসে দেখা যাচ্ছে, বাজারে ইউয়ানের মান আসলেই ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে। অর্থাৎ, ট্রাম্প বছরের পর বছর ধরে মনে মনে যা চেয়েছিলেন, আজ ঠিক সেটাই ঘটছে।
•~ কিন্তু প্রশ্ন হলো -এই ঘটনাটি কি আদেও চীনের জন্য কোনো সুখবর?
•~ এই কঠিন প্রশ্নের একটি উত্তরটি লুকিয়ে আছে ১৯৮৫ সালের এক ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্যে।
•~ সে সময় জাপান ছিল গোটা বিশ্বের একমাত্র ম্যানুফ্যাকচারিং হাব বা পৃথিবীর আসল কারখানা -ঠিক আজকের চীনের মতো। জাপানি ইলেকট্রনিক্স আর গাড়িতে তখন বিশ্বের প্রতিটি বাজার মজে ছিল এবং আমেরিকার বুক কাঁপছিল এই অর্থনৈতিক দাপট দেখে।
•~ তখন ওয়াশিংটন এক চরম চতুর চাল চালল।
•~ ১৯৮৫ সালে নিউ ইয়র্কের প্লাজা হোটেলে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি পরাশক্তি দেশ একসাথে একটি গোপন বৈঠকে বসল, যা ইতিহাসে প্লাজা অ্যাকর্ড নামে পরিচিত।
সেখানে জাপানের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করে তাদের মুদ্রা ‘ইয়েন’-এর মান কৃত্রিমভাবে বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হলো। আর তার পরবর্তী কয়েক বছরের মধ্যে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মান প্রায় দ্বিগুণ শক্তিশালী হয়ে উঠল।
•~ আর তার পরের পরিণতি তো ইতিহাস -
•~ ইয়েনের মান বাড়ার সাথে সাথেই আন্তর্জাতিক বাজারে জাপানি পণ্যের দাম হু হু করে বেড়ে গেল। ফলে বিশ্ববাজার থেকে তাদের ক্রেতার সংখ্যা কমতে শুরু করল, জাপানি রপ্তানি খাত ধসে পড়ল এবং দেশের বড় বড় কারখানাগুলো একের পর এক বন্ধ হয়ে গেল।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংকগুলো সুদের হার কমিয়ে শূন্যে নামিয়ে আনতে বাধ্য হলো।
•~ স্রেফ নিজেদের মুদ্রার মান অতিরিক্ত শক্তিশালী হওয়ার খেসারত হিসেবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে টানা ৩০ বছর এক গভীর ও স্থায়ী অর্থনৈতিক মন্দার অন্ধকারে ডুবে থাকতে হয়েছিল।
•~ এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা ছিল না।এটি ছিল মূলত ঊর্ধ্বগামী পরাশক্তিকে ধ্বংস করার এক সুনিপুণ পশ্চিমা ফর্মুলা।
•~ এবার ঠিক এই একই সমীকরণটি আজকের প্রেক্ষাপটে মিলিয়ে দেখুন।
•~ বর্তমানে ইউয়ানের এই মান বৃদ্ধি কি সত্যিই চীনের কোনো মহাবিজয়, নাকি সেই পুরনো পশ্চিমা ফাঁদেই চীনের নতুন করে পা দেওয়া?
•~ প্রথমে আমরা মুদ্রার চকচকে বা উজ্জ্বল পিঠটা একটু দেখি -
•~ চীন বেশ কয়েক বছর আগেই আমেরিকার সুইফট সিস্টেমকে এড়াতে নিজস্ব এক স্বাধীন আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল।
•~ যার নাম সিআইপিএস। এর একমাত্র লক্ষ্য ছিল -মার্কিন ডলারের কোনো প্রকার ছোঁয়া ছাড়াই বিশ্বজুড়ে নির্বিঘ্নে ব্যবসা-বাণিজ্য চালানো।
•~ শুরুর দিকে এই সিস্টেমের লেনদেনের অঙ্কটা বেশ ছোট ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে পুরো দৃশ্যপট বদলে যায়:
•~ ২০১৫: এই স্বাধীন সিস্টেমের যাত্রা শুরু হয়।
•~ ২০২১: দৈনিক লেনদেন ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০,০০০ কোটি ইউয়ানে পৌঁছায়।
•~ ২০২৩: সৌদি আরব ডলারের মায়া ত্যাগ করে চীনা ইউয়ানের বিনিময়ে তেল বিক্রি শুরু করে।
•~ ২০২৪: রাশিয়া এবং ইরান তাদের উৎপাদিত জ্বালানির সিংহভাগ ইউয়ানের মাধ্যমে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয়।
•~ মার্চ ২০২৬: এই সিস্টেমে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯২০ বিলিয়ন ইউয়ান।
•~ এপ্রিল ২০২৬: মাত্র এক দিনের ব্যবধানে লেনদেনের পরিমাণ ১.২২ ট্রিলিয়ন বা ১ লক্ষ ২২ হাজার কোটি ইউয়ানের অলৌকিক সংখ্যা স্পর্শ করে।
•~ বিগত ১০ বছর ধরে অত্যন্ত নীরবে বড় হতে থাকা এই পেমেন্ট সিস্টেমটি মূলত ইউক্রেন যুদ্ধের পর এক রকেটের গতি লাভ করে। কারণ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচতে ডলার-বিমুখ দেশগুলো দলে দলে এই চীনা সিস্টেমের ছাতার নিচেই আশ্রয় নিতে শুরু করে।
•~ আর এভাবেই বিশ্বমঞ্চে জন্ম নেয় এক নতুন পরাশক্তি -‘পেট্রো-ইউয়ান’।
•~ দূর থেকে দেখলে মনে হবে এটি ডলারের বুক চিরে চীনের এক চূড়ান্ত বিজয়।
•~ কিন্তু এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্ম বিষয় আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। বিশ্বজুড়ে তেলের মোট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মধ্যে এই ইউয়ানের অংশীদারিত্ব আজও মাত্র ৩ থেকে ৮ শতাংশের ঘরেই ঘুরপাক খাচ্ছে।
•~ যেখানে মার্কিন ডলার আজও প্রায় ৮০ শতাংশের বিশাল সিংহভাগ নিয়ে একচ্ছত্র রাজত্ব করছে।
•~ আমেরিকার সাম্রাজ্যের দেয়ালে ধরা এই চিরটি হয়তো আকারে ছোট। কিন্তু বিগত ৫০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার ‘পেট্রো-ডলার’ নিজের সামনে বাস্তব কোনো সমকক্ষ বিকল্পের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।
•~ তবে আসল ভয়ের কারণ কিন্তু এই ছোট ফাটলটি না। ভয়ের আসল কারণ লুকিয়ে আছে মুদ্রার অপর পিঠে।
•~ অর্থনীতি ও বাজারের সাধারণ নিয়ম হলো -বিশ্ববাজারে কোনো নির্দিষ্ট মুদ্রার চাহিদা যত বেশি বাড়বে, সেই মুদ্রার মানও তত বেশি শক্তিশালী বা দামি হতে থাকবে।
ইউয়ান আজ বিশ্বজুড়ে যত বেশি ছড়িয়ে পড়ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এর নিজস্ব দামও ততটাই চড়া হচ্ছে -ঠিক ১৯৮৫ সালের সেই জাপানি ইয়েনের মতো।
•~ আর এই অতিরিক্ত দামি বা শক্তিশালী মুদ্রাই হলো সেই আসল মরণফাঁদ -যা একসময় জাপানকে ৩০ বছর পেছনে ঠেলে দিয়েছিল।
•~ এই বাস্তব সত্যটি আমাদের খুব ভালো করে বুঝতে হবে -
•~ আজ যে শক্তির জোরে চীনকে বিশ্বমঞ্চে এত বেশি শক্তিশালী দেখাচ্ছে, ঠিক সেই একই শক্তিই কিন্তু যেকোনো মুহূর্তে চীনকে ভেতর থেকে এক্কেবারে পঙ্গু করে দিতে পারে। আর সেই শক্তিটি হলো -বিশ্বের বুকে চীনা ইউয়ানের ক্রমাগত বাড়তে থাকা চাহিদা।
•~ চীনের আসল দ্বন্দ্ব বা উভসংকট ঠিক এই জায়গাতেই। তারা যদি বিশ্বজুড়ে ইউয়ানের ব্যবহার না বাড়ায়, তবে তারা কোনোদিনও ডলারের সাম্রাজ্যকে হটাতে পারবে না।
আবার ইউয়ানের ব্যবহার যত বেশি ছড়াবে, বাজার নিয়মে এর মান অতিরিক্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠার ঝুঁকিও ততটাই বাড়বে।
•~ আর কোনো কারণে যদি ইউয়ানের মান আন্তর্জাতিক বাজারে অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে যায়, তবে ঠিক কী ঘটবে?
•~ প্রথমত, চীনা পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রয় মূল্য অনেক বেড়ে যাবে। আজ সস্তা হওয়ার কারণে বিশ্বের মানুষ যে সমস্ত চীনা পণ্য লুফে নিচ্ছে,
তখন সেগুলোর দাম তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর পণ্যের সমান হয়ে যাবে। ফলে বিশ্ববাজারের ক্রেতারা রাতারাতি চীন ছেড়ে অন্য সস্তা দেশের দিকে ঝুঁকে পড়বে।
•~ চীন হলো দিনশেষে এই পৃথিবীর মূল উৎপাদন কারখানা। আর তাদের অর্থনীতির মূল মেরুদণ্ডই হলো এই বৈশ্বিক রপ্তানি বা এক্সপোর্ট।
যখনই তাদের রপ্তানির গতি স্তিমিত হয়ে পড়বে, তখন দেশের বড় বড় কারখানাগুলো বিশ্ব থেকে নতুন কোনো অর্ডার পাবে না।
দেশের উৎপাদন চাকা থমকে যাবে, মিল-ফ্যাক্টরি বন্ধ হবে এবং দলে দলে লাখ লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়বে।
•~ আর তার পরবর্তী দৃশ্যটি হবে হুবহু সেই পুরনো জাপানের পতনের কাহিনীর মতো। দেশের ধসে পড়া অর্থনীতিকে জোড়াতালি দিয়ে টিকিয়ে রাখতে ব্যাংক সুদের হার কমাবে, দেদারসে কাগজের টাকা ছাপা হবে,
যার ফলে দেশের রিয়েল এস্টেট বা আবাসন খাত এবং শেয়ার বাজারে এক বিশাল কৃত্রিম বুদবুদ তৈরি হবে এবং একদিন তা বিকট শব্দে ফেটে গিয়ে পুরো দেশের অর্থনীতিকে এক দীর্ঘস্থায়ী মন্দার অতল গহ্বরে ডুবিয়ে দেবে।
•~ কিন্তু প্রশ্ন হলো -চীন কি এই আসন্ন মহাবিপদের কথা নিজের চোখে দেখতে পাচ্ছে না?
•~ অবশ্যই দেখতে পাচ্ছে। আর ঠিক এই কারণেই তারা বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত নীরবে ও দূরদর্শিতার সাথে এই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
•~ তারা একদিকে নিজেদের তহবিলে জমা থাকা মার্কিন সরকারি বন্ড বা ঋণের পরিমাণ প্রতিনিয়ত কমিয়ে আনছে।
•~ আর অন্যদিকে, তারা প্রতি মাসে কোনো প্রকার বিরতি ছাড়াই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে টন কে টন খাঁটি সোনা কিনে নিজেদের ভল্ট ভরাচ্ছে।
বেইজিং মূলত তাদের জাতীয় রিজার্ভের মূল ভিত্তি ডলার থেকে সরিয়ে সম্পূর্ণ সোনার নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
•~ সেই সাথে চীনের কাছে আরেকটি বড় প্লাস পয়েন্ট বা সুবিধা রয়েছে -যা জাপানের কাছে ছিল না; আর সেটি হলো নিজেদের মুদ্রার ওপর বেইজিংয়ের একচেটিয়া কমিউনিস্ট নিয়ন্ত্রণ।
•~ সাধারণ অর্থনীতির নিয়ম বলে -কোনো দেশের মুদ্রা যদি সত্যিই বৈশ্বিক রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে ডলারের জায়গা নিতে চায়, তবে সেই দেশকে নিজের দরজা আন্তর্জাতিক পুঁজির জন্য চিরতরে উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
বিদেশী বিনিয়োগকারীরা যেন তাদের টাকা যখন খুশি দেশে আনতে পারে এবং যখন খুশি এক ক্লিকে দেশ থেকে বের করে নিয়ে যেতে পারে, সেই স্বাধীনতা দিতে হবে।
•~ কিন্তু চীন আজ পর্যন্ত ভুলেও কখনো এই কাজটি করেনি। তারা দেশের ভেতরের পুঁজি বাইরে পাচার হওয়ার ওপর অত্যন্ত কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে।
কারণ তারা কোনো অবস্থাতেই নিজেদের অর্থনীতির রিমোট কন্ট্রোল বাজারের অদৃশ্য হাতের ওপর ছেড়ে দিতে রাজি নয়।
•~ অবশ্য এই কঠোর নিয়ন্ত্রণের একটি চড়া খেসারতও চীনকে দিতে হচ্ছে।
দরজা বন্ধ থাকার কারণে বিশ্বের বড় বড় সেন্ট্রাল ব্যাংকগুলো আজ ইউয়ানের ওপর শতভাগ ভরসা রাখতে পারে না। আর ঠিক এই কারণেই বিশ্ববাজারে ইউয়ানের অবদান আজও মাত্র ৩ থেকে ৮ শতাংশের ঘরেই আটকে রয়েছে।
•~ কিন্তু এই একই একনায়কতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের এক মারাত্মক সুবিধাও রয়েছে। এর ফলে চীন সরকার নিজেদের ইচ্ছামতো ইউয়ানের মান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক চাপ বা বাজারের চাহিদা বাড়লেও তারা ইউয়ানের দাম বাড়ার গতিকে কৃত্রিমভাবে টেনে ধরে রাখতে পারে।
•~ আর ঠিক এই জায়গাতেই ছিল জাপানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কৌশলগত ভুল।
•~ জাপান সে সময় নিজেদের মুদ্রার মানের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি। তাদের কারেন্সি মার্কেট ছিল সম্পূর্ণ মুক্ত এবং দেশের পুঁজি বাজারের দরজা ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত।
ফলে তাদের মুদ্রার ভাগ্য নির্ধারণ করেছিল আন্তর্জাতিক বাজার এবং আমেরিকার দেওয়া চতুর রাজনৈতিক চাপ। জাপান তখন স্রেফ এক অসহায় দর্শকের মতো নিজেদের ধ্বংসের দৃশ্য চেয়ে চেয়ে দেখেছিল।
•~ কিন্তু চীন এই দাবার বোর্ডে সম্পূর্ণ ভিন্ন স্টাইলে খেলছে। তারা নিজেদের মুদ্রার আসল নিয়ন্ত্রণ কোনোদিনও কোনো বিদেশী শক্তি বা বাজারের হাতে ছেড়ে দেয় না। তারা এক্সচেঞ্জ রেট কঠোরভাবে পরিচালনা করে, পুঁজি পাচারের পথ বন্ধ রাখে এবং ব্যাকআপ হিসেবে অবিরাম সোনা মজুত করে চলেছে।
•~ জাপানকে ধ্বংস হতে দেখে চীন যে পরম শিক্ষাটি লাভ করেছে, তা হলো:
নিজের মুদ্রাকে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে দাও, কিন্তু তার মূল লাগাম বা নিয়ন্ত্রণ কোনোদিনও নিজের হাতছাড়া করো না।
•~ জাপান সেদিন নিজেদের লাগাম অন্যের হাতে ছেড়ে দিয়েছিল এবং তার খেসারত হিসেবে নিজেদের জীবনের সোনালী ৩০টি বছর হারিয়েছে।
•~ আর চীন আজ পর্যন্ত সেই লাগাম নিজের বুকের মাঝেই শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে।
•~ অন্তত এখন পর্যন্ত তো বটেই...