23/05/2026
ইয়া হাজ্জি, প্রস্তুত হোন মিনার পথে!
আজ বিকেল কিংবা রাতে আপনাদের এজেন্সি থেকে হজ্বের গুরুত্বপূর্ণ ৫ দিনের কার্যক্রম সম্পর্কে ব্রিফ করা হবে ইনশাআল্লাহ। মনোযোগ দিয়ে সবকিছু জেনে নিন—
আপনাদের কি পুরো পাঁচদিন মিনায় রাখা হবে, নাকি সুন্নাহ অনুযায়ী কংকর নিক্ষেপ শেষে মক্কায় ফিরিয়ে আনা হবে—এ বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে বুঝে নিন।
কারণ ১০ই জিলহজ তাওয়াফ ও সায়ীর জন্য মক্কায় আসতে হলে অনেক ক্ষেত্রে নিজ উদ্যোগে আসতে হতে পারে। আর যেহেতু মিনার পাঁচদিনের খাবার সৌদি সরকারের ব্যবস্থাপনায় থাকে, তাই মক্কায় থাকলে খাবারের বিষয়টিও নিজেকেই ম্যানেজ করতে হতে পারে। যদিও কিছু কিছু কাফেলা তাদের হাজীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে থাকে। তাই মিনায় রওনা হওয়ার আগে নিজ নিজ এজেন্সি থেকে সবকিছু নিশ্চিত হয়ে নিন।
সাথে যা রাখবেন:
একটি ছোট ব্যাগে প্রয়োজনীয় কাপড়, টুকিটাকি দরকারি জিনিস, পাওয়ার ব্যাংক, নিয়মিত ওষুধ, স্যালাইন, হাইড্রেশন পাউডার, শুকনো খাবার ইত্যাদি রাখুন।
অতিরিক্ত কিছু নেওয়ার দরকার নেই।
এক সেট কাপড় এবং মহিলারা অতিরিক্ত একটি হিজাব রাখলেই যথেষ্ট ইনশাআল্লাহ।
৭ই জিলহজ সন্ধ্যা থেকে ৮ই জিলহজ সকাল পর্যন্ত
আপনাদের হোটেলের সামনে একে একে গাড়ি আসবে। এজেন্সির নির্দেশনা অনুযায়ী গাড়িতে উঠবেন।
প্রথম গন্তব্য—মিনা!
আপনার জন্য সেখানে প্রস্তুত থাকবে তাবু।
প্রত্যেক এজেন্সির আলাদা তাবু, পাশে ওয়াশরুম, খাবারের ব্যবস্থা, চা-কফি, ঠান্ডা পানি ও ড্রিংকস—সবই থাকবে ইনশাআল্লাহ।
কিন্তু মনে রাখবেন…
এই দিন থেকেই শুরু হতে পারে আপনার ধৈর্যের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
লক্ষ লক্ষ মানুষ, সীমিত জায়গা, গরম, ভিড়, এসি/কুলার সমস্যা, কখনো বিশৃঙ্খলা, কখনো নন-মাহরামদের অনুপ্রবেশ—সবকিছুই ঘটতে পারে।
কিন্তু আপনি তখন ইহরামের পবিত্র অবস্থায়…
দয়া করে শয়তানকে জিততে দিবেন না।
রাগ নয়… অভিযোগ নয়…
বরং ধৈর্য, যিকির আর তাওবায় নিজেকে ভরিয়ে তুলুন।
কারণ আগামীকাল আপনি দাঁড়াবেন আরাফার ময়দানে—যেখানে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষমা করেন।
৮ই জিলহজ রাত অথবা ৯ই জিলহজ সকালে
আপনাদের নিয়ে যাওয়া হবে আরাফাতের ময়দানে।
সেখানে অন্য এজেন্সির সাথে তাবু শেয়ার করতে হতে পারে।
পর্দার ব্যবস্থায় নারী-পুরুষ আলাদা থাকবেন।
আরাফাতে যুহর ও আসর নামাজ রাসূল ﷺ এর সুন্নাহ অনুযায়ী যুহরের সময় একসাথে কসর করে আদায় করবেন।
কেউ আলাদা পড়লেও সমস্যা নেই—সবটাই যায়েজ।
তর্ক নয়, ঐক্য ও সহনশীলতাই হোক আপনার সৌন্দর্য।
মসজিদে নামিরায় গিয়ে খুতবা শুনতে চাইলে খুব ভোরে যেতে হবে, নইলে জায়গা পাওয়া কঠিন।
না যেতে পারলেও চিন্তা নেই—নিজ তাবুতেই ইবাদতে মশগুল থাকুন।
বিশেষ করে আসরের পর…
তাবুর বাইরে এসে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে দুই হাত তুলে দোয়া করুন।
এই মুহূর্তগুলো পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্তগুলোর একটি।
আরাফার শেষ সময়ের প্রতিটি সেকেন্ড যেন কাটে কান্না, তাওবা আর মাফির আবেদন নিয়ে…
এরপর সূর্যাস্তের পর রওনা হবেন মুজদালিফার পথে।
সেখানে খোলা আকাশের নিচে চাদর বিছিয়ে রাত কাটাতে হবে।
এখানেই সংগ্রহ করবেন জামারায় নিক্ষেপের কংকর।
মাগরিব ও ইশা একসাথে আদায় করবেন।
এই রাতে তাহাজ্জুদের আলাদা সালাত নেই।
সম্ভব হলে রাতেই মুজদালিফার শেষ সীমার দিকে এগিয়ে যান, তাহলে ভোরে হেঁটে সহজেই জামারায় পৌঁছাতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।
এরপর শুরু হবে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মুহূর্ত।
হয়তো গাড়ি পাবেন না…
দীর্ঘ পথ হাঁটতে হতে পারে…
ক্লান্তি আসবে… শরীর ভেঙে পড়বে…
কিন্তু মনে রাখবেন—
আপনি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে এসেছেন।
এই কষ্টই একদিন আপনার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে।
মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে প্রিয়জনদের সাথে কথা বলে নিন।
এরপরের কয়েকদিন দুনিয়ার সম্পর্কের চেয়ে আল্লাহর সাথে সম্পর্কটাকে বেশি সময় দিন।
তাওবার সালাত পড়ুন…
ক্ষমা চান…
কান্না করুন…
মনে করুন—
এটি শুধু ইহরামের কাপড় নয়, যেন কাফনের কাপড় পরে আপনি আপনার রবের সামনে দাঁড়াতে যাচ্ছেন…
হজ্ব মানেই কষ্টের সফর।
কিন্তু ইমানের শক্তির কাছে সেই কষ্টও একসময় তুচ্ছ হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!
আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর মেহমানদের জন্য এই সফরকে এমনভাবে সহজ করে দেন—যা না গেলে অনুভব করা সম্ভব নয়।
আল্লাহ আপনাদের হজ্বকে হজ্বে মাবরুর হিসেবে কবুল করুন।
প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি অশ্রুবিন্দু, প্রতিটি দোয়া কবুল হোক।
আমাদেরও দোয়ায় স্মরণ রাখবেন… @
লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক…