24/05/2026
মাংস ছিলো রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর প্রিয় খাবার!
কাউকে যদি জিজ্ঞেস করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ –এর প্রিয় খাবার কী ছিলো?
বেশিরভাগই উত্তর দিবে- লাউ। কেউ কেউ বলবে- খেজুর, মধু, দুধ।
সবগুলো উত্তরই সঠিক। কিন্তু, শুধুমাত্র এগুলোই কি ছিলো তাঁর প্রিয় খাবার? সাহাবীদের কেউ যদি রাসূলুল্লাহ ﷺ –কে তাঁর বাড়িতে দাওয়াত দিতেন, তাহলে কি শুধুই লাউ খাওয়াতেন?
আমরা এই ঘটনাগুলো জানি না বলে যাকে সবচেয়ে ভালোবাসার কথা, যাকে ভালোবাসা ঈমানের অঙ্গ, তাঁর ভালোবাসার জিনিস, খাবার কী ছিলো সেই সম্পর্কে আমাদের ধারণা নেই!
অথচ রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর লাউ পছন্দের ঘটনা মাত্র ১ বারের বিপরীতে তাঁর গোশত পছন্দের ঘটনাগুলো অসংখ্যবার পাওয়া যায়।
একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে খাসির রানের পিস নিয়ে আসা হলো।
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু মন্তব্য করেন, “তিনি এটা (রানের পিস) পছন্দ করতেন।”
আমরা সাধারণত রানের পিস মুখে নিয়ে দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে খাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও দাঁত দিয়ে কেটে খেলেন। [সহিহ বুখারি: ৪৭১২]
আবু উবাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য এক পাতিল মাংস রান্না করে নিয়ে গেলেন। সেই সাহাবি জানতেন যে, রাসূলুল্লাহ লেগ পিস পছন্দ করেন। তিনি রাসূলুল্লাহকে একটি লেগ পিস দিলেন। রাসূলুল্লাহ এক পিস খাবার পর খাসির সামনের পায়ের আরেক পিস চাইলেন। আবু উবাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বাকি পিসটিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিলেন।
অতঃপর আবার রাসূলুল্লাহ আরেক পিস চাইলেন। আবু উবাইদা বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! বকরির সামনের পা কয়টি থাকে!”
অর্থাৎ, যে দুটো পা ছিলো, সেগুলো তো আপনাকে ইতোমধ্যে দেয়া হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “সে মহান সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন! যদি তুমি চুপ থাকতে তাহলে আমি যতক্ষণ সামনের পা চাইতাম, ততক্ষন তুমি দিতে পারতে।” [মুজামুল কাবীর: ১৮২৮৬, শামায়েলে তিরমিজি: ১২৬]
একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাড়িতে দাওয়াতে গেলেন। জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ রাসূলুল্লাহর জন্য একটি খাসি জবাই করেন।
এটা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মন্তব্য করেন, “মনে হচ্ছে তারা যেন জানে আমি গোশত পছন্দ করি!” [শামায়েলে তিরমিজি: ১৩২]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবিগণ জানতেন যে, রাসূলুল্লাহ মাংস পছন্দ করতেন। যার কারণে, যাদের মাংস খাওয়ানোর সক্ষমতা ছিলো, তারা তাঁকে দাওয়াত দিলে মাংস খাওয়াতেন।
একবার সা’দ ইবনে উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু ৪০ টি উট জবাই করেন। ৪০ টি উট জবাই করেন মদীনার মানুষজনকে খাওয়াবেন বলেন। জবাইকৃত উট থেকে বেছে বেছে উটের মগজ রান্না করে এক প্লেটে রাসূলের জন্য নিয়ে যান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “এগুলো কী?”
তিনি বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার ইচ্ছে হলো আপনাকে একটু পেট ভরে মগজ খাওয়াই।”
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবির কথা রাখলেন এবং তাঁর কল্যাণ কামনা করে দু’আ করেন। [আল্লামা ইউসুফ কান্ধালভী, হায়াতুস সাহাবা: ২/১৮৯]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাংস পছন্দের হাদিস অসংখ্য। এমনকি একবার তিনি খাসির পাঁজরের ভুনা অংশ খাওয়া শুরু করলে বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু না বুঝে আযান দেয়া শুরু করেন। সেই মুহূর্তে রাসূলুল্লাহ বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর ওপর একটু বিরক্ত হন। [শামায়েলে তিরমিজি: ১২৪]
আব্দুল্লাহ ইবনে হারিস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয়েকজন সাহাবিকে নিয়ে মসজিদে বসে মাংস ভুনা খান! [শামায়েলে তিরমিজি: ১২৩]
একজন তাবেয়ি মুরগির মাংস পছন্দ করতেন না। একদিন সবার সামনে খাবার দেয়া হলে তিনি চলে যেতে চাইলেন। তখন সাহাবি আবু মূসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে ডেকে বললেন, “আমি রাসূলুল্লাহকে মুরগির মাংস খেতে দেখেছি।” [শামায়েলে তিরমিজি: ১১৬]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ‘গরিব’ প্রমাণের জন্য যতো হাদিস আছে, সেগুলো এতো বেশি সামনে নিয়ে আসা হয়েছে যে, তাঁর জীবনের অনেক স্বাভাবিক ঘটনা সাধারণ মানুষ জানে না। এর ফলে তাদের মধ্যে একধরনের অপরাধবোধ কাজ করে।
শুধুমাত্র খাওয়া-দাওয়া না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অর্থনৈতিক জীবনের এমন অনেক ঘটনা বেশিরভাগই জানেন না।
ফলে, যখন সীরাত পড়েন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভুলভাবে কল্পনা করেন। যার ফলে, আমাদের সীরাত পাঠে ভুল থেকে যায়!
Niamah