04/12/2025
🌤️ #মেঘেরপরেইসূর্য #সূর্য_৯৭ #মেঘ #সূর্য
✨ অধ্যায় ১: ভাঙা আয়নায় প্রতিফলন !
রাত নামলে শহরটা নিস্তব্ধ হয় না, বরং আরও কোলাহলময় হয়ে ওঠে—
কারও নিঃশব্দ কান্নায়, কারও অপ্রকাশিত চিঠিতে,
আর কারও নিভে যাওয়া চোখের আলোয়।
অর্পা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে থাকে।
একসময় সে নিজের চোখে হাসি খুঁজত, এখন শুধু ক্লান্তি খুঁজে পায়।
চুলের একপাশে জট পাকানো, ঠোঁট শুকনো, মুখে সেই পুরনো উজ্জ্বলতা নেই।
সে হাত বাড়িয়ে আয়নার উপর ধুলো মুছে, যেন নিজের অতীতটা মুছে ফেলতে চায়।
একসময় এই মেয়েটা প্রেমে বিশ্বাস করত।
বিশ্বাস করত, ভালোবাসা এক ধরনের আলো,
যা অন্ধকার ঘরেও ঢুকে পড়ে — নিঃশব্দে, নির্ভয়ে।
কিন্তু আলোও তো একসময় নিভে যায়,
যখন জানালার পর্দা কেউ টেনে দেয় ইচ্ছেমতো।
সে জানালার দিকে তাকায়।
বাইরে নরম বৃষ্টি পড়ছে,
ছাদ থেকে গড়িয়ে আসা জলের ফোঁটা মিশে যাচ্ছে বাতাসে—
ঠিক যেমন তার চোখের জলে হারিয়ে যায় প্রতিরাতে কিছু অপূর্ণতা।
বিছানার পাশে রাখা পুরনো চিঠিটা আবার খুলে দেখে অর্পা।
তিন বছর আগের এক সম্পর্কের নিঃশেষিত স্মৃতি,
যেখানে লেখা ছিল—
> “তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সিদ্ধান্ত।”
কী অদ্ভুত!
যে সিদ্ধান্ত একসময় এত সুন্দর ছিল,
আজ সেটাই তার জীবনের সবচেয়ে তিক্ত স্মৃতি হয়ে গেছে।
অর্পা নিঃশব্দে মুচড়ে ফেলে কাগজটা।
তারপর মনে মনে বলে—
> “যদি সময়টা একটু আগে থেমে যেত…”
তার ঘরের ঘড়িটা তখন রাত ১টা ১৭ মিনিট দেখাচ্ছে।
একটা বার্তা ভেসে ওঠে ফোনে,
অচেনা নাম — #সূর্য_৯৭
> 🌤️ “তুমি যেমন আছো, তেমনভাবেই তুমি যথেষ্ট।”
অর্পা একটু থমকে যায়।
অচেনা এই বাক্যটা তার ভেতরের নিঃশব্দ রাতটাকে যেন হালকা করে দেয়।
সে জানে না কে এই মানুষ,
কেন এমন কথা বলল,
কিন্তু দীর্ঘদিন পর একটা উষ্ণতা টের পায় বুকের ভেতরে।
তারপর হঠাৎই জানালার বাইরে বিদ্যুৎ চমকায়,
আর মনে হয় যেন কেউ বলছে —
> “মেঘের পরেই তো সূর্য আসে…”
অর্পা গভীর নিঃশ্বাস নেয়।
তার চোখের কোণে জমে থাকা জল বৃষ্টির সঙ্গে মিলেমিশে নেমে আসে।
হয়তো ওটা কান্না নয়,
একটা নতুন সূর্যের অপেক্ষা।
🌤️ (চলবে...)। #মেঘেরপরেইসূর্য #সূর্য_৯৭