10/01/2026
১) একবার কেউ তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিল—
“আপনি এত বেশি বই লেখেন কীভাবে?”
হুমায়ূন আহমেদ হেসে বললেন—
“আসলে আমি খুব অলস মানুষ। একবার লেখা শুরু করলে উঠে যেতে আলসেমি লাগে, তাই লিখতেই থাকি!
২) এক পাঠক খুব সিরিয়াস মুখে প্রশ্ন করলেন—
“হিমু সব সময় হলুদ পাঞ্জাবি পরে কেন?”
হুমায়ূন আহমেদের জবাব—
“কারণ ওর অন্য রঙের পাঞ্জাবি ধোয়া নেই!"
৩) এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—
“আপনি কি ভূতে বিশ্বাস করেন?”
তিনি শান্ত গলায় বললেন—
“বিশ্বাস না করলে ভূতগুলো খুব কষ্ট পায়!”
৪) একবার হুমায়ূন আহমেদ একটি সাহিত্য অনুষ্ঠানে গেছেন। হল ভর্তি দর্শক—সবাই খুব সিরিয়াস, কেউ নোট নিচ্ছে, কেউ গভীর মনোযোগে তাকিয়ে আছে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রশ্নোত্তর পর্ব।
এক তরুণ উঠে দাঁড়িয়ে খুব গম্ভীর গলায় বলল—
“স্যার, আপনার লেখায় জীবনবোধ, দর্শন আর বাস্তবতার যে গভীরতা—এটা আপনি কীভাবে পরিকল্পনা করে লেখেন?”
হুমায়ূন আহমেদ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। সবাই ভাবল, এবার বুঝি খুব ভারী কিছু আসবে।
তারপর তিনি শান্ত গলায় বললেন—
“পরিকল্পনা আমি করি না।
লিখতে বসে দেখি কলম চলছে,
আমিও চলছি।
কলম থামলে আমিও থেমে যাই।”
হলজুড়ে হালকা হাসি।
কিন্তু তরুণটি ছাড়বার পাত্র নয়। আবার প্রশ্ন—
“স্যার, তাহলে অনুপ্রেরণা কোথা থেকে পান?”
হুমায়ূন আহমেদ মুচকি হেসে বললেন—
“অনুপ্রেরণা আসে তখন,
যখন হাতে কোনো কাজ থাকে না
আর পকেটে কোনো টাকা থাকে না।”
এবার সবাই হেসে ফেলল।
কিন্তু শেষ কিলটা দিলেন একদম শেষে।
একজন বললেন—
“স্যার, এত জনপ্রিয় হওয়ার পরও আপনি এত সাধারণ কেন?”
তিনি একটু ভেবে উত্তর দিলেন—
“কারণ খুব অসাধারণ হলে
পাঠকের সাথে গল্প করা যেত না।
আমি পাঠকের পাশে বসে গল্প করতে চাই।”
হল নিস্তব্ধ।
তারপর হঠাৎ করতালি।
কারণ সবাই বুঝে গেছে—
এই মানুষটা শুধু গল্প লেখেন না,
নিজেই একটা গল্প ❤️
৫) একদিন হুমায়ূন আহমেদ যাচ্ছেন রিকশায়।
রিকশাওয়ালা মাঝবয়সী, বেশ কথা বলতে ভালোবাসে। কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ জিজ্ঞেস করল—
— “স্যার, আপনি কী করেন?”
হুমায়ূন আহমেদ বললেন,
— “লেখালেখি করি।”
রিকশাওয়ালা সঙ্গে সঙ্গে আগ্রহী হয়ে উঠল।
— “কী লেখেন? কবিতা নাকি?”
— “না, গল্প-উপন্যাস।”
রিকশাওয়ালা হেসে বলল,
— “আচ্ছা! তাহলে তো আপনি অনেক বড় লেখক। নাম কী আপনার?”
তিনি মুচকি হেসে বললেন,
— “হুমায়ূন আহমেদ।”