22/08/2026
সন্তান হওয়ার পর নাকি বাবা-মা দুজনেরই নতুন জন্ম হয়। কিন্তু এই দুই জন্মের মাঝের ব্যবধানটা কতটা বিশাল, তা কেবল একজন মা-ই প্রতি মুহূর্তে টের পান।
সন্তান আসার পর মায়ের জীবনটা যেন একটা থমকে যাওয়া নদী। তাঁর পুরো পৃথিবী হঠাৎ করে সীমাবদ্ধ হয়ে যায় একটি ছোট্ট ঘরে, ঘড়ির কাঁটার হিসাব বদলে যায় ফিডিং আর ডায়াপার চেঞ্জের টাইমিংয়ে। তাঁর স্বপ্ন, ক্যারিয়ার, নিজের যত্ন, এমনকি শান্তিতে ১০ মিনিট গোসল করার স্বাধীনতাটুকুও হুট করে উধাও হয়ে যায়। আয়নায় নিজেকে দেখে মা নিজেই আর নিজের পুরোনো চেহারা চিনতে পারেন না।
আর বাবা? তিনি দায়িত্ব নেন, বাজার করেন, হসপিটালের বিল মেটান, সন্তানকে ভালোবেসে বুকে জড়ান। কিন্তু সকাল হলেই তাঁকে আগের মতোই শার্টের বোতাম এঁটে অফিসে যেতে হয়। রাস্তাঘাটে সহকর্মীদের সাথে চা খেতে খেতে আড্ডা দেওয়ার সুযোগটা তাঁর রয়েই যায়। দিনশেষে তিনি বাড়ি ফেরেন, কিন্তু তাঁর দৈনন্দিন রুটিন বা বাইরের পৃথিবীর সাথে সংযোগটা চিরতরে ছিন্ন হয়ে যায় না।
বাবা হওয়ার পর পুরুষ মানুষের জীবনে কিছু দায়িত্ব যোগ হয়, কিন্তু মায়ের জীবনে যোগ হয় এক অদৃশ্য শেকল—যা ভালোবাসার হলেও অত্যন্ত ভারী। বাবা যদি হন সেই বটবৃক্ষ যা বাইরে থেকে সংসারকে ছায়া দেয়, তবে মা হলেন সেই মূল, যা মাটির নিচে অন্ধকারে থেকে নিজেকে তিলে তিলে ক্ষয় করে পুরো গাছটাকে বাঁচিয়ে রাখে।
বাবাদের ত্যাগ অস্বীকার করার উপায় নেই, তাঁরাও খাটেন। কিন্তু জীবনকে নিঃশেষ করে দিয়ে আবার নতুন করে গড়ে তোলার এই অলিখিত লড়াইটা কেবল মায়েরাই লড়েন।
পরের বার যখন কোনো নতুন জন্ম নেওয়া সন্তানকে দেখে বলবেন "বাবা-মা দুজনেরই জীবন বদলে গেল"—একবার মায়ের চোখের কোণের ক্লান্তিটার দিকে তাকাবেন। বুঝবেন, পরিবর্তন দুজনেরই হয়েছে, কিন্তু জীবনটা পুরোপুরি উল্টে গেছে কেবল একজনেরই🥺