17/06/2026
যে প্রশ্ন তোমার কোন উপকারে আসবে না তা কখনো জিজ্ঞেস করো না।
----------------------
উচ্চ বেতনে চাকুরি করা মাজাহার আরেক গরীব যুবক মাহীকে প্রশ্ন করলো,
- তুমি কোথায় চাকুরি করো?
- একটা ম্যাচ ফ্যাক্টরিতে।
- স্যালারি কতো?
- ৮০০০।
- মোটে আট হাজার? চলো কিভাবে? তোমার মালিক তোমার প্রতি অবিচার করছে। তোমার যা যোগ্যতা, হেসেখেলেই তুমি অনেক টাকা বেতন পেতে পারো।
মাহীর মেজাজ খাট্টা হয়ে গেলো। নিজের কাজের প্রতি, বসের প্রতি বেজায় রুষ্ট হয়ে উঠলো। পরদিন গিয়ে সরাসরি বসকে জুলুমের কথা জানালো। কথা কাটাকাটি হওয়াতে বস তাকে চাকরিচ্যুত করলো।
এখন মাহী যুবকটি বেকার।
--------------------
- ফারজানা! তোমার প্রথম সন্তান হলো বুঝি?
- জ্বি। মেয়ে বাবু
- তোমার স্বামী এ উপলক্ষ্যে তোমাকে কিছু দেয় নি? উপহার বা এ জাতীয় কিছু?
- না। কেন দিবে? এ তো আমাদেরই সন্তান! টাকা দিতে হবে কেন?
- কেন তোমাকে হাত খরচার জন্যেও তো দু’চার পয়সা দিতে পারে। মেয়ে হয়েছে তাই দেয়নি বুঝি? তার মানে সে মেয়ে চায়নি বুঝি? তার কাছে তোমার কোনও মূল্য নেই? তুমি চাকরানি? ভালোবাসলে এটা করতো না। কিছু একটা তো দিতে পারতো, তাতো তোমাদেরই থাকতো নাকি?
স্ত্রীর মনে ধরলো কথাটা। সারাদিন কথাটা ভাবতে ভাবতে মনটা বিষিয়ে উঠলো। সত্যিই তো! আমাকে একটা টাকাও কখনো ছোঁয়ায় না! রাতে কর্মক্লান্ত স্বামী ঘরে ফিরলো। স্ত্রীর মুখ দিয়ে বোমা বিস্ফোরিত হলো। লেগে গেলো দু’জনে। কথা কাটাকাটি। ঝগড়া। হাতাহাতি। শেষ পর্যন্ত সম্পর্ক নাজুক হয়ে গেল।
----------------
- এই বৃদ্ধ বয়েসে কষ্ট করছেন? ছেলে ঢাকায় থাকে, বড় চাকুরি করে শুনেছি। বউ-বাচ্চা নিয়ে থাকে। ফ্ল্যাট কিনছে নাকি? আপনাদের দু’জনকে নিয়ে যেতে পারে না? আপনাদের দেখতেও তো আসে না!
- না না, ছেলে আমার খুবই ব্যস্ত। সারাদিন রাত খাটে। টাকা পাঠায় তো নিয়মিতই। ফোনে খোঁজ-খবর নেয়। প্রতিনিয়মিত।
- কী এমন ব্যস্ততা তার শুনি? নিজের জন্মদাতা-দাত্রীকে দেখতে আসার সময় হয় না?
- সারাদিন অফিস-বাসা করতে করতেই সময় চলে যায়!
- আপনি খোঁজ নিয়েছেন? সে ঢাকায় বাড়ি-গাড়ি হাঁকিয়ে বেড়াচ্ছে। আর আপনারা অজপাড়াগাঁয়ে ধুঁকছেন?
বৃদ্ধ বাবা বাসায় এসে স্ত্রীকে খুলে বললো। স্ত্রী বাধা দিল,
- আপনি ভুল শুনেছেন। ওতো আসলেই ব্যস্ত।
- নাহ, আলম সাহেব কি মিথ্যা বলতে পারেন? ...আহা রে! কাকে বুকের রক্ত পানি করে বড় করলাম? এই ছিল কপালে!!!!
কিছু "নিরীহ" প্রশ্ন আমাদের সুখী জীবনকে এক ঝটকায় দুঃখী করে দিতে সক্ষম। ছদ্মবেশী দরদীরা নিস্তরঙ্গ শান্ত জীবনে অশান্তির দাবানল জ্বালিয়ে দেয়...
- কেন? সেটা এখনো কিনেন নি? কবে কিনবেন?
- আপনাদের এখনো বাচ্চাকাচ্চা হয় নি? সমস্যা কি?
- ভাবী আপুকে দেখেন কতো কিচ্ছু পাচ্ছে? আর আপনি / তুমি কি করছ?
- আপনার/ তোমার স্বামী কি করে খোজ খবর রাখো?
- এই জীবন কিভাবে বহন করে চলেছেন? সব তো দিয়েই গেলেন!!!!
- ছেলেকে বিশ্বাস করে বসে আছেন?
- ছেলে তো বউয়ের কেনা গোলামে পরিণত হয়েছে!
গল্পের নির্যাসঃ
= ফাসাদ সৃষ্টিকারী হয়ো না।
= হিংসুকদের ছলনায় পড়ো না।
সমাজ জীবন এখানে হিমশিম খাচ্ছে।
গল্পের হিতোপদেশঃ
= মানুষের ঘরে অন্ধ হয়ে প্রবেশ করো। বোবা হয়ে বের হয়ে আসো..
(সম্পাদিত)
#আধুনিক_সনাতন_পাঠক
#মূর্খ_মাজাহার
#প্রাইভেট_কমিউনিস্ট