08/06/2026
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ: শত বছরেরও বেশি সময় ধরে পদ্মার বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এক ইতিহাস
সম্প্রতি পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ঘুরে দেখার সুযোগ হয়েছিল। ছবিতে বহুবার দেখেছি, কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে যখন বিশাল লোহার কাঠামো আর পদ্মা নদীর বিস্তৃতি দেখলাম, তখন সত্যিই অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছিল।
১৯১৫ সালের ৪ মার্চ উদ্বোধন হওয়া এই ব্রিজটি শুধু একটি রেলসেতু নয়, বরং বাংলাদেশের রেল যোগাযোগের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্রিটিশ আমলে কলকাতা, উত্তরবঙ্গ ও আসামের মধ্যে সহজ যোগাযোগের জন্য এর নির্মাণ পরিকল্পনা করা হয়েছিল। প্রায় পাঁচ বছর ধরে হাজার হাজার শ্রমিকের পরিশ্রমে নির্মিত এই ১.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি আজও ব্যবহৃত হচ্ছে।
পদ্মা নদীর উপর দাঁড়িয়ে থাকা ১৫টি বিশাল স্টিল ট্রাসের এই ব্রিজ দূর থেকে দেখতেই দারুণ লাগে। বিশেষ করে যখন কোনো ট্রেন ধীরে ধীরে ব্রিজ অতিক্রম করে, তখন মনে হয় ইতিহাস যেন এখনও জীবন্ত হয়ে আছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, পরে পুনর্নির্মাণ করা হয়।
কীভাবে যাবেন?
আমি পাবনা শহর থেকে ঈশ্বরদীর দিকে রওনা দিয়েছিলাম। ঈশ্বরদী থেকে পাকশীর দূরত্ব খুব বেশি নয়। বাস, সিএনজি বা মোটরসাইকেলে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায়। গুগল ম্যাপে "Hardinge Bridge" সার্চ করলেই লোকেশন পাওয়া যাবে। ব্রিজের পূর্ব পাশে পাকশী রেলওয়ে কলোনি এবং পাশেই লালন শাহ সেতু অবস্থিত।
কখন গেলে সবচেয়ে ভালো?
আমার মতে বিকেল ৪টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টাই সবচেয়ে সুন্দর। এই সময় পদ্মার উপর পড়া সোনালি আলো, দূরে ট্রেনের শব্দ আর নদীর বাতাস—সব মিলিয়ে অসাধারণ পরিবেশ তৈরি করে। ফটোগ্রাফি বা ভিডিও করার জন্যও এই সময়টি আদর্শ।
কিছু টিপস
১. ক্যামেরা বা মোবাইলের চার্জ পূর্ণ রাখুন, কারণ ছবি তোলার লোভ সামলানো কঠিন।
২. সূর্যাস্ত মিস করবেন না।
৩. ট্রেন চলাচলের সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।
৪. পাকশী বাজারে স্থানীয় চা খেয়ে নিতে পারেন।
হার্ডিঞ্জ ব্রিজে দাঁড়িয়ে আমার মনে হয়েছে, কিছু স্থাপনা শুধু ইট-পাথর বা লোহা দিয়ে তৈরি হয় না; তারা সময়, ইতিহাস আর মানুষের স্মৃতিকে ধারণ করে বেঁচে থাকে। শত বছরেরও বেশি সময় ধরে পদ্মার বুকে দাঁড়িয়ে থাকা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ তারই এক অনন্য উদাহরণ।
আপনি কি কখনও হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ঘুরে দেখেছেন? আপনার অভিজ্ঞতা কমেন্টে জানাতে পারেন।
📍 পাকশী, ঈশ্বরদী, পাবনা
📅 উদ্বোধন: ৪ মার্চ ১৯১৫
📏 দৈর্ঘ্য: প্রায় ১.৮ কিলোমিটার
#বাংলার_গল্প #পাবনা #হার্ডিঞ্জ_ব্রিজ