28/02/2023
নব্বই দশকে একবার বইমেলায় হুমায়ূন আহমেদকে ঘিরে অন্যপ্রকাশের স্টলের সামনে পাঠকের উপচেপড়া ভীড়, অন্যসব স্টল ফাঁকা। এমতবস্থায় পুলিশ বইমেলায় বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি জানান তৎকালীন বাংলা একাডেমির মহা-পরিচালককে, তিনি বইমেলায় এসে হুমায়ূন আহমেদেকে বললেন, ‘আপনার জন্য তো বইমেলা চালানো মুশকিল হয়ে যাবে!’
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের মুখে এমন তীর্যক কথা শুনে হুমায়ূন আহমেদ চুপচাপ বইমেলা হতে বের হয়ে সোজা বাসায় চলে গেলেন। ফলে পাঠকদের বিদ্রোহে মেলা বন্ধ হয়ে যাওয়া উপক্রম। মেলা প্রাঙ্গণে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। উপায়ন্তর না দেখে বাংলা একাডেমির সে কর্তা ব্যক্তি তাৎক্ষণিক হুমায়ূন আহমেদের ফ্ল্যাটে গিয়ে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে তাকে মেলায় ফিরিয়ে আনলেন।
তখনকার সময়ে উল্লেখযোগ্য আরো অনেক লেখক থাকলেও হুমায়ূন আহমেদেকে ঘিরেই পাঠকের উচ্ছ্বাস উদ্দীপনা বেশি ছিলো। প্রথম আলোতে আসিফ নজরুল স্যারের একটা কলামে পড়ছিলাম, নব্বই দশকের শুরু থেকে হুমায়ূন আহমেদের তুলনায় অন্যান্য লেখকদের নিয়ে মানুষের আগ্রহ ছিল খুবই নগণ্য। তাঁর প্রতি ঈর্ষাকাতর ও তাঁর কট্টর সমালোচক লেখকেরও অভাব ছিল না। কিন্তু বইমেলায় তখনই হুমায়ূন আহমেদের যেকোনো উপন্যাস বিক্রি হতো ১৫ থেকে ২০ হাজার কপি, (পরে একসময় তা ৪০ থেকে ৫০ হাজারে দাঁড়ায়) নিকটতমদের বড়জোর তিন-চার হাজার বিক্রি হতো।
আসিফ নজরুল স্যার সে সময় বিচিত্রায় কাজ করার সুবাদে সাংবাদিক হিসেবে ব্যাপারগুলো খুব কাছ থেকে অবজারভেশন করেছেন।
হুমায়ূন আহমেদ তার সাহিত্য সম্পর্কে যে আগ্রহ তিনি সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন পাঠকের মনে, তার মৃত্যুর পরও তার বইয়ের প্রতি পাঠকের আগ্রহ বিন্দুমাত্রও কমেনি। এখনো মানুষ মেলায় গিয়ে তার পুরাতন বইগুলো খোঁজে, প্রতিবছর তার বইগুলো সর্বোচ্চ বিক্রিত হয়।
বইমেলায় তাকে কখনো সরাসরি দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি। যতবার বইমেলায় যাই প্রতিবার অন্যপ্রকাশের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় প্যাভিলিয়নের উপরের হুমায়ূন আহমেদের স্ট্যাচু করা ছবিটার দিকে তাকিয়ে তার প্রয়াণ শূণ্যতার স্মৃতি খোঁজে পাই। প্যাভিলিয়নের চারপাশে তার বইকে ঘিরে পাঠকের আগ্রহ উদ্দীপনা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখি।
লিখেছেন- ফরিদ উদ্দিন রনি।
ফিচার রাইটার, এক্টিভিস্ট।