26/07/2026
গল্পের নাম:-(রূপালী আর রহস্যময় ঘটের পরী)✨🥰
অনেক দূরে, নদীর পাশের এক ছোট্ট গ্রামে থাকত রূপালী নামে এক মিষ্টি মেয়ে। তাদের সংসারের অবস্থা তেমন ভালো ছিল না, তাই প্রায় দিনই রূপালীর মনটা একটু ভার হয়ে থাকত।
একদিন বিকেলের দিকে, একটা মাটির কলস কাঁখে নিয়ে রূপালী পুকুরপাড়ে গেল জল আনতে। পুকুরের ঠান্ডা হাওয়াতেও তার মনটা কেমন যেন উদাস ছিল। নদীর ঘাট থেকে একটু দূরে গিয়ে পানিতে কলস ডোবাতেই, হঠাৎ পানির নিচে শক্ত কিছু একটা তার হাতে ঠেকল।
রূপালী কৌতুহল সামলাতে না পেরে পানির নিচ থেকে জিনিসটা তুলে আনল। দেখে মনে হলো, ওটা একটা ছোট্ট মাটির ঘট, যার মুখটা কাদা আর মোম দিয়ে খুব শক্ত করে বন্ধ করা।
"এর ভেতরে কী থাকতে পারে?" ভাবতে ভাবতে রূপালী উৎসুক হয়ে সাবধানে ঘটের মুখটা খুলে ফেলল।
আর অমনি! ঘটের ভেতর থেকে ঝলমলে এক আলো বেরিয়ে এলো। সেই ধোঁয়াজাতীয় আলোর মধ্য থেকে ধীরে ধীরে ভেসে উঠল এক অপরূপ পরী!
পরীর গায়ের রং যেন দুধ-আলতা, তার পোশাকটা ধবধবে সাদা আর নরম তুলোর মতো। তার গায়ে জড়ানো হীরে আর মুক্তোর রাজকীয় গয়নাগুলো গোধূলির আলোয় ঝিলমিল করছিল। রূপালী তো অবাক হয়ে চোখ বড় বড় করে শুধু পরীটার দিকে তাকিয়েই রইল! এত সুন্দর কেউ হতে পারে, তা সে স্বপ্নেও ভাবেনি।
পরীটি মিষ্টি হেসে বাতাসে ডানা ঝাপটে রূপালীর সামনে নেমে এলো। রূপালীর মাথায় হাত রেখে বলল, "ধন্যবাদ, ছোট্ট বন্ধু! হাজার বছর ধরে আমি এই পাত্রে বন্দি ছিলাম। আজ তোমার জন্য আমি মুক্ত হলাম।"
উপহারস্বরূপ পরীটি রূপালীর দিকে তাকিয়ে তার জাদুদণ্ডটি বাতাসে দোলাল। সাথে সাথে রূপালীর সামনে এক রাশ সোনা, রূপা, আর নানারকম দামি গয়নার পাহাড় জমে গেল! শুধু তা-ই নয়, রূপালীর জন্য ভেসে এলো কতগুলো নতুন, রঙিন আর সুন্দর রেশমি জামাকাপড়।
সব উপহার দেখে রূপালীর আনন্দের আর সীমা রইল না। সে পরীকে অনেক ধন্যবাদ জানাল। পরীটি তাকে মিষ্টি একটা হাসি উপহার দিয়ে বাতাসে মিলিয়ে গেল।
রূপালী খুব খুশিমনে সব উপহার আর জামাকাপড় গুছিয়ে বাড়ি ফিরে এলো। ঘরে গিয়ে বাবা-মাকে সব কিছু দেখাতেই তারাও অবাক আর আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলেন!
পরদিন রূপালীর বাবা শহরের বাজারে গিয়ে সেই সোনা-রুপার কিছু অংশ বিক্রি করে দিলেন। যে অর্থ পেলেন, তা দিয়ে তাদের সব কষ্ট আর অভাব রাতারাতি দূর হয়ে গেল। এরপর থেকে রূপালী আর তার পরিবার খুব আনন্দে, সুখে-শান্তিতে দিন কাটাতে লাগল।
(আজকে ভিডিও আসবে এই গল্পের উপর নির্ভর করে, সবাই পাশে থাকবেন আশা করি😌☺️