04/01/2026
কৃষ্ণ এবং অর্জুনকে ঘি খাওয়ানোর জন্য শ্বাশুড়ির কাছে বোকা খেলো লোপা!
গ্রামবাংলার এক কুয়াশাভেজা শীতল সকাল। উঠোনের এক কোণে মিষ্টি রোদের ঝিলিক এসে পড়েছে। লোপা তার দুই ছেলে, কৃষ্ণ আর অর্জুনকে নিয়ে মাদুর পেতে বসেছে। চুলোর ধোঁয়া আর ভাতের ম ম গন্ধে চারপাশটা মায়াবী হয়ে আছে। লোপা পরম মমতায় দুই ছেলের পাতে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত বেড়ে দিল, আর তার ওপর ঢেলে দিল এক চামচ করে সোনালি রঙের খাঁটি গাওয়া ঘি।
ঠিক সেই মুহূর্তে লোপার শাশুড়ি মা ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। কৃষ্ণ আর অর্জুনের ভাতের ওপর অতখানি ঘি দেখে তার ভ্রু কুঁচকে গেল। তিনি কিছুটা কড়া স্বরেই বলে উঠলেন,
"বউমা, এ কী করছো? ছোট ছোট বাচ্চা, ওদের এত ঘি খাওয়াচ্ছ কেন? শরীর কষে যাবে তো! আর এখনকার দিনে ঘি হজম করা কি সহজ কথা?"
লোপা একটুও ঘাবড়ালো না। সে হেসেই ধীরস্থিরে শাশুড়ি মায়ের কাছে গিয়ে বসলো। তারপর খুব সুন্দর করে বোঝাতে শুরু করল:
"মা, আপনি তো জানেন কৃষ্ণ আর অর্জুন এখন বাড়ছে। ওদের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য ভালো ফ্যাটের খুব দরকার। ঘি হলো সেই 'ব্রেইন ফুড' যা ওদের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে।"
"শীতের এই সময়ে বাচ্চাদের প্রায়ই সর্দি-কাশি লাগে। ঘিয়ের মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আর ভিটামিন ওদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দেয়।"
"আপনি ভয় পাচ্ছেন হজম হবে না বলে, কিন্তু মা, ঘি আসলে পাচনতন্ত্রকে সচল রাখে। আর এতে থাকা ভিটামিন-K হাড়কে মজবুত করে, যা এই বয়সে খুব জরুরি।"
"ওরা তো সারাদিন দুষ্টুমি আর দৌড়াদৌড়ি করে। এই ঘি ওদের শরীরে দীর্ঘক্ষণ কাজ করার শক্তি দেবে।"
শাশুড়ি মা মন দিয়ে লোপার কথাগুলো শুনছিলেন। লোপা যখন যুক্তি দিয়ে প্রতিটি কথা বুঝিয়ে বলল, তখন তার মনে পড়ল নিজের ছোটবেলার কথা—তখনও তো তারা এমন টাটকা ঘি খেয়েই বড় হয়েছেন। তার ভুল ভেঙে গেল। তিনি কিছুটা লজ্জিত হয়ে বললেন,
"আমি তো ভেবেছিলাম আজকালকার আধুনিক খাবারে ঘি মনে হয় অপকারী। তুই তো আমার চোখ খুলে দিলি রে মা! আমি বুড়ো মানুষ, পুরোনো চিন্তা নিয়ে বসেছিলাম।"
লোপার শাশুড়ি মা কৃষ্ণের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে লোপার দিকে তাকিয়ে গর্বের সাথে বললেন, "আমার কপাল ভালো যে এমন এক গুণবতী আর বুদ্ধিমতী মা আমার নাতিদের আগলে রাখছে। শুধু ঘি কেন, তুই ওদের যা ভালো মনে হয় খাওয়াস, আমি আর বাধা দেব না।"
লোপা শাশুড়ির আশীর্বাদ পেয়ে খুশি মনে আবার বাচ্চাদের ভাতের মুখে ঘি-ভাত তুলে দিতে লাগল। ভোরের সেই সোনালি রোদে শাশুড়ি আর বউমার এই সুন্দর বোঝাপড়া এক অন্যরকম উষ্ণতা ছড়িয়ে দিল সারা উঠোনে।