04/09/2026
জুমার দিনের আমল ও হাদিস
১. জুমার দিন গোসল করা
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
“তোমাদের কেউ জুমার নামাজে আসতে চাইলে সে যেন গোসল করে।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৪৪a
২. পরিচ্ছন্ন হওয়া ও সুগন্ধি ব্যবহার করা
রাসুলুল্লাহ ﷺ জুমার দিনের গোসল, মিসওয়াক এবং সুগন্ধি ব্যবহারের কথা বলেছেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৮৮০
৩. দ্রুত মসজিদে যাওয়া
যে ব্যক্তি জুমার দিন যত আগে মসজিদে যায়, তার জন্য তত বেশি সওয়াবের কথা হাদিসে এসেছে।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৮৮১
৪. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং চুপ থাকা
খুতবার সময় নীরব থেকে মনোযোগ দিয়ে শোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি গোসল করে জুমায় এসে খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং নামাজ আদায় করে, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত গুনাহ ক্ষমা করা হয়, অতিরিক্ত তিন দিনসহ।
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৫৭a
৫. বেশি বেশি দরুদ শরিফ পড়া
জুমার দিনে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা সুন্নত—এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসগুলোতে জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা ও দরুদের প্রতি উৎসাহ এসেছে।
৬. বেশি বেশি দোয়া করা
জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার কথা হাদিসে এসেছে।
রেফারেন্স: সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের জুমার দিনের ‘কবুলের সময়’ সংক্রান্ত হাদিস।
৭. সূরা কাহফ তিলাওয়াত করা
জুমার দিনে সূরা কাহফ পড়ার ফজিলত সম্পর্কে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসের মান নিয়ে আলেমদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে—তাই এটিকে নিশ্চিত সহিহ হাদিস বলে দাবি না করে ফজিলতের আমল হিসেবে উল্লেখ করা উত্তম।
জুমার দিনের একটি সুন্দর রুটিন
গোসল → পরিচ্ছন্নতা ও সুগন্ধি → আগে মসজিদে যাওয়া → নফল/তাহিয়্যাতুল মসজিদ → খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা → জুমার নামাজ → বেশি বেশি দরুদ, জিকির ও দোয়া।
জুমার দিন যে কত মর্যাদাপূর্ণ, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৫৪/৮৫৪