26/07/2026
আল্লামা জুলফিকার আহমদ নকশবন্দী (রহ.)
আমরা অনেকেই তার নাম বইয়ের কভারে পড়েছি। বিশেষ করে "এখন যৌবন যার" বইটিতে।
আজ বিশ্ববরেণ্য এই মহান আধ্যাত্মিক সাধক এবং সুগভীর ইলমী যোগ্যতা নিয়ে কিছু দারুণ কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করব। যাঁর বয়ান ও লেখনী গোটা বিশ্বের লাখো-কোটি মানুষের হৃদয় আলোকিত করেছে।
তিনি কেবল একজন নকশবন্দী শায়খই ছিলেন না, তাঁর জীবনের শুরুটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি ছিলেন একজন উচ্চপদস্থ ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার!
কিন্তু ৪০ বছর বয়সে জেনারেল ম্যানেজারের মতো আকর্ষণীয় পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি সর্বাত্মকভাবে দ্বীনের রাস্তায় আত্মনিয়োগ করেন। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত এই মানুষটি একইসাথে ছিলেন হাফেজে কুরআন এবং গভীর জ্ঞানের অধিকারী।
তাঁর বিনয় আর ইলমের প্রতি ভালোবাসা এতটাই প্রবল ছিল যে, হাদিসের সনদের জন্য তিনি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেটের পরোয়া না করে উস্তাদকে বলেছিলেন স্রেফ ইলম অর্জনের কথা।
বিশ্বজুড়ে তাঁর ইলমী ও আধ্যাত্মিক যোগ্যতার কদর কতখানি, তা বোঝা যায় যখন দেখি পৃথিবীর প্রায় ৭০টি দেশে তিনি দাওয়াতী সফর করেছেন। তাঁর হাতে লাখো মানুষ তাওবা করে নতুন জীবন পেয়েছে, অনেকেই গ্রহণ করেছেন ইসলাম।
বয়ান ও আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি তিনি উম্মাহর জন্য অসংখ্য মূল্যবান কিতাব লিখেছেন। ফিকহ, আত্মশুদ্ধি এবং পারিবারিক জীবনের ওপর তাঁর রচিত বইগুলো মুসলিম সমাজে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
৩২ খণ্ডে "খুতবাতে জুলফিকার" নামে আমাদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। এছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য 'ইশকে ইলাহী', 'হায়া আওর পাকদামিনি', 'বা আদব বা নসিব'-এর মতো বহু অসাধারণ কিতাব তিনি রচনা করেছেন এবং নারী শিক্ষার জন্য 'জামিয়া আয়েশা সিদ্দিকা' প্রতিষ্ঠাসহ নানাবিধ দ্বীনি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।
তিনি যখন বয়ান করতেন বা লিখতেন, মনে হতো শব্দগুলো যেন জীবন্ত হয়ে কথা বলছে। আত্মশুদ্ধির মতো সুগভীর বিষয়কেও তিনি অত্যন্ত সহজ, প্রামাণ্য আর মায়াবী ভাষায় বুঝিয়ে দিতেন। সম্ভবত তিনি কেবল কলমের কালিতে লিখতেন না, লিখতেন নিজের উজাড় করা হৃদয় দিয়ে।
গত বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া কীর্তি আজও অম্লান।
আল্লাহ তাকে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করুন।