24/02/2026
জ্বর শরীরে লিখেছি, মন চাইলে শেয়ার করবেন নাহলে করবেন না, তাও কপি করবেন না...
এই পোস্টে যেটা লিখব সেটা আমার ব্যক্তিগত দুয়ার ম্যাপ, যেটা আমার কাজে লেগেছে, এইটা ফরজ কোনো কিছু না , যে এইভাবে দুয়া করলে দুয়া কবুল হবে না এই ধরনের কিছু না...
দুয়া আমার কাছে একটা সেতুর মতন মনে হয়, আল্লাহর কাছে চাওয়া, বোবা মানুষের মুখ নাই, বলতে পারে না , তাহলে কি তার দুয়া কবুল হয়না?
আল্লাহর আমাদের অন্তর্যামী, উনি আমাদের নিয়ত জানেন .. অনেকেই বলে এত এক্সপ্লেইন এর কি আছে?
তবে বেশ কিছু বই ,সেমিনার , আলেমদের বক্তব্য শুনে আমি ব্যক্তিগত ভাবে এক্সপ্লেইন করলে দিল ঠাণ্ডা বোধ করি...
পোস্ট শুরুর আগে বলে নেই , আমি খারাপ এবং পাপী মানুষ , আমাকে ফলো করার কোনো দরকার নাই.. আমি জাস্ট আমার দুয়ার রোড ম্যাপ জার্নি টা শেয়ার করছি...
আমি যেভাবে দোয়া করি —
প্রথমেই আমি তওবা করি।
তারপর দুরুদ শরীফ পড়ি।
এরপর আল্লাহর প্রশংসা করি।
আবার দুরুদ পড়ি।
এরপর আল্লাহ আমাকে যত কিছু দিয়েছেন — ছোট হোক, বড় হোক — সব কিছুর জন্য শুকরিয়া আদায় করি।
তারপর শুরু করি আমার দোয়া।
আমি শুধু চাই না — কেন চাই, সেটাও বলি।
যেমন আমি বলি,
“ইয়া রব, আমার বাচ্চাকে শয়তানের হাত থেকে হেফাজত করুন। কারণ সে শয়তান থেকে হেফাজত থাকলে আরো ১০উম্মাহর কাজে লাগবে, আরো ১০ এর অধিক মানুষকে সে আপনার পথে নিতে পারবে, যেমনটি নিয়েছিল আমাদের পূর্ববর্তী নবী ও রাসূল গনেরা... আল্লাহ আমার এই বাচ্চা আপনার আমানত , আমার পক্ষে তাকে এই ফেতনাময় পরিবেশে আপনার অধীনে রাখা সম্ভব না, আমি আমার অপরগতা স্বীকার করছি, আমি তওবা করছি , এই দুইটা চোখ দিয়েছেন অনেক পাপ কাজ দেখেছি ,করেছি ,নিজের ই মনে নেই , এখন এই দুই চোখ দিয়ে অনুতাপের পানি ফেলানো ব্যতীতআমি কিছুই আর পারছি না, আপনার হাজার কোটি লক্ষ্য লক্ষ্য সহীহ আকিদা , সহীহ ঈমান এর বান্দা আছে আল্লাহ, আমাকে বাদ দিলেও আপনার চলবে আমি জানি, কিন্তু আমার আপনি ছাড়া কেউ নাই , আল্লাহ আমি আপনার ওয়াদা বিশ্বাস করি , আমি দুই হাত তুলে চাচ্ছি, আমি জানি আপনি কখনোই আমাকে ফরাবেন না , আপনি বলেছেন আপনার প্রতি যে যেমন ধারণা রাখে , আপনি সেই বান্দার প্রতি তেমন, আমি শুধু সুধারণা রাখছিনা , আমি জানি মানি বিশ্বাস করি , আপনি আমার ,আমার বাচ্চার , আমার সামনের অনাগত বাচ্চার এবং অনাগত জেনারেশন , পরিবার এর অভিভাবক , আমাদের কবুল করুন ।কারণ আমরা অসহায় , আমাদের ঈমান দুর্বল, আমরা নিঃস্ব”
এবং কেন আমি এই দোয়া করছি, সেটাও খুলে বলি।
বোঝানোর জন্য একটা উদাহরণ দিই —
ধরুন, একজন ভিক্ষুক এসে শুধু বললো, “দশটা টাকা দেন।”
আরেকজন বললো, “দুই দিন ধরে আমার বাচ্চাকে নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি, বাসস্থান নেই, খাবার নেই, স্বামী অসুস্থ। আমাকে ১০০ টাকা দিয়ে সাহায্য করুন, অথবা এমন কিছু করুন যাতে আমি ব্যবসা করে দাঁড়াতে পারি।”
আপনি কাকে সাহায্য করবেন?
অবশ্যই যার প্রয়োজনটা খুলে বলা, যার কষ্টটা বোঝা গেল — তাকে, যদিও টাকার পরিমাণ বেশি তাও দিবেন।
দোয়ার ক্ষেত্রেও আমি এমনই করি।
যেমন বিয়ে আর পরিবার গঠন এর ক্ষেত্রে করেছিলাম ...
আমি বলি —
“ইয়া রব, আপনি তো আমাকে বানিয়েছেন।
আপনি আমার অন্তরের খবর জানেন।
আমার নিয়ত আপনি জানেন।
আপনার কাছে ব্যাখ্যা দিয়ে লাভ নেই — আপনি তো সবই জানেন।
এই পরিবেশে ইসলাম মেনে চলা কতটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে, আপনি জানেন।
আপনি যদি আমাকে এমন একজনের সাথে আবদ্ধ করেন যে ইসলামের উপর অটল —
আমি আলাদা পরিবার গঠন করে নিজেও ভালো থাকতে পারবো,
আরো দশজনকে ভালো রাখতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।”
আরেকটা দুয়া করেছি, এখনো করি রিজিকের -
*ইয়া রহমান , ইয়া রব , আপনি আমার ও আমার পরিবার , বংশের রিজিক, সময়, শরীরে , সুস্থতায় বারাকাহ দিন, যেই হাত তুলে আমি আপনার কাছে চেয়েছি ওই হাত যেন আমার কোনদিন আপনার কোন বান্দার কাছে হাত না পাততে হয় ! আল্লাহ আমি যেন আপনার আরো ১০ বান্দার দরকারে দিতে পারি !"
মাঝে মাঝে গোপন আমল এর কথা বলি, ধরেন কোন মাকে আমি হেল্প করেছি ,যেটা আমি ব্যতীত কেউ জানে না, আমি বলি আল্লাহ আপনার ঐ বান্দাকে আমি এই ইলম ছিল আমার আমি শিখিয়েছি, সেই উসিলায় আপনি আমার আখিরাত সহজ করুন , আমার কোনো হিসাব নিয়েন না কারণ আমি ও আপনার বান্দাকে হিসাবের বাইরে যেয়ে শুধু মাত্র আপনার জন্য হেল্প করেছিলাম..
এভাবে আমি ধরে ধরে দোয়া করি।
যত কারণ আছে, সব বলি।
যত কথা আছে, খুলে বলি।
যতবার ইচ্ছে হয়, ততবার বলি।
দোয়ার ব্যাপারে আমি নাছোড়বান্দা।
এক ধরনের লোভ আছে আমার —
আল্লাহর রহমতের লোভ।
সবশেষে আবার দুরুদ পড়ি।
আস্তাগফিরুল্লাহ বলি।
আল্লাহর প্রশংসা আর শুকরিয়া দিয়ে দোয়া শেষ করি।
দোয়া আমার কাছে শুধু চাওয়া না —
এটা রবের সাথে কথোপকথন, আমার অধিকার , আমার পাওনা...
আরো কিছু জিনিস খুব কাজে দেয় -
*দুয়া কবুলের প্রাইম টাইম গুলো তে
* আস্তাগফিরুল্লাহ একটা ম্যাজিক , যদি পারতাম কসম কেটে বলতাম , নিয়মিত এইটা ম্যাজিকের মতন কাজ করে।
*দুই হাত আসমানের দিকে তুলে দুয়া করা , মাঝে মাঝে আমি দেখছি বড় বড় আপুরা , যারা ধর্ম সম্পর্কে জানে , তারা দুয়া করতে করতে বসা থেকে উঠে যায়, এত টুকু হাত উপরে নেয় যেনো আল্লাহ আসমান থেকে হেল্প পাঠাচ্ছে এক্ষুনি!!
এবং অন্য কি ভাবলো আপনাকে নিয়ে এইসব জিনিস ভাববেন না, আপনি একটা দাস আল্লাহর , অভুক্ত আপনি, আল্লাহর কাছে চাইতে আবার কিসের লজ্জা??