03/02/2026
স্যার জিজ্ঞেস করত—তুমি বড় হয়ে হবে?
স্কুল জীবনের সেই ক্লাসশেষের মুহূর্তগুলো এখনও চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
সার বা মেডাম হেসে হেসে জিজ্ঞেস করত:
“তুমি বড় হয়ে কী হবে?”
আমি তখন বলেছিলাম: “ইঞ্জিনিয়ার হব।” 🛠️
রাজু বলল: “আমি তো দুনিয়া ঘুরব!” 🌍
লতা বলল: “পপস্টার হব।” 🎤
সুমন বলল: “ডাক্তার হব।” 🩺
আজকার বাস্তবতা? বেশ মজার! ছোটবেলার স্বপ্নগুলো সরাসরি পূরণ হয়নি, কিন্তু জীবনের পথে সবাই অন্যভাবে সফল হয়েছে।
আমি সরাসরি ইঞ্জিনিয়ার নই, তবে এখন কন্টেন্ট লিখছি। ছোটবেলার সেই curiosity, নতুন কিছু বানানোর খিদে—সব আজও কাজে লাগে। আর হাসি আসে, যখন ভাবি স্কুলে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার কথা বলেছিলাম, কন্টেন্ট রাইট করছি।
রাজু ভ্রমণ করতে পারল না, তবে পুলিশ হয়েছে। 👮♂️ মানুষের সেবা এবং নিরাপত্তা দেওয়া তার কাছে বড় অর্জন। ভাবতে পারো, ছোটবেলার বিশ্বভ্রমণ স্বপ্ন আজও তার কাজে পূর্ণ হচ্ছে, শুধু রুট বদলেছে।
লতা পপস্টার হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে উকিল হয়েছে। ⚖️
ক্লাসে সে গান গাইতে চেয়েছিল, কিন্তু এখন courtroom-এ তার presence এবং persuasion skills মানুষকে প্রভাবিত করছে।
আমি পপস্টার, লতা উকিল—ছোটবেলার স্বপ্ন বিপরীতভাবে পূর্ণ, কিন্তু আনন্দ একই।
সুমন ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। 🩺
আজ সে নন-প্রফিট হেলথ প্রজেক্টে কাজ করছে। কম খরচে মানুষকে চিকিৎসা দেওয়ার মাধ্যমে impact ফেলছে।
রাজু পুলিশের কাজ, সুমন হেলথ প্রজেক্ট—দুটো পথই মানুষের জন্য, শুধু ভিন্ন medium।
আমরা সবাই বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কেউ সরাসরি তা পূরণ করতে পেরেছে না, কেউ অন্য পথে গিয়েছে। কিন্তু মূল উদ্দেশ্য—মানুষকে সাহায্য করা, আনন্দ দেওয়া, সৃজনশীলতা প্রকাশ করা—আজও জীবনে পূর্ণ হচ্ছে।
হারানো স্বপ্ন মানে আমাদের স্মৃতি, হাসি, আনন্দ, শেখা, এবং সাময়িক প্রশান্তি দেয়।
সার/মেডামের সেই প্রশ্ন এখনও মনে পড়ে—হাসি, কল্পনা, এবং নতুন পথের আনন্দের সঙ্গে।
কখনো কখনো চোখ বন্ধ করে ভাবি, “আমি বড় হয়ে কী হব?”—তখন মনে হয়, উত্তর এত গুরুত্বপূর্ণ নয়; আনন্দই প্রধান। ✨